বৃহস্পতিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১০ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, দুপুর ১:০৬
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Sunday, November 20, 2016 2:51 pm
A- A A+ Print

রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্যাতনে সুচি’র মুখোশ উন্মোচন

161792_1

মায়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্যাতন চললেও দেশটির সরকারে প্রভাবশালী অবস্থানে থাকা অং সান সুচি’র নিশ্চুপ থাকার বিষয়টি বিশ্ববাসীকে নতুন বার্তা দিয়েছে। এর মাধ্যমে তার ধর্মীয় গোঁড়ামির মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। এতে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। সম্প্রতি ‘চেঞ্জ ডট অর্গ’ নামের একটি ওয়েবসাইট সুচির নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রত্যাহারের আবেদনে জনসমর্থন আদায় শুরু করেছে। এই বিষয়ে অনলাইনটি বিবিসির এক সাংবাদিক মিশাল হোসেন সম্পর্কে সুচি যে মন্তব্য করেছিলেন, তারও উল্লেখ করেছে। ২০১৩ সালে বিবিসির মিশাল হোসেনকে দেওয়া সেই সাক্ষাৎকারে অং সান সুচিকে রোহিঙ্গা মুসলিমদের সঙ্গে মিয়ানমারের আচরণ সম্পর্কে বেশ কিছু কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। সেই সাক্ষাৎকারের পর অং সান সুচি মন্তব্য করেছিলেন, ‘সাংবাদিক মিশাল হোসেন যে একজন মুসলিম সে বিষয়ে কেউ তো আগে আমাকে জানায়নি!’ চেঞ্জ ডট অর্গের আবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেত্রী ও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অং সান সুচির মুখ থেকে এরকম কথা শুনে অনেকেই তখন অবাক হয়েছিলেন। অং সান সুচি’র শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কারণে বিশ্বের বহু মানুষ তাকে শ্রদ্ধা করে থাকে। কিন্তু তার ওই ধরনের মন্তব্য বহু মানুষকে ক্রুদ্ধ এবং হতাশ করেছিল। এরপরই পরিস্কার হয়ে যায় মায়ানমারের মুসলিম সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতি সুচির মনোভাব আসলে কী! এমনকি গেল সেপ্টেম্বরে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সুচিকে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বরোচিত হামলা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘তার দেশে অনেক সমস্যা রয়েছে। রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতনকে শুধু শুধুই বড় করে দেখছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।’ এতদিনেও যে তার মনোভাবের পরিবর্তন আসেনি, সুচি’র সেই বক্তব্য আর এখনো নিশ্চুপ থাকাই তার বড় প্রমাণ। মিয়ানমারের রাজনীতিতে বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকার পরও নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত বিজয়ীর নির্লিপ্ততা বিস্মিত করেছে মানবতাবাদীদের। যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন US Human Rights Network এর ওয়েলস স্মিথ বলছেন, বর্ণবাদী ও ধর্মীয় গোঁড়ামির এই নারীর শান্তিতে নোবেল বিজয়ী উপমা এখন মানবতা আর গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকেই যেন পরিহাস করছে! এদিকে ধারাবাহিকভাবে রোহিঙ্গাদের উপর মিয়ানমার নির্যাতন চালালেও সরকারে প্রভাবশালী অবস্থানে থাকা সুচির নিশ্চুপ থাকার কারণ খুঁজছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। যে নারী একসময় আপোসহীন অবস্থানের কারণে বছরের পর বছর গৃহবন্দী থেকেছেন। স্বামী হারিয়েছেন, সন্তানদের থেকে দূরে থেকেছেন সেই সুচি’র দেশে প্রকাশ্যে মানুষের ওপর নির্যাতন চলছে। এটা তার এক ধরনের গোঁড়ামিরই দৃষ্টিভঙ্গি।  কেননা এর আগেও তিনি ধর্মীয় গোঁড়ামির উদাহরণ দেখিয়েছেন। সমালোচিতও হয়েছেন। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সফররত রাষ্ট্রদূতকে এমন অনুরোধও জানিয়েছেন যে এসব সংখ্যালঘু মুসলিমদের যেন রোহিঙ্গা নামে ডাকা না হয়।
 

Comments

Comments!

 রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্যাতনে সুচি’র মুখোশ উন্মোচনAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্যাতনে সুচি’র মুখোশ উন্মোচন

Sunday, November 20, 2016 2:51 pm
161792_1

মায়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্যাতন চললেও দেশটির সরকারে প্রভাবশালী অবস্থানে থাকা অং সান সুচি’র নিশ্চুপ থাকার বিষয়টি বিশ্ববাসীকে নতুন বার্তা দিয়েছে। এর মাধ্যমে তার ধর্মীয় গোঁড়ামির মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

এতে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। সম্প্রতি ‘চেঞ্জ ডট অর্গ’ নামের একটি ওয়েবসাইট সুচির নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রত্যাহারের আবেদনে জনসমর্থন আদায় শুরু করেছে। এই বিষয়ে অনলাইনটি বিবিসির এক সাংবাদিক মিশাল হোসেন সম্পর্কে সুচি যে মন্তব্য করেছিলেন, তারও উল্লেখ করেছে।

২০১৩ সালে বিবিসির মিশাল হোসেনকে দেওয়া সেই সাক্ষাৎকারে অং সান সুচিকে রোহিঙ্গা মুসলিমদের সঙ্গে মিয়ানমারের আচরণ সম্পর্কে বেশ কিছু কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। সেই সাক্ষাৎকারের পর অং সান সুচি মন্তব্য করেছিলেন, ‘সাংবাদিক মিশাল হোসেন যে একজন মুসলিম সে বিষয়ে কেউ তো আগে আমাকে জানায়নি!’

চেঞ্জ ডট অর্গের আবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেত্রী ও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অং সান সুচির মুখ থেকে এরকম কথা শুনে অনেকেই তখন অবাক হয়েছিলেন।

অং সান সুচি’র শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কারণে বিশ্বের বহু মানুষ তাকে শ্রদ্ধা করে থাকে। কিন্তু তার ওই ধরনের মন্তব্য বহু মানুষকে ক্রুদ্ধ এবং হতাশ করেছিল। এরপরই পরিস্কার হয়ে যায় মায়ানমারের মুসলিম সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতি সুচির মনোভাব আসলে কী!

এমনকি গেল সেপ্টেম্বরে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সুচিকে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বরোচিত হামলা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘তার দেশে অনেক সমস্যা রয়েছে। রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতনকে শুধু শুধুই বড় করে দেখছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।’

এতদিনেও যে তার মনোভাবের পরিবর্তন আসেনি, সুচি’র সেই বক্তব্য আর এখনো নিশ্চুপ থাকাই তার বড় প্রমাণ। মিয়ানমারের রাজনীতিতে বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকার পরও নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত বিজয়ীর নির্লিপ্ততা বিস্মিত করেছে মানবতাবাদীদের।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন US Human Rights Network এর ওয়েলস স্মিথ বলছেন, বর্ণবাদী ও ধর্মীয় গোঁড়ামির এই নারীর শান্তিতে নোবেল বিজয়ী উপমা এখন মানবতা আর গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকেই যেন পরিহাস করছে!

এদিকে ধারাবাহিকভাবে রোহিঙ্গাদের উপর মিয়ানমার নির্যাতন চালালেও সরকারে প্রভাবশালী অবস্থানে থাকা সুচির নিশ্চুপ থাকার কারণ খুঁজছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। যে নারী একসময় আপোসহীন অবস্থানের কারণে বছরের পর বছর গৃহবন্দী থেকেছেন। স্বামী হারিয়েছেন, সন্তানদের থেকে দূরে থেকেছেন সেই সুচি’র দেশে প্রকাশ্যে মানুষের ওপর নির্যাতন চলছে। এটা তার এক ধরনের গোঁড়ামিরই দৃষ্টিভঙ্গি।  কেননা এর আগেও তিনি ধর্মীয় গোঁড়ামির উদাহরণ দেখিয়েছেন। সমালোচিতও হয়েছেন। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সফররত রাষ্ট্রদূতকে এমন অনুরোধও জানিয়েছেন যে এসব সংখ্যালঘু মুসলিমদের যেন রোহিঙ্গা নামে ডাকা না হয়।

 

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X