রবিবার, ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৬ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ৯:০৭
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Sunday, December 11, 2016 6:51 pm
A- A A+ Print

শ্বশুর-শাশুড়ি হাত-পা চেপে ধরে, স্বামী কোপায়

44172_tng

যৌতুকের কারণে স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ির নির্মম নির্যাতনে ৭ দিনের কন্যা সন্তান নিয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন ফাতেমা খাতুন লিয়া (২৫)। ঘটনাটি ঘটেছে ভূঞাপুর উপজেলার অলোয়া ইউনিয়নের চান আমুলা গ্রামে। ফাতেমা বর্তমানে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাত নম্বর ওয়ার্ডের তের নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় ফাতেমার পিতা তোফাজ্জল হোসেন বাদী হয়ে স্বামী শফিকুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে শাশুড়ি মোছা. রোকেয়া বেগম ও শ্বশুর মো. আব্দুল হামিদের বিরুদ্ধে ভূঞাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। জানা যায়, ভূঞাপুর উপজেলার অলোয়া ইউনিয়নের চান আমুলা গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে শফিকুল ইসলামের সঙ্গে ছয় বছর আগে একই উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের মাটিকাটা গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে ফাতেমা খাতুন লিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে শফিকুল ইসলামকে ১ লাখ টাকা ও মেয়ের গহনা বাবদ ২ ভরি স্বর্ণ প্রদান করেন তোফাজ্জল হোসেন। বিয়ের পর কিছুদিন ভালোই চলতে থাকে তাদের দাম্পত্য জীবন। বছর দুই পরে তাদের ঘরে জন্ম নেয় একটি কন্যা সন্তান। ওই কন্যা সন্তানই কাল হয় ফাতেমার জীবনে। স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি মিলে নানা অজুহাতে অত্যাচার চালাতে থাকে তার উপর। দাবি করতে থাকে মোটা অঙ্কের টাকার যৌতুক। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে আরো ৭০ হাজার টাকা দেয়া হয় শফিকুল ইসলামকে। তাতেও মন ভরে না তার। দাবি করে আরো এক লাখ টাকা। ফাতেমা ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অত্যাচারের খড়গ নেমে আসে তার ওপর। প্রতিনিয়তই চলতে থাকে নির্মম অত্যাচার। এক সপ্তাহ আগে আরেকটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয় ফাতেমা। এতে আরো মাথা বিগড়ে যায় স্বামী শফিকুলের। গত মঙ্গলবার রাতে স্বামী শফিকুল ইসলাম, শাশুড়ি মোছা. রোকেয়া বেগম ও শ্বশুর মো. আব্দুল হামিদ ফাতেমার ঘরে প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি মারপিট শুরু করে। পরে শ্বশুর-শাশুড়ি হাত-পা ধরে রাখে আর স্বামী শফিকুল ইসলাম দা এনে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এসময় ফাতেমার চিৎকারে  আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় ফাতেমার পিতা তোফাজ্জল হোসেন বাদী হয়ে স্বামী শফিকুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে শাশুড়ি মোছা. রোকেয়া বেগম ও শ্বশুর মো.আব্দুল হামিদের বিরুদ্ধে ভূঞাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। শনিবার টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাত নম্বর ওয়ার্ডের তের নম্বর বেডে গিয়ে দেখা যায়, মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছে বাকরুদ্ধ ফাতেমা। আর তার পাশে শুয়ে হাত-পা নাড়াচ্ছে ৭ দিনের কন্যা সন্তান অহনা। যে সময় মায়ের ভালোবাসা পাওয়ার কথা ছিল, ঠিক সে সময় বাবা নামক হিংস্র নরপিচাশের থাবায় মায়ের ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিশুটি। মাথা ও ঘাড়ে বেশ কয়েকটি সেলাই দেয়া হয়েছে ফাতেমার। পাশে আহাজারি করছেন ফাতেমার মা হালিমা ও বাবা তোফাজ্জল হোসেন। ফাতেমার মা হালিমা বেগম জানান, আমার মেয়ের কোনো দোষ ছিল না। তারা নির্মমভাবে অত্যাচার করেছে আমার মেয়েকে। আমি তাদের কঠিন শাস্তি চাই। এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানা অফিসার ইনচার্জ একেএম কাওছার চৌধুরী বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Comments

Comments!

 শ্বশুর-শাশুড়ি হাত-পা চেপে ধরে, স্বামী কোপায়AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

শ্বশুর-শাশুড়ি হাত-পা চেপে ধরে, স্বামী কোপায়

Sunday, December 11, 2016 6:51 pm
44172_tng

যৌতুকের কারণে স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ির নির্মম নির্যাতনে ৭ দিনের কন্যা সন্তান নিয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন ফাতেমা খাতুন লিয়া (২৫)। ঘটনাটি ঘটেছে ভূঞাপুর উপজেলার অলোয়া ইউনিয়নের চান আমুলা গ্রামে। ফাতেমা বর্তমানে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাত নম্বর ওয়ার্ডের তের নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় ফাতেমার পিতা তোফাজ্জল হোসেন বাদী হয়ে স্বামী শফিকুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে শাশুড়ি মোছা. রোকেয়া বেগম ও শ্বশুর মো. আব্দুল হামিদের বিরুদ্ধে ভূঞাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
জানা যায়, ভূঞাপুর উপজেলার অলোয়া ইউনিয়নের চান আমুলা গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে শফিকুল ইসলামের সঙ্গে ছয় বছর আগে একই উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের মাটিকাটা গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে ফাতেমা খাতুন লিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে শফিকুল ইসলামকে ১ লাখ টাকা ও মেয়ের গহনা বাবদ ২ ভরি স্বর্ণ প্রদান করেন তোফাজ্জল হোসেন। বিয়ের পর কিছুদিন ভালোই চলতে থাকে তাদের দাম্পত্য জীবন। বছর দুই পরে তাদের ঘরে জন্ম নেয় একটি কন্যা সন্তান। ওই কন্যা সন্তানই কাল হয় ফাতেমার জীবনে। স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি মিলে নানা অজুহাতে অত্যাচার চালাতে থাকে তার উপর। দাবি করতে থাকে মোটা অঙ্কের টাকার যৌতুক। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে আরো ৭০ হাজার টাকা দেয়া হয় শফিকুল ইসলামকে। তাতেও মন ভরে না তার। দাবি করে আরো এক লাখ টাকা। ফাতেমা ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অত্যাচারের খড়গ নেমে আসে তার ওপর। প্রতিনিয়তই চলতে থাকে নির্মম অত্যাচার। এক সপ্তাহ আগে আরেকটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয় ফাতেমা। এতে আরো মাথা বিগড়ে যায় স্বামী শফিকুলের। গত মঙ্গলবার রাতে স্বামী শফিকুল ইসলাম, শাশুড়ি মোছা. রোকেয়া বেগম ও শ্বশুর মো. আব্দুল হামিদ ফাতেমার ঘরে প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি মারপিট শুরু করে। পরে শ্বশুর-শাশুড়ি হাত-পা ধরে রাখে আর স্বামী শফিকুল ইসলাম দা এনে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এসময় ফাতেমার চিৎকারে  আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় ফাতেমার পিতা তোফাজ্জল হোসেন বাদী হয়ে স্বামী শফিকুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে শাশুড়ি মোছা. রোকেয়া বেগম ও শ্বশুর মো.আব্দুল হামিদের বিরুদ্ধে ভূঞাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। শনিবার টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাত নম্বর ওয়ার্ডের তের নম্বর বেডে গিয়ে দেখা যায়, মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছে বাকরুদ্ধ ফাতেমা। আর তার পাশে শুয়ে হাত-পা নাড়াচ্ছে ৭ দিনের কন্যা সন্তান অহনা। যে সময় মায়ের ভালোবাসা পাওয়ার কথা ছিল, ঠিক সে সময় বাবা নামক হিংস্র নরপিচাশের থাবায় মায়ের ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিশুটি। মাথা ও ঘাড়ে বেশ কয়েকটি সেলাই দেয়া হয়েছে ফাতেমার। পাশে আহাজারি করছেন ফাতেমার মা হালিমা ও বাবা তোফাজ্জল হোসেন।
ফাতেমার মা হালিমা বেগম জানান, আমার মেয়ের কোনো দোষ ছিল না। তারা নির্মমভাবে অত্যাচার করেছে আমার মেয়েকে। আমি তাদের কঠিন শাস্তি চাই।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানা অফিসার ইনচার্জ একেএম কাওছার চৌধুরী বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X