শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১১ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ৮:৫৫
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Sunday, January 29, 2017 7:23 am
A- A A+ Print

সব দলের কাছে নাম চেয়েছে অনুসন্ধান কমিটি

৭

নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঁচজন করে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তির নাম চেয়েছে অনুসন্ধান কমিটি। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে অংশ নেওয়া ৩১টি রাজনৈতিক দল এই নাম দেওয়ার সুযোগ পাবে। এর পাশাপাশি ১২ জন বিশিষ্ট নাগরিকের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন কমিটির সদস্যরা। গতকাল শনিবার প্রথম বৈঠকে অনুসন্ধান কমিটি এই সিদ্ধান্ত নেয়। নির্বাচন কমিশন গঠনে ১০ ব্যক্তির নাম প্রস্তাব করার লক্ষ্যে গত বুধবার ৬ সদস্যের এই কমিটি ঘোষণা করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। কমিটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে নাম চাওয়া এবং বিশিষ্টজনদের সঙ্গে মতবিনিময়ের লক্ষ্য হচ্ছে কমিটির ওপর সবার ‘আস্থা ও বিশ্বাস’ তৈরি করা। তবে নাম দেওয়ার বিষয়ে সরকারি দল আওয়ামী লীগ ও প্রধান বিরোধী দল বিএনপি গতকাল পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম প্রথম আলোকে বলেন, অনুসন্ধান কমিটির প্রতি আওয়ামী লীগের সম্পূর্ণ সহযোগিতা ও সমর্থন থাকবে। তবে পাঁচজনের নাম দেওয়ার বিষয়টি দলীয় ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা আজই বিষয়টি জেনেছি। বিএনপি নাম দেবে কি দেবে না, তা দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ গতকাল সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে অনুসন্ধান কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টার এ বৈঠকে অনুসন্ধান কমিটির সব সদস্য উপস্থিত ছিলেন। কমিটির মুখপাত্র হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব দায়িত্ব পালন করবেন বলে ঠিক করা হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম জাজেস লাউঞ্জের প্রধান ফটকের সামনে সাংবাদিকদের বলেন, যেসব দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়েছিল, তাদের সবার কাছে ৩১ জানুয়ারি মঙ্গলবারের মধ্যে নাম দেওয়ার জন্য চিঠি যাবে। প্রতিটি দলের কাছে ওই দিন বেলা ১১টার মধ্যে পাঁচটি করে নাম মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিবের (প্রশাসন ও বিধি) কাছে পৌঁছানোর জন্য অনুরোধ করা হবে।

রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে নাম আহ্বানের বিষয়ে অনুসন্ধান কমিটির একজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, দলগুলোর কাছ থেকে পাওয়া তালিকা থেকে অভিন্ন নামগুলো বাছাই করা হবে। এরপর সেগুলো নিয়ে আলোচনা করবে অনুসন্ধান কমিটি।

অনুসন্ধান কমিটির দ্বিতীয় সিদ্ধান্ত হচ্ছে ইসি গঠন নিয়ে নাগরিক সমাজের ১২ জন প্রতিনিধির সঙ্গে মতবিনিময় করা। এ বিষয়ে শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, কাল সোমবার বিকেল চারটায় সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে এই মতবিনিময় হবে।

মতবিনিময়ে আমন্ত্রণ পাওয়া ১২ বিশিষ্ট নাগরিক হলেন শিক্ষাবিদ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি আবদুর রশিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক দুই উপাচার্য এ কে আজাদ চৌধুরী ও এস এম এ ফায়েজ, অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ টি এম শামসুল হুদা, সাবেক দুই নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন ও সাখাওয়াত হোসেন, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক নুরুল হুদা।

অনুসন্ধান কমিটির আহ্বায়ক আপিল বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সভাপতিত্বে কমিটির প্রথম সভায় হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক, মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মাসুদ আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য শিরীণ আখতার উপস্থিত ছিলেন।

বিশিষ্ট নাগরিকদের ডাকার বিষয়ে জানতে চাইলে অনুসন্ধান কমিটির দুজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা দীর্ঘ আলোচনা ও কাটছাঁট করে নাগরিক সমাজের এই ১২ জন প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নেন। মূলত স্বচ্ছতা নিশ্চিত ও বিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি করতে সব মতের নাগরিকদের তাঁরা আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। নাগরিকদের পক্ষ থেকে কোনো নাম প্রস্তাব করা হলে সেটাও বিবেচনায় নেবে কমিটি।

অনুসন্ধান কমিটি আমন্ত্রণ জানানোয় তাঁদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন সাবেক উপাচার্য এ কে আজাদ চৌধুরী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার মনে হয়, অনুসন্ধান কমিটি মতবিনিময় করে সমাজের ফিডব্যাক নিতে চাচ্ছে। সবার উচিত তাঁদের সহযোগিতা করা।’

এ বিষয়ে সাবেক নির্বাচন কমিশনার সাখাওয়াত হোসেন অনুসন্ধান কমিটির এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে প্রথম আলোকে বলেন, তারা যদি পুরো বিষয়টি স্বচ্ছতার সঙ্গে শেষ করতে পারে, তাহলে তা দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য ফলপ্রসূ হবে। তবে আলোচনায় বসলে বোঝা যাবে এ আলোচনা কতটা কাজে আসবে।

সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, স্বচ্ছতার সঙ্গে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার যে লক্ষ্য, তাতে তাঁরা সাধ্যমতো সহযোগিতা করবেন।

রাজনৈতিক দলগুলোর ভাবনা

নির্বাচন কমিশন গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে নাম সংগ্রহের সিদ্ধান্তকে ভালোভাবে দেখছেন না আওয়ামী লীগের কেউ কেউ। দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ প্রথম আলোকে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে নাম নেওয়া যুক্তিসংগত নয়। কারণ, নাম দেওয়া ব্যক্তিদের ওই দলের প্রতি অনুগত মনে করা হবে।

নাম চাওয়ার মধ্যে নতুন কিছু দেখছেন না বিএনপিরও কেউ কেউ। ২০১২ সালের নির্বাচন কমিশন গঠনের সময়ও দলটি কারও নাম দেয়নি। বিএনপির নেতা মওদুদ আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, এর আগেও ইসি গঠনে দলগুলোর কাছে নাম চাওয়া হয়েছিল। এবারও একইভাবে চাওয়া হয়েছে, দল এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী জি এম কাদের প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাজনৈতিক দলের কাছে নাম চাওয়ার প্রস্তাবটি খারাপ নয়। আমরা আজই বিষয়টি জানতে পেরেছি। দলে আলোচনা করে অনুসন্ধান কমিটির কাছে নাম পাঠানো হবে।’

এদিকে অনুসন্ধান কমিটির পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে নাম আহ্বান করাটা কাঙ্ক্ষিত নয় বলে মত দিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। গতকাল এক বিবৃতিতে দলটি বলেছে, নাম জমা দেওয়া রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব নয়। অনুসন্ধান কমিটির কাছে সিপিবি নাম পাঠাবে না।

Comments

Comments!

 সব দলের কাছে নাম চেয়েছে অনুসন্ধান কমিটিAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

সব দলের কাছে নাম চেয়েছে অনুসন্ধান কমিটি

Sunday, January 29, 2017 7:23 am
৭

নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঁচজন করে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তির নাম চেয়েছে অনুসন্ধান কমিটি। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে অংশ নেওয়া ৩১টি রাজনৈতিক দল এই নাম দেওয়ার সুযোগ পাবে। এর পাশাপাশি ১২ জন বিশিষ্ট নাগরিকের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন কমিটির সদস্যরা।

গতকাল শনিবার প্রথম বৈঠকে অনুসন্ধান কমিটি এই সিদ্ধান্ত নেয়। নির্বাচন কমিশন গঠনে ১০ ব্যক্তির নাম প্রস্তাব করার লক্ষ্যে গত বুধবার ৬ সদস্যের এই কমিটি ঘোষণা করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

কমিটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে নাম চাওয়া এবং বিশিষ্টজনদের সঙ্গে মতবিনিময়ের লক্ষ্য হচ্ছে কমিটির ওপর সবার ‘আস্থা ও বিশ্বাস’ তৈরি করা।

তবে নাম দেওয়ার বিষয়ে সরকারি দল আওয়ামী লীগ ও প্রধান বিরোধী দল বিএনপি গতকাল পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম প্রথম আলোকে বলেন, অনুসন্ধান কমিটির প্রতি আওয়ামী লীগের সম্পূর্ণ সহযোগিতা ও সমর্থন থাকবে। তবে পাঁচজনের নাম দেওয়ার বিষয়টি দলীয় ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা আজই বিষয়টি জেনেছি। বিএনপি নাম দেবে কি দেবে না, তা দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

গতকাল সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে অনুসন্ধান কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টার এ বৈঠকে অনুসন্ধান কমিটির সব সদস্য উপস্থিত ছিলেন। কমিটির মুখপাত্র হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব দায়িত্ব পালন করবেন বলে ঠিক করা হয়।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম জাজেস লাউঞ্জের প্রধান ফটকের সামনে সাংবাদিকদের বলেন, যেসব দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়েছিল, তাদের সবার কাছে ৩১ জানুয়ারি মঙ্গলবারের মধ্যে নাম দেওয়ার জন্য চিঠি যাবে। প্রতিটি দলের কাছে ওই দিন বেলা ১১টার মধ্যে পাঁচটি করে নাম মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিবের (প্রশাসন ও বিধি) কাছে পৌঁছানোর জন্য অনুরোধ করা হবে।

রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে নাম আহ্বানের বিষয়ে অনুসন্ধান কমিটির একজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, দলগুলোর কাছ থেকে পাওয়া তালিকা থেকে অভিন্ন নামগুলো বাছাই করা হবে। এরপর সেগুলো নিয়ে আলোচনা করবে অনুসন্ধান কমিটি।

অনুসন্ধান কমিটির দ্বিতীয় সিদ্ধান্ত হচ্ছে ইসি গঠন নিয়ে নাগরিক সমাজের ১২ জন প্রতিনিধির সঙ্গে মতবিনিময় করা। এ বিষয়ে শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, কাল সোমবার বিকেল চারটায় সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে এই মতবিনিময় হবে।

মতবিনিময়ে আমন্ত্রণ পাওয়া ১২ বিশিষ্ট নাগরিক হলেন শিক্ষাবিদ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি আবদুর রশিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক দুই উপাচার্য এ কে আজাদ চৌধুরী ও এস এম এ ফায়েজ, অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ টি এম শামসুল হুদা, সাবেক দুই নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন ও সাখাওয়াত হোসেন, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক নুরুল হুদা।

অনুসন্ধান কমিটির আহ্বায়ক আপিল বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সভাপতিত্বে কমিটির প্রথম সভায় হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক, মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মাসুদ আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য শিরীণ আখতার উপস্থিত ছিলেন।

বিশিষ্ট নাগরিকদের ডাকার বিষয়ে জানতে চাইলে অনুসন্ধান কমিটির দুজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা দীর্ঘ আলোচনা ও কাটছাঁট করে নাগরিক সমাজের এই ১২ জন প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নেন। মূলত স্বচ্ছতা নিশ্চিত ও বিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি করতে সব মতের নাগরিকদের তাঁরা আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। নাগরিকদের পক্ষ থেকে কোনো নাম প্রস্তাব করা হলে সেটাও বিবেচনায় নেবে কমিটি।

অনুসন্ধান কমিটি আমন্ত্রণ জানানোয় তাঁদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন সাবেক উপাচার্য এ কে আজাদ চৌধুরী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার মনে হয়, অনুসন্ধান কমিটি মতবিনিময় করে সমাজের ফিডব্যাক নিতে চাচ্ছে। সবার উচিত তাঁদের সহযোগিতা করা।’

এ বিষয়ে সাবেক নির্বাচন কমিশনার সাখাওয়াত হোসেন অনুসন্ধান কমিটির এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে প্রথম আলোকে বলেন, তারা যদি পুরো বিষয়টি স্বচ্ছতার সঙ্গে শেষ করতে পারে, তাহলে তা দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য ফলপ্রসূ হবে। তবে আলোচনায় বসলে বোঝা যাবে এ আলোচনা কতটা কাজে আসবে।

সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, স্বচ্ছতার সঙ্গে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার যে লক্ষ্য, তাতে তাঁরা সাধ্যমতো সহযোগিতা করবেন।

রাজনৈতিক দলগুলোর ভাবনা

নির্বাচন কমিশন গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে নাম সংগ্রহের সিদ্ধান্তকে ভালোভাবে দেখছেন না আওয়ামী লীগের কেউ কেউ। দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ প্রথম আলোকে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে নাম নেওয়া যুক্তিসংগত নয়। কারণ, নাম দেওয়া ব্যক্তিদের ওই দলের প্রতি অনুগত মনে করা হবে।

নাম চাওয়ার মধ্যে নতুন কিছু দেখছেন না বিএনপিরও কেউ কেউ। ২০১২ সালের নির্বাচন কমিশন গঠনের সময়ও দলটি কারও নাম দেয়নি। বিএনপির নেতা মওদুদ আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, এর আগেও ইসি গঠনে দলগুলোর কাছে নাম চাওয়া হয়েছিল। এবারও একইভাবে চাওয়া হয়েছে, দল এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী জি এম কাদের প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাজনৈতিক দলের কাছে নাম চাওয়ার প্রস্তাবটি খারাপ নয়। আমরা আজই বিষয়টি জানতে পেরেছি। দলে আলোচনা করে অনুসন্ধান কমিটির কাছে নাম পাঠানো হবে।’

এদিকে অনুসন্ধান কমিটির পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে নাম আহ্বান করাটা কাঙ্ক্ষিত নয় বলে মত দিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। গতকাল এক বিবৃতিতে দলটি বলেছে, নাম জমা দেওয়া রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব নয়। অনুসন্ধান কমিটির কাছে সিপিবি নাম পাঠাবে না।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X