শনিবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ২:২৪
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Monday, November 21, 2016 8:05 am
A- A A+ Print

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উদ্বেগ

161849_1

তেহরান: মায়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নতুন করে হামলা শুরু হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে সেখানে শত শত মুসলমানকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু মানবাধিকারের দাবিদার পশ্চিমা বিশ্ব এ বিষয়ে নিরব রয়েছে। অমুসলিম দেশে সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর হত্যা-নির্যাতনের বিষয়ে জোরালো কোনো পদক্ষেপ এখনো চোখে পড়ছে না। যদিও পশ্চিমা দেশগুলো সংখ্যালঘু ইস্যুসহ নানা অজুহাতে মুসলিম দেশগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগ করে থাকে। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ি প্রথম থেকেই রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর হত্যা-নির্যাতনের বিষয়ে প্রতিবাদমুখর ছিলেন। সর্বোচ্চ নেতার আহ্বানে ইরান সরকার এ পর্যন্ত রোহিঙ্গা মুসলমানদের রক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রতিনিধিদল পাঠিয়েও মায়ানমার সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়েছে। সর্বোচ্চ নেতার মায়ানমার অঞ্চল বিষয়ক প্রতিনিধিও এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন। এর পরও মায়ানমার সরকারের মদদে রাখাইন রাজ্যে মুসলিম নিধন থেমে নেই। বতর্মান প্রেক্ষাপটে মায়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিষয়ে সর্বোচ্চ নেতার দৃষ্টিভঙ্গির দিকে আরেকবার নজর দেয়া যাক। সর্বোচ্চ নেতার দৃষ্টিভঙ্গির আলোকেই ইরানের এ সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণ করা হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এর আগে এক বক্তৃতায় বলেছেন-আপনারা আজই দেখুন, পূর্ব এশিয়ার একটি দেশ মায়ানমারে হাজার হাজার মুসলমান নিহত হচ্ছে এবং তাদের হত্যা করা হচ্ছে অজ্ঞতা ও বিদ্বেষের কারণে। এ ঘটনায় কোনো কোনো শক্তির রাজনৈতিক হাত থাকার কথা না উল্লেখ করেও যদি ধরে নিই যে, যেমনটি দাবি করা হচ্ছে, ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের কারণেই এই গণহত্যা ঘটছে, তা সত্ত্বেও মানবাধিকারের ভুয়া সমর্থকরা মুখ খুলছেন না। অথচ এদেরই অন্তর নাকি জীব-জন্তু ও পশুর জন্য কাঁদে। অন্যদিকে যেসব দেশ তাদের অধীনতা থেকে মুক্ত বা স্বাধীনচেতা এবং তাদের ধামাধরা নয়, সেসব দেশে ক্ষুদ্রতম অজুহাতও দেখতে পেলে তারা তা শতগুণ বড় করে তুলে ধরে। অথচ মায়ানমারে নিরপরাধ, নিরস্ত্র এবং অসহায় নারী, পুরুষ ও শিশুদের হত্যার ব্যপারে তারা নিশ্চুপ হয়ে আছে। পশ্চিমা শক্তিগুলো অবশ্য এ ব্যাপারে সাফাইও গাইছে। এই হলো তাদের মানবাধিকারের অবস্থা। তাদের মানবাধিকার নৈতিকতা, খোদা ও আধ্যাত্মিকতাবিহীন। পশ্চিমাদের নৈতিকতা এবং মানবাধিকারের দাবি যে মিথ্যা বড়াই ছাড়া আর কিছুই নয়, তা স্পষ্ট হয়ে গেছে মায়ানমারের হাজার হাজার মুসলমানকে হত্যার বিষয়ে তাদের নীরবতার মধ্য দিয়ে। তিনি আরও বলেছেন,ওরা বলছে, রোহিঙ্গা মুসলমানরা নাকি মায়ানমারের নাগরিক নয়। ধরে নিলাম তা ঠিক, তাই বলে কি তাদেরকে অবশ্যই নিহত হতে হবে? অবশ্য, তাদের এ দাবি মিথ্যা কারণ, শত শত বছর ধরে তারা সেখানে বসবাস করে আসছে। এ ব্যাপারে আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে। পশ্চিমারা বিশেষ করে ইংরেজরা তাদের ঔপনিবেশিক শাসনামলে মায়ানমারে এবং তার আশেপাশের দেশগুলোর জনগণের ওপর ঠিক এমন অবস্থায়ই চাপিয়ে দিয়েছিল। তারা সেখানকার জনগণের প্রাণ ওষ্ঠাগত করে তুলেছিল। ইংরেজরা যেখানেই পা রেখেছে সেখানেই দুর্নীতি বা আরাজকতার রাজত্ব কায়েম করেছে এবং বংশ নিধনযজ্ঞ চালিয়েছে। কুরআন যেমনটি বলে-এসব কাজ ছাড়া অন্য কিছু তারা করেনি। সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে পবিত্র কুরআন ও ঐশী হেদায়াত থেকে উৎসারিত আধ্যাত্মিকতা-ভিত্তিক সভ্যতা গড়ে উঠেছে। অন্যদিকে, নৈতিকতা ও আধ্যাত্মিকতা শূন্য জড়বাদী পশ্চিমা সভ্যতা মানুষকে শোষণ করছে। আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী এ প্রসঙ্গে বলেছেন, নৈতিকতা ও মানবাধিকার সম্পর্কে পাশ্চাত্যের দাবিগুলো মিথ্যা; আর এর উজ্জ্বল প্রমাণ হল, মায়ানমারে হাজার হাজার মুসলমান হত্যার বিষয়ে পশ্চিমা সমাজের নীরবতা। সূত্র: পার্সটুডে
 

Comments

Comments!

 রোহিঙ্গা ইস্যুতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উদ্বেগAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উদ্বেগ

Monday, November 21, 2016 8:05 am
161849_1

তেহরান: মায়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নতুন করে হামলা শুরু হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে সেখানে শত শত মুসলমানকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু মানবাধিকারের দাবিদার পশ্চিমা বিশ্ব এ বিষয়ে নিরব রয়েছে।

অমুসলিম দেশে সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর হত্যা-নির্যাতনের বিষয়ে জোরালো কোনো পদক্ষেপ এখনো চোখে পড়ছে না। যদিও পশ্চিমা দেশগুলো সংখ্যালঘু ইস্যুসহ নানা অজুহাতে মুসলিম দেশগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগ করে থাকে।

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ি প্রথম থেকেই রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর হত্যা-নির্যাতনের বিষয়ে প্রতিবাদমুখর ছিলেন। সর্বোচ্চ নেতার আহ্বানে ইরান সরকার এ পর্যন্ত রোহিঙ্গা মুসলমানদের রক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রতিনিধিদল পাঠিয়েও মায়ানমার সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়েছে।

সর্বোচ্চ নেতার মায়ানমার অঞ্চল বিষয়ক প্রতিনিধিও এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন। এর পরও মায়ানমার সরকারের মদদে রাখাইন রাজ্যে মুসলিম নিধন থেমে নেই।

বতর্মান প্রেক্ষাপটে মায়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিষয়ে সর্বোচ্চ নেতার দৃষ্টিভঙ্গির দিকে আরেকবার নজর দেয়া যাক। সর্বোচ্চ নেতার দৃষ্টিভঙ্গির আলোকেই ইরানের এ সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এর আগে এক বক্তৃতায় বলেছেন-আপনারা আজই দেখুন, পূর্ব এশিয়ার একটি দেশ মায়ানমারে হাজার হাজার মুসলমান নিহত হচ্ছে এবং তাদের হত্যা করা হচ্ছে অজ্ঞতা ও বিদ্বেষের কারণে।

এ ঘটনায় কোনো কোনো শক্তির রাজনৈতিক হাত থাকার কথা না উল্লেখ করেও যদি ধরে নিই যে, যেমনটি দাবি করা হচ্ছে, ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের কারণেই এই গণহত্যা ঘটছে, তা সত্ত্বেও মানবাধিকারের ভুয়া সমর্থকরা মুখ খুলছেন না। অথচ এদেরই অন্তর নাকি জীব-জন্তু ও পশুর জন্য কাঁদে।

অন্যদিকে যেসব দেশ তাদের অধীনতা থেকে মুক্ত বা স্বাধীনচেতা এবং তাদের ধামাধরা নয়, সেসব দেশে ক্ষুদ্রতম অজুহাতও দেখতে পেলে তারা তা শতগুণ বড় করে তুলে ধরে।

অথচ মায়ানমারে নিরপরাধ, নিরস্ত্র এবং অসহায় নারী, পুরুষ ও শিশুদের হত্যার ব্যপারে তারা নিশ্চুপ হয়ে আছে। পশ্চিমা শক্তিগুলো অবশ্য এ ব্যাপারে সাফাইও গাইছে। এই হলো তাদের মানবাধিকারের অবস্থা।

তাদের মানবাধিকার নৈতিকতা, খোদা ও আধ্যাত্মিকতাবিহীন। পশ্চিমাদের নৈতিকতা এবং মানবাধিকারের দাবি যে মিথ্যা বড়াই ছাড়া আর কিছুই নয়, তা স্পষ্ট হয়ে গেছে মায়ানমারের হাজার হাজার মুসলমানকে হত্যার বিষয়ে তাদের নীরবতার মধ্য দিয়ে।

তিনি আরও বলেছেন,ওরা বলছে, রোহিঙ্গা মুসলমানরা নাকি মায়ানমারের নাগরিক নয়। ধরে নিলাম তা ঠিক, তাই বলে কি তাদেরকে অবশ্যই নিহত হতে হবে? অবশ্য, তাদের এ দাবি মিথ্যা কারণ, শত শত বছর ধরে তারা সেখানে বসবাস করে আসছে। এ ব্যাপারে আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে।

পশ্চিমারা বিশেষ করে ইংরেজরা তাদের ঔপনিবেশিক শাসনামলে মায়ানমারে এবং তার আশেপাশের দেশগুলোর জনগণের ওপর ঠিক এমন অবস্থায়ই চাপিয়ে দিয়েছিল। তারা সেখানকার জনগণের প্রাণ ওষ্ঠাগত করে তুলেছিল। ইংরেজরা যেখানেই পা রেখেছে সেখানেই দুর্নীতি বা আরাজকতার রাজত্ব কায়েম করেছে এবং বংশ নিধনযজ্ঞ চালিয়েছে। কুরআন যেমনটি বলে-এসব কাজ ছাড়া অন্য কিছু তারা করেনি।

সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে পবিত্র কুরআন ও ঐশী হেদায়াত থেকে উৎসারিত আধ্যাত্মিকতা-ভিত্তিক সভ্যতা গড়ে উঠেছে। অন্যদিকে, নৈতিকতা ও আধ্যাত্মিকতা শূন্য জড়বাদী পশ্চিমা সভ্যতা মানুষকে শোষণ করছে। আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী এ প্রসঙ্গে বলেছেন, নৈতিকতা ও মানবাধিকার সম্পর্কে পাশ্চাত্যের দাবিগুলো মিথ্যা; আর এর উজ্জ্বল প্রমাণ হল, মায়ানমারে হাজার হাজার মুসলমান হত্যার বিষয়ে পশ্চিমা সমাজের নীরবতা।

সূত্র: পার্সটুডে

 

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X