শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১১ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ৮:৪১
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Saturday, October 7, 2017 10:48 am
A- A A+ Print

‘রোহিঙ্গা’ ও ‘শরণার্থী’ বলবে না বাংলাদেশ সরকার

1

ঢাকা: মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কী নামে অভিহিত করা হবে সেটি নিয়ে সরকারের মাঝে এক ধরনের দোদুল্যমানতা ছিল। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের ‘শরণার্থী’ হিসেবে বিবেচনা করতে চায় না সরকার। খবর বিবিসির। সেজন্য বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের ‘বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মায়ানমারের নাগরিক’ হিসেবে অভিহিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের বিভিন্ন সূত্র বলছে, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পক্ষের সাথে আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের যত দ্রুত সম্ভব সেদেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু শরণার্থীর মর্যাদা দিলে সেটি দীর্ঘসূত্রিতায় আটকে যাবে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলছেন, ‘বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মায়ানমারের নাগরিক’ বলার ক্ষেত্রে কিছু যুক্তি আছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারের তরফ থেকে বলছি এরা মায়ানমারেরই নাগরিক। মায়ানমারের সরকার এবং মিলিটারি এ সমস্যা সৃষ্টির জন্য দায়ী। অতএব এর সমাধান তাদেরকেই করতে হবে। অর্থাৎ তাদেরকে মায়ানমারে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে। ঐ দিক থেকে আমাদের যুক্তিটা জোরালো হয়’। তিনি বলেন,‘বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মায়ানমারের নাগরিক’ নামটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যবহার করতে চায়। তবে প্রধানমন্ত্রী বিদেশ থেকে ফিরে আসার পর এনিয়ে আরো আলোচনা হবে। বাংলাদেশ সরকার মনে করে, রোহিঙ্গাদের শরণার্থীর মর্যাদা দিলে সেটি তাদের নিজ দেশে ফিরে যাবার ক্ষেত্রে একটি দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হবে। তাছাড়া শরণার্থী হিসেবে থাকলে তাদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার বাধ্য থাকবে। শরণার্থী বিষয়ক আন্তর্জাতিক কনভেনশনে স্বাক্ষর করেনি বাংলাদেশ। কিন্তু তারপরেও এ দফায় প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসার পর তাদের থাকার জন্য সরকার বনভূমির প্রায় তিন হাজার একর জমি বরাদ্দ দিয়েছে। রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য দেশি বিদেশী ত্রাণ গ্রহণ করছে সরকার। ত্রাণ কাজে সেনাবাহিনীকে কাজে লাগানো হচ্ছে। তাদের শরণার্থীর মর্যাদা না দিয়ে ভিন্ন কোন নামে অভিহিত করলে বাংলাদেশের কতটা লাভ হবে সেটি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে বলে মনে করেন সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন। তৌহিদ হোসেন বলেন, মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা আন্তর্জাতিক সংজ্ঞা অনুযায়ী শরণার্থী। কারণ রোহিঙ্গারা অত্যাচারিত হয়ে প্রাণভয়ে সীমান্ত পেরিয়ে অন্য দেশে এসেছে। ‘তাদেরকে কেন অন্য নামে ডাকা হচ্ছে আমি তো বুঝতে পারছি না। আমি তো মনে করি তাদেরকে শরণার্থী হিসেবে নিবন্ধিত করা উচিত। কারণ শরণার্থীদেরই অধিকার আছে নিজ দেশে ফিরে যাবার, সেটা যতো সময় লাগুক না কেন,’ বলছিলেন সাবেক এ পররাষ্ট্র সচিব। গত বেশ কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করছে না। কারণ তারা মনে করেন মায়ানমার যেহেতু রোহিঙ্গা শব্দটি স্বীকার করে না সেজন্য বাংলাদেশও এ শব্দটি ব্যবহার না করলে আলোচনার দরজা খোলা থাকবে। শরণার্থী বিষয়ক গবেষণা সংস্থা রামরুর সি আর আবরার মনে করেন, রোহিঙ্গাদের ‘বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মায়ানমারের নাগরিক’ বললে পরিস্থিতির কোন তফাৎ হবে না। আবরার মনে করেন, শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেবার কিছু সুবিধা আছে। কারণ শরণার্থীরা নিজ দেশে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত তাদের দেখাশুনার দায়িত্ব শুধু আশ্রয় দানকারী দেশের উপর নয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উপরও বর্তায়। রোহিঙ্গাদের শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি না দিলে সেটি অনেকটা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দায়মুক্তি দেবার মতো হবে বলে মনে করেন আবরার। তিনি বলেন, ‘১৯৯২ সালের মার্চ মাসের পর থেকে যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছেন, তাদেরকে সরকার শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেয় নি। তাদেরকে কি সরকার ফেরত পাঠাতে পেরেছেন? পারেন নি।’ তিনি মনে করেন, রোহিঙ্গাদের শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি না দিয়ে ‘বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মায়ানমারের নাগরিক’ হিসেবে বর্ণনা করলেও বাস্তব পরিস্থিতির কোন পরিবর্তন হবে না।

Comments

Comments!

 ‘রোহিঙ্গা’ ও ‘শরণার্থী’ বলবে না বাংলাদেশ সরকারAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

‘রোহিঙ্গা’ ও ‘শরণার্থী’ বলবে না বাংলাদেশ সরকার

Saturday, October 7, 2017 10:48 am
1

ঢাকা: মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কী নামে অভিহিত করা হবে সেটি নিয়ে সরকারের মাঝে এক ধরনের দোদুল্যমানতা ছিল। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের ‘শরণার্থী’ হিসেবে বিবেচনা করতে চায় না সরকার। খবর বিবিসির।

সেজন্য বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের ‘বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মায়ানমারের নাগরিক’ হিসেবে অভিহিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের বিভিন্ন সূত্র বলছে, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পক্ষের সাথে আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের যত দ্রুত সম্ভব সেদেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু শরণার্থীর মর্যাদা দিলে সেটি দীর্ঘসূত্রিতায় আটকে যাবে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলছেন, ‘বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মায়ানমারের নাগরিক’ বলার ক্ষেত্রে কিছু যুক্তি আছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারের তরফ থেকে বলছি এরা মায়ানমারেরই নাগরিক। মায়ানমারের সরকার এবং মিলিটারি এ সমস্যা সৃষ্টির জন্য দায়ী। অতএব এর সমাধান তাদেরকেই করতে হবে। অর্থাৎ তাদেরকে মায়ানমারে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে। ঐ দিক থেকে আমাদের যুক্তিটা জোরালো হয়’।

তিনি বলেন,‘বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মায়ানমারের নাগরিক’ নামটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যবহার করতে চায়। তবে প্রধানমন্ত্রী বিদেশ থেকে ফিরে আসার পর এনিয়ে আরো আলোচনা হবে।

বাংলাদেশ সরকার মনে করে, রোহিঙ্গাদের শরণার্থীর মর্যাদা দিলে সেটি তাদের নিজ দেশে ফিরে যাবার ক্ষেত্রে একটি দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হবে। তাছাড়া শরণার্থী হিসেবে থাকলে তাদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার বাধ্য থাকবে।

শরণার্থী বিষয়ক আন্তর্জাতিক কনভেনশনে স্বাক্ষর করেনি বাংলাদেশ।

কিন্তু তারপরেও এ দফায় প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসার পর তাদের থাকার জন্য সরকার বনভূমির প্রায় তিন হাজার একর জমি বরাদ্দ দিয়েছে। রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য দেশি বিদেশী ত্রাণ গ্রহণ করছে সরকার। ত্রাণ কাজে সেনাবাহিনীকে কাজে লাগানো হচ্ছে।

তাদের শরণার্থীর মর্যাদা না দিয়ে ভিন্ন কোন নামে অভিহিত করলে বাংলাদেশের কতটা লাভ হবে সেটি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে বলে মনে করেন সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন।

তৌহিদ হোসেন বলেন, মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা আন্তর্জাতিক সংজ্ঞা অনুযায়ী শরণার্থী। কারণ রোহিঙ্গারা অত্যাচারিত হয়ে প্রাণভয়ে সীমান্ত পেরিয়ে অন্য দেশে এসেছে।

‘তাদেরকে কেন অন্য নামে ডাকা হচ্ছে আমি তো বুঝতে পারছি না। আমি তো মনে করি তাদেরকে শরণার্থী হিসেবে নিবন্ধিত করা উচিত। কারণ শরণার্থীদেরই অধিকার আছে নিজ দেশে ফিরে যাবার, সেটা যতো সময় লাগুক না কেন,’ বলছিলেন সাবেক এ পররাষ্ট্র সচিব।

গত বেশ কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করছে না। কারণ তারা মনে করেন মায়ানমার যেহেতু রোহিঙ্গা শব্দটি স্বীকার করে না সেজন্য বাংলাদেশও এ শব্দটি ব্যবহার না করলে আলোচনার দরজা খোলা থাকবে।

শরণার্থী বিষয়ক গবেষণা সংস্থা রামরুর সি আর আবরার মনে করেন, রোহিঙ্গাদের ‘বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মায়ানমারের নাগরিক’ বললে পরিস্থিতির কোন তফাৎ হবে না।

আবরার মনে করেন, শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেবার কিছু সুবিধা আছে। কারণ শরণার্থীরা নিজ দেশে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত তাদের দেখাশুনার দায়িত্ব শুধু আশ্রয় দানকারী দেশের উপর নয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উপরও বর্তায়।

রোহিঙ্গাদের শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি না দিলে সেটি অনেকটা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দায়মুক্তি দেবার মতো হবে বলে মনে করেন আবরার।

তিনি বলেন, ‘১৯৯২ সালের মার্চ মাসের পর থেকে যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছেন, তাদেরকে সরকার শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেয় নি। তাদেরকে কি সরকার ফেরত পাঠাতে পেরেছেন? পারেন নি।’

তিনি মনে করেন, রোহিঙ্গাদের শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি না দিয়ে ‘বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মায়ানমারের নাগরিক’ হিসেবে বর্ণনা করলেও বাস্তব পরিস্থিতির কোন পরিবর্তন হবে না।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X