মঙ্গলবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৫:২২
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Thursday, May 4, 2017 9:30 am
A- A A+ Print

সততার পুরস্কার পেলেন বিমানের দুই পরিচ্ছন্নতাকর্মী

6

৬ কেজি ৯৬০ গ্রাম স্বর্ণ। দাম আনুমানিক সাড়ে ৩ কোটি টাকা। বিপুল পরিমাণ এ স্বর্ণ লুকানো ছিল একটি বেসরকারি বিমানের সিটের নিচে। দুই পরিচ্ছন্নতাকর্মী সেগুলো দেখতে পেয়ে উদ্ধার করেন। বিপুল পরিমাণ এ স্বর্ণ তারা সততার স্বাক্ষর রেখে সেগুলো তুলে দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। বিরল এ ঘটনায় তাদের সততার পুরস্কার দেয়া হয়েছে। সততার এ সম্মননা পাওয়া পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা হলেন- মো. আবদুল কাদের ও মো. আলমাস হোসাইন। গতকাল শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর ইএস-বাংলার এ দুই কর্মীকে সম্মননা দেয়। বিকালে রাজধানীর কাকরাইলের আইডিবি ভবনে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান। এ সময় তিনি এ দুই পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে ‘রাজস্ব যোদ্ধা’ হিসেবে অভিহিত করেন। শুল্ক ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার দুপুর ২টার দিকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট নং বিএস ২০২ কলকাতা থেকে ঢাকায় অবতরণ করে। অবতরণের পরে এয়ারক্রাফটটি বিমানবন্দরের ৮নং বে-তে পার্কিং অবস্থায় ছিল। ফ্লাইটের সব যাত্রী নেমে যাওয়ার পরে ওই এয়ারক্রাফটের পরবর্তী ফ্লাইটের আগে যথেষ্ট সময় থাকায় বে-এরিয়াতে এয়ারক্রাফটির ডিপ ক্লিন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এভিয়েশনের ভাষায় ‘ডিপ ক্লিন’ অর্থ হচ্ছে যথেষ্ট পরিমাণ সময় নিয়ে এয়ারক্রাফটের অভ্যন্তরে পূর্ণাঙ্গরূপে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা। এ ‘ডিপ ক্লিন’ দৈনন্দিন রুটিন ক্লিনিং কার্যক্রম হতে আলাদা। ‘ডিপ-ক্লিন’ করার সময় ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের পরিচ্ছন্নতাকর্মী আবদুল কাদের (২৯) এবং আলমাস হোসাইন (৩৮) উড়োজাহাজটির ‘১বি’ নং সিটের নিচের অংশে একটি প্যাকেট দেখতে পান। তারা সেই প্যাকেটগুলো স্পর্শ না করে এ প্যাকেটে চোরাচালানকৃত স্বর্ণ থাকতে পারে মর্মে সন্দেহ করেন এবং দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে বিষয়টি তৎক্ষণাৎ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পরামর্শ অনুযায়ী বিষয়টি শাহজালাল বিমানবন্দরের কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে জানান এবং এয়ারক্রাফটের ভেতরে প্রাপ্ত ওই প্যাকেটগুলো তাদের কাছে হস্তান্তর করেন। পরবর্তীকালে সবার সম্মুখে খুলে হস্তান্তরকৃত প্যাকেটের ভেতর থেকে ৬০টি স্বর্ণবার পাওয়া যায়। প্রতিটি স্বর্ণবারের ওজন ১০ তোলা (১১৬ গ্রাম) করে। সে হিসেবে উদ্ধারকৃত স্বর্ণের ওজন প্রায় ৭ কেজি। যার আনুমানিক বাজারমূল্য সাড়ে ৩ কোটি টাকা। শুল্ক গোয়েন্দা সূত্র আরো জানায়, ইউএস বাংলার এই ফ্লাইটটি রোববার রাতে সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকা আসে এবং পরদিন সোমবার সকালে কলকাতা গিয়ে পুনরায় ঢাকায় ফেরত আসে। দুপুর ২টায় ঢাকায় অবতরণের পরে দুপুর ৩টার দিকে উড়োজাহাজটি বিমানবন্দরের বে-এরিয়ায় ডিপ ক্লিন-এর জন্য রাখা হয়েছিল। ক্লিনিংয়ের দয়িত্বে ছিলেন আবদুল কাদের ও আলমাস হোসাইন। এ ক্লিন কার্যক্রম পরিচালনার সময় অন্য কোন নিরাপত্তা এজেন্সির লোকজন উপস্থিত ছিল না বলেও সূত্রটি জানায়। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদ্বয় ইচ্ছে করলে এগুলো কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে নিজেরাই আত্মসাৎ করতে পারতেন। শুল্ক গোয়েন্দা তাদের অনুসন্ধানে জানতে পারে, ওই পরিচ্ছন্নতা কর্মী তাদের ব্যক্তিগত সততা ও দায়বদ্ধতা থেকে স্বর্ণগুলো রাষ্ট্রের হেফাজতে জমা দিয়েছেন। নিম্ন বেতনভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও সততার এ বিরল দৃষ্টান্ত অন্যদের জন্য অনুসরণীয় বলেও মনে করেন গোয়েন্দারা। চোরাচালান প্রতিরোধে তাদের এ সততার স্বীকৃতিস্বরূপ গতকাল শুল্ক গোয়েন্দার পক্ষ থেকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ সম্মাননার মধ্যে রয়েছে একটি ক্রেষ্ট ও একটি প্রশংসাপত্র। শুল্ক গোয়েন্দার সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন। সম্মাননা অনুষ্ঠানে আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্লেনে চোরাচালান রোধে সব এয়ারলাইন্সের কর্মীদের ট্রেনিংয়ের প্রয়োজন। তিনি বলেন, ২০১৪ সালে ইউএস-বাংলা প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর থেকে আমরা একদিন পরপর কর্মীদের নিয়ে মিটিং করি। ইউএস-বাংলা তাদের সব কর্মীকে শিখিয়েছে কীভাবে সৎ হতে হয়। কেননা প্লেনে কোনো যাত্রীর সম্পদ মিসিং হলে সেটি যাত্রীরও নয়, আবার সরকারেরও নয়। এটি যাত্রীর সম্পদ। তাই কোনো যাত্রীর সম্পদ যেন মিসিং না হয়, সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। আর এটাই হলো আমাদের সততার খেলা।  শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান বলেন, শাহজালালে বেসরকারি এয়ারলাইন্স ইউএস-বাংলা এর দুই পরিচ্ছন্নতাকর্মী আবদুল কাদের ও আলমাস হোসাইন প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার স্বর্ণ দেখেও আত্মসাতের চেষ্টা করেনি। বরং হেফাজতে নিয়ে শুল্ক কর্তৃপক্ষকে খবর দিয়ে বিরল ঘটনার জন্ম দিয়েছেন। এটি বিমানবন্দরে কর্মরত সব এজেন্সির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি দৃষ্টান্তমূলক নজির স্থাপন করবে বলে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বিশ্বাস করে।

Comments

Comments!

 সততার পুরস্কার পেলেন বিমানের দুই পরিচ্ছন্নতাকর্মীAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

সততার পুরস্কার পেলেন বিমানের দুই পরিচ্ছন্নতাকর্মী

Thursday, May 4, 2017 9:30 am
6

৬ কেজি ৯৬০ গ্রাম স্বর্ণ। দাম আনুমানিক সাড়ে ৩ কোটি টাকা। বিপুল পরিমাণ এ স্বর্ণ লুকানো ছিল একটি বেসরকারি বিমানের সিটের নিচে। দুই পরিচ্ছন্নতাকর্মী সেগুলো দেখতে পেয়ে উদ্ধার করেন। বিপুল পরিমাণ এ স্বর্ণ তারা সততার স্বাক্ষর রেখে সেগুলো তুলে দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। বিরল এ ঘটনায় তাদের সততার পুরস্কার দেয়া হয়েছে। সততার এ সম্মননা পাওয়া পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা হলেন- মো. আবদুল কাদের ও মো. আলমাস হোসাইন। গতকাল শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর ইএস-বাংলার এ দুই কর্মীকে সম্মননা দেয়। বিকালে রাজধানীর কাকরাইলের আইডিবি ভবনে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান। এ সময় তিনি এ দুই পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে ‘রাজস্ব যোদ্ধা’ হিসেবে অভিহিত করেন।
শুল্ক ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার দুপুর ২টার দিকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট নং বিএস ২০২ কলকাতা থেকে ঢাকায় অবতরণ করে। অবতরণের পরে এয়ারক্রাফটটি বিমানবন্দরের ৮নং বে-তে পার্কিং অবস্থায় ছিল। ফ্লাইটের সব যাত্রী নেমে যাওয়ার পরে ওই এয়ারক্রাফটের পরবর্তী ফ্লাইটের আগে যথেষ্ট সময় থাকায় বে-এরিয়াতে এয়ারক্রাফটির ডিপ ক্লিন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এভিয়েশনের ভাষায় ‘ডিপ ক্লিন’ অর্থ হচ্ছে যথেষ্ট পরিমাণ সময় নিয়ে এয়ারক্রাফটের অভ্যন্তরে পূর্ণাঙ্গরূপে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা। এ ‘ডিপ ক্লিন’ দৈনন্দিন রুটিন ক্লিনিং কার্যক্রম হতে আলাদা। ‘ডিপ-ক্লিন’ করার সময় ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের পরিচ্ছন্নতাকর্মী আবদুল কাদের (২৯) এবং আলমাস হোসাইন (৩৮) উড়োজাহাজটির ‘১বি’ নং সিটের নিচের অংশে একটি প্যাকেট দেখতে পান। তারা সেই প্যাকেটগুলো স্পর্শ না করে এ প্যাকেটে চোরাচালানকৃত স্বর্ণ থাকতে পারে মর্মে সন্দেহ করেন এবং দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে বিষয়টি তৎক্ষণাৎ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পরামর্শ অনুযায়ী বিষয়টি শাহজালাল বিমানবন্দরের কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে জানান এবং এয়ারক্রাফটের ভেতরে প্রাপ্ত ওই প্যাকেটগুলো তাদের কাছে হস্তান্তর করেন। পরবর্তীকালে সবার সম্মুখে খুলে হস্তান্তরকৃত প্যাকেটের ভেতর থেকে ৬০টি স্বর্ণবার পাওয়া যায়। প্রতিটি স্বর্ণবারের ওজন ১০ তোলা (১১৬ গ্রাম) করে। সে হিসেবে উদ্ধারকৃত স্বর্ণের ওজন প্রায় ৭ কেজি। যার আনুমানিক বাজারমূল্য সাড়ে ৩ কোটি টাকা। শুল্ক গোয়েন্দা সূত্র আরো জানায়, ইউএস বাংলার এই ফ্লাইটটি রোববার রাতে সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকা আসে এবং পরদিন সোমবার সকালে কলকাতা গিয়ে পুনরায় ঢাকায় ফেরত আসে। দুপুর ২টায় ঢাকায় অবতরণের পরে দুপুর ৩টার দিকে উড়োজাহাজটি বিমানবন্দরের বে-এরিয়ায় ডিপ ক্লিন-এর জন্য রাখা হয়েছিল। ক্লিনিংয়ের দয়িত্বে ছিলেন আবদুল কাদের ও আলমাস হোসাইন। এ ক্লিন কার্যক্রম পরিচালনার সময় অন্য কোন নিরাপত্তা এজেন্সির লোকজন উপস্থিত ছিল না বলেও সূত্রটি জানায়। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদ্বয় ইচ্ছে করলে এগুলো কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে নিজেরাই আত্মসাৎ করতে পারতেন। শুল্ক গোয়েন্দা তাদের অনুসন্ধানে জানতে পারে, ওই পরিচ্ছন্নতা কর্মী তাদের ব্যক্তিগত সততা ও দায়বদ্ধতা থেকে স্বর্ণগুলো রাষ্ট্রের হেফাজতে জমা দিয়েছেন। নিম্ন বেতনভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও সততার এ বিরল দৃষ্টান্ত অন্যদের জন্য অনুসরণীয় বলেও মনে করেন গোয়েন্দারা।
চোরাচালান প্রতিরোধে তাদের এ সততার স্বীকৃতিস্বরূপ গতকাল শুল্ক গোয়েন্দার পক্ষ থেকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ সম্মাননার মধ্যে রয়েছে একটি ক্রেষ্ট ও একটি প্রশংসাপত্র। শুল্ক গোয়েন্দার সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন। সম্মাননা অনুষ্ঠানে আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্লেনে চোরাচালান রোধে সব এয়ারলাইন্সের কর্মীদের ট্রেনিংয়ের প্রয়োজন। তিনি বলেন, ২০১৪ সালে ইউএস-বাংলা প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর থেকে আমরা একদিন পরপর কর্মীদের নিয়ে মিটিং করি। ইউএস-বাংলা তাদের সব কর্মীকে শিখিয়েছে কীভাবে সৎ হতে হয়। কেননা প্লেনে কোনো যাত্রীর সম্পদ মিসিং হলে সেটি যাত্রীরও নয়, আবার সরকারেরও নয়। এটি যাত্রীর সম্পদ। তাই কোনো যাত্রীর সম্পদ যেন মিসিং না হয়, সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। আর এটাই হলো আমাদের সততার খেলা।  শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান বলেন, শাহজালালে বেসরকারি এয়ারলাইন্স ইউএস-বাংলা এর দুই পরিচ্ছন্নতাকর্মী আবদুল কাদের ও আলমাস হোসাইন প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার স্বর্ণ দেখেও আত্মসাতের চেষ্টা করেনি। বরং হেফাজতে নিয়ে শুল্ক কর্তৃপক্ষকে খবর দিয়ে বিরল ঘটনার জন্ম দিয়েছেন। এটি বিমানবন্দরে কর্মরত সব এজেন্সির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি দৃষ্টান্তমূলক নজির স্থাপন করবে বলে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বিশ্বাস করে।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X