বৃহস্পতিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১০ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ১০:৩১
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Monday, July 25, 2016 9:14 am
A- A A+ Print

শিশুমনে টিভি বিজ্ঞাপন মারাত্মক প্রভাব ফেলে, একটা উদাহরণ দিই..

11540923_10205948930315200_6081973573098909025_n

রাকিব রোকন: তখন ক্লাস ফোর কি ফাইভে পড়ি। টিভিতে প্রিক্যাডেটের বিজ্ঞাপন দেখাত। খেলাধুলার অবারিত সু্যোগ, অসুস্থ হলে মমতাময়ী সুন্দরী নার্সের সেবা, অভিজ্ঞ শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে পড়ালেখার ব্যবস্থা- এইরকম আরো অনেক কিছুই দেখাত। এসব দেখে আমার মনে হত, প্রিক্যাডেটে পড়তে না পারলে এই জীবনের কোনই মূল্য নেই। যখন হাইস্কুলে উঠলাম, গ্রামের হাইস্কুলে ক্লাস সেভেনে ফার্স্ট হলাম। বাড়ির সবাইকে বলে কয়ে রাজি করালাম যে, ক্যাডেট কলেজে ভর্তির পরীক্ষা দিব সুতরাং আমাকে প্রিক্যাডেটে ভর্তি করে দিতে হবে। আমার দরিদ্র বাবার উপর সেটা রীতিমতন অত্যাচার হলেও উনি রাজি হলেন।
তারপর, একদিন স্কুলের বন্ধুবান্ধবদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে, স্কুল থেকে টিসি নিয়ে ঝিনাইদাহ রওনা হলাম। ভর্তি হলাম অনির্বাণ প্রিক্যাডেটে। প্রথম দিন আমার মেজো আপু আমাকে রেখে আসল। আমরা যখন ওখানে পৌছলাম তখন চুরির অভিযোগে একটা ছেলের উপর শিক্ষকের অত্যাচার দেখে আমি-আপু দুইজনই ভড়কে গেলাম। কী অমানবিক!!! তারপর আমি আর আপু আমার বই খুঁজতে লাগলাম যা কিছুদিন আগে আপু এখানে রেখে গিয়েছিলেন, তার কোন হদিস পেলাম না। প্রথম দিনেই ওখানকার সার্বিক পরিস্থিতি দেখে, আমার প্রিক্যাডেটে পড়ার শখ কর্পুরের মত উড়ে গেল। নানা রকম অব্যবস্থাপনা। প্রিক্যাডেটে থাকার পরিবেশ, পড়াশুনার পরিবেশ, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা সব যেন টিভি বিজ্ঞাপনের বিপরীত শব্দ। আমার থাকার জায়গা হলো আরো ৫জনের সাথে প্রিন্সিপাল স্যারের ডাইনিং রুমে। একদিন পরেই আবিষ্কার করলাম, প্রিন্সিপাল সাহেব তার রুমে প্রাইভেট পড়ান। আমি অবাক হলাম এই কোচিং সেন্টারের ভেতর আরেক কোচিং সেন্টার দেখে। উনার রুমে না গিয়েই, বিছানায় শুয়ে শুয়েই আমারও প্রাইভেট পড়া হয়ে যেত। কিন্তু কিছুতেই আমার মন বসত না। যেখানে সেখানে ঘর ভাড়া করে থাকার ব্যবস্থা, দোকান ভাড়া করে ক্লাসরুমের ব্যবস্থা করা আমার মনঃকষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়াল। আমি ওখান থেকে সটকে পড়ার জন্য দিন গুনতে লাগলাম। এরপর কীসের যেন ছুটি ছিল, বাড়ি চলে গেলাম সপ্তাহ খানেকের জন্য। আর ওমুখো হইনি আমি। আব্বা এসে একদিন বাক্স-পেটরা যা ছিল নিয়ে গেলেন। আবার সেই আগের স্কুলেই ভর্তি হলাম আমার সেই আগের বন্ধুবান্ধবের সাথে। নতুন করে ভর্তি হলাম, রোল নাম্বার হলো ১২৪। কী কারণে তা মনে নেই, আমি ক্যাডেট কলেজ ভর্তি পরীক্ষাও আর দিইনি; এই অভিজ্ঞতা একটা বড় কারণ হবে হয়ত। যাইহোক, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিজ্ঞাপন একটা বড় ধরণের ফাঁদ। এই শিক্ষা আমার খুব অল্প বয়সেই হয়ে গিয়েছিল, স্থায়ী হয়েছে কিনা আমি খুব একটা নিশ্চিত না।

Comments

Comments!

 শিশুমনে টিভি বিজ্ঞাপন মারাত্মক প্রভাব ফেলে, একটা উদাহরণ দিই..AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

শিশুমনে টিভি বিজ্ঞাপন মারাত্মক প্রভাব ফেলে, একটা উদাহরণ দিই..

Monday, July 25, 2016 9:14 am
11540923_10205948930315200_6081973573098909025_n

রাকিব রোকন: তখন ক্লাস ফোর কি ফাইভে পড়ি। টিভিতে প্রিক্যাডেটের বিজ্ঞাপন দেখাত। খেলাধুলার অবারিত সু্যোগ, অসুস্থ হলে মমতাময়ী সুন্দরী নার্সের সেবা, অভিজ্ঞ শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে পড়ালেখার ব্যবস্থা- এইরকম আরো অনেক কিছুই দেখাত। এসব দেখে আমার মনে হত, প্রিক্যাডেটে পড়তে না পারলে এই জীবনের কোনই মূল্য নেই।

যখন হাইস্কুলে উঠলাম, গ্রামের হাইস্কুলে ক্লাস সেভেনে ফার্স্ট হলাম। বাড়ির সবাইকে বলে কয়ে রাজি করালাম যে, ক্যাডেট কলেজে ভর্তির পরীক্ষা দিব সুতরাং আমাকে প্রিক্যাডেটে ভর্তি করে দিতে হবে। আমার দরিদ্র বাবার উপর সেটা রীতিমতন অত্যাচার হলেও উনি রাজি হলেন।

তারপর, একদিন স্কুলের বন্ধুবান্ধবদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে, স্কুল থেকে টিসি নিয়ে ঝিনাইদাহ রওনা হলাম। ভর্তি হলাম অনির্বাণ প্রিক্যাডেটে। প্রথম দিন আমার মেজো আপু আমাকে রেখে আসল। আমরা যখন ওখানে পৌছলাম তখন চুরির অভিযোগে একটা ছেলের উপর শিক্ষকের অত্যাচার দেখে আমি-আপু দুইজনই ভড়কে গেলাম। কী অমানবিক!!! তারপর আমি আর আপু আমার বই খুঁজতে লাগলাম যা কিছুদিন আগে আপু এখানে রেখে গিয়েছিলেন, তার কোন হদিস পেলাম না। প্রথম দিনেই ওখানকার সার্বিক পরিস্থিতি দেখে, আমার প্রিক্যাডেটে পড়ার শখ কর্পুরের মত উড়ে গেল। নানা রকম অব্যবস্থাপনা। প্রিক্যাডেটে থাকার পরিবেশ, পড়াশুনার পরিবেশ, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা সব যেন টিভি বিজ্ঞাপনের বিপরীত শব্দ।

আমার থাকার জায়গা হলো আরো ৫জনের সাথে প্রিন্সিপাল স্যারের ডাইনিং রুমে। একদিন পরেই আবিষ্কার করলাম, প্রিন্সিপাল সাহেব তার রুমে প্রাইভেট পড়ান। আমি অবাক হলাম এই কোচিং সেন্টারের ভেতর আরেক কোচিং সেন্টার দেখে। উনার রুমে না গিয়েই, বিছানায় শুয়ে শুয়েই আমারও প্রাইভেট পড়া হয়ে যেত। কিন্তু কিছুতেই আমার মন বসত না। যেখানে সেখানে ঘর ভাড়া করে থাকার ব্যবস্থা, দোকান ভাড়া করে ক্লাসরুমের ব্যবস্থা করা আমার মনঃকষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়াল।

আমি ওখান থেকে সটকে পড়ার জন্য দিন গুনতে লাগলাম। এরপর কীসের যেন ছুটি ছিল, বাড়ি চলে গেলাম সপ্তাহ খানেকের জন্য। আর ওমুখো হইনি আমি। আব্বা এসে একদিন বাক্স-পেটরা যা ছিল নিয়ে গেলেন। আবার সেই আগের স্কুলেই ভর্তি হলাম আমার সেই আগের বন্ধুবান্ধবের সাথে। নতুন করে ভর্তি হলাম, রোল নাম্বার হলো ১২৪। কী কারণে তা মনে নেই, আমি ক্যাডেট কলেজ ভর্তি পরীক্ষাও আর দিইনি; এই অভিজ্ঞতা একটা বড় কারণ হবে হয়ত।

যাইহোক, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিজ্ঞাপন একটা বড় ধরণের ফাঁদ। এই শিক্ষা আমার খুব অল্প বয়সেই হয়ে গিয়েছিল, স্থায়ী হয়েছে কিনা আমি খুব একটা নিশ্চিত না।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X