শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১১ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ৪:১৬
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Tuesday, July 11, 2017 10:18 pm
A- A A+ Print

শিমুল বিশ্বাসের দৃষ্টিতে খালেদা জিয়ার লন্ডন সফর

download

ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান: দু’ সপ্তাহ ধরে দেশের গণমাধ্যমে একটি সংবাদ ব্যাপকভাবে প্রচারিত ও প্রকাশিত হচ্ছে, আর তা হলো বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার লন্ডন সফরের খবর। ঘুম থেকে উঠে যে কোনো সংবাদপত্রে চোখ রাখলেই প্রথম পাতায় সংবাদটি শোভা পাচ্ছে। কী জাতীয় দৈনিক, কী অনলাইন ভার্সন সবখানেই যে যেভাবে পারছেন নিজেদের মতো তৈরি করে সংবাদটি প্রকাশ করছেন। এমন কী কোনো কোনো পত্রিকায় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বরাত দিয়ে যেসব তথ্য ও বক্তব্য প্রকাশিত হচ্ছে পরবর্তীতে তা যাচাই করতে গিয়েও বিব্রতকর অবস্থা। কোনো পত্রিকার প্রতিবেদনের তথ্যের সঙ্গে অন্যটির মিল পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া গণমাধ্যমগুলো খালেদা জিয়ার লন্ডন সফর নিয়ে যেসব প্রতিবেদন প্রকাশ করছে তা অনেক ক্ষেত্রেই অতিরঞ্জিত বলেও দাবি করছেন বিএনপির নেতারা। যেভাবেই হোক, সংবাদটি দেশের গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হচ্ছে। আর তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশের প্রধান বিরোধী দলীয় নেত্রী বলে কথা। গুরুত্ব পাওয়াটাই স্বাভাবিক। ফলে আমাদের পাঠকদেরও এ বিষয়ে জানার অধিকার রয়েছে। আমাদেরও দায়িত্ব পাঠকদের এ বিষয়ে অবহিত করা। ফলে সেই দায়িত্ববোধ থেকেই আমার আজকের এই লেখা। চলমান যে কোনো বিষয়ে আমাদের পত্রিকার সাংবাদিকদেরও আগ্রহ কম নেই। কিন্তু আমাদের এখানে যে কোনো সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে একটু আলাদা সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। আর সেটা অন্য কোনো কারণে নয়, তা একেবারেই পাঠকের কাছে জবাবদিহিতা থেকেই। কেননা, প্রতিদিন অসংখ্য পাঠকের কাছ থেকে ফোন রিসিভ করতে হয় বিভিন্ন বিষয়ে। আর তথ্যের গড়মিল থাকলে তো কোনো কথাই নেই। ফলে আমরা ইচ্ছা করলেই গল্প তৈরি করে পাঠকের সামনে উপস্থাপন করতে পারি না। এ জন্য বলা আছে- গুজব কিংবা উড়ো খবরের ভিত্তিতে কোনো গল্প নয়, সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ তৈরির বিষয়ে। আর সেভাবেই আমার সহকর্মীরাও সংবাদ তৈরি করে পাঠকের সামনে উপস্থাপনের চেষ্টা করেন। এখানেই আমাদের ভিন্নতা, যা অনেকেই স্বীকার করেন। এবার আসি মূল বিষয়ে, শুক্রবার প্রথমার্ধে ডেস্কে কম্পিউটারের সামনে এসে বসতেই আমার সহকর্মী ছোটভাই ডালিম হোসেন শান্ত সংবাদটির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সংবাদটি তৈরি করার অনুমতি নিলেন। আমিও বরাবরের ন্যায় মাথা নেড়ে সম্মতি দিলাম। কিছুক্ষণ পরেই তিনি আমাকে বললেন, সংবাদটি তৈরি হয়ে গেছে। শুধু তার একটি বক্তব্য প্রয়োজন বিএনপি চেয়ারপারসনের দপ্তরের যে কারও। আমিও ফোনের বাটন চেপে বিএনপি চেয়ারপাসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খানের মোবাইলে সংযোগের চেষ্টা করলাম। কিন্তু ফোনটি বন্ধ পেলাম। এরপর যথারীতি কল দিলাম বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী অ্যাড. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের ফোনে। বাটন চাপতেই কলটি চলে গেল। কিন্তু ঘড়ির কাটায় চোখ পড়তেই মনে পড়ল ‘আজ তো শুক্রবার জুমআর নামাজের দিন’ তাই নিজেই কলটি কেটে দিলাম। জুমআর নামাজ শেষে দুপুরের খাবার টেবিলে বসতেই ফোন বেজে উঠলো। রিসিভ করতেই ওপার থেকে শিমুল বিশ্বাস- ‘ভাই নামাজে ছিলাম তাই ফোনটি রিসিভ করা সম্ভব হয়নি। বরাবরের ন্যায় সহজাত নম্র স্বরে ‘ভাই বলেন, আপনাকে কী সেবা করতে পারি’।  আমি একটু হেসে বললাম- ভাই বেশ কিছুদিন থেকে তো একটি সংবাদ বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত হচ্ছে, আমরা তো মিস করে আসছি। তাই আপনার শরণাপন্ন হলাম- যদি কিছু তথ্য দিয়ে সহায়তা করতেন তাহলে হয়তো আমরাও দু’একটি সংবাদ প্রকাশ করতে পারতাম। ওপার থেকে ভদ্রলোক সহজাত নম্র স্বরে একটু মুচকি হেসে বললেন, ‘এগুলো তো ভাই গল্প। এখনো সে ধরনের সংবাদ করার মতো সময় হয়নি। সময় হলে আমরাই আপনাদের জানাবো’। তবে বেগম জিয়া যে চলতি মাসেই লন্ডন সফরে যাচ্ছেন সে বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বললেন, ‘আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি, সফরসূচি চূড়ান্ত হলেই হয়তো আপনাদের জানাবো।’ কিন্তু আমি তো একেবারেই নাছোর বান্দা। একটু বিনীতভাবেই অনুরোধ করলাম- ‘ভাই এখন আপনার কাছে যতটুকু তথ্য আছে তাই দেন, আমরা অন্তত একটি সংবাদ প্রকাশ করি।’ এবার তিনি বললেন, ‘এটা জেনে রাখুন চলতি মাসেই ম্যাডাম লন্ডন সফরে যাচ্ছেন। সেটা ১৫ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে প্রস্তুতি চলছে। এটা একেবারেই তার ব্যক্তিগত সফর। ম্যাডাম তার চোখ এবং পায়ের চিকিৎসার উদ্দেশ্যেই যাচ্ছেন। যা আগে থেকেই যাওয়ার কথা রয়েছে।’ ম্যাডামের এই সফরে আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করা না করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, আন্দোলনের ছক তৈরি, লন্ডন থেকে ফিরেই আন্দোলনের কর্মসূচি,  দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্তকরণসহ জাতীয় রাজনীতির ইত্যাদি বিষয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে বলে বিভিন্ন মিডিয়ার খবরের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শিমুল বিশ্বাস ফের মুচকি হেসে বলেন, ‘এগুলো তো একেবারেই গল্প। তবে দলের সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, দলের সারাদেশের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা সেটাই প্রত্যাশা করে এবং এর মাধ্যমে নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হবেন।’ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ম্যাডাম তো দলের সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে প্রতিদিনই কথা বলেন বিভিন্ন বিষয়ে। লন্ডন গিয়ে তাকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে কেন?’ এভাবেই পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়েন তিনি। চোখ ও পায়ের চিকিৎসার উদ্দেশ্যে চলতি জুলাই মাসের শেষের দিকে লন্ডন যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। চিকিৎসার উদ্দেশ্যে হলেও এবারের সফরকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন অনেকেই। বিশেষ করে দলের মনোনয়ন বিষয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক হতে পারে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘ বলতে দ্বিধা নেই, ম্যাডাম এখনো নিজেই সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন, ফলে এ বিষয়টি সঠিক নয়। লন্ডনে রাজনৈতিক কোনো সিদ্ধান্ত হবে না। দুজনেই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে মা-ছেলের মধ্যে রাজনীতি বিষয়ে আলাপ-আলোচনা হতেই পারে। তবে সেখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি সঠিক নয়’। এরপর প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলাম, কোথায় উঠবেন ম্যাডাম, কতদিন থাকবেন। সেখানে ব্রিটেনের কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হবে কিনা। প্রবাসীদের সঙ্গে কোনো ধরনের প্রোগাম হবে কিনা? শিমুল বিশ্বাস বললেন, ‘বরাবরের মতো ম্যাডাম তার ছেলে তারেক রহমানের কাছেই উঠবেন। সেখানেই অবস্থান করবেন। চিকিৎসার ফাঁকে ছেলে, পুত্রবধূ, নাতনি ও অন্যান্য স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটাবেন। তবে ম্যাডামকে সেখানে কতদিন অবস্থান করতে হবে, লন্ডনের যাওয়ার পর চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যাবে। এ মুহূর্তে কিছু বলা যাচ্ছে না’। ‘আর সেখানে কাদের সঙ্গে বৈঠক হবে, কী ধরনের প্রোগাম হতে পারে। সেসব বিষয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। চূড়ান্ত হলে সবই জানতে পারবেন। আজ এতটুকুই, ধন্যবাদ’। প্রসঙ্গত, সর্বশেষ ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর লন্ডনে যান বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। সেখানে তার চোখে অস্ত্রোপচার হয়। তারপর কয়েক দফা দেশে ফেরার তারিখ নির্ধারিত হলেও পরবর্তী সময়ে তা পরিবর্তন করেন। যার কারণে তার দেশে ফেরা নিয়ে শুরু হয় নানা গুঞ্জন। অবশেষে ২১ নভেম্বর তার দেশে ফেরার মাধ্যমে সব গুঞ্জনের অবসান ঘটে।

Comments

Comments!

 শিমুল বিশ্বাসের দৃষ্টিতে খালেদা জিয়ার লন্ডন সফরAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

শিমুল বিশ্বাসের দৃষ্টিতে খালেদা জিয়ার লন্ডন সফর

Tuesday, July 11, 2017 10:18 pm
download

ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান: দু’ সপ্তাহ ধরে দেশের গণমাধ্যমে একটি সংবাদ ব্যাপকভাবে প্রচারিত ও প্রকাশিত হচ্ছে, আর তা হলো বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার লন্ডন সফরের খবর। ঘুম থেকে উঠে যে কোনো সংবাদপত্রে চোখ রাখলেই প্রথম পাতায় সংবাদটি শোভা পাচ্ছে। কী জাতীয় দৈনিক, কী অনলাইন ভার্সন সবখানেই যে যেভাবে পারছেন নিজেদের মতো তৈরি করে সংবাদটি প্রকাশ করছেন।

এমন কী কোনো কোনো পত্রিকায় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বরাত দিয়ে যেসব তথ্য ও বক্তব্য প্রকাশিত হচ্ছে পরবর্তীতে তা যাচাই করতে গিয়েও বিব্রতকর অবস্থা। কোনো পত্রিকার প্রতিবেদনের তথ্যের সঙ্গে অন্যটির মিল পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া গণমাধ্যমগুলো খালেদা জিয়ার লন্ডন সফর নিয়ে যেসব প্রতিবেদন প্রকাশ করছে তা অনেক ক্ষেত্রেই অতিরঞ্জিত বলেও দাবি করছেন বিএনপির নেতারা।

যেভাবেই হোক, সংবাদটি দেশের গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হচ্ছে। আর তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশের প্রধান বিরোধী দলীয় নেত্রী বলে কথা। গুরুত্ব পাওয়াটাই স্বাভাবিক। ফলে আমাদের পাঠকদেরও এ বিষয়ে জানার অধিকার রয়েছে। আমাদেরও দায়িত্ব পাঠকদের এ বিষয়ে অবহিত করা। ফলে সেই দায়িত্ববোধ থেকেই আমার আজকের এই লেখা।

চলমান যে কোনো বিষয়ে আমাদের পত্রিকার সাংবাদিকদেরও আগ্রহ কম নেই। কিন্তু আমাদের এখানে যে কোনো সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে একটু আলাদা সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। আর সেটা অন্য কোনো কারণে নয়, তা একেবারেই পাঠকের কাছে জবাবদিহিতা থেকেই। কেননা, প্রতিদিন অসংখ্য পাঠকের কাছ থেকে ফোন রিসিভ করতে হয় বিভিন্ন বিষয়ে। আর তথ্যের গড়মিল থাকলে তো কোনো কথাই নেই। ফলে আমরা ইচ্ছা করলেই গল্প তৈরি করে পাঠকের সামনে উপস্থাপন করতে পারি না। এ জন্য বলা আছে- গুজব কিংবা উড়ো খবরের ভিত্তিতে কোনো গল্প নয়, সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ তৈরির বিষয়ে। আর সেভাবেই আমার সহকর্মীরাও সংবাদ তৈরি করে পাঠকের সামনে উপস্থাপনের চেষ্টা করেন। এখানেই আমাদের ভিন্নতা, যা অনেকেই স্বীকার করেন।

এবার আসি মূল বিষয়ে, শুক্রবার প্রথমার্ধে ডেস্কে কম্পিউটারের সামনে এসে বসতেই আমার সহকর্মী ছোটভাই ডালিম হোসেন শান্ত সংবাদটির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সংবাদটি তৈরি করার অনুমতি নিলেন। আমিও বরাবরের ন্যায় মাথা নেড়ে সম্মতি দিলাম। কিছুক্ষণ পরেই তিনি আমাকে বললেন, সংবাদটি তৈরি হয়ে গেছে। শুধু তার একটি বক্তব্য প্রয়োজন বিএনপি চেয়ারপারসনের দপ্তরের যে কারও। আমিও ফোনের বাটন চেপে বিএনপি চেয়ারপাসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খানের মোবাইলে সংযোগের চেষ্টা করলাম। কিন্তু ফোনটি বন্ধ পেলাম।

এরপর যথারীতি কল দিলাম বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী অ্যাড. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের ফোনে। বাটন চাপতেই কলটি চলে গেল। কিন্তু ঘড়ির কাটায় চোখ পড়তেই মনে পড়ল ‘আজ তো শুক্রবার জুমআর নামাজের দিন’ তাই নিজেই কলটি কেটে দিলাম।

জুমআর নামাজ শেষে দুপুরের খাবার টেবিলে বসতেই ফোন বেজে উঠলো। রিসিভ করতেই ওপার থেকে শিমুল বিশ্বাস- ‘ভাই নামাজে ছিলাম তাই ফোনটি রিসিভ করা সম্ভব হয়নি। বরাবরের ন্যায় সহজাত নম্র স্বরে ‘ভাই বলেন, আপনাকে কী সেবা করতে পারি’।  আমি একটু হেসে বললাম- ভাই বেশ কিছুদিন থেকে তো একটি সংবাদ বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত হচ্ছে, আমরা তো মিস করে আসছি। তাই আপনার শরণাপন্ন হলাম- যদি কিছু তথ্য দিয়ে সহায়তা করতেন তাহলে হয়তো আমরাও দু’একটি সংবাদ প্রকাশ করতে পারতাম।

ওপার থেকে ভদ্রলোক সহজাত নম্র স্বরে একটু মুচকি হেসে বললেন, ‘এগুলো তো ভাই গল্প। এখনো সে ধরনের সংবাদ করার মতো সময় হয়নি। সময় হলে আমরাই আপনাদের জানাবো’। তবে বেগম জিয়া যে চলতি মাসেই লন্ডন সফরে যাচ্ছেন সে বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বললেন, ‘আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি, সফরসূচি চূড়ান্ত হলেই হয়তো আপনাদের জানাবো।’

কিন্তু আমি তো একেবারেই নাছোর বান্দা। একটু বিনীতভাবেই অনুরোধ করলাম- ‘ভাই এখন আপনার কাছে যতটুকু তথ্য আছে তাই দেন, আমরা অন্তত একটি সংবাদ প্রকাশ করি।’

এবার তিনি বললেন, ‘এটা জেনে রাখুন চলতি মাসেই ম্যাডাম লন্ডন সফরে যাচ্ছেন। সেটা ১৫ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে প্রস্তুতি চলছে। এটা একেবারেই তার ব্যক্তিগত সফর। ম্যাডাম তার চোখ এবং পায়ের চিকিৎসার উদ্দেশ্যেই যাচ্ছেন। যা আগে থেকেই যাওয়ার কথা রয়েছে।’

ম্যাডামের এই সফরে আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করা না করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, আন্দোলনের ছক তৈরি, লন্ডন থেকে ফিরেই আন্দোলনের কর্মসূচি,  দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্তকরণসহ জাতীয় রাজনীতির ইত্যাদি বিষয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে বলে বিভিন্ন মিডিয়ার খবরের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শিমুল বিশ্বাস ফের মুচকি হেসে বলেন, ‘এগুলো তো একেবারেই গল্প। তবে দলের সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, দলের সারাদেশের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা সেটাই প্রত্যাশা করে এবং এর মাধ্যমে নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হবেন।’ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ম্যাডাম তো দলের সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে প্রতিদিনই কথা বলেন বিভিন্ন বিষয়ে। লন্ডন গিয়ে তাকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে কেন?’ এভাবেই পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়েন তিনি।

চোখ ও পায়ের চিকিৎসার উদ্দেশ্যে চলতি জুলাই মাসের শেষের দিকে লন্ডন যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। চিকিৎসার উদ্দেশ্যে হলেও এবারের সফরকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন অনেকেই। বিশেষ করে দলের মনোনয়ন বিষয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক হতে পারে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘ বলতে দ্বিধা নেই, ম্যাডাম এখনো নিজেই সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন, ফলে এ বিষয়টি সঠিক নয়। লন্ডনে রাজনৈতিক কোনো সিদ্ধান্ত হবে না। দুজনেই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে মা-ছেলের মধ্যে রাজনীতি বিষয়ে আলাপ-আলোচনা হতেই পারে। তবে সেখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি সঠিক নয়’।

এরপর প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলাম, কোথায় উঠবেন ম্যাডাম, কতদিন থাকবেন। সেখানে ব্রিটেনের কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হবে কিনা। প্রবাসীদের সঙ্গে কোনো ধরনের প্রোগাম হবে কিনা?

শিমুল বিশ্বাস বললেন, ‘বরাবরের মতো ম্যাডাম তার ছেলে তারেক রহমানের কাছেই উঠবেন। সেখানেই অবস্থান করবেন। চিকিৎসার ফাঁকে ছেলে, পুত্রবধূ, নাতনি ও অন্যান্য স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটাবেন। তবে ম্যাডামকে সেখানে কতদিন অবস্থান করতে হবে, লন্ডনের যাওয়ার পর চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যাবে। এ মুহূর্তে কিছু বলা যাচ্ছে না’।

‘আর সেখানে কাদের সঙ্গে বৈঠক হবে, কী ধরনের প্রোগাম হতে পারে। সেসব বিষয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। চূড়ান্ত হলে সবই জানতে পারবেন। আজ এতটুকুই, ধন্যবাদ’।

প্রসঙ্গত, সর্বশেষ ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর লন্ডনে যান বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। সেখানে তার চোখে অস্ত্রোপচার হয়। তারপর কয়েক দফা দেশে ফেরার তারিখ নির্ধারিত হলেও পরবর্তী সময়ে তা পরিবর্তন করেন। যার কারণে তার দেশে ফেরা নিয়ে শুরু হয় নানা গুঞ্জন। অবশেষে ২১ নভেম্বর তার দেশে ফেরার মাধ্যমে সব গুঞ্জনের অবসান ঘটে।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X