মঙ্গলবার, ২৫শে এপ্রিল, ২০১৭ ইং, ১২ই বৈশাখ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ভোর ৫:০২
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Friday, February 17, 2017 12:54 pm
A- A A+ Print

রোহিঙ্গা গণহত্যা হয়েছে, তবে প্রতিকারের কিছু নেই!

35_152

জসিম উদ্দিন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া চিত্র থেকে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানোর বিষয়টি স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে যে ভয়াবহ অত্যাচার নিপীড়ন চলছিল, তা বিশ্বসম্প্রদায়ের সামনে প্রকাশ পাওয়ার অন্য সব পথ রুদ্ধ করে রাখা আছে। নিপীড়িত রোহিঙ্গা সম্প্রদায় এবং তাদের প্রতি সহমর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে এই বর্বরতা প্রকাশের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তবে সামাজিক মাধ্যম বলে সেটা বর্বরতার নির্ভরযোগ্য তবে প্রমাণ হতে পারেনি। ‘বিশ্বাসযোগ্য নাকি নয়’ বলে উড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশী সংবাদমাধ্যমেও তখন এর সমালোচনা করা হয়েছে। আবেগের আতিশয্যে অনেকে ভিন্ন জায়গার মানব-নিপীড়নকে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে। ব্যতিক্রমী ফুটেজগুলোকে হাইলাইট করে বাংলাদেশী কোনো কোনো মিডিয়া উৎসাহের সাথে প্রচার করে যে, রোহিঙ্গা নির্যাতন নিয়ে বাড়াবাড়ি করা হচ্ছে। অন্য দিকে নিপীড়নের ভয়াবহতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরার জন্য যথেষ্ট প্রয়াস বাংলাদেশী মিডিয়ায় দেখা যায়নি। বাংলাদেশের প্রধান কয়েকটি সমস্যার মধ্যে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু অন্যতম। শরণার্থীর এই প্রবাহ ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য বিরাট হুমকি হিসেবে থেকে যাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের ওপর পরিচালিত গণহত্যাকে সঠিকভাবে তুলে ধরার মাধ্যমে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগে মিডিয়া বাংলাদেশ সরকারের সহযোগী হওয়া উচিত। রাখাইন প্রদেশে সরেজমিন সংবাদ সংগ্রহ করার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা আছে। রোহিঙ্গা মুসলিম অধ্যুষিত প্রদেশটিতে সংবাদকর্মীরা সাধারণত প্রবেশের অনুমতি পান না। স্যাটেলাইটের মাধ্যমে গৃহীত কিছু দুর্লভ চিত্রই খবর সংগ্রহের মাধ্যম। সেখানে মানবাধিকারকর্মীদের কোনো অস্তিত্ব রাখেনি মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক সরকার আগাগোড়া রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিষয়টি ডাহা মিথ্যা বলে বাস্তবতাকে অস্বীকার করে আসছে। সরকারের এ দাবি সত্য হলে কেন ওই প্রদেশে সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেয়া হয় না? অন্তত মানবাধিকারকর্মীদের প্রবেশ কেন ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে? আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদেরও নানাভাবে সেখানে প্রবেশে বাধার সৃষ্টি করে রাখা হয়েছে। জাতিসঙ্ঘের স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়ার ইয়াং লি-ও একই ধরনের বাধার মুখে পড়েন। রাখাইনের আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করতে গেলে বৌদ্ধভিক্ষুদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। এটা আসলে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের একটা ফাঁদ। অপকর্ম ঠেকানোর জন্য ভিক্ষুদের তারা সামনে রাখে। এর আগে কফি আনানসহ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকেই সেখানে গিয়ে তাদের বাধার মুখে পড়েন। সংবাদকর্মী ও মানবাধিকারকর্মীদের প্রবেশে অনুমতি দেয়ার ব্যাপারে সোচ্চার আওয়াজ তুলতে দেখা যায়নি। অন্তত বাংলাদেশী সংবাদমাধ্যম এটি জোরালোভাবে পেশ করতে পারত। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলে গণহত্যার আলামত স্পষ্ট পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু এই রোহিঙ্গাদের বক্তব্য পাত্তা পায়নি, সেটা লাইমলাইটেও আসেনি। সম্প্রতি কয়েকজন পশ্চিমা কূটনীতিক কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের পর সেটা সামনে এলো। জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কমিশনের পাশাপাশি আনান কমিশনের তদন্তে গণহত্যার বিষয়টি জানা যাচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, রাখাইনে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। প্রায় একই সময় বিদেশী কূটনীতিকেরা রোহিঙ্গাশিবির পরিদর্শন করেছেন। নির্মমতার ভয়াবহ বর্ণনা শুনে তারা আঁৎকে উঠেছেন। রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন গণহত্যার শামিল বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক। তার সাথে রোহিঙ্গাশিবির পরিদর্শন করেন অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার হাইকমিশনার। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কমিশনারের তৈরি করা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সামরিক অভিযানের ফলে রোহিঙ্গারা হত্যা, ধর্ষণ, নির্মম প্রহার ও অন্যান্য বড় ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন। হাইকমিশনার জেইদ রা’দ আল হোসেইন প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময় বলেছেন, রোহিঙ্গা শিশুরা যে নির্মমতার শিকার হয়েছে, তা ধারণার বাইরে। মায়ের বুকের দুগ্ধপানরত শিশুকেও কেড়ে নেয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীর সদস্যদের হাতে মায়ের সামনে মেয়েদের গণধর্ষণের শিকার হতে হয়েছে। আরো বলা হয়, ‘তাদের পক্ষ থেকে মৃতের সংখ্যা শত শত বলা হচ্ছে। কিন্তু এটা প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে অনেক কম। আমরা দেখছি এই সংখ্যা হাজার হাজার।’ মানবাধিকার হাইকমিশনারের এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর রোহিঙ্গা প্রশ্নে নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপের চাপ বাড়ছে। এমন খবর বাংলাদেশী একটি পত্রিকার। ওই পত্রিকায় এ বিষয়টিও স্পষ্ট হয়েছে যে, এই চাপ এমন জায়গা থেকে আসছে যা রোহিঙ্গাদের পক্ষে কোনো কাজে আসবে বলে মনে হয় না। কারণ রোহিঙ্গা প্রশ্নে আপাতত নিরাপত্তা পরিষদের কোনো বৈঠকের সম্ভাবনা নেই। এর স্থায়ী সদস্যদের এ ব্যাপারে কোনো আগ্রহ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসন রোহিঙ্গা প্রশ্নে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেনি। তারা যে এ ব্যাপারে অচিরেই একটি অবস্থান নেবেন, তার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনের প্রধান আগ্রহের বিষয় ইসরাইল। ট্রাম্পের সমর্থনের সূত্র ধরে ফিলিস্তিনিদের জমি দখল করে নতুন নতুন বসতি স্থাপনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে ইসরাইল। নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য সুইডেন চায় রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে নিরাপত্তা পরিষদ আরো বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখুক। এ ব্যাপারে তারা অনানুষ্ঠানিকভাবে পরিষদের সদস্যদের সাথে কথা বলছেন। কিন্তু তাতে কোনো ধরনের আশাবাদ জাগেনি। জাতিসঙ্ঘের অন্য দু’টি প্রভাবশালী দেশ চীন ও রাশিয়া এ ব্যাপারে কোনো আগ্রহ দেখায়নি। রাশিয়া আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একেবারে নিজেদের স্বার্থকেন্দ্রিক। মানবতা রক্ষায় তাদের কখনো কোনো অবস্থান নিতে দেখা যায়নি। চীনের অবস্থানও ঘুরেফিরে এখন নিজেদের স্বার্থ বিবেচনা করে এগিয়ে যায়। বাংলাদেশের সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কৌশলগত পর্যায়ে উন্নত করলেও এ ব্যাপারে তারা বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়ানোর দায় বোধ করে না। মানবাধিকারের প্রশ্নটি না হয় বাদ রাখা হলো। বাংলাদেশের আরো ঘনিষ্ঠ বন্ধু ভারতের অবস্থানও মানবাধিকার কিংবা বাংলাদেশের পক্ষে দেখা যাচ্ছে না। যখন রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানোর প্রমাণ যাওয়া যাচ্ছে, তখন এই দেশগুলোর চেহারা আয়নায় দেখা যাচ্ছে। দেশগুলো মানবাধিকারের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে না, এ কথা স্পষ্ট করে বলা যায়। একইভাবে বন্ধুত্বের মর্যাদাটা আসলে কী জিনিস সেটাও রহস্যময় হয়ে উঠছে। আর জাতিসঙ্ঘের নতুন মহাসচিব আন্তোনিও গুইতেরেজের ব্যাপার হলোÑ তিনি বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করছেন। এ মুহূর্তে মিয়ানমার প্রশ্নে তার কোনো ব্যক্তিগত প্রতিনিধি বা বিশেষ প্রতিনিধি নিয়োগের সম্ভাবনা নেই। ৩১ ডিসেম্বর ভারতের বিজয় নাম্বিয়ার এ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর কাউকে দায়িত্বটি দেয়া হয়নি। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, মিয়ানমারবিষয়ক প্রতিনিধি নিয়োগের জন্য সাধারণ পরিষদ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট ম্যান্ডেট বা নির্দেশ আসেনি। দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ কিভাবে তৈরি করা হচ্ছে, সেটাই বোঝা গেল। জাতিসঙ্ঘ সনদের ৯৯ ধারা অনুযায়ী মহাসচিব কেন এ বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন না, জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের মুখপাত্র দুজারিক এমন এক প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে গেছেন। তিনি বলেন, ঠিক কতজন মানুষ নিহত হলে জাতিসঙ্ঘ সনদের ৯৯ ধারা কার্যকর হবে, সে বিতর্কে তিনি যাবেন না। জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবকে একটি বিশেষ ক্ষমতা দেয়া আছে। জাতিসঙ্ঘ সনদের এই ধারা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা জন্য হুমকিÑ এমন কোনো বিষয় নিরাপত্তা পরিষদে তিনি উত্থাপন করতে পারেন। এটি অনেকটা আগাম সতর্কতা। জাতিসঙ্ঘের ইতিহাসে দেখা যায়, মহাসচিব অনেকবার তার এই ক্ষমতার ব্যবহার করেছেন। মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে চালানো তদন্তে যখন রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে, মহাসচিব তখন এই ধারার সুযোগ নিয়ে বিষয়টি নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপনের উদ্যোগ নিচ্ছেন না। তবে রোহিঙ্গা প্রশ্নে জাতিসঙ্ঘ আগাগোড়া স্বচ্ছ থাকছে বলে এর মুখপাত্রের বরাতে বলা হচ্ছে। গণহত্যা ঠেকানোর চেয়ে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের বড় দায়িত্ব যেন কথিত স্বচ্ছ থাকা। রোহিঙ্গা সমস্যাটি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বিরাট হুমকি সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে উগ্র বৌদ্ধরা বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে, পূর্ব এশিয়ার বিশাল অংশের জনগোষ্ঠীকে বিক্ষুব্ধ করছে। একইভাবে, দক্ষিণ এশিয়ার মানুষদের মধ্যে তা ক্ষতিকর সাম্প্রদায়িকতা উসকে দিতে পারে। আন্তর্জাতিক শান্তির জন্য এটা নিশ্চয়ই একটি হুমকি। জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব এই বিবেচনায় রোহিঙ্গা গণহত্যাকে নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপনের দায়িত্ব নেয়া উচিত। রোহিঙ্গা গণহত্যার খবর জোরালো হয়ে দেখা দেয়ার পর দুটো খবর পাওয়া গেল। মিয়ানমার সরকার তদন্ত করে দেখতে যাচ্ছে, পুলিশ রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের নির্যাতনের ঘটনা ঘটিয়েছে কি না। অন্যটি হচ্ছে, এক রোহিঙ্গাকে পুলিশের ওপর হামলার দায়ে আদালত মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছে। আদালত যখন একজন মানুষকে মৃত্যুদণ্ড দেয় তার অর্থ দাঁড়ায়, অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। পুলিশের দেয়া তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ওই রোহিঙ্গা আক্রমণকারী দলের নেতা। আদালত তাকে ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট দেয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দ্বিধা-সন্দেহে পড়েনি। অথচ রোহিঙ্গা গণহত্যার জন্য এই পুলিশ বাহিনীই দায়ী। জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কমিশন রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানোর প্রমাণ ফাঁস করেছে। এরপর মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে এসব তদন্ত করে দেখার ঘোষণা শোনা যাচ্ছে। রাষ্ট্রব্যবস্থা যখন অবিচারের সিদ্ধান্ত নেয়, তখন নাগরিকদের অবস্থা কতটা দুর্বিষহ হতে পারে, রোহিঙ্গাদের অবস্থা দেখলে তা বোঝা যায়। ৭০ হাজার রোহিঙ্গা যখন নাফ নদী পার হয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে তখনো ওই দেশের সরকারের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের বিষয়টি সন্দেহাতীত নয়? অন্য দিকে অভিযুক্ত পুলিশবাহিনীর দেয়া তথ্য-প্রমাণ অনুযায়ী, আদালতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পেয়ে গেল এক রোহিঙ্গা। এই অভিযোগে এর আগেও অনেকের বিরুদ্ধে সাজা দিয়েছেন আদালত। ফিলিস্তিন ও রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণবাহী জাহাজ : ত্রাণবাহী জাহাজকে আটকে দেয়ার নজির দেখা যায় ইসরাইলে। তারা ত্রাণবাহী বেসামরিক জাহাজে আক্রমণ করে ত্রাণকর্মীদের হত্যাও করেছে। ২০১০ সালের ৩১ মে ভূমধ্যাসাগরে ত্রাণবাহী জাহাজটির ওপর আক্রমণ চালায় তারা। ‘গাজা ফ্রিডম ফ্লোটিলা’ নামে ছয়টি বেসামরিক জাহাজে ইসরাইলি বাহিনীর চালানো হামলায় ৯ জন মানবাধিকারকর্মী প্রাণ হারান তখন। ইসরাইল একই ধরনের আরেকটি ত্রাণবাহী বহরকে আটক করে ২০১৫ সালে জুনের শেষ সপ্তাহে। ফিলিস্তিনিদের ত্রাণ পাওয়ার অধিকারকে হরণ করছে ইসরাইল। মালয়েশিয়া থেকে ছেড়ে আসা ‘নটিক্যাল আলিয়ার’ ক্ষেত্রে ভিন্ন দৃশ্য দেখা গেল। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী আলিয়ার ওপর হামলা চালানোর মতো বর্বরতা দেখায়নি। বরং তারা ত্রাণসামগ্রী গ্রহণ করতে সহায়তা করেছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, সামরিক বাহিনী ও বৌদ্ধ মৌলবাদীরা ত্রাণসামগ্রী নিজেদের আওতায় নিয়ে নিয়েছে। এগুলো দুর্গত রোহিঙ্গাদের কাছে পৌঁছানো হয়নি। এ ক্ষেত্রে ত্রাণকর্মীদের নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের কাছে ঘেঁষতে দেয়া হয়নি। তবে বৌদ্ধভিক্ষুদের প্রতিবাদ বিক্ষোভ ছিল লক্ষ করার মতো। একটি ধর্মসম্প্রদায়ের ধর্মীয় দায়িত্বশীল হওয়ার দাবিদার লোকেরা নিষ্কলুষ ত্রাণকার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বিক্ষোভের আয়োজন করেছে, এমনটা আগে শোনা যায়নি। গেরুয়া বসনের বৌদ্ধ সম্প্রদায়কে ‘অহিংসা পরম ধর্মের’ বাণী নিয়ে নির্বিবাদী হিসেবে দেখা যাওয়ার কথা। মিয়ানমারের বৌদ্ধদের এমন উগ্র সাম্প্রদায়িক অবস্থান হিংসা-বিদ্বেষের মনোভাবকে উসকে দিচ্ছে। ‘আলিয়া’ এখন বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায়। jjshim146@yahoo.com

Comments

Comments!

 রোহিঙ্গা গণহত্যা হয়েছে, তবে প্রতিকারের কিছু নেই!AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

রোহিঙ্গা গণহত্যা হয়েছে, তবে প্রতিকারের কিছু নেই!

Friday, February 17, 2017 12:54 pm
35_152

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া চিত্র থেকে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানোর বিষয়টি স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে যে ভয়াবহ অত্যাচার নিপীড়ন চলছিল, তা বিশ্বসম্প্রদায়ের সামনে প্রকাশ পাওয়ার অন্য সব পথ রুদ্ধ করে রাখা আছে। নিপীড়িত রোহিঙ্গা সম্প্রদায় এবং তাদের প্রতি সহমর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে এই বর্বরতা প্রকাশের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তবে সামাজিক মাধ্যম বলে সেটা বর্বরতার নির্ভরযোগ্য তবে প্রমাণ হতে পারেনি। ‘বিশ্বাসযোগ্য নাকি নয়’ বলে উড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশী সংবাদমাধ্যমেও তখন এর সমালোচনা করা হয়েছে। আবেগের আতিশয্যে অনেকে ভিন্ন জায়গার মানব-নিপীড়নকে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে। ব্যতিক্রমী ফুটেজগুলোকে হাইলাইট করে বাংলাদেশী কোনো কোনো মিডিয়া উৎসাহের সাথে প্রচার করে যে, রোহিঙ্গা নির্যাতন নিয়ে বাড়াবাড়ি করা হচ্ছে। অন্য দিকে নিপীড়নের ভয়াবহতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরার জন্য যথেষ্ট প্রয়াস বাংলাদেশী মিডিয়ায় দেখা যায়নি। বাংলাদেশের প্রধান কয়েকটি সমস্যার মধ্যে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু অন্যতম। শরণার্থীর এই প্রবাহ ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য বিরাট হুমকি হিসেবে থেকে যাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের ওপর পরিচালিত গণহত্যাকে সঠিকভাবে তুলে ধরার মাধ্যমে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগে মিডিয়া বাংলাদেশ সরকারের সহযোগী হওয়া উচিত।

রাখাইন প্রদেশে সরেজমিন সংবাদ সংগ্রহ করার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা আছে। রোহিঙ্গা মুসলিম অধ্যুষিত প্রদেশটিতে সংবাদকর্মীরা সাধারণত প্রবেশের অনুমতি পান না। স্যাটেলাইটের মাধ্যমে গৃহীত কিছু দুর্লভ চিত্রই খবর সংগ্রহের মাধ্যম। সেখানে মানবাধিকারকর্মীদের কোনো অস্তিত্ব রাখেনি মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক সরকার আগাগোড়া রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিষয়টি ডাহা মিথ্যা বলে বাস্তবতাকে অস্বীকার করে আসছে। সরকারের এ দাবি সত্য হলে কেন ওই প্রদেশে সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেয়া হয় না? অন্তত মানবাধিকারকর্মীদের প্রবেশ কেন ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে? আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদেরও নানাভাবে সেখানে প্রবেশে বাধার সৃষ্টি করে রাখা হয়েছে। জাতিসঙ্ঘের স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়ার ইয়াং লি-ও একই ধরনের বাধার মুখে পড়েন। রাখাইনের আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করতে গেলে বৌদ্ধভিক্ষুদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। এটা আসলে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের একটা ফাঁদ। অপকর্ম ঠেকানোর জন্য ভিক্ষুদের তারা সামনে রাখে। এর আগে কফি আনানসহ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকেই সেখানে গিয়ে তাদের বাধার মুখে পড়েন। সংবাদকর্মী ও মানবাধিকারকর্মীদের প্রবেশে অনুমতি দেয়ার ব্যাপারে সোচ্চার আওয়াজ তুলতে দেখা যায়নি। অন্তত বাংলাদেশী সংবাদমাধ্যম এটি জোরালোভাবে পেশ করতে পারত।
মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলে গণহত্যার আলামত স্পষ্ট পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু এই রোহিঙ্গাদের বক্তব্য পাত্তা পায়নি, সেটা লাইমলাইটেও আসেনি। সম্প্রতি কয়েকজন পশ্চিমা কূটনীতিক কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের পর সেটা সামনে এলো। জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কমিশনের পাশাপাশি আনান কমিশনের তদন্তে গণহত্যার বিষয়টি জানা যাচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, রাখাইনে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। প্রায় একই সময় বিদেশী কূটনীতিকেরা রোহিঙ্গাশিবির পরিদর্শন করেছেন। নির্মমতার ভয়াবহ বর্ণনা শুনে তারা আঁৎকে উঠেছেন। রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন গণহত্যার শামিল বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক। তার সাথে রোহিঙ্গাশিবির পরিদর্শন করেন অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার হাইকমিশনার।
মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কমিশনারের তৈরি করা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সামরিক অভিযানের ফলে রোহিঙ্গারা হত্যা, ধর্ষণ, নির্মম প্রহার ও অন্যান্য বড় ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন। হাইকমিশনার জেইদ রা’দ আল হোসেইন প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময় বলেছেন, রোহিঙ্গা শিশুরা যে নির্মমতার শিকার হয়েছে, তা ধারণার বাইরে। মায়ের বুকের দুগ্ধপানরত শিশুকেও কেড়ে নেয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীর সদস্যদের হাতে মায়ের সামনে মেয়েদের গণধর্ষণের শিকার হতে হয়েছে। আরো বলা হয়, ‘তাদের পক্ষ থেকে মৃতের সংখ্যা শত শত বলা হচ্ছে। কিন্তু এটা প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে অনেক কম। আমরা দেখছি এই সংখ্যা হাজার হাজার।’
মানবাধিকার হাইকমিশনারের এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর রোহিঙ্গা প্রশ্নে নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপের চাপ বাড়ছে। এমন খবর বাংলাদেশী একটি পত্রিকার। ওই পত্রিকায় এ বিষয়টিও স্পষ্ট হয়েছে যে, এই চাপ এমন জায়গা থেকে আসছে যা রোহিঙ্গাদের পক্ষে কোনো কাজে আসবে বলে মনে হয় না। কারণ রোহিঙ্গা প্রশ্নে আপাতত নিরাপত্তা পরিষদের কোনো বৈঠকের সম্ভাবনা নেই। এর স্থায়ী সদস্যদের এ ব্যাপারে কোনো আগ্রহ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসন রোহিঙ্গা প্রশ্নে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেনি। তারা যে এ ব্যাপারে অচিরেই একটি অবস্থান নেবেন, তার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনের প্রধান আগ্রহের বিষয় ইসরাইল। ট্রাম্পের সমর্থনের সূত্র ধরে ফিলিস্তিনিদের জমি দখল করে নতুন নতুন বসতি স্থাপনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে ইসরাইল।
নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য সুইডেন চায় রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে নিরাপত্তা পরিষদ আরো বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখুক। এ ব্যাপারে তারা অনানুষ্ঠানিকভাবে পরিষদের সদস্যদের সাথে কথা বলছেন। কিন্তু তাতে কোনো ধরনের আশাবাদ জাগেনি। জাতিসঙ্ঘের অন্য দু’টি প্রভাবশালী দেশ চীন ও রাশিয়া এ ব্যাপারে কোনো আগ্রহ দেখায়নি। রাশিয়া আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একেবারে নিজেদের স্বার্থকেন্দ্রিক। মানবতা রক্ষায় তাদের কখনো কোনো অবস্থান নিতে দেখা যায়নি। চীনের অবস্থানও ঘুরেফিরে এখন নিজেদের স্বার্থ বিবেচনা করে এগিয়ে যায়। বাংলাদেশের সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কৌশলগত পর্যায়ে উন্নত করলেও এ ব্যাপারে তারা বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়ানোর দায় বোধ করে না। মানবাধিকারের প্রশ্নটি না হয় বাদ রাখা হলো। বাংলাদেশের আরো ঘনিষ্ঠ বন্ধু ভারতের অবস্থানও মানবাধিকার কিংবা বাংলাদেশের পক্ষে দেখা যাচ্ছে না। যখন রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানোর প্রমাণ যাওয়া যাচ্ছে, তখন এই দেশগুলোর চেহারা আয়নায় দেখা যাচ্ছে। দেশগুলো মানবাধিকারের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে না, এ কথা স্পষ্ট করে বলা যায়। একইভাবে বন্ধুত্বের মর্যাদাটা আসলে কী জিনিস সেটাও রহস্যময় হয়ে উঠছে।
আর জাতিসঙ্ঘের নতুন মহাসচিব আন্তোনিও গুইতেরেজের ব্যাপার হলোÑ তিনি বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করছেন। এ মুহূর্তে মিয়ানমার প্রশ্নে তার কোনো ব্যক্তিগত প্রতিনিধি বা বিশেষ প্রতিনিধি নিয়োগের সম্ভাবনা নেই। ৩১ ডিসেম্বর ভারতের বিজয় নাম্বিয়ার এ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর কাউকে দায়িত্বটি দেয়া হয়নি। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, মিয়ানমারবিষয়ক প্রতিনিধি নিয়োগের জন্য সাধারণ পরিষদ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট ম্যান্ডেট বা নির্দেশ আসেনি। দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ কিভাবে তৈরি করা হচ্ছে, সেটাই বোঝা গেল।
জাতিসঙ্ঘ সনদের ৯৯ ধারা অনুযায়ী মহাসচিব কেন এ বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন না, জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের মুখপাত্র দুজারিক এমন এক প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে গেছেন। তিনি বলেন, ঠিক কতজন মানুষ নিহত হলে জাতিসঙ্ঘ সনদের ৯৯ ধারা কার্যকর হবে, সে বিতর্কে তিনি যাবেন না। জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবকে একটি বিশেষ ক্ষমতা দেয়া আছে। জাতিসঙ্ঘ সনদের এই ধারা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা জন্য হুমকিÑ এমন কোনো বিষয় নিরাপত্তা পরিষদে তিনি উত্থাপন করতে পারেন। এটি অনেকটা আগাম সতর্কতা। জাতিসঙ্ঘের ইতিহাসে দেখা যায়, মহাসচিব অনেকবার তার এই ক্ষমতার ব্যবহার করেছেন। মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে চালানো তদন্তে যখন রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে, মহাসচিব তখন এই ধারার সুযোগ নিয়ে বিষয়টি নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপনের উদ্যোগ নিচ্ছেন না। তবে রোহিঙ্গা প্রশ্নে জাতিসঙ্ঘ আগাগোড়া স্বচ্ছ থাকছে বলে এর মুখপাত্রের বরাতে বলা হচ্ছে। গণহত্যা ঠেকানোর চেয়ে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের বড় দায়িত্ব যেন কথিত স্বচ্ছ থাকা। রোহিঙ্গা সমস্যাটি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বিরাট হুমকি সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে উগ্র বৌদ্ধরা বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে, পূর্ব এশিয়ার বিশাল অংশের জনগোষ্ঠীকে বিক্ষুব্ধ করছে। একইভাবে, দক্ষিণ এশিয়ার মানুষদের মধ্যে তা ক্ষতিকর সাম্প্রদায়িকতা উসকে দিতে পারে। আন্তর্জাতিক শান্তির জন্য এটা নিশ্চয়ই একটি হুমকি। জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব এই বিবেচনায় রোহিঙ্গা গণহত্যাকে নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপনের দায়িত্ব নেয়া উচিত।
রোহিঙ্গা গণহত্যার খবর জোরালো হয়ে দেখা দেয়ার পর দুটো খবর পাওয়া গেল। মিয়ানমার সরকার তদন্ত করে দেখতে যাচ্ছে, পুলিশ রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের নির্যাতনের ঘটনা ঘটিয়েছে কি না। অন্যটি হচ্ছে, এক রোহিঙ্গাকে পুলিশের ওপর হামলার দায়ে আদালত মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছে।
আদালত যখন একজন মানুষকে মৃত্যুদণ্ড দেয় তার অর্থ দাঁড়ায়, অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। পুলিশের দেয়া তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ওই রোহিঙ্গা আক্রমণকারী দলের নেতা। আদালত তাকে ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট দেয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দ্বিধা-সন্দেহে পড়েনি। অথচ রোহিঙ্গা গণহত্যার জন্য এই পুলিশ বাহিনীই দায়ী।
জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কমিশন রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানোর প্রমাণ ফাঁস করেছে। এরপর মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে এসব তদন্ত করে দেখার ঘোষণা শোনা যাচ্ছে। রাষ্ট্রব্যবস্থা যখন অবিচারের সিদ্ধান্ত নেয়, তখন নাগরিকদের অবস্থা কতটা দুর্বিষহ হতে পারে, রোহিঙ্গাদের অবস্থা দেখলে তা বোঝা যায়। ৭০ হাজার রোহিঙ্গা যখন নাফ নদী পার হয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে তখনো ওই দেশের সরকারের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের বিষয়টি সন্দেহাতীত নয়? অন্য দিকে অভিযুক্ত পুলিশবাহিনীর দেয়া তথ্য-প্রমাণ অনুযায়ী, আদালতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পেয়ে গেল এক রোহিঙ্গা। এই অভিযোগে এর আগেও অনেকের বিরুদ্ধে সাজা দিয়েছেন আদালত।
ফিলিস্তিন ও রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণবাহী জাহাজ :
ত্রাণবাহী জাহাজকে আটকে দেয়ার নজির দেখা যায় ইসরাইলে। তারা ত্রাণবাহী বেসামরিক জাহাজে আক্রমণ করে ত্রাণকর্মীদের হত্যাও করেছে। ২০১০ সালের ৩১ মে ভূমধ্যাসাগরে ত্রাণবাহী জাহাজটির ওপর আক্রমণ চালায় তারা। ‘গাজা ফ্রিডম ফ্লোটিলা’ নামে ছয়টি বেসামরিক জাহাজে ইসরাইলি বাহিনীর চালানো হামলায় ৯ জন মানবাধিকারকর্মী প্রাণ হারান তখন। ইসরাইল একই ধরনের আরেকটি ত্রাণবাহী বহরকে আটক করে ২০১৫ সালে জুনের শেষ সপ্তাহে। ফিলিস্তিনিদের ত্রাণ পাওয়ার অধিকারকে হরণ করছে ইসরাইল।
মালয়েশিয়া থেকে ছেড়ে আসা ‘নটিক্যাল আলিয়ার’ ক্ষেত্রে ভিন্ন দৃশ্য দেখা গেল। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী আলিয়ার ওপর হামলা চালানোর মতো বর্বরতা দেখায়নি। বরং তারা ত্রাণসামগ্রী গ্রহণ করতে সহায়তা করেছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, সামরিক বাহিনী ও বৌদ্ধ মৌলবাদীরা ত্রাণসামগ্রী নিজেদের আওতায় নিয়ে নিয়েছে। এগুলো দুর্গত রোহিঙ্গাদের কাছে পৌঁছানো হয়নি। এ ক্ষেত্রে ত্রাণকর্মীদের নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের কাছে ঘেঁষতে দেয়া হয়নি। তবে বৌদ্ধভিক্ষুদের প্রতিবাদ বিক্ষোভ ছিল লক্ষ করার মতো। একটি ধর্মসম্প্রদায়ের ধর্মীয় দায়িত্বশীল হওয়ার দাবিদার লোকেরা নিষ্কলুষ ত্রাণকার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বিক্ষোভের আয়োজন করেছে, এমনটা আগে শোনা যায়নি। গেরুয়া বসনের বৌদ্ধ সম্প্রদায়কে ‘অহিংসা পরম ধর্মের’ বাণী নিয়ে নির্বিবাদী হিসেবে দেখা যাওয়ার কথা। মিয়ানমারের বৌদ্ধদের এমন উগ্র সাম্প্রদায়িক অবস্থান হিংসা-বিদ্বেষের মনোভাবকে উসকে দিচ্ছে। ‘আলিয়া’ এখন বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায়।

jjshim146@yahoo.com

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X