শনিবার, ১৬ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং, ২রা পৌষ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, দুপুর ১:১২
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Saturday, August 12, 2017 2:56 pm
A- A A+ Print

ষোড়শ সংশোধনী , রায় নিয়ে একইদিনে মাঠে আ. লীগ-বিএনপি

photo-1502527759

বিচারপতিদের অভিশংসন-সংক্রান্ত ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে আপিল বিভাগের দেওয়া রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে এবার কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নেমেছে ক্ষুব্ধ সরকারি দল আওয়ামী লীগ। দলের সমর্থক আইন পেশাজীবীদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ নেতারা বলেছেন, একটি মহল এই রায় নিয়ে বিচার বিভাগকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। আর এই রায়ের প্রতিবাদে তিন দিনের প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। আজ শনিবার সকালে ধানমন্ডি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এ সপ্তাহে আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরা যে তিনদিন সারা দেশে কর্মবিরতি পালন করবে, একই দিন একই সময়ে বিক্ষোভ কর্মসূচিরও ডাক দিয়েছে বিএনপি। গত ৩ জুলাই বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীকে অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে দেওয়া হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। এর পর গত ১ আগস্ট বিচারপতিদের অপসারণ-সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ সাত বিচারপতির স্বাক্ষরের পর ৭৯৯ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করা হয়। সব বিচারপতির সর্বসম্মত রায়ে ‘রাজনীতিতে ব্যক্তিবাদ’, সামরিক শাসন, ‘অপরিপক্ব সংসদ’, দুর্নীতি, সুশাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমালোচনা করেন। এই পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর বিএনপি একে স্বাগত জানালেও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নানা সমালোচনা করা হয়। সরকারি দলের নেতাদের মতোই প্রায় কাছাকাছি সুরে রায়ের পর্যবেক্ষণে সমালোচনামুখর হন আইন কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যান এ বি এম খায়রুল হক, যিনি প্রধান বিচারপতি থাকাকালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে অবৈধ বলে একটি রায়ে উল্লেখ করেছিলেন। এর মধ্যেই গতকাল শুক্রবার আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ থেকে এ বি এম খায়রুল হককে অপসারণ ও গ্রেপ্তার, নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির বিধিমালার গেজেট প্রকাশের দাবি এবং সুপ্রিম কোর্টকে হেয়প্রতিপন্ন করে সরকারের মন্ত্রীদের দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে তিন দিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের সংগঠন। কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী রবি, বুধ ও বৃহস্পতিবার সারা দেশের আদালত প্রাঙ্গণে এ বিক্ষোভ দেখাবে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। আজকের সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সদস্য সচিব ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। এ সময় ষোড়শ সংশোধনীর আপিল বিভাগের রায়ের প্রতিবাদে আগামী ১৩, ১৬ ও ১৭ অগাস্ট (অর্থাৎ রবি, বুধ ও বৃহস্পতিবার) দুপুরে সারা দেশের আইনজীবী সমিতিতে এক ঘণ্টার প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। লিখিত বক্তব্যে আপিল বিভাগের রায়ে যে সমস্ত ‘আপত্তিকর, অসাংবিধানিক, অগণতান্ত্রিক, অপ্রাসঙ্গিক’ পর্যবেক্ষণ রয়েছে, সেগুলো স্বতপ্রণোদিত হয়ে প্রত্যাহার করতে আদালতের প্রতি দাবি জানান শেখ ফজলে নুর তাপস। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতির এমন বক্তব্য অসাংবিধানিক শক্তিকে ক্ষমতায় আসার পথ সুগম করে দিবে। এ ধরনের বক্তব্য ও পর্যবেক্ষণ কখনই গ্রহণযোগ্য নয়। আওয়ামী লীগের এ সংসদ সদস্য বলেন, প্রধান বিচারপতি পূর্ণাঙ্গ রায়ে যে অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য ও পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন তা আইনজীবী অঙ্গনকে সংক্ষুব্ধ ও ব্যতিত করেছে। তিনি অপ্রাসঙ্গিকভাবে বঙ্গবন্ধু, জাতীয় সংসদ, অধস্তন আদালতের প্রতি রাষ্ট্রপতির নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচন কমিশন নিয়ে মন্তব্য দিয়েছেন। ‘ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। আইনমন্ত্রী, আইন কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিয়েছেন। আমরা মনে করেছি এ রায় নিয়ে কোন মহল বিচারাঙ্গককে প্রশ্নবিদ্ধ করে কোন বক্তব্য দিবে না কিন্তু একটি দল বিচারাঙ্গনকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে।’ সদস্য সচিব বলেন, আমরা আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রধান বিচারপতির প্রতি দেশবাসী দায়িত্বশীল আচারণ আশা করে। বঙ্গবন্ধুকে ইঙ্গিত করে তিনি যে বক্তব্য লিখেছেন তাতে আইনজীবীসহ সারাদেশের মানুষ ক্ষুব্ধ। বিষয়টি আমাদের সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত ও মীমাংসিত। আওয়ামী লীগের এ নেতা মনে করেন, প্রধান বিচারপতি জাতীয় সংসদকে হেয় করে কটূক্তি করেছেন। সংসদকে হেয় করা মানে গণতন্ত্র ও জনগণকে হেয় করা। আমরা মনে করি, দেশের রাজনৈতিক অপশক্তিকে সুযোগ করে দেয়ার জন্য ষড়যন্ত্র ও সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরির অপচেষ্টা চলছে। ফজলে নূর তাপস বলেন, যারা দেশের স্বাধীনতা বিশ্বাস করে না, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে নস্যাৎ করতে চায়, তারা সরকার ও বিচার বিভাগকে মুখোমুখি দাঁড় করাতে চায়। যারা বিচার অঙ্গনকে অস্থিতিশীল করতে চায় আমরা তাদের প্রতিহত করবো। সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের বক্তব্যের প্রতি একমত এবং সমর্থন ব্যক্ত করে লিখিত বক্তব্যে ফজলে নূর তাপস বলেন, আমরা মনে করি গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিচারপতি খায়রুল হক যথার্থই বলেছেন। উপস্থিত ছিলেন বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল বাসেত মজুমদার, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, এক প্রশ্নের জবাবে ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, আমাদের এ বক্তব্য আদালতের বিরুদ্ধে নয়। রায়ে কিছু অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য এসেছে। যা দেশবাসীর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। রায়ে যে বলা হয় ‘এ দেশ একক নেতৃত্বে স্বাধীন হয়নি’ এটা অসত্য ও বেদনাদায়ক। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল বাসেত মজুমদার, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য নজিবুল্লাহ হিরু প্রমুখ। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের বিধানটি তুলে দিয়ে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী পাস হয়। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ৯৬ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এনে বিচারকের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়, যেটি ১৯৭২ সালের সংবিধানেও ছিল। ২০১৬ সালের ৫ মে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ বলে রায় ঘোষণা করেন।

Comments

Comments!

 ষোড়শ সংশোধনী , রায় নিয়ে একইদিনে মাঠে আ. লীগ-বিএনপিAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

ষোড়শ সংশোধনী , রায় নিয়ে একইদিনে মাঠে আ. লীগ-বিএনপি

Saturday, August 12, 2017 2:56 pm
photo-1502527759

বিচারপতিদের অভিশংসন-সংক্রান্ত ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে আপিল বিভাগের দেওয়া রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে এবার কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নেমেছে ক্ষুব্ধ সরকারি দল আওয়ামী লীগ।

দলের সমর্থক আইন পেশাজীবীদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ নেতারা বলেছেন, একটি মহল এই রায় নিয়ে বিচার বিভাগকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। আর এই রায়ের প্রতিবাদে তিন দিনের প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

আজ শনিবার সকালে ধানমন্ডি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

এ সপ্তাহে আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরা যে তিনদিন সারা দেশে কর্মবিরতি পালন করবে, একই দিন একই সময়ে বিক্ষোভ কর্মসূচিরও ডাক দিয়েছে বিএনপি।

গত ৩ জুলাই বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীকে অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে দেওয়া হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।

এর পর গত ১ আগস্ট বিচারপতিদের অপসারণ-সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ সাত বিচারপতির স্বাক্ষরের পর ৭৯৯ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করা হয়। সব বিচারপতির সর্বসম্মত রায়ে ‘রাজনীতিতে ব্যক্তিবাদ’, সামরিক শাসন, ‘অপরিপক্ব সংসদ’, দুর্নীতি, সুশাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমালোচনা করেন।

এই পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর বিএনপি একে স্বাগত জানালেও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নানা সমালোচনা করা হয়। সরকারি দলের নেতাদের মতোই প্রায় কাছাকাছি সুরে রায়ের পর্যবেক্ষণে সমালোচনামুখর হন আইন কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যান এ বি এম খায়রুল হক, যিনি প্রধান বিচারপতি থাকাকালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে অবৈধ বলে একটি রায়ে উল্লেখ করেছিলেন।

এর মধ্যেই গতকাল শুক্রবার আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ থেকে এ বি এম খায়রুল হককে অপসারণ ও গ্রেপ্তার, নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির বিধিমালার গেজেট প্রকাশের দাবি এবং সুপ্রিম কোর্টকে হেয়প্রতিপন্ন করে সরকারের মন্ত্রীদের দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে তিন দিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের সংগঠন।

কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী রবি, বুধ ও বৃহস্পতিবার সারা দেশের আদালত প্রাঙ্গণে এ বিক্ষোভ দেখাবে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম।

আজকের সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সদস্য সচিব ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। এ সময় ষোড়শ সংশোধনীর আপিল বিভাগের রায়ের প্রতিবাদে আগামী ১৩, ১৬ ও ১৭ অগাস্ট (অর্থাৎ রবি, বুধ ও বৃহস্পতিবার) দুপুরে সারা দেশের আইনজীবী সমিতিতে এক ঘণ্টার প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

লিখিত বক্তব্যে আপিল বিভাগের রায়ে যে সমস্ত ‘আপত্তিকর, অসাংবিধানিক, অগণতান্ত্রিক, অপ্রাসঙ্গিক’ পর্যবেক্ষণ রয়েছে, সেগুলো স্বতপ্রণোদিত হয়ে প্রত্যাহার করতে আদালতের প্রতি দাবি জানান শেখ ফজলে নুর তাপস। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতির এমন বক্তব্য অসাংবিধানিক শক্তিকে ক্ষমতায় আসার পথ সুগম করে দিবে। এ ধরনের বক্তব্য ও পর্যবেক্ষণ কখনই গ্রহণযোগ্য নয়।

আওয়ামী লীগের এ সংসদ সদস্য বলেন, প্রধান বিচারপতি পূর্ণাঙ্গ রায়ে যে অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য ও পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন তা আইনজীবী অঙ্গনকে সংক্ষুব্ধ ও ব্যতিত করেছে। তিনি অপ্রাসঙ্গিকভাবে বঙ্গবন্ধু, জাতীয় সংসদ, অধস্তন আদালতের প্রতি রাষ্ট্রপতির নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচন কমিশন নিয়ে মন্তব্য দিয়েছেন।

‘ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। আইনমন্ত্রী, আইন কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিয়েছেন। আমরা মনে করেছি এ রায় নিয়ে কোন মহল বিচারাঙ্গককে প্রশ্নবিদ্ধ করে কোন বক্তব্য দিবে না কিন্তু একটি দল বিচারাঙ্গনকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে।’

সদস্য সচিব বলেন, আমরা আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রধান বিচারপতির প্রতি দেশবাসী দায়িত্বশীল আচারণ আশা করে। বঙ্গবন্ধুকে ইঙ্গিত করে তিনি যে বক্তব্য লিখেছেন তাতে আইনজীবীসহ সারাদেশের মানুষ ক্ষুব্ধ। বিষয়টি আমাদের সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত ও মীমাংসিত।

আওয়ামী লীগের এ নেতা মনে করেন, প্রধান বিচারপতি জাতীয় সংসদকে হেয় করে কটূক্তি করেছেন। সংসদকে হেয় করা মানে গণতন্ত্র ও জনগণকে হেয় করা।
আমরা মনে করি, দেশের রাজনৈতিক অপশক্তিকে সুযোগ করে দেয়ার জন্য ষড়যন্ত্র ও সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরির অপচেষ্টা চলছে।

ফজলে নূর তাপস বলেন, যারা দেশের স্বাধীনতা বিশ্বাস করে না, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে নস্যাৎ করতে চায়, তারা সরকার ও বিচার বিভাগকে মুখোমুখি দাঁড় করাতে চায়। যারা বিচার অঙ্গনকে অস্থিতিশীল করতে চায় আমরা তাদের প্রতিহত করবো।

সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের বক্তব্যের প্রতি একমত এবং সমর্থন ব্যক্ত করে লিখিত বক্তব্যে ফজলে নূর তাপস বলেন, আমরা মনে করি গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিচারপতি খায়রুল হক যথার্থই বলেছেন।

উপস্থিত ছিলেন বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল বাসেত মজুমদার, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম,

এক প্রশ্নের জবাবে ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, আমাদের এ বক্তব্য আদালতের বিরুদ্ধে নয়। রায়ে কিছু অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য এসেছে। যা দেশবাসীর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। রায়ে যে বলা হয় ‘এ দেশ একক নেতৃত্বে স্বাধীন হয়নি’ এটা অসত্য ও বেদনাদায়ক।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল বাসেত মজুমদার, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য নজিবুল্লাহ হিরু প্রমুখ।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের বিধানটি তুলে দিয়ে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী পাস হয়। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ৯৬ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এনে বিচারকের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়, যেটি ১৯৭২ সালের সংবিধানেও ছিল।

২০১৬ সালের ৫ মে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ বলে রায় ঘোষণা করেন।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X