মঙ্গলবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ৯:৩৮
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Tuesday, September 19, 2017 3:29 pm | আপডেটঃ September 19, 2017 3:33 PM
A- A A+ Print

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ট্রাম্পের কাছে প্রত্যাশা নেই: রয়টার্সকে শেখ হাসিনা

1

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে কোনো সাহায্য পাওয়ার আশা করছেন না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা মুসলিমদের ঢল নিয়ে সোমবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা হয়েছে তার। শরণার্থীদের তিনি কীভাবে দেখেন, তা পরিষ্কার করে দিয়েছেন। ফলে তার কাছ থেকে সাহায্য পাওয়ার আশা করছেন না শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জাতিসংঘের সংস্কার বিষয়ে বৈঠক শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন বের হচ্ছিলেন, তখন কয়েক মিনিটের জন্য তাকে থামান তিনি। ট্রাম্প জানতে চান, ‘বাংলাদেশ কেমন আছে?’ আমি বলি, খুবই ভালো। কিন্তু একটিমাত্র সমস্যা আছে, তা হলো- মিয়ানমার থেকে আসা শরণার্থী। কিন্তু শরণার্থী নিয়ে তিনি কোনো কথা বলেননি।’ সোমবার ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন বাংলাদেশ সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা। গত ২৫ আগস্ট রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের সেনবাহিনী কথাকথিত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা শুরু করলে প্রতিদিন হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। জাতিসংঘের হিসামতে, এ পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। নিহত হয়েছে সহস্রাধিক রোহিঙ্গা। মিয়ানামরের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নতুন করে দেশটির সেনাবাহিনীর তাণ্ডব চালানোর খবর পাওয়া যাচ্ছে। জাতিসংঘের দৃষ্টিতে, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ‘জাতিগত নিধন’ চালাচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে শেখ হাসিনা বলেছেন, শরণার্থীদের নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান পরিষ্কার। ফলে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিষয়ে তার কাছে সাহায্য চাওয়া ঠিক হবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘ইতিমধ্যে আমেরিকা ঘোষণা দিয়েছে, তারা আর শরণার্থী গ্রহণ করবে না। আমি তাদের কাছ থেকে কী আশা করতে পারি, বিশেষ করে প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে। এরই মধ্যে তিনি তার মনের কথা বলে দিয়েছেন... সুতরাং আমি কেন সাহায্য চাইব?’ নিজেদের সক্ষমতার প্রসঙ্গে দৃঢ়তার সঙ্গে শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ধনী দেশ নয়... কিন্তু আমরা যদি ১৬ কোটি মানুষকে খাওয়াতে পারি, তাহলে ৫০০ অথবা ৭ লাখেরও পারব।’ রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাহায্য করবেন বলে আশা করেন না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কারণ, শরণার্থী নিয়ে নিজের ভাবনা ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন। স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার রোহিঙ্গা শরণার্থী বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার পর রয়টার্সকে দেওয়া বিশেষ এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে স্থানীয় সময় গতকাল ট্রাম্পের আয়োজনে জাতিসংঘের সংস্কার বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের সভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রয়টার্সের সাংবাদিক মিশেল নিকোলসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাসিনা জানান, সভাস্থল ছাড়ার পর ট্রাম্পকে তিনি কয়েক মিনিটের জন্য থামান। এ সময় ট্রাম্প বাংলাদেশের খবর জানতে চান। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি বলি, বাংলাদেশ খুব ভালো অবস্থায় আছে। তবে আমাদের একমাত্র সমস্যা মিয়ানমার থেকে আসা শরণার্থীরা। কিন্তু ট্রাম্প শরণার্থীদের নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।’ রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দিয়েছে, তারা কোনো শরণার্থীকে সে দেশে ঢুকতে দেবে না। আমি তাদের কাছ থেকে কী আশা করতে পারি, বিশেষ করে সে দেশের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে? তিনি (ট্রাম্প) এর মধ্যেই তাঁর মনোভাব প্রকাশ করেছেন...তাহলে আর কেন সাহায্য চাইব?’ শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ধনী দেশ নয়...কিন্তু যদি আমরা ১৬ কোটি মানুষকে খাওয়াতে পারি, তাহলে আরও ৫ অথবা ৭ লাখ মানুষকেও খাওয়াতে পারব।’ দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থীবিষয়ক কর্মসূচিতে ১২০ দিনের স্থগিতাদেশ দেওয়ার চেষ্টা করেন। মুসলিম-অধ্যুষিত ছয়টি দেশের মানুষকে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে ৯০ দিন পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞাও জারি করেন। গত শুক্রবার এক টুইটে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরও বিস্তৃত, কঠোর ও সুনির্দিষ্ট করা উচিত। কিন্তু এটি রাজনৈতিকভাবে সঠিক হবে না।’ ট্রাম্প বলেছেন, সন্ত্রাসী হামলা প্রতিরোধ করতে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি প্রয়োজন। আগামী মাসে ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাবিষয়ক নির্বাহী আদেশের ওপর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। সাম্প্রতিক সহিংসতা পর্যন্ত রাখাইন রাজ্যে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গার বসবাস ছিল। তাদের বেশির ভাগেরই চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। মিয়ানমারে তাদের নাগরিকত্বও দেওয়া হয়নি। স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অনেকে তাদের বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বিবেচনা করে। শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর তিনি আরও আন্তর্জাতিক চাপ দেখতে চান। শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘(মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চিকে) মানতে হবে যে এই মানুষগুলো তাঁর দেশের এবং মিয়ানমারই তাদের দেশ। তাদের ফিরিয়ে নিতে হবে। এই মানুষগুলো দুর্ভোগে রয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলাপের বিষয়ে কিছু জানেন না দাবি করে হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘এ বিষয়ে ট্রাম্প খুবই আগ্রহী। তার সামনে যদি বিষয়টি তোলা হয়, তাহলে অবশ্যই তিনি এতে যুক্ত হবেন।’ সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেছেন, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর আরো বেশি আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে। রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান তাদের দেশে ফেরার মধ্যেই। মিয়ানমারের ডিফ্যাক্টো সরকারপ্রধান অং সান সু চির অবস্থান বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘তাকে মানতে হবে, এসব মানুষ তার দেশের এবং মিয়ানমার তাদের দেশ। তাদের ফিরে যেতে দিতে হবে।’ তিনি আরো যুক্ত করেন, ‘এসব মানুষ কষ্ট পাচ্ছে।’ আজ মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে নোবেলজীয় অং সান সু চির। আন্তর্জাতিক মহলের চোখ তার দিকে। তার ভাষণে কী ঘোষণা আসছে, সে দিকে তাকিয়ে আছে জাতিসংঘ। এর আগে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেছেন, ‘(এই ভাষণ) সু চির জন্য শেষ সুযোগ।’

Comments

Comments!

 রোহিঙ্গা ইস্যুতে ট্রাম্পের কাছে প্রত্যাশা নেই: রয়টার্সকে শেখ হাসিনাAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ট্রাম্পের কাছে প্রত্যাশা নেই: রয়টার্সকে শেখ হাসিনা

Tuesday, September 19, 2017 3:29 pm | আপডেটঃ September 19, 2017 3:33 PM
1

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে কোনো সাহায্য পাওয়ার আশা করছেন না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা মুসলিমদের ঢল নিয়ে সোমবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা হয়েছে তার। শরণার্থীদের তিনি কীভাবে দেখেন, তা পরিষ্কার করে দিয়েছেন। ফলে তার কাছ থেকে সাহায্য পাওয়ার আশা করছেন না শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জাতিসংঘের সংস্কার বিষয়ে বৈঠক শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন বের হচ্ছিলেন, তখন কয়েক মিনিটের জন্য তাকে থামান তিনি। ট্রাম্প জানতে চান, ‘বাংলাদেশ কেমন আছে?’ আমি বলি, খুবই ভালো। কিন্তু একটিমাত্র সমস্যা আছে, তা হলো- মিয়ানমার থেকে আসা শরণার্থী। কিন্তু শরণার্থী নিয়ে তিনি কোনো কথা বলেননি।’

সোমবার ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন বাংলাদেশ সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা।

গত ২৫ আগস্ট রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের সেনবাহিনী কথাকথিত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা শুরু করলে প্রতিদিন হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। জাতিসংঘের হিসামতে, এ পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। নিহত হয়েছে সহস্রাধিক রোহিঙ্গা। মিয়ানামরের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নতুন করে দেশটির সেনাবাহিনীর তাণ্ডব চালানোর খবর পাওয়া যাচ্ছে। জাতিসংঘের দৃষ্টিতে, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ‘জাতিগত নিধন’ চালাচ্ছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে শেখ হাসিনা বলেছেন, শরণার্থীদের নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান পরিষ্কার। ফলে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিষয়ে তার কাছে সাহায্য চাওয়া ঠিক হবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘ইতিমধ্যে আমেরিকা ঘোষণা দিয়েছে, তারা আর শরণার্থী গ্রহণ করবে না। আমি তাদের কাছ থেকে কী আশা করতে পারি, বিশেষ করে প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে। এরই মধ্যে তিনি তার মনের কথা বলে দিয়েছেন… সুতরাং আমি কেন সাহায্য চাইব?’

নিজেদের সক্ষমতার প্রসঙ্গে দৃঢ়তার সঙ্গে শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ধনী দেশ নয়… কিন্তু আমরা যদি ১৬ কোটি মানুষকে খাওয়াতে পারি, তাহলে ৫০০ অথবা ৭ লাখেরও পারব।’

রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাহায্য করবেন বলে আশা করেন না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কারণ, শরণার্থী নিয়ে নিজের ভাবনা ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন। স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার রোহিঙ্গা শরণার্থী বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার পর রয়টার্সকে দেওয়া বিশেষ এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন শেখ হাসিনা।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে স্থানীয় সময় গতকাল ট্রাম্পের আয়োজনে জাতিসংঘের সংস্কার বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের সভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রয়টার্সের সাংবাদিক মিশেল নিকোলসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাসিনা জানান, সভাস্থল ছাড়ার পর ট্রাম্পকে তিনি কয়েক মিনিটের জন্য থামান। এ সময় ট্রাম্প বাংলাদেশের খবর জানতে চান। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি বলি, বাংলাদেশ খুব ভালো অবস্থায় আছে। তবে আমাদের একমাত্র সমস্যা মিয়ানমার থেকে আসা শরণার্থীরা। কিন্তু ট্রাম্প শরণার্থীদের নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।’
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দিয়েছে, তারা কোনো শরণার্থীকে সে দেশে ঢুকতে দেবে না। আমি তাদের কাছ থেকে কী আশা করতে পারি, বিশেষ করে সে দেশের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে? তিনি (ট্রাম্প) এর মধ্যেই তাঁর মনোভাব প্রকাশ করেছেন…তাহলে আর কেন সাহায্য চাইব?’
শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ধনী দেশ নয়…কিন্তু যদি আমরা ১৬ কোটি মানুষকে খাওয়াতে পারি, তাহলে আরও ৫ অথবা ৭ লাখ মানুষকেও খাওয়াতে পারব।’
দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থীবিষয়ক কর্মসূচিতে ১২০ দিনের স্থগিতাদেশ দেওয়ার চেষ্টা করেন। মুসলিম-অধ্যুষিত ছয়টি দেশের মানুষকে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে ৯০ দিন পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞাও জারি করেন। গত শুক্রবার এক টুইটে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরও বিস্তৃত, কঠোর ও সুনির্দিষ্ট করা উচিত। কিন্তু এটি রাজনৈতিকভাবে সঠিক হবে না।’

ট্রাম্প বলেছেন, সন্ত্রাসী হামলা প্রতিরোধ করতে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি প্রয়োজন। আগামী মাসে ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাবিষয়ক নির্বাহী আদেশের ওপর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
সাম্প্রতিক সহিংসতা পর্যন্ত রাখাইন রাজ্যে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গার বসবাস ছিল। তাদের বেশির ভাগেরই চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। মিয়ানমারে তাদের নাগরিকত্বও দেওয়া হয়নি। স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অনেকে তাদের বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বিবেচনা করে।
শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর তিনি আরও আন্তর্জাতিক চাপ দেখতে চান।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘(মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চিকে) মানতে হবে যে এই মানুষগুলো তাঁর দেশের এবং মিয়ানমারই তাদের দেশ। তাদের ফিরিয়ে নিতে হবে। এই মানুষগুলো দুর্ভোগে রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলাপের বিষয়ে কিছু জানেন না দাবি করে হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘এ বিষয়ে ট্রাম্প খুবই আগ্রহী। তার সামনে যদি বিষয়টি তোলা হয়, তাহলে অবশ্যই তিনি এতে যুক্ত হবেন।’

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেছেন, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর আরো বেশি আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে। রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান তাদের দেশে ফেরার মধ্যেই।

মিয়ানমারের ডিফ্যাক্টো সরকারপ্রধান অং সান সু চির অবস্থান বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘তাকে মানতে হবে, এসব মানুষ তার দেশের এবং মিয়ানমার তাদের দেশ। তাদের ফিরে যেতে দিতে হবে।’ তিনি আরো যুক্ত করেন, ‘এসব মানুষ কষ্ট পাচ্ছে।’

আজ মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে নোবেলজীয় অং সান সু চির। আন্তর্জাতিক মহলের চোখ তার দিকে। তার ভাষণে কী ঘোষণা আসছে, সে দিকে তাকিয়ে আছে জাতিসংঘ। এর আগে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেছেন, ‘(এই ভাষণ) সু চির জন্য শেষ সুযোগ।’

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X