সোমবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১৪ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ৩:১৯
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Wednesday, December 14, 2016 7:59 pm
A- A A+ Print

শরণার্থী শিবিরে বেড়ে ওঠা এক ফিলিস্তিনি নারীর সফলতার গল্প

14

গাজা: মোনা আদনান ঘালায়িনি বেড়ে ওঠেছেন ওয়েস্ট গাজা শহরের বিচ শরণার্থী শিবিরের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে। শহরটির রক্ষণশীল পরিবারে জন্ম নেওয়া অনেক নারীর পেশা গ্রহণে যেখানে রয়েছে অনেক সীমাবদ্ধতা। তারা ইচ্ছা করলেই বিদেশে গিয়ে শিক্ষা গ্রহণ কিংবা ইচ্ছামত চাকরি নিতে পারেন না। কেননা, গাজায় শিক্ষকতা, নার্সিং এবং প্রশাসনিক চাকরিকেই মেয়েদের জন্য উপযুক্ত পেশা মনে করা হয়। তবে এ ক্ষেত্রে একেবারেই ব্যতিক্রম মোনা আদনান ঘালায়িনি। তার পরিবার বিদেশে শিক্ষা অর্জন ও পেশা গ্রহণে তাকে স্বাধীনতা প্রদান করে। আর সেই স্বাধীনতা থেকেই তিনি শরণার্থী শিবিরে জন্ম নিয়েও বর্তমানে গাজা শহরের প্রভাবশালী সফল ব্যবসায়ী। ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের নারী সমাজের অনুপ্রেরণার প্রতীক। মোনা আদনান ঘালায়িনি বিদেশে শিক্ষা গ্রহণ করে গাজায় ফিরে হোটেলের রিসিপশনিস্ট হিসেবে চাকরি শুরু করেন। বর্তমানে তিনি বেশ কয়েকটি হোটেল- রেস্তোঁতারা এবং শপিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা করে নিজেই পরিচালনা করছেন।
শুধু তাই নয়, মোনা আদনান ঘালায়িনি গাজায় একমাত্র নারী ব্যবসায়ী যিনি পর্যটন শিল্প ও কমার্সিয়াল প্রজেক্ট তত্ত্বাবধান করছেন। তিনি ১৯৯২ সালে জর্ডানের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাববিজ্ঞানে ডিপ্লোমা করেন এবং পরবর্তীতে গাজার পর্যটন খাতে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন। সেই থেকে কাজ করছেন হোটেল ও রেস্তোঁরা নিয়ে। বর্তমানে তিনি গাজা শহরের একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী। তার জীবনের বিভিন্ন দিক ও সফলতার গল্প নিয়ে নিয়ে আল-মনিটর নামে ফিলিস্তিন ভিত্তিক একটি পত্রিকা তার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে। সাক্ষাৎকারটি এখানে তুলে ধরা হলো- আল-মনিটর: আপনি কখন কিভাবে হোটেল- রেস্তোঁতারা ব্যবসা শুরু করেন এবং এই কাজের শুরুতে আপনার বাবা খী আপনাকে সহযোগিতা করেছিলেন? মোনা আদনান ঘালায়িনি: আমি বিদেশে লেখাপড়া শেষে ১৯৯২ সালে গাজার বিচে একটি হোটেলে রিসিপশনিস্ট হিসেবে কাজ শুরু করি। ছয়মাস পর আমি সেখানে সহকারী ম্যানেজার হিসেবে পদোন্নতি পাই। যা আমাকে পর্যটন খাতে জড়াতে উৎসাহিত করেছিল। ওই সময় আমি অনেক সনামধন্য টেলিকম কোম্পানি ও বড় বড় ব্যাংক থেকে চাকরির প্রস্তাব পেয়েছিলাম। কিন্তু কোথাও যোগদান করিনি। কেননা, আমার অনেক বড় স্বপ্ন ছিল। পাঁচ বছর হোটেলের সহকারী ম্যানেজার হিসেবে কাজ করার পর অর্থনৈতিক কারণে ওই হোটেলটি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আমি নিজেকে ব্যবসায় সম্পৃক্ত করি। আমরা ২০০০ সালে পার্টনারশীপে গাজায় ‘সি-ব্রীজ হোটেল’ হোটেল প্রতিষ্ঠা করি এবং সেটি পরিচালনা করতে থাকি। ক্ষুদ্র পরিসরে শুরু করা ওই হোটেলটির মাত্র আটটি কক্ষ ছিল এবং এর নীচতলায় একটি রেস্তোঁরা ছিল। পরে ২০০৩ সালে আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনাসামনি বিগ বাইট রেস্তোঁরায় জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে কাজ শুরু করি এবং বিভিন্ন প্রজেক্ট গ্রহণ করি যা এখনো গাজার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অবশ্যই তখন বাবা আমাকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছিলেন। তিনি আমাকে বিশ্বাস করতেন এবং আমার পছন্দের কাজে তিনি সমর্থন করতেন। যে কারণে আমি জর্ডানে এবং আমার বোন পশ্চিম তীরে লেখাপড়া করতে পারি। আমি  এমন একটি পরিবারে বড় হয়েছি যে- এর সাহচর্য্য একটি অসাধারণ অনুভূতি সংরক্ষিত আছে। এমন কি আমার বাবার মৃত্যুর পরও। আমার অংশীদার এবং বন্ধুদের যারা আমার প্রস্তাবকে সমর্থন করেছিল তাদেরও বিশাল অবদান রয়েছে। আল-মনিটর: বর্তমানে আপনি কী করছেন এবং আপনার ব্যবসার অবস্থা কী? মোনা আদনান ঘালায়িনি: আমি বর্তমানে গাজার ১২টি বড় প্রজেক্টের মহাব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করছি। হোটেল, রেস্তোঁরা এবং সুপারমার্কেটের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিই এবং কর্মীদের নিত্যদিনের কাজ পরিদর্শন করি। আল-মনিটর: জীবনের এতদূর আপনি কিভাবে আসলেন? মোনা আদনান ঘালায়িনি: প্রত্যেকের জীবনেই তার নিজস্ব উপায়ে সাফল্য আসে, যারা তাদের কর্মক্ষেত্রে উন্নতি করতে চায়। আমি সর্বদা ভ্রমণ করতে পছন্দ করি এবং বিদেশে আমার জীবনকে আবিষ্কার করতে চাই। বিশেষ করে বিশ্বের হোটেল ও রেস্তোঁরা জগতে। আমি আমার প্রতিটি ভ্রমণে ফাইভ স্টার হোটেলে অবস্থান করে তাদের প্রতিষ্ঠা এবং ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি। আমি বছরে দুইবার বাইরে ভ্রমণ করি। একটিতে বিজনেস অনুমতিপত্র ব্যবহার করি। আমি গাজা ও ইসরাইলের মধ্যে ইরেজ পারাপারের মাধ্যমে পশ্চিম তীরে যাই। তারপর আমি জর্ডানের আম্মান বিমানবন্দর থেকে কিংবা মিশরের রাফাহ ক্রসিং থেকে ভ্রমণ করি যখন এটা খোলা হয়। আমি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছি। এর মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, মরক্কো, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, ফ্রান্স, স্পেন, জর্ডান ও মিশর রয়েছে। গাজা এমন একটি জনপদ যেখানকার পরিবেশ এতটাই জটিল যেখানে নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং নতুন কোনো প্রজেক্ট সফলভাবে শুরু করা সত্যিই কঠিন। কিন্তু আমি সবসময় মাঠে বিদেশী সাফল্য একত্রিত করার চেষ্টা করি, এখানে প্রকল্পের জন্য মানসিকতা এবং অর্থনীতি ভাল করতে। আল-মনিটর: বর্তমানে আপনার অধীনে কতজন কর্মী কাজ করছে এবং আপনি কি ধরনের প্রজেক্ট পরিচালনা ও তত্ত্বাবধান করছেন? মোনা আদনান ঘালায়িনি: বর্তমানে পাঁচটি বড় প্রজেক্টের অধীনে ১৫০জন জনবল কাজ করছে। এর মধ্যে গাজার রিমাল এলাকায় রুটস -১ হোটেল  এন্ড রেস্টুরেন্ট, সিশোরে রুটস -২ হোটেল  এন্ড রেস্টুরেন্ট, সমুদ্র তীরে আলদিয়াইরা হোটেল, রিমালে বিগ বাইট হোটেল রেস্টুরেন্ট এবং কেয়ার ৪ সুপারমার্কেট। আল-মনিটর: ফিলিস্তিনের হোটেল-রেস্টুরেন্ট এণ্ড টুরিস্টিক কমিটির সভাপতি সালেহ আবু হাসিরা বলছেন, গাজায় মাত্র ১০জন নারী এই সেক্টরে কাজ করছেন। এই সংখ্যাটা খুবই স্বল্প। এটার কারণ কি এবং কিভাবে এটা বৃদ্ধি করা যায়। মোনা আদনান ঘালায়িনি: এটা আমি বলবো না যে- এই খাতটি একমাত্র পুরুষদের জন্যই। কেননা, নারীদেরও এই খাতে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। তাদেরও এই খাতে কাজ করা সম্ভব। ১৯৯৫ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে বিভিন্ন হোটেল রেস্টুরেন্টে অনেক নারী কর্মী এই খাতে কাজ করেছেন। কিন্তু বর্তমানে কেন নারী কর্মীরা কাজ করছে না- এর সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা আমার কাছে নেই। যদিও এটা কোনো সামাজিক রীতিনীতি, ঐতিহ্য কিংবা রাজনৈতিক অবস্থা কারণে নয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন এর উত্তরণ সম্ভব বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমেই। এক্ষেত্রে নারীদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। আল-মনিটর অবলম্বনে 
 

Comments

Comments!

 শরণার্থী শিবিরে বেড়ে ওঠা এক ফিলিস্তিনি নারীর সফলতার গল্পAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

শরণার্থী শিবিরে বেড়ে ওঠা এক ফিলিস্তিনি নারীর সফলতার গল্প

Wednesday, December 14, 2016 7:59 pm
14

গাজা: মোনা আদনান ঘালায়িনি বেড়ে ওঠেছেন ওয়েস্ট গাজা শহরের বিচ শরণার্থী শিবিরের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে। শহরটির রক্ষণশীল পরিবারে জন্ম নেওয়া অনেক নারীর পেশা গ্রহণে যেখানে রয়েছে অনেক সীমাবদ্ধতা। তারা ইচ্ছা করলেই বিদেশে গিয়ে শিক্ষা গ্রহণ কিংবা ইচ্ছামত চাকরি নিতে পারেন না। কেননা, গাজায় শিক্ষকতা, নার্সিং এবং প্রশাসনিক চাকরিকেই মেয়েদের জন্য উপযুক্ত পেশা মনে করা হয়।

তবে এ ক্ষেত্রে একেবারেই ব্যতিক্রম মোনা আদনান ঘালায়িনি। তার পরিবার বিদেশে শিক্ষা অর্জন ও পেশা গ্রহণে তাকে স্বাধীনতা প্রদান করে। আর সেই স্বাধীনতা থেকেই তিনি শরণার্থী শিবিরে জন্ম নিয়েও বর্তমানে গাজা শহরের প্রভাবশালী সফল ব্যবসায়ী। ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের নারী সমাজের অনুপ্রেরণার প্রতীক।

মোনা আদনান ঘালায়িনি বিদেশে শিক্ষা গ্রহণ করে গাজায় ফিরে হোটেলের রিসিপশনিস্ট হিসেবে চাকরি শুরু করেন। বর্তমানে তিনি বেশ কয়েকটি হোটেল- রেস্তোঁতারা এবং শপিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা করে নিজেই পরিচালনা করছেন।

শুধু তাই নয়, মোনা আদনান ঘালায়িনি গাজায় একমাত্র নারী ব্যবসায়ী যিনি পর্যটন শিল্প ও কমার্সিয়াল প্রজেক্ট তত্ত্বাবধান করছেন। তিনি ১৯৯২ সালে জর্ডানের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাববিজ্ঞানে ডিপ্লোমা করেন এবং পরবর্তীতে গাজার পর্যটন খাতে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন। সেই থেকে কাজ করছেন হোটেল ও রেস্তোঁরা নিয়ে। বর্তমানে তিনি গাজা শহরের একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী।

তার জীবনের বিভিন্ন দিক ও সফলতার গল্প নিয়ে নিয়ে আল-মনিটর নামে ফিলিস্তিন ভিত্তিক একটি পত্রিকা তার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে। সাক্ষাৎকারটি এখানে তুলে ধরা হলো-

আল-মনিটর: আপনি কখন কিভাবে হোটেল- রেস্তোঁতারা ব্যবসা শুরু করেন এবং এই কাজের শুরুতে আপনার বাবা খী আপনাকে সহযোগিতা করেছিলেন?

মোনা আদনান ঘালায়িনি: আমি বিদেশে লেখাপড়া শেষে ১৯৯২ সালে গাজার বিচে একটি হোটেলে রিসিপশনিস্ট হিসেবে কাজ শুরু করি। ছয়মাস পর আমি সেখানে সহকারী ম্যানেজার হিসেবে পদোন্নতি পাই। যা আমাকে পর্যটন খাতে জড়াতে উৎসাহিত করেছিল। ওই সময় আমি অনেক সনামধন্য টেলিকম কোম্পানি ও বড় বড় ব্যাংক থেকে চাকরির প্রস্তাব পেয়েছিলাম। কিন্তু কোথাও যোগদান করিনি। কেননা, আমার অনেক বড় স্বপ্ন ছিল। পাঁচ বছর হোটেলের সহকারী ম্যানেজার হিসেবে কাজ করার পর অর্থনৈতিক কারণে ওই হোটেলটি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আমি নিজেকে ব্যবসায় সম্পৃক্ত করি। আমরা ২০০০ সালে পার্টনারশীপে গাজায় ‘সি-ব্রীজ হোটেল’ হোটেল প্রতিষ্ঠা করি এবং সেটি পরিচালনা করতে থাকি। ক্ষুদ্র পরিসরে শুরু করা ওই হোটেলটির মাত্র আটটি কক্ষ ছিল এবং এর নীচতলায় একটি রেস্তোঁরা ছিল।

পরে ২০০৩ সালে আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনাসামনি বিগ বাইট রেস্তোঁরায় জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে কাজ শুরু করি এবং বিভিন্ন প্রজেক্ট গ্রহণ করি যা এখনো গাজার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

অবশ্যই তখন বাবা আমাকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছিলেন। তিনি আমাকে বিশ্বাস করতেন এবং আমার পছন্দের কাজে তিনি সমর্থন করতেন। যে কারণে আমি জর্ডানে এবং আমার বোন পশ্চিম তীরে লেখাপড়া করতে পারি। আমি  এমন একটি পরিবারে বড় হয়েছি যে- এর সাহচর্য্য একটি অসাধারণ অনুভূতি সংরক্ষিত আছে। এমন কি আমার বাবার মৃত্যুর পরও। আমার অংশীদার এবং বন্ধুদের যারা আমার প্রস্তাবকে সমর্থন করেছিল তাদেরও বিশাল অবদান রয়েছে।

আল-মনিটর: বর্তমানে আপনি কী করছেন এবং আপনার ব্যবসার অবস্থা কী?

মোনা আদনান ঘালায়িনি: আমি বর্তমানে গাজার ১২টি বড় প্রজেক্টের মহাব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করছি। হোটেল, রেস্তোঁরা এবং সুপারমার্কেটের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিই এবং কর্মীদের নিত্যদিনের কাজ পরিদর্শন করি।

আল-মনিটর: জীবনের এতদূর আপনি কিভাবে আসলেন?

মোনা আদনান ঘালায়িনি: প্রত্যেকের জীবনেই তার নিজস্ব উপায়ে সাফল্য আসে, যারা তাদের কর্মক্ষেত্রে উন্নতি করতে চায়। আমি সর্বদা ভ্রমণ করতে পছন্দ করি এবং বিদেশে আমার জীবনকে আবিষ্কার করতে চাই। বিশেষ করে বিশ্বের হোটেল ও রেস্তোঁরা জগতে। আমি আমার প্রতিটি ভ্রমণে ফাইভ স্টার হোটেলে অবস্থান করে তাদের প্রতিষ্ঠা এবং ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি। আমি বছরে দুইবার বাইরে ভ্রমণ করি। একটিতে বিজনেস অনুমতিপত্র ব্যবহার করি। আমি গাজা ও ইসরাইলের মধ্যে ইরেজ পারাপারের মাধ্যমে পশ্চিম তীরে যাই। তারপর আমি জর্ডানের আম্মান বিমানবন্দর থেকে কিংবা মিশরের রাফাহ ক্রসিং থেকে ভ্রমণ করি যখন এটা খোলা হয়।

আমি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছি। এর মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, মরক্কো, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, ফ্রান্স, স্পেন, জর্ডান ও মিশর রয়েছে। গাজা এমন একটি জনপদ যেখানকার পরিবেশ এতটাই জটিল যেখানে নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং নতুন কোনো প্রজেক্ট সফলভাবে শুরু করা সত্যিই কঠিন। কিন্তু আমি সবসময় মাঠে বিদেশী সাফল্য একত্রিত করার চেষ্টা করি, এখানে প্রকল্পের জন্য মানসিকতা এবং অর্থনীতি ভাল করতে।

আল-মনিটর: বর্তমানে আপনার অধীনে কতজন কর্মী কাজ করছে এবং আপনি কি ধরনের প্রজেক্ট পরিচালনা ও তত্ত্বাবধান করছেন?

মোনা আদনান ঘালায়িনি: বর্তমানে পাঁচটি বড় প্রজেক্টের অধীনে ১৫০জন জনবল কাজ করছে। এর মধ্যে গাজার রিমাল এলাকায় রুটস -১ হোটেল  এন্ড রেস্টুরেন্ট, সিশোরে রুটস -২ হোটেল  এন্ড রেস্টুরেন্ট, সমুদ্র তীরে আলদিয়াইরা হোটেল, রিমালে বিগ বাইট হোটেল রেস্টুরেন্ট এবং কেয়ার ৪ সুপারমার্কেট।

আল-মনিটর: ফিলিস্তিনের হোটেল-রেস্টুরেন্ট এণ্ড টুরিস্টিক কমিটির সভাপতি সালেহ আবু হাসিরা বলছেন, গাজায় মাত্র ১০জন নারী এই সেক্টরে কাজ করছেন। এই সংখ্যাটা খুবই স্বল্প। এটার কারণ কি এবং কিভাবে এটা বৃদ্ধি করা যায়।

মোনা আদনান ঘালায়িনি: এটা আমি বলবো না যে- এই খাতটি একমাত্র পুরুষদের জন্যই। কেননা, নারীদেরও এই খাতে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। তাদেরও এই খাতে কাজ করা সম্ভব। ১৯৯৫ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে বিভিন্ন হোটেল রেস্টুরেন্টে অনেক নারী কর্মী এই খাতে কাজ করেছেন। কিন্তু বর্তমানে কেন নারী কর্মীরা কাজ করছে না- এর সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা আমার কাছে নেই। যদিও এটা কোনো সামাজিক রীতিনীতি, ঐতিহ্য কিংবা রাজনৈতিক অবস্থা কারণে নয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন এর উত্তরণ সম্ভব বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমেই। এক্ষেত্রে নারীদেরকে এগিয়ে আসতে হবে।

আল-মনিটর অবলম্বনে 

 

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X