বুধবার, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৯ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সন্ধ্যা ৬:৫৪
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Friday, September 2, 2016 9:45 am | আপডেটঃ September 02, 2016 9:46 AM
A- A A+ Print

সফটওয়্যারে বিদেশি মুদ্রার হাতছানি

240193_1

সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবায় বিলিয়ন ডলার রফতানি আয়ের পথে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। বর্তমানে বিশ্বের শতাধিক দেশে বিক্রি হচ্ছে বাংলাদেশি সফটওয়্যার। এ খাতে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৭০০ মিলিয়ন ডলার রফতানি আয় হয়েছে। দেশের সফটওয়্যার খাতের সবচেয়ে বড় সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড সার্ভিসেস (বেসিস) সূত্র মতে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা রফতানির মাধ্যমে বেসিস সদস্যভুক্ত ১৮৫টি কোম্পানি ৬০০ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। বেসিস সদস্য কোম্পানির সঙ্গে ফ্রিল্যান্স সফটওয়্যার ডেভেলপার ও কলসেন্টার কোম্পানির আয় যুক্ত করলে তা ৭০০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর হিসাবে, সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা খাত থেকে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রফতানি আয় হয়েছে মাত্র ১৫১ মিলিয়ন ডলার। মূলত বেসিসভুক্ত অধিকাংশ কোম্পানির পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সাররা তাদের আয়ের বড় অংশ বৈধ চ্যানেলে না আনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে প্রকৃত হিসাব থাকছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। .এজন্য সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা থেকে রফতানি আয়ের হিসাব নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। এ খাতে সরকারের তরফ থেকে কোনো ট্যাক্স-ভ্যাট আরোপ করা না হলেও বৈধ চ্যানেলে আইটি কোম্পানিগুলো আয়ের অর্থ আনতে কেন নিরুৎসাহিত হচ্ছে এ সম্পর্কে বেসিসের নবনির্বাচিত সভাপতি মোস্তাফা জব্বার সমকালকে বলেন, বেসিস সদস্যরা অভিযোগ করছেন, বৈধ চ্যানেলে রফতানির আয়ের অর্থ আনার ক্ষেত্রে রফতানির আয়ের উৎস এবং নানা রকম কাগজপত্র দেখাতে বলে হয়রানি করা হয়। এ ধরনের হয়রানি এড়াতে অবৈধ পথে আয়ের অর্থ আনার প্রবণতা বাড়ছে বলে মনে করেন তিনি। বছর কয়েক আগেও সফটওয়্যার খাতে বিদেশি কোম্পানি বাংলাদেশে একচেটিয়া ব্যবসা করত। কিন্তু 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' রূপকল্প বাস্তবায়নের পথ ধরে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। দেশে ব্যাংকিং, ই-গভর্নমেন্ট কার্যক্রমে দেশি কোম্পানির অংশগ্রহণ যেমন বেড়েছে তেমনি বহির্বিশ্বেও সমাদৃত হচ্ছে বাংলাদেশি সফটওয়্যার। কোর ব্যাংকিং কার্যক্রমে একাধিক ব্যাংক এখন বাংলাদেশি সফটওয়্যার ব্যবহার করছে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের সহযোগী অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান আলম সমকালকে জানান, ব্যাংকিং খাতে ৩৬ ভাগ দেশীয় সফটওয়্যার, ৫৭ ভাগ ব্যাংকে ব্যবহৃত হচ্ছে বিদেশি সফটওয়্যার। কোর ব্যাংকিংয়ে দেশের অন্যতম শীর্ষ সফটওয়্যার নির্মাতা কোম্পানি মিলেনিয়াম ইনফরমেশন সল্যুশন লিমিটেড। ইসলামী ব্যাংকিংয়ে প্রতিষ্ঠানটির ডেভেলপ করা 'আবাবিল' সফটওয়্যার সমাদৃত। কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মাহমুদ হোসাইন সমকালকে বলেন, তারা আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংকে পূর্ণাঙ্গ ব্যাংকিং সল্যুশন দিচ্ছেন। পাশাপাশি দ্য সিটি ব্যাংক, এবি ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংকে 'আবাবিল সফটওয়্যার' ব্যবহৃত হচ্ছে। ব্যাংকিং কার্যক্রমে দেশি সফটওয়্যারের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিদেশি সফটওয়্যার যেখানে ৮ থেকে ১০ কোটি টাকায় কিনতে হয় সেখানে ৩ থেকে ৫ কোটি টাকায় দেশি সফটওয়্যার পাওয়া যাচ্ছে। মেইনটেন্যান্স ও কাস্টমাইজেশনেও বিদেশির তুলনায় দেশীয় সফটওয়্যারে খরচ কম। এক্ষেত্রে সরকার উদ্যোগী হলে ব্যাংকিং খাতে পুরোটাই দেশীয় সফটওয়্যারের আওতায় আসতে পারে। এজন্য দেশীয় কোম্পানিকে সহজ শর্তে ঋণ, সরকারি ব্যাংকে দেশীয় সফটওয়্যার ব্যবহারে নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি বিদেশি সফটওয়্যারে বর্ধিত কর আরোপের পরামর্শ দেন তিনি। সফটওয়্যার খাতে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশি কোম্পানির সাফল্য তুলে ধরতে গিয়ে বেসিসের সদ্য বিদায়ী সভাপতি শামীম আহসান বলেন, বাংলাদেশের সফটওয়্যার কোম্পানি বিশ্বজুড়ে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ জাতিসংঘের বিভিন্ন অঙ্গ সংস্থায় কাজের অভিজ্ঞতাপুষ্ট বাংলাদেশি আইটি কোম্পানি দোহাটেক নিউমিডিয়া বর্তমানে ভুটানে ই-জিপি বাস্তবায়নে সফটওয়্যারসহ কারিগরি সেবা দিচ্ছে। নেপালে যানবাহন নিবন্ধন ডিজিটালাইশেনের কাজ করছে বাংলাদেশি কোম্পানি টাইগার আইটি। ভিওআইপি সফটওয়্যারে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ কোম্পানি বাংলাদেশের রিভ সিস্টেমস। কোম্পানিটির যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ ৯টি দেশে আঞ্চলিক অফিস রয়েছে। এসব অফিসের মাধ্যমে ৮০টি দেশে সফটওয়্যার বিক্রি করছে প্রতিষ্ঠানটি। জাপানে নিজস্ব অফিস চালু করেছে ডাটাসফট সিস্টেমস বাংলাদেশ লিমিটেড। সরকারি টেন্ডার কার্যক্রম ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রম বাস্তবায়নকারী দোহাটেক নিউ মিডিয়ার চেয়ারম্যান লুনা সামসুদ্দোহা বলেন, দাতাগোষ্ঠীর চাপসহ নানা কারণে সরকারের ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রমে অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি কোম্পানি কাজ পেয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে দেশি কোম্পানি কাজ পেলে সরকারের ব্যয় কম হতো। একই সঙ্গে টাকাটাও দেশেই থাকত। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মোস্তাফা জব্বার বলেন, সফটওয়্যার খাতে রফতানি আয় বাড়লেও স্থানীয় বাজার থেকে আয় কমেছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বেসিস সদস্য কোম্পানি দেশ থেকে ৮০ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। অথচ গত অর্থবছরে তা ২৭ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। সফটওয়্যার খাতে স্থানীয় কোম্পানির দেশীয় বাজারের আয় বৃদ্ধিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে। শামীম আহসান বলেন, বাংলাদেশে সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা তৈরিতে তুলনামূলক খরচ কম। বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশি সফটওয়্যারের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হাজার কোটি টাকার কাজ নিয়ে যাচ্ছে বিদেশি কোম্পানি। বিদেশি অর্থায়নে সরকারি আইসিটি প্রকিউরমেন্টে দাতা সংস্থাগুলো কঠিন শর্ত জুড়ে দিচ্ছে। এজন্য অনেক কাজে দেশীয় যোগ্য কোম্পানি অংশগ্রহণেরই সুযোগ পাচ্ছে না। অথচ সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের অনেক দেশেই পাবলিক প্রকিউরমেন্টের নূ্যনতম ৫০ শতাংশ দেশি কোম্পানিকে দিয়ে করাতে হয়। এ মর্মে সেখানে নীতিমালা রয়েছে। দেশীয় আইটি প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন আইন ও নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান তিনি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক সমকালকে বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে তিনিও চান দেশীয় কোম্পানি অগ্রাধিকার পাক। এজন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু করতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে। তিনি জানান, ২০১৮ সাল নাগাদ সফটওয়্যার ও সফটওয়্যারনির্ভর সেবা খাত থেকে এক বিলিয়ন ডলার আয় করতে চায় বাংলাদেশ। এজন্য সফটওয়্যার পার্ক তৈরিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। দেশজুড়ে ১২টি সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক নির্মাণাধীন। রাজধানীর কাওরান বাজারে জনতা সফটওয়্যার পার্কে ১৭টি কোম্পানি ইতিমধ্যে ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করেছে। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি থেকে আগামী বছরই পণ্য ও সেবা উৎপাদন এবং ডেভেলপের কাজ শুরু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। যশোর শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে আগ্রহী কোম্পানিগুলোকে এরই মধ্যে জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মহাখালী আইটি ভিলেজ, বরেন্দ্র সিলিকন সিটি রাজশাহী, ইলেকট্রনিক সিটি সিলেট, চন্দ্রদীপ ক্লাউড চর নির্মাণাধীন। তিনি আরও বলেন, বেসরকারি খাতের সাতটি প্রতিষ্ঠানকে সফটওয়্যার পার্ক হিসেবে ঘোষণা দিয়ে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। সম্ভাবনাময় এ খাতে দক্ষ জনবল তৈরিতে এক লাখ তরুণ-তরুণীকে আইসিটি বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্পেও আওতায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

Comments

Comments!

 সফটওয়্যারে বিদেশি মুদ্রার হাতছানিAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

সফটওয়্যারে বিদেশি মুদ্রার হাতছানি

Friday, September 2, 2016 9:45 am | আপডেটঃ September 02, 2016 9:46 AM
240193_1

সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবায় বিলিয়ন ডলার রফতানি আয়ের পথে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। বর্তমানে বিশ্বের শতাধিক দেশে বিক্রি হচ্ছে বাংলাদেশি সফটওয়্যার। এ খাতে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৭০০ মিলিয়ন ডলার রফতানি আয় হয়েছে। দেশের সফটওয়্যার খাতের সবচেয়ে বড় সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড সার্ভিসেস (বেসিস) সূত্র মতে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা রফতানির মাধ্যমে বেসিস সদস্যভুক্ত ১৮৫টি কোম্পানি ৬০০ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। বেসিস সদস্য কোম্পানির সঙ্গে ফ্রিল্যান্স সফটওয়্যার ডেভেলপার ও কলসেন্টার কোম্পানির আয় যুক্ত করলে তা ৭০০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর হিসাবে, সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা খাত থেকে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রফতানি আয় হয়েছে মাত্র ১৫১ মিলিয়ন ডলার।

মূলত বেসিসভুক্ত অধিকাংশ কোম্পানির পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সাররা তাদের আয়ের বড় অংশ বৈধ চ্যানেলে না আনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে প্রকৃত হিসাব থাকছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

.এজন্য সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা থেকে রফতানি আয়ের হিসাব নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। এ খাতে সরকারের তরফ থেকে কোনো ট্যাক্স-ভ্যাট আরোপ করা না হলেও বৈধ চ্যানেলে আইটি কোম্পানিগুলো আয়ের অর্থ আনতে কেন নিরুৎসাহিত হচ্ছে এ সম্পর্কে বেসিসের নবনির্বাচিত সভাপতি মোস্তাফা জব্বার সমকালকে বলেন, বেসিস সদস্যরা অভিযোগ করছেন, বৈধ চ্যানেলে রফতানির আয়ের অর্থ আনার ক্ষেত্রে রফতানির আয়ের উৎস এবং নানা রকম কাগজপত্র দেখাতে বলে হয়রানি করা হয়। এ ধরনের হয়রানি এড়াতে অবৈধ পথে আয়ের অর্থ আনার প্রবণতা বাড়ছে বলে মনে করেন তিনি।

বছর কয়েক আগেও সফটওয়্যার খাতে বিদেশি কোম্পানি বাংলাদেশে একচেটিয়া ব্যবসা করত। কিন্তু ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ রূপকল্প বাস্তবায়নের পথ ধরে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। দেশে ব্যাংকিং, ই-গভর্নমেন্ট কার্যক্রমে দেশি কোম্পানির অংশগ্রহণ যেমন বেড়েছে তেমনি বহির্বিশ্বেও সমাদৃত হচ্ছে বাংলাদেশি সফটওয়্যার। কোর ব্যাংকিং কার্যক্রমে একাধিক ব্যাংক এখন বাংলাদেশি সফটওয়্যার ব্যবহার করছে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের সহযোগী অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান আলম সমকালকে জানান, ব্যাংকিং খাতে ৩৬ ভাগ দেশীয় সফটওয়্যার, ৫৭ ভাগ ব্যাংকে ব্যবহৃত হচ্ছে বিদেশি সফটওয়্যার। কোর ব্যাংকিংয়ে দেশের অন্যতম শীর্ষ সফটওয়্যার নির্মাতা কোম্পানি মিলেনিয়াম ইনফরমেশন সল্যুশন লিমিটেড। ইসলামী ব্যাংকিংয়ে প্রতিষ্ঠানটির ডেভেলপ করা ‘আবাবিল’ সফটওয়্যার সমাদৃত। কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মাহমুদ হোসাইন সমকালকে বলেন, তারা আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংকে পূর্ণাঙ্গ ব্যাংকিং সল্যুশন দিচ্ছেন। পাশাপাশি দ্য সিটি ব্যাংক, এবি ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংকে ‘আবাবিল সফটওয়্যার’ ব্যবহৃত হচ্ছে। ব্যাংকিং কার্যক্রমে দেশি সফটওয়্যারের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিদেশি সফটওয়্যার যেখানে ৮ থেকে ১০ কোটি টাকায় কিনতে হয় সেখানে ৩ থেকে ৫ কোটি টাকায় দেশি সফটওয়্যার পাওয়া যাচ্ছে। মেইনটেন্যান্স ও কাস্টমাইজেশনেও বিদেশির তুলনায় দেশীয় সফটওয়্যারে খরচ কম। এক্ষেত্রে সরকার উদ্যোগী হলে ব্যাংকিং খাতে পুরোটাই দেশীয় সফটওয়্যারের আওতায় আসতে পারে। এজন্য দেশীয় কোম্পানিকে সহজ শর্তে ঋণ, সরকারি ব্যাংকে দেশীয় সফটওয়্যার ব্যবহারে নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি বিদেশি সফটওয়্যারে বর্ধিত কর আরোপের পরামর্শ দেন তিনি।

সফটওয়্যার খাতে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশি কোম্পানির সাফল্য তুলে ধরতে গিয়ে বেসিসের সদ্য বিদায়ী সভাপতি শামীম আহসান বলেন, বাংলাদেশের সফটওয়্যার কোম্পানি বিশ্বজুড়ে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ জাতিসংঘের বিভিন্ন অঙ্গ সংস্থায় কাজের অভিজ্ঞতাপুষ্ট বাংলাদেশি আইটি কোম্পানি দোহাটেক নিউমিডিয়া বর্তমানে ভুটানে ই-জিপি বাস্তবায়নে সফটওয়্যারসহ কারিগরি সেবা দিচ্ছে। নেপালে যানবাহন নিবন্ধন ডিজিটালাইশেনের কাজ করছে বাংলাদেশি কোম্পানি টাইগার আইটি। ভিওআইপি সফটওয়্যারে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ কোম্পানি বাংলাদেশের রিভ সিস্টেমস। কোম্পানিটির যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ ৯টি দেশে আঞ্চলিক অফিস রয়েছে। এসব অফিসের মাধ্যমে ৮০টি দেশে সফটওয়্যার বিক্রি করছে প্রতিষ্ঠানটি। জাপানে নিজস্ব অফিস চালু করেছে ডাটাসফট সিস্টেমস বাংলাদেশ লিমিটেড। সরকারি টেন্ডার কার্যক্রম ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রম বাস্তবায়নকারী দোহাটেক নিউ মিডিয়ার চেয়ারম্যান লুনা সামসুদ্দোহা বলেন, দাতাগোষ্ঠীর চাপসহ নানা কারণে সরকারের ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রমে অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি কোম্পানি কাজ পেয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে দেশি কোম্পানি কাজ পেলে সরকারের ব্যয় কম হতো। একই সঙ্গে টাকাটাও দেশেই থাকত।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মোস্তাফা জব্বার বলেন, সফটওয়্যার খাতে রফতানি আয় বাড়লেও স্থানীয় বাজার থেকে আয় কমেছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বেসিস সদস্য কোম্পানি দেশ থেকে ৮০ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। অথচ গত অর্থবছরে তা ২৭ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। সফটওয়্যার খাতে স্থানীয় কোম্পানির দেশীয় বাজারের আয় বৃদ্ধিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে।

শামীম আহসান বলেন, বাংলাদেশে সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা তৈরিতে তুলনামূলক খরচ কম। বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশি সফটওয়্যারের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হাজার কোটি টাকার কাজ নিয়ে যাচ্ছে বিদেশি কোম্পানি। বিদেশি অর্থায়নে সরকারি আইসিটি প্রকিউরমেন্টে দাতা সংস্থাগুলো কঠিন শর্ত জুড়ে দিচ্ছে। এজন্য অনেক কাজে দেশীয় যোগ্য কোম্পানি অংশগ্রহণেরই সুযোগ পাচ্ছে না। অথচ সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের অনেক দেশেই পাবলিক প্রকিউরমেন্টের নূ্যনতম ৫০ শতাংশ দেশি কোম্পানিকে দিয়ে করাতে হয়। এ মর্মে সেখানে নীতিমালা রয়েছে। দেশীয় আইটি প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন আইন ও নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক সমকালকে বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে তিনিও চান দেশীয় কোম্পানি অগ্রাধিকার পাক। এজন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু করতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে। তিনি জানান, ২০১৮ সাল নাগাদ সফটওয়্যার ও সফটওয়্যারনির্ভর সেবা খাত থেকে এক বিলিয়ন ডলার আয় করতে চায় বাংলাদেশ। এজন্য সফটওয়্যার পার্ক তৈরিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। দেশজুড়ে ১২টি সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক নির্মাণাধীন। রাজধানীর কাওরান বাজারে জনতা সফটওয়্যার পার্কে ১৭টি কোম্পানি ইতিমধ্যে ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করেছে। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি থেকে আগামী বছরই পণ্য ও সেবা উৎপাদন এবং ডেভেলপের কাজ শুরু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। যশোর শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে আগ্রহী কোম্পানিগুলোকে এরই মধ্যে জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মহাখালী আইটি ভিলেজ, বরেন্দ্র সিলিকন সিটি রাজশাহী, ইলেকট্রনিক সিটি সিলেট, চন্দ্রদীপ ক্লাউড চর নির্মাণাধীন। তিনি আরও বলেন, বেসরকারি খাতের সাতটি প্রতিষ্ঠানকে সফটওয়্যার পার্ক হিসেবে ঘোষণা দিয়ে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। সম্ভাবনাময় এ খাতে দক্ষ জনবল তৈরিতে এক লাখ তরুণ-তরুণীকে আইসিটি বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্পেও আওতায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X