মঙ্গলবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ৪:০৪
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Monday, September 5, 2016 7:23 am
A- A A+ Print

লবণের কেজি এখন ৪২ টাকা!

images

দেশের বাজারে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে অপরিশোধিত লবণের দাম। সেই সঙ্গে তাল মিলিয়ে সপ্তাহে সপ্তাহে পরিশোধিত লবণের দাম বাড়াচ্ছে বিপণনকারী কোম্পানিগুলো। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকার বাজারে ভালো মানের লবণের দাম ছিল কেজিপ্রতি ২৫ থেকে ২৬ টাকা। সেই লবণের দাম এখন ৪০ থেকে ৪২ টাকায় উঠেছে। সর্বশেষ গত এক মাসে চার দফায় কেজিতে ৭ টাকা দাম বাড়িয়েছে এসিআই সল্ট। অন্যান্য কোম্পানির লবণের দামও একইভাবে বেড়েছে। লবণের এই নতুন দর সাম্প্রতিক কালের মধ্যে সর্বোচ্চ। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, বাজারে এখন প্রতি কেজি লবণের দাম ২৫ থেকে ৩৮ টাকা, যা এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ৪৭ শতাংশ বেশি। লবণের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে দেশে উৎপাদন ভালো না হওয়ায়। বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত দুই মৌসুমে কক্সবাজারের চাষিরা চাহিদা অনুযায়ী লবণ উৎপাদন করতে পারেননি। নতুন লবণনীতির চূড়ান্ত খসড়ায় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে লবণের চাহিদা ধরা হয়েছে ১৬ লাখ ৬১ হাজার টন। ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশনের (বিসিক) হিসাবে, গেল মৌসুমে ১৫ লাখ ৫৫ হাজার টন অপরিশোধিত লবণ উৎপাদিত হয়েছে। আগের বছর উৎপাদিত হয়েছিল ১২ লাখ ৮২ হাজার টন। মিলমালিকদের দাবি, গড়ে ৩০ শতাংশ প্রক্রিয়াগত ক্ষতি বা প্রসেস লস ধরে ১৬ লাখ টন পরিশোধিত লবণ উৎপাদনে প্রায় ২২ লাখ টন অপরিশোধিত লবণ দরকার। পরপর দুই মৌসুমে চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন না হওয়ায় অপরিশোধিত লবণের দাম বাড়তে বাড়তে এখন বস্তাপ্রতি (৮০ কেজি) ১ হাজার ৩০০ টাকার ওপরে উঠেছে, যা সাধারণত ৫০০ টাকার কাছাকাছি থাকে। দেশি চাষিদের সুরক্ষা দিতে দেশে লবণ আমদানি নিষিদ্ধ করে রেখেছে সরকার। তবে ঘাটতি হলে মাঝেমধ্যে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়। আমদানিকারকদের প্রায় ৯৩ শতাংশ কর দিয়ে এক কেজি লবণ আমদানি করতে হয়। বড় মিলমালিকদের দাবি, লবণের মৌসুম শেষ হয়ে গেছে মে মাসে। এরপর দ্রুত অনুমোদন দিলে লবণের দাম এভাবে বাড়ত না। বিলম্ব হওয়ায় লবণ মজুতকারীরা লাভবান হয়েছে। লবণ মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি ও পূবালী সল্টের মালিক পরিতোষ কান্তি সাহা প্রথম আলোকে বলেন, লবণ আমদানিতে শুল্কের পরিমাণ অনেক বাড়িয়ে হলেও আমদানি উন্মুক্ত করে দেওয়া দরকার। অন্তত চার লাখ টন লবণ আমদানির অনুমতি দেওয়া হলে দাম কমবে। অবশ্য বাণিজ্যসচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন মনে করছেন, আমদানি করা দেড় লাখ টন লবণ বাজারে এলে দাম স্থিতিশীল হবে। তিনি প্রথম আলোক বলেন, দেশের চাষিদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য এত দিন লবণ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়নি। এবারও হাতবদলের আশঙ্কা: জোগান নিশ্চিত করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ১৪ আগস্ট ৭৫ হাজার ভোজ্য ও ৭৫ হাজার টন শিল্পে ব্যবহৃত লবণ আমদানির অনুমতি দিয়েছে। তবে চূড়ান্ত অনুমোদন মিলেছে গত বৃহস্পতিবার। ওই দিন আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকে ১২১টি মিলকে ৬২০ টন করে ভোজ্য লবণ এবং ১২০টি মিলকে ৬২৫ টন করে শিল্পে ব্যবহৃত লবণ আমদানির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। বড় মিলের মালিকেরা বলছেন, তাঁদের যে পরিমাণ লবণ আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, তা দিয়ে তাঁদের কারখানায় অল্প কয়েক দিন উৎপাদন চালানো যাবে। এরপর বাজার থেকে কিনতে হবে। অন্যদিকে আমদানির অনুমোদন পাওয়া অনেক মিলমালিক আমদানি করা অপরিশোধিত লবণ বড় মিলের কাছে বিক্রি করে দেবেন। দেশের ছয়টি পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান ভোজ্য লবণের বাজারের বড় অংশ দখল করে আছে। এর মধ্যে এসিআই জানিয়েছে, তাদের দৈনিক ৫০০ টন লবণ প্রয়োজন। তারা ১ হাজার ২২৫ টন আমদানির অনুমতি পেয়েছে। এ লবণ দিয়ে তাদের কারখানা আড়াই দিন চলবে। কনফিডেন্স সল্ট জানিয়েছে, তারাও ১ হাজার ২২৫ টন আমদানির অনুমতি পেয়েছে। এ পরিমাণ লবণ দিয়ে তাদের চলবে চার দিন। মোল্লা সল্টের কারখানাও চার দিন চলবে বলে জানিয়েছেন কারখানাটির মহাব্যবস্থাপক আবদুল মান্নান। পরিতোষ কান্তি সাহা জানিয়েছেন, তিনিও ১ হাজার ২২৫ টন আমদানির অনুমতি পেয়েছেন। এ লবণ দিয়ে তাঁর কারখানা আট দিন চলবে। সূত্র জানিয়েছে, আমদানির অনুমতি পাওয়া অনেক মিলমালিকের কারখানাই বন্ধ। ইতিমধ্যে তাঁদের অনেকে লবণ বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। ভারতের গুজরাট থেকে লবণ আমদানি করে বাংলাদেশের কারখানায় আনতে কেজিপ্রতি ছয় টাকার মতো খরচ পড়বে। নারায়ণগঞ্জে এখন অপরিশোধিত লবণের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ১৬ টাকা। ফলে এ সুযোগ নিয়ে বন্ধ মিলের মালিকেরা ১০ থেকে ১২ টাকা কেজি দরে আমদানির অনুমতিপত্র বিক্রির চেষ্টা করছেন। একটি অনুমতিপত্র বিক্রি করতে পারলে বন্ধ তাঁদের লাভ হচ্ছে কমপক্ষে ২৪ লাখ টাকা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি লবণ বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমদানি করা লবণ যে হাতবদল হয়, তা ওপেন সিক্রেট। কারখানা চালাতে বাধ্য হয়ে ওই সব লবণ বেশি দামে আমাদের কিনতে হবে। ফলে আমদানির সুযোগ দিলেও বাজারে দাম কমবে না।’ ২০১২ সালে আমদানি করা লবণের অবৈধ হাতবদল তদন্তে একটি কমিটি গঠন করেছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সেই কমিটির প্রতিবেদনে হাতবদলের প্রমাণও মিলেছিল। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসেও এক লাখ টন লবণ আমদানির অনুমোদন দিয়েছিল সরকার। সেই লবণও হাতবদল হয়েছিল বলে অভিযোগ আছে। কিন্তু কখনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ঈদের আগে লবণ আসছে না, চামড়ায় খরচ বাড়বে: এবার যে লবণ আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, তা কোরবানির ঈদের আগে দেশে আনা সম্ভব নয় বলে দাবি করেছে আমদানিকারকেরা। তাদের মতে, এতে ঈদের আগে লবণের দাম আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা আছে। বিশেষ করে চামড়া সংরক্ষণের জন্য লবণ নিয়ে সংকট সৃষ্টি হতে পারে। মিলমালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লবণ কেনা, জাহাজ ভাড়া করা, জাহাজে ওঠানো, দেশে আসার পর চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কারখানায় আনতে ২০ থেকে ২৫ দিন সময় লাগবে। পশু জবাইয়ের পর সংগ্রহ করা চামড়ার পচন রোধে ১০ ঘণ্টার মধ্যে লবণ মাখাতে হয়। প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, গত বছর কোরবানি ঈদে প্রায় ৯৬ লাখ ৩৫ হাজার গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া জবাই হয়েছিল। এসব পশুর চামড়া সংরক্ষণের জন্য প্রায় সোয়া লাখ টন লবণ প্রয়োজন হয়। চামড়া ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, একটি মাঝারি আকারের গরুর চামড়া সংরক্ষণে আট থেকে নয় কেজি লবণ লাগে। বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব টিপু সুলতান প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত বছর এক বস্তা (৭৪ কেজি) লবণ কিনেছিলাম ৫৫০ টাকা দরে। এবার সেটা ১ হাজার ৪০০ টাকা চাচ্ছে।’ চামড়া ব্যবসায়ীদের দাবি, দাম বেশি হওয়ায় মাঝারি ও বড় আকারের চামড়া সংরক্ষণে লবণ বাবদ খরচ ৮০ থেকে ১০০ টাকা বাড়বে। ছোট চামড়ায় এ খরচ বৃদ্ধি পাবে ৬০ টাকার কাছাকাছি। এ ছাড়া চড়া দামের কারণে লবণ প্রয়োজনের তুলনায় কম ব্যবহার করলে চামড়ার মান খারাপ হয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা তাঁদের।

Comments

Comments!

 লবণের কেজি এখন ৪২ টাকা!AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

লবণের কেজি এখন ৪২ টাকা!

Monday, September 5, 2016 7:23 am
images

দেশের বাজারে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে অপরিশোধিত লবণের দাম। সেই সঙ্গে তাল মিলিয়ে সপ্তাহে সপ্তাহে পরিশোধিত লবণের দাম বাড়াচ্ছে বিপণনকারী কোম্পানিগুলো।
গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকার বাজারে ভালো মানের লবণের দাম ছিল কেজিপ্রতি ২৫ থেকে ২৬ টাকা। সেই লবণের দাম এখন ৪০ থেকে ৪২ টাকায় উঠেছে। সর্বশেষ গত এক মাসে চার দফায় কেজিতে ৭ টাকা দাম বাড়িয়েছে এসিআই সল্ট। অন্যান্য কোম্পানির লবণের দামও একইভাবে বেড়েছে। লবণের এই নতুন দর সাম্প্রতিক কালের মধ্যে সর্বোচ্চ।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, বাজারে এখন প্রতি কেজি লবণের দাম ২৫ থেকে ৩৮ টাকা, যা এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ৪৭ শতাংশ বেশি।
লবণের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে দেশে উৎপাদন ভালো না হওয়ায়। বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত দুই মৌসুমে কক্সবাজারের চাষিরা চাহিদা অনুযায়ী লবণ উৎপাদন করতে পারেননি।
নতুন লবণনীতির চূড়ান্ত খসড়ায় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে লবণের চাহিদা ধরা হয়েছে ১৬ লাখ ৬১ হাজার টন। ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশনের (বিসিক) হিসাবে, গেল মৌসুমে ১৫ লাখ ৫৫ হাজার টন অপরিশোধিত লবণ উৎপাদিত হয়েছে। আগের বছর উৎপাদিত হয়েছিল ১২ লাখ ৮২ হাজার টন। মিলমালিকদের দাবি, গড়ে ৩০ শতাংশ প্রক্রিয়াগত ক্ষতি বা প্রসেস লস ধরে ১৬ লাখ টন পরিশোধিত লবণ উৎপাদনে প্রায় ২২ লাখ টন অপরিশোধিত লবণ দরকার।
পরপর দুই মৌসুমে চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন না হওয়ায় অপরিশোধিত লবণের দাম বাড়তে বাড়তে এখন বস্তাপ্রতি (৮০ কেজি) ১ হাজার ৩০০ টাকার ওপরে উঠেছে, যা সাধারণত ৫০০ টাকার কাছাকাছি থাকে।
দেশি চাষিদের সুরক্ষা দিতে দেশে লবণ আমদানি নিষিদ্ধ করে রেখেছে সরকার। তবে ঘাটতি হলে মাঝেমধ্যে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়। আমদানিকারকদের প্রায় ৯৩ শতাংশ কর দিয়ে এক কেজি লবণ আমদানি করতে হয়। বড় মিলমালিকদের দাবি, লবণের মৌসুম শেষ হয়ে গেছে মে মাসে। এরপর দ্রুত অনুমোদন দিলে লবণের দাম এভাবে বাড়ত না। বিলম্ব হওয়ায় লবণ মজুতকারীরা লাভবান হয়েছে।
লবণ মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি ও পূবালী সল্টের মালিক পরিতোষ কান্তি সাহা প্রথম আলোকে বলেন, লবণ আমদানিতে শুল্কের পরিমাণ অনেক বাড়িয়ে হলেও আমদানি উন্মুক্ত করে দেওয়া দরকার। অন্তত চার লাখ টন লবণ আমদানির অনুমতি দেওয়া হলে দাম কমবে।
অবশ্য বাণিজ্যসচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন মনে করছেন, আমদানি করা দেড় লাখ টন লবণ বাজারে এলে দাম স্থিতিশীল হবে। তিনি প্রথম আলোক বলেন, দেশের চাষিদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য এত দিন লবণ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়নি।
এবারও হাতবদলের আশঙ্কা: জোগান নিশ্চিত করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ১৪ আগস্ট ৭৫ হাজার ভোজ্য ও ৭৫ হাজার টন শিল্পে ব্যবহৃত লবণ আমদানির অনুমতি দিয়েছে। তবে চূড়ান্ত অনুমোদন মিলেছে গত বৃহস্পতিবার। ওই দিন আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকে ১২১টি মিলকে ৬২০ টন করে ভোজ্য লবণ এবং ১২০টি মিলকে ৬২৫ টন করে শিল্পে ব্যবহৃত লবণ আমদানির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
বড় মিলের মালিকেরা বলছেন, তাঁদের যে পরিমাণ লবণ আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, তা দিয়ে তাঁদের কারখানায় অল্প কয়েক দিন উৎপাদন চালানো যাবে। এরপর বাজার থেকে কিনতে হবে। অন্যদিকে আমদানির অনুমোদন পাওয়া অনেক মিলমালিক আমদানি করা অপরিশোধিত লবণ বড় মিলের কাছে বিক্রি করে দেবেন।
দেশের ছয়টি পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান ভোজ্য লবণের বাজারের বড় অংশ দখল করে আছে। এর মধ্যে এসিআই জানিয়েছে, তাদের দৈনিক ৫০০ টন লবণ প্রয়োজন। তারা ১ হাজার ২২৫ টন আমদানির অনুমতি পেয়েছে। এ লবণ দিয়ে তাদের কারখানা আড়াই দিন চলবে। কনফিডেন্স সল্ট জানিয়েছে, তারাও ১ হাজার ২২৫ টন আমদানির অনুমতি পেয়েছে। এ পরিমাণ লবণ দিয়ে তাদের চলবে চার দিন। মোল্লা সল্টের কারখানাও চার দিন চলবে বলে জানিয়েছেন কারখানাটির মহাব্যবস্থাপক আবদুল মান্নান।
পরিতোষ কান্তি সাহা জানিয়েছেন, তিনিও ১ হাজার ২২৫ টন আমদানির অনুমতি পেয়েছেন। এ লবণ দিয়ে তাঁর কারখানা আট দিন চলবে।
সূত্র জানিয়েছে, আমদানির অনুমতি পাওয়া অনেক মিলমালিকের কারখানাই বন্ধ। ইতিমধ্যে তাঁদের অনেকে লবণ বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। ভারতের গুজরাট থেকে লবণ আমদানি করে বাংলাদেশের কারখানায় আনতে কেজিপ্রতি ছয় টাকার মতো খরচ পড়বে। নারায়ণগঞ্জে এখন অপরিশোধিত লবণের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ১৬ টাকা। ফলে এ সুযোগ নিয়ে বন্ধ মিলের মালিকেরা ১০ থেকে ১২ টাকা কেজি দরে আমদানির অনুমতিপত্র বিক্রির চেষ্টা করছেন। একটি অনুমতিপত্র বিক্রি করতে পারলে বন্ধ তাঁদের লাভ হচ্ছে কমপক্ষে ২৪ লাখ টাকা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি লবণ বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমদানি করা লবণ যে হাতবদল হয়, তা ওপেন সিক্রেট। কারখানা চালাতে বাধ্য হয়ে ওই সব লবণ বেশি দামে আমাদের কিনতে হবে। ফলে আমদানির সুযোগ দিলেও বাজারে দাম কমবে না।’
২০১২ সালে আমদানি করা লবণের অবৈধ হাতবদল তদন্তে একটি কমিটি গঠন করেছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সেই কমিটির প্রতিবেদনে হাতবদলের প্রমাণও মিলেছিল। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসেও এক লাখ টন লবণ আমদানির অনুমোদন দিয়েছিল সরকার। সেই লবণও হাতবদল হয়েছিল বলে অভিযোগ আছে। কিন্তু কখনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ঈদের আগে লবণ আসছে না, চামড়ায় খরচ বাড়বে: এবার যে লবণ আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, তা কোরবানির ঈদের আগে দেশে আনা সম্ভব নয় বলে দাবি করেছে আমদানিকারকেরা। তাদের মতে, এতে ঈদের আগে লবণের দাম আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা আছে। বিশেষ করে চামড়া সংরক্ষণের জন্য লবণ নিয়ে সংকট সৃষ্টি হতে পারে। মিলমালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লবণ কেনা, জাহাজ ভাড়া করা, জাহাজে ওঠানো, দেশে আসার পর চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কারখানায় আনতে ২০ থেকে ২৫ দিন সময় লাগবে।
পশু জবাইয়ের পর সংগ্রহ করা চামড়ার পচন রোধে ১০ ঘণ্টার মধ্যে লবণ মাখাতে হয়। প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, গত বছর কোরবানি ঈদে প্রায় ৯৬ লাখ ৩৫ হাজার গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া জবাই হয়েছিল। এসব পশুর চামড়া সংরক্ষণের জন্য প্রায় সোয়া লাখ টন লবণ প্রয়োজন হয়। চামড়া ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, একটি মাঝারি আকারের গরুর চামড়া সংরক্ষণে আট থেকে নয় কেজি লবণ লাগে।
বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব টিপু সুলতান প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত বছর এক বস্তা (৭৪ কেজি) লবণ কিনেছিলাম ৫৫০ টাকা দরে। এবার সেটা ১ হাজার ৪০০ টাকা চাচ্ছে।’
চামড়া ব্যবসায়ীদের দাবি, দাম বেশি হওয়ায় মাঝারি ও বড় আকারের চামড়া সংরক্ষণে লবণ বাবদ খরচ ৮০ থেকে ১০০ টাকা বাড়বে। ছোট চামড়ায় এ খরচ বৃদ্ধি পাবে ৬০ টাকার কাছাকাছি। এ ছাড়া চড়া দামের কারণে লবণ প্রয়োজনের তুলনায় কম ব্যবহার করলে চামড়ার মান খারাপ হয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা তাঁদের।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X