সোমবার, ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৭ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ১১:৪৩
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Thursday, July 13, 2017 10:28 pm
A- A A+ Print

শাফাত আর সাকিফ চকলেট খেয়েই সারা

09

শাফাত আহমেদের হাতে হাতকড়ার দাগ পড়ে গেছে। লোকজনে ভরা আদালতে এসে বারবার তাই দেখছিলেন তিনি। তাঁর বন্ধু নাঈম আশরাফ ও সাদমান সাকিফও তাঁর সঙ্গে। তাঁদের হাতেও হাতকড়া। শাফাতের সঙ্গ একই দড়িতে বাঁধা। একজন কোনো দিকে গেলে অন্য দুজনকেও সেদিকে যেতে হয়। শাফাত তাঁর এক আত্মীয়ের সঙ্গে কথা বলতে কাঠগড়ার দক্ষিণাংশে গেলেন, নাঈম ও সাকিফকেও সেখানে যেতে হলো। তাঁদের অভিযোগ গঠনের শুনানির সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, তিনজনের মধ্যে চিত্তচাঞ্চল্যের বিষয়টি পুরোটাই দৃশ্যমান। শাফাত আর সাকিফ বারবার পকেট থেকে চকলেট বের করে খাচ্ছিলেন। শাফাত নাঈমকে চকলেট খাওয়ার প্রস্তাব করলে তা তিনি ফিরিয়ে দেন। শাফাত যেন বারবার ঘামছিলেন। যতক্ষণ তিনি আদালতে ছিলেন, টিস্যু দিয়ে তাঁকে বারবার মুখ মুছতে দেখা যায়। বনানীর দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে শাফাত আহমেদ ও তাঁর বন্ধু নাঈম আশরাফের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়েছে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এ। ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগে শাফাতের বন্ধু সাদমান সাকিফ, শাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন ও তাঁর দেহরক্ষী রহমত আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়, জন্মদিনের পার্টির কথা বলে গত ২৮ মার্চ রাতে বনানীর রেইনট্রি হোটেলে ডেকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া দুই তরুণীকে ধর্ষণ করেন শাফাত আহমেদ ও তাঁর বন্ধু নাঈম আশরাফ। ঘটনার ৪০ দিন পর দুই তরুণী বনানী থানায় মামলা করতে গেলে মামলা না নিয়ে তাঁদের হয়রানি করে পুলিশ। এ ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে হইচই পড়ে যায়। বনানীর রেইনট্রি হোটেলে কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া দুই ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হন, তা সবিস্তারে আদালতে বলেন শাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ। পরে তাঁরা আদালতে দেওয়া জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করেন। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে যখন শাফাত আহমেদসহ অপর পাঁচজন আসামিকে আসামির কাঠগড়ায় তোলা হয়, তখন অন্যদের বিচারকাজ চলছিল আদালতে। অন্য আসামিরা ছিলেন কাঠগড়ায়। এরপর শাফাত ও সাদমানকে দেখা যায় তাঁদের আত্মীয়ের সঙ্গে কথা বলতে। এর কিছুক্ষণ পর নিজেরা নিজেদের মধ্যে কথা বলতে থাকেন। বিশেষ করে সাদমান আর শাফাত নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলেন। আর নাঈম ছিলেন চুপচাপ। সাদমানের পরনে ছিল পাঞ্জাবি আর পাজামা। জিনসের সঙ্গে টি-শার্ট পরা ছিলেন শাফাত। আর নাঈমের পরনে ছিল ট্রাউজার আর টি-শার্ট। তাঁরা কাঠগড়ায় আসার পর তাঁদের কাছে আসেন আইনজীবীরা। তখন শাফাত ও সাদমান আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে থাকেন। পরে নাঈমও তাঁর আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেন। একে একে যখন অন্য মামলার শুনানি শেষ হয়, তখন আদালতের পেশকার নাম ডাকতে থাকেন শাফাতদের। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানার সামনে শাফাত আহমেদ। ছবি: আসাদুজ্জামানআদালতে কথা বলতে শুরু করেন নাঈম আশরাফের আইনজীবী খায়রুল ইসলাম লিটন। আদালতে তিনি বলেন, ‘এটি সাজানো মামলা। ডাক্তারি রিপোর্ট বলছে, জোরপূর্বক ধর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। অথচ পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে বলে, ধর্ষণ হয়েছে। বাস্তবে ধর্ষণের মতো কোনো ঘটনা হয়নি।’ নাঈম আশরাফের বিরুদ্ধে বাদী তাঁর এজাহারে কোনো অভিযোগ করেননি। অর্থাৎ, নাঈম আশরাফের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করার কোনো উপাদান নেই। তাই তাঁকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক। এরপর শাফাত আহমেদসহ তিনজনের পক্ষে কথা বলতে শুরু করেন আইনজীবী কাজী নজিবুল্লাহ হীরু। আদালতকে তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী ধর্ষণ হতে হলে অবশ্যই সেখানে জোরপূর্বক ঘটনা থাকতে হবে। কিন্তু এ মামলার ডাক্তারি পরীক্ষা বলছে, এখানে জোরপূর্বক কোনো ঘটনা ঘটেনি। এজাহারে ধর্ষণের ভিডিওসহ অনেক কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ শেষ পর্যন্ত সে ধরনের কোনো ভিডিও উদ্ধার করতে পারেনি। শুধু বাদীর বন্ধুকে মারধরের ভিডিও উদ্ধার হয়েছে। অর্থাৎ অতিরঞ্জিত করা হয়েছে। নজিবুল্লাহ হীরু বলেন, এটি একটি সাজানো মামলা। এক মাসের বেশি পরে মামলা করা হয়েছে। কিন্তু এর কোনো যৌক্তিক কারণ দেখানো হয়নি। এ মামলায় ধর্ষণজনিত কোনো উপাদান পাওয়া যাবে না। একটিমাত্র উপাদান আছে। তা হলো আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি। আসামিদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়। শাফাত যে স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন, তা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। বিল্লাল আর রহমত উল্লাহর বিরুদ্ধে ধর্ষণের ভিডিও ধারণের অভিযোগ আনা হয়েছিল, কোথায় সেই ভিডিও? যদি সেই ভিডিও পাওয়া যেত, তাহলে সহযোগী হিসেবে তাঁদের নাম আসতে পারে। অর্থাৎ, শাফাত কিংবা রহমত, বিল্লালদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের কোনো উপাদান নেই। তাই তাঁদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক। সবশেষে শাফাতের বন্ধু সাদমান সাকিফের পক্ষে কথা বলেন তাঁর আইনজীবী আবদুর রহমান হওলাদার। আদালতে তিনি বলেন, সাদমানের বিরুদ্ধে মামলার এজাহারে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। শুধু সাদমান বাদী ও তাঁর বান্ধবীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন? বাদী ও তাঁর বান্ধবীও আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সাদমানের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি। ঘটনার আগে সাদমান ব্যাংককে গিয়েছিলেন। ঘটনার দিন রাতে তিনি ঢাকায় আসেন। যান রেইনট্রি হোটেলে। কিন্তু তিনি কোনোভাবে আসামিদের সহযোগিতা করেননি। যে ৩০ জনের জবানবন্দি পুলিশ নিয়েছে, তাঁদের কেউ সাদমানের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলেননি। বনানীতে ছাত্রী ধর্ষণ মামলার আসামি শাফাত আহমেদ (বাঁয়ে) ও সাদমান সাকিফ ১৩ মে ডিবি কার্যালয় থেকে আদালতে নেওয়া হয় l ছবি: প্রথম আলো৩০-৩৫ মিনিট ধরে আসামিদের আইনজীবীরা মামলা থেকে পাঁচ আসামির অব্যাহতির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। এরপর বিচারক রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আলী আকবরের বক্তব্য জানতে চান। আদালতে তিনি বলেন, সাদমান ও নাঈম আশরাফ মামলার বাদী ও তাঁর বান্ধবীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। অপর তিনজন আসামি তাঁদের সহযোগিতা করেন; যা আসামিরা নিজেরা স্বীকার করেছেন। পুলিশের তদন্তে তা উঠে এসেছে। পিপি আকবার বাদী ও তাঁর বান্ধবীর জবানবন্দির কিছু অংশ পড়ে শোনান। এ সময় বাদীপক্ষে আইনি সহায়তা দেওয়া মহিলা আইনজীবী সমিতির ফাহমিদা আক্তার আদালতে বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ধর্ষণে সহযোগিতা করার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তাই তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হোক। এ সময় বিচারক আসামিপক্ষের আইনজীবীদের উদ্দেশে বলতে থাকেন, আসামিরা স্বেচ্ছায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আসামিরা যখন স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করেন, তখন প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রতীয়মান হয়। তাই তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হবে। অব্যাহতির আবেদন নাকচ করা হলো। বিচারক তখন শাফাতসহ অন্যদের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। এর কিছুক্ষণ পর পিপি আকবর যখন নাম ধরে ধরে তাঁদের অপরাধের বর্ণনা করছিলেন, তখন দেখা যায়, নাঈম আশরাফই প্রথমে বাঁ হাত সামান্য উঁচু করে বলেন, তিনি নির্দোষ। অথচ তখন পিপি তাঁদের কাছে জানতে চাননি, তাঁরা দোষী না নির্দোষ। পরে অবশ্য শাফাতদের উদ্দেশে পিপি বলেন, ‘আপনারা দোষী না নির্দোষ?’ তখন শাফাতসহ অন্যরা হাত উঁচু করে বলতে থাকেন, তাঁরা নির্দোষ। ন্যায়বিচার চান। বিচারক ২৪ জুলাই সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেন।

Comments

Comments!

 শাফাত আর সাকিফ চকলেট খেয়েই সারাAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

শাফাত আর সাকিফ চকলেট খেয়েই সারা

Thursday, July 13, 2017 10:28 pm
09

শাফাত আহমেদের হাতে হাতকড়ার দাগ পড়ে গেছে। লোকজনে ভরা আদালতে এসে বারবার তাই দেখছিলেন তিনি। তাঁর বন্ধু নাঈম আশরাফ ও সাদমান সাকিফও তাঁর সঙ্গে। তাঁদের হাতেও হাতকড়া। শাফাতের সঙ্গ একই দড়িতে বাঁধা। একজন কোনো দিকে গেলে অন্য দুজনকেও সেদিকে যেতে হয়।
শাফাত তাঁর এক আত্মীয়ের সঙ্গে কথা বলতে কাঠগড়ার দক্ষিণাংশে গেলেন, নাঈম ও সাকিফকেও সেখানে যেতে হলো। তাঁদের অভিযোগ গঠনের শুনানির সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, তিনজনের মধ্যে চিত্তচাঞ্চল্যের বিষয়টি পুরোটাই দৃশ্যমান। শাফাত আর সাকিফ বারবার পকেট থেকে চকলেট বের করে খাচ্ছিলেন। শাফাত নাঈমকে চকলেট খাওয়ার প্রস্তাব করলে তা তিনি ফিরিয়ে দেন। শাফাত যেন বারবার ঘামছিলেন। যতক্ষণ তিনি আদালতে ছিলেন, টিস্যু দিয়ে তাঁকে বারবার মুখ মুছতে দেখা যায়।
বনানীর দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে শাফাত আহমেদ ও তাঁর বন্ধু নাঈম আশরাফের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়েছে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এ। ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগে শাফাতের বন্ধু সাদমান সাকিফ, শাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন ও তাঁর দেহরক্ষী রহমত আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, জন্মদিনের পার্টির কথা বলে গত ২৮ মার্চ রাতে বনানীর রেইনট্রি হোটেলে ডেকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া দুই তরুণীকে ধর্ষণ করেন শাফাত আহমেদ ও তাঁর বন্ধু নাঈম আশরাফ। ঘটনার ৪০ দিন পর দুই তরুণী বনানী থানায় মামলা করতে গেলে মামলা না নিয়ে তাঁদের হয়রানি করে পুলিশ। এ ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে হইচই পড়ে যায়। বনানীর রেইনট্রি হোটেলে কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া দুই ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হন, তা সবিস্তারে আদালতে বলেন শাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ। পরে তাঁরা আদালতে দেওয়া জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করেন।

সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে যখন শাফাত আহমেদসহ অপর পাঁচজন আসামিকে আসামির কাঠগড়ায় তোলা হয়, তখন অন্যদের বিচারকাজ চলছিল আদালতে। অন্য আসামিরা ছিলেন কাঠগড়ায়।
এরপর শাফাত ও সাদমানকে দেখা যায় তাঁদের আত্মীয়ের সঙ্গে কথা বলতে। এর কিছুক্ষণ পর নিজেরা নিজেদের মধ্যে কথা বলতে থাকেন। বিশেষ করে সাদমান আর শাফাত নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলেন। আর নাঈম ছিলেন চুপচাপ। সাদমানের পরনে ছিল পাঞ্জাবি আর পাজামা। জিনসের সঙ্গে টি-শার্ট পরা ছিলেন শাফাত। আর নাঈমের পরনে ছিল ট্রাউজার আর টি-শার্ট। তাঁরা কাঠগড়ায় আসার পর তাঁদের কাছে আসেন আইনজীবীরা। তখন শাফাত ও সাদমান আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে থাকেন। পরে নাঈমও তাঁর আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেন। একে একে যখন অন্য মামলার শুনানি শেষ হয়, তখন আদালতের পেশকার নাম ডাকতে থাকেন শাফাতদের।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানার সামনে শাফাত আহমেদ। ছবি: আসাদুজ্জামানআদালতে কথা বলতে শুরু করেন নাঈম আশরাফের আইনজীবী খায়রুল ইসলাম লিটন। আদালতে তিনি বলেন, ‘এটি সাজানো মামলা। ডাক্তারি রিপোর্ট বলছে, জোরপূর্বক ধর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। অথচ পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে বলে, ধর্ষণ হয়েছে। বাস্তবে ধর্ষণের মতো কোনো ঘটনা হয়নি।’ নাঈম আশরাফের বিরুদ্ধে বাদী তাঁর এজাহারে কোনো অভিযোগ করেননি। অর্থাৎ, নাঈম আশরাফের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করার কোনো উপাদান নেই। তাই তাঁকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক।

এরপর শাফাত আহমেদসহ তিনজনের পক্ষে কথা বলতে শুরু করেন আইনজীবী কাজী নজিবুল্লাহ হীরু। আদালতকে তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী ধর্ষণ হতে হলে অবশ্যই সেখানে জোরপূর্বক ঘটনা থাকতে হবে। কিন্তু এ মামলার ডাক্তারি পরীক্ষা বলছে, এখানে জোরপূর্বক কোনো ঘটনা ঘটেনি। এজাহারে ধর্ষণের ভিডিওসহ অনেক কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ শেষ পর্যন্ত সে ধরনের কোনো ভিডিও উদ্ধার করতে পারেনি। শুধু বাদীর বন্ধুকে মারধরের ভিডিও উদ্ধার হয়েছে। অর্থাৎ অতিরঞ্জিত করা হয়েছে।
নজিবুল্লাহ হীরু বলেন, এটি একটি সাজানো মামলা। এক মাসের বেশি পরে মামলা করা হয়েছে। কিন্তু এর কোনো যৌক্তিক কারণ দেখানো হয়নি। এ মামলায় ধর্ষণজনিত কোনো উপাদান পাওয়া যাবে না। একটিমাত্র উপাদান আছে। তা হলো আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি। আসামিদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়। শাফাত যে স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন, তা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। বিল্লাল আর রহমত উল্লাহর বিরুদ্ধে ধর্ষণের ভিডিও ধারণের অভিযোগ আনা হয়েছিল, কোথায় সেই ভিডিও? যদি সেই ভিডিও পাওয়া যেত, তাহলে সহযোগী হিসেবে তাঁদের নাম আসতে পারে। অর্থাৎ, শাফাত কিংবা রহমত, বিল্লালদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের কোনো উপাদান নেই। তাই তাঁদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক।

সবশেষে শাফাতের বন্ধু সাদমান সাকিফের পক্ষে কথা বলেন তাঁর আইনজীবী আবদুর রহমান হওলাদার। আদালতে তিনি বলেন, সাদমানের বিরুদ্ধে মামলার এজাহারে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। শুধু সাদমান বাদী ও তাঁর বান্ধবীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন? বাদী ও তাঁর বান্ধবীও আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সাদমানের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি। ঘটনার আগে সাদমান ব্যাংককে গিয়েছিলেন। ঘটনার দিন রাতে তিনি ঢাকায় আসেন। যান রেইনট্রি হোটেলে। কিন্তু তিনি কোনোভাবে আসামিদের সহযোগিতা করেননি। যে ৩০ জনের জবানবন্দি পুলিশ নিয়েছে, তাঁদের কেউ সাদমানের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলেননি।

বনানীতে ছাত্রী ধর্ষণ মামলার আসামি শাফাত আহমেদ (বাঁয়ে) ও সাদমান সাকিফ ১৩ মে ডিবি কার্যালয় থেকে আদালতে নেওয়া হয় l ছবি: প্রথম আলো৩০-৩৫ মিনিট ধরে আসামিদের আইনজীবীরা মামলা থেকে পাঁচ আসামির অব্যাহতির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। এরপর বিচারক রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আলী আকবরের বক্তব্য জানতে চান। আদালতে তিনি বলেন, সাদমান ও নাঈম আশরাফ মামলার বাদী ও তাঁর বান্ধবীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। অপর তিনজন আসামি তাঁদের সহযোগিতা করেন; যা আসামিরা নিজেরা স্বীকার করেছেন। পুলিশের তদন্তে তা উঠে এসেছে। পিপি আকবার বাদী ও তাঁর বান্ধবীর জবানবন্দির কিছু অংশ পড়ে শোনান। এ সময় বাদীপক্ষে আইনি সহায়তা দেওয়া মহিলা আইনজীবী সমিতির ফাহমিদা আক্তার আদালতে বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ধর্ষণে সহযোগিতা করার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তাই তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হোক।
এ সময় বিচারক আসামিপক্ষের আইনজীবীদের উদ্দেশে বলতে থাকেন, আসামিরা স্বেচ্ছায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আসামিরা যখন স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করেন, তখন প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রতীয়মান হয়। তাই তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হবে। অব্যাহতির আবেদন নাকচ করা হলো। বিচারক তখন শাফাতসহ অন্যদের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। এর কিছুক্ষণ পর পিপি আকবর যখন নাম ধরে ধরে তাঁদের অপরাধের বর্ণনা করছিলেন, তখন দেখা যায়, নাঈম আশরাফই প্রথমে বাঁ হাত সামান্য উঁচু করে বলেন, তিনি নির্দোষ। অথচ তখন পিপি তাঁদের কাছে জানতে চাননি, তাঁরা দোষী না নির্দোষ। পরে অবশ্য শাফাতদের উদ্দেশে পিপি বলেন, ‘আপনারা দোষী না নির্দোষ?’
তখন শাফাতসহ অন্যরা হাত উঁচু করে বলতে থাকেন, তাঁরা নির্দোষ। ন্যায়বিচার চান। বিচারক ২৪ জুলাই সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেন।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X