বুধবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০১৭ ইং, ৩রা কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ৮:৪৮
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Wednesday, March 8, 2017 7:21 am
A- A A+ Print

সব বাধা জয় করে এগিয়ে যাচ্ছে নারী

2

ঘরের ভেতর-বাইরে নানা বাধা সত্ত্বেও থেমে নেই নারীর অগ্রযাত্রা। শ্রমিক শ্রেণী থেকে শুরু করে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে সুদৃঢ় অবস্থান নারীর। শিক্ষা, সরকারি-বেসরকারি চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা, খেলাধুলা ও সাংবাদিকতাসহ এ মুহূর্তে সবখানেই নারীর বিচরণ। আর জাতীয় রাজনীতিতে চালকের ভূমিকায় আছেন তারা। এ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা, মাঠের রাজনীতির বড় দলের প্রধান এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রিত্ব করছেন নারী। অতীতে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীও ছিলেন তারা। আর এসব কারণেই মহিলা রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম দশটি দেশের একটি। বিভিন্ন সূচক বলছে, নারীর অগ্রযাত্রায় এখন অনেক উন্নত দেশকেও পেছনে ফেলছে বাংলাদেশ। নারীবিষয়ক গবেষকরা বলছেন, অব্যাহত প্রচারণার ফলে নারী বিশেষ করে কন্যাশিশুর প্রতি মানুষের সচেতনতা বাড়ছে। একসময়ে ছেলেশিশুর জন্য বাবা-মায়ের প্রত্যাশা থাকত বেশি। এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয়নি। তবে কমছে। অনেকেই কন্যাশিশুতেই সন্তুষ্ট থাকছেন। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে বর্তমানে ছাত্রের তুলনায় ছাত্রী বেশি। যদিও উচ্চমাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় এ হার কম। কিন্তু এ সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। একই অবস্থা সরকারি চাকরিতে। মোট হিসাবে সরকারি চাকরিতে নারীর সংখ্যা এক-চতুর্থাংশের মতো। গত ছয়টি বিসিএস (বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস) এ গড়ে ৪১ শতাংশের বেশি নারী চাকরি পেয়েছেন। তবে এরপরও এখন পর্যন্ত সার্বিকভাবে সমাজে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হচ্ছে নারীকে। এর মধ্যে বাল্যবিবাহ ও সামাজিক নিরাপত্তার অভাব অন্যতম। ১৮ বছরের নিচের কন্যাশিশুকে বিয়ে দেয়ার বিশেষ বিধান প্রণয়ন করায় বাল্যবিবাহ আরও বাড়িয়ে দেবে বলে আশংকা বিশেষজ্ঞদের। তাদের মতে, পিছিয়ে পড়ার কারণগুলো দূর করতে না পারলে নারীর অগ্রগতি এখানেই থেমে থাকবে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্য দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে আজ পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য- ‘নারী-পুরুষ সমতায় উন্নয়নের যাত্রা, বদলে যাবে বিশ্বকর্মে নতুন মাত্রা’। ১৯০৯ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ দিবসটি উদ্যাপন শুরু করে। পরবর্তী দু’বছরের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, জার্মানি ও সুইজারল্যান্ড, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীনসহ পূর্ব ইউরোপের সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোতে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে উদ্যাপিত হয়। জাতিসংঘ দিবসটি উদ্যাপন শুরু করে ১৯৭৪ সাল থেকে। পরের বছর ৮ মার্চ থেকে দিবসটি বাংলাদেশে পালিত হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আলাদাভাবে বাণী দিয়েছেন। এ ছাড়া সারা দেশে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নেয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি। দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্বালন করা হয়। আজ সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে নারী দিবসের উদ্বোধন করা হবে। সেখানে জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ী শ্রেষ্ঠ ৫ জয়িতাকে পুরস্কার দেয়া হবে। আর বিকালে কৃষিবিদ ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে নারীর ক্ষমতায়ন ও বাংলাদেশ শীর্ষক সেমিনার আয়োজন করা হয়েছে। জানতে চাইলে গণসাক্ষরতা অভিযানের (ক্যাম্পে) নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, নিঃসন্দেহে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা এগিয়ে যাচ্ছেন। কন্যাশিশুর প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচকভাবে উন্নততর হচ্ছিল। ১৮ বছরে নারীর বিয়ের বিষয়টিও মানুষ মেনে নিচ্ছিল। এসবই আমাদের ইতিবাচক পরিবর্তন। কিন্তু সম্প্রতি পাস করা বিয়েসংক্রান্ত আইন ক্ষতিটা করে ফেলবে। তিনি বলেন, উচ্চ মাধ্যমিক, উচ্চশিক্ষা এবং চাকরিতে নারীর প্রবেশের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি প্রতিবন্ধকতা আছে। এর মধ্যে নিরাপত্তাই প্রধান। এ ছাড়া দারিদ্র্য, আবাসন-যাতায়াত সুবিধার সংকট, হাতের নাগালে কলেজের সংকট, বাল্যবিবাহ এবং সাধারণ বিবাহ, স্যানিটেশন ও খাবার পানির অভাব, বেসরকারি খাতে মাতৃত্বকালীন ছুটি সমস্যা এমনকি উপবৃত্তিও একটা বড় বাধা। এখনও প্রতি গ্রামে স্কুল নেই। কলেজ আরও দূরে। ফলে কষ্ট করে মাধ্যমিক পাস করলেও নিরাপত্তার কারণে মেয়েদের কলেজে আর দেন না অভিভাবকরা। সে ক্ষেত্রে বিয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটে। এ কারণে চাকরিতেও নারীর সংখ্যা কম। তিনি যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং কলেজে আবাসন ব্যবস্থার সুপারিশ করেন। পাশাপাশি কর্মজীবী নারীর জন্য প্রয়োজনে পিপিপির অধীনে হোস্টেল নির্মাণ করে দেয়ার পরামর্শ দেন। সর্বোপরি নারীর উন্নয়নে তিনি বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ দেন। হার্ভার্ড ও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে করা ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘দ্য গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট, ২০১৫ অনুযায়ী রাষ্ট্রক্ষমতায় নারীর অবস্থান বিবেচনায় সবাইকে পেছনে ফেলে বিশ্বের এক নম্বরে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। সার্বিক বিবেচনায় নারীর উন্নয়নে বিশ্বের ১৪৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ৬৪ নম্বরে। এ তালিকায় ভারতের অবস্থান ১০৮ ও পাকিস্তানের ১৪৪। আর ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নারীর অগ্রগতির নানা সূচকে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রাথমিকে দেশে ৫১ শতাংশ ছাত্রী লেখাপড়া করছে। এ স্তরে ছাত্রসংখ্যা ২ শতাংশ কম। মাধ্যমিক স্তরে ছাত্রীর সংখ্যা ৫৩ শতাংশ। কলেজ শিক্ষায় শিক্ষার্থীর ৪৬ শতাংশ ছাত্রী। তবে মাদ্রাসায় ছাত্রী বেশি (৫৪ শতাংশ)। এ ছাড়া প্রফেশনাল শিক্ষায় ৩৯ শতাংশ, শিক্ষক শিক্ষায় ৩৪ শতাংশ, কারিগরিতে ২৪ শতাংশ নারী লেখাপড়া করছে। আর গত দু’বছর ধরে উচ্চশিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ একই স্থানে আছে। ব্যানবেইসের হিসাবে এটি ৩৩ শতাংশ। এর কারণ সম্পর্কে নারী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারিবারিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে মেয়েদের উচ্চশিক্ষায় উপনীত হতে অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হয়। উচ্চ মাধ্যমিকে উঠলে অনেকের বিয়ে হয়ে যায়। বিশেষ করে এই স্তর পার হলে দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের বিয়ের হার খুবই বেড়ে যায়। তবে চিকিৎসা শিক্ষায় আবার নারীর অবস্থান অনেক বেশি। বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার ডা. জাহিদুল হক বসুনিয়া যুগান্তরকে বলেন, মোট ক্যাডার চিকিৎসকের মধ্যে ৩৩ শতাংশ নারী। তবে নিবন্ধনকৃত সরকারি-বেসরকারি চিকিৎসকের ক্ষেত্রে আরও বেশি। আর এমবিবিএসে ভর্তির ক্ষেত্রে গত ছয় বছরে গড়ে নারী শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে মোট আসনের ৫০ শতাংশের বেশি। উচ্চশিক্ষা শেষ করেও পারিবারিক ও সামাজিক বাধায় অনেক নারী চাকরি করেন না বা ইচ্ছা থাকলেও করতে পারেন না। যে কারণে শিক্ষাজীবন শেষে চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ আরও কম। কিন্তু যে ক’জন চাকরির সুযোগ পাচ্ছেন তারা যোগ্যতা ও দক্ষতা দিয়ে টিকে আছেন। সর্বশেষ ৩৪তম বিসিএসে সেরা দশ মেধাবীর ৫ জনই নারী। এদের মধ্যে দ্বিতীয় আয়শা আক্তার পররাষ্ট্র ক্যাডার পেয়েছেন। এ ছাড়া তৃতীয়, পঞ্চম, নবম এবং দশম হয়েছেন চার নারী। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০১৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সরকারি চাকরিতে অনুমোদিত পদ ১৪ লাখ ৭১ হাজার ৩৬টি। এর মধ্যে ১১ লাখ ৯৪ হাজার ৪৪৯ জনের মধ্যে নারী চাকরিজীবী হলেন ২ লাখ ৮৮ হাজার ৮০৪ জন। শতাংশের হিসাবে মোট চাকুরের ২৪ দশমিক ১৮ শতাংশ নারী। তবে কিছু ক্ষেত্রে আইন করে দেয়ায় চাকরিতে নারীর সংখ্যা বেশি। ব্যানবেইস বলছে, বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতায় ৬০ শতাংশই নারী। কিন্তু এরপর থেকে নারী শিক্ষকের সংখ্যা কম। মাধ্যমিকে ৩০ শতাংশ নারী শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও এটা ২৬ শতাংশ। বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র ২৫ শতাংশ শিক্ষক নারী। বেসরকারি চাকরিতে নারীর সুনির্দিষ্ট হিসাব না থাকলেও সেখানেও নারী কম বলে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা থেকে জানা গেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রশাসন ক্যাডারে বর্তমানে ৫ হাজার ৫৪৮ জন কর্মরত আছেন। তাদের মধ্যে ১১৭৬ জন নারী, অর্থাৎ ২১ শতাংশ। দেশে বর্তমানে সচিবের পদ আছে ৪৭টি। এর মধ্যে ৬ জন নারী। এ ছাড়া অতিরিক্ত সচিব ৫১৫ জনের মধ্যে নারী ৭৬, যুগ্ম সচিব ৮৩২ জনের মধ্যে নারী ৯৭, উপসচিব ১২৯০ জনের মধ্যে নারী ২০২, সিনিয়র সহকারী সচিব ১৪৫২ জনের মধ্যে নারী ৩৬০ এবং সহকারী সচিব ১৪০৪ জনের মধ্যে নারী ৪৩৫ জন। এ ছাড়া পুলিশের চাকরিতে বর্তমানে মোট সদস্য আছেন ১ লাখ ৯৪ হাজার ৫৮৩। এর মধ্যে নারী সদস্য আছেন ১১ হাজার ১০১ জন। শতাংশের হিসাবে এটা ৫.৭০। নারীদের মধ্যে পুলিশে অতিরিক্ত আইজিপি পদে আছেন একজন। ডিআইজি পদে ২ জন, অতিরিক্ত ডিআইজি ২ জন এবং পুলিশ সুপার আছেন ২৯ জন নারী। বাকিরা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থেকে কনস্টেবল। সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) এক হিসাবে দেখা গেছে, বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যাডার সার্ভিসে প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তার পদে নারীর অংশগ্রহণ অবশ্য আরও বেশি। গত ৬টি বিসিএসের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গড়ে ৪১ শতাংশ নারী প্রার্থী নিয়োগের সুপারিশ পেয়েছে। এযাবতকালের মধ্যে ৩২তম বিসিএসে ১ হাজার ৬৭৫ জন নিয়োগ সুপারিশ পান। তাদের মধ্যে ৯২৩ জন বা ৫৫.১০ শতাংশই নারী। ৩৩তম বিসিএসে ক্যাডার কর্মকর্তা হিসেবে চাকরির জন্য সুপারিশকৃত ৮ হাজার ৫০৭ জনের মধ্যে ৩২৫৫ জন নারী। এটা শতাংশে ৩৮.২৬। ৬টি বিসিএসের মধ্যে সবচেয়ে কম নারী সুপারিশপ্রাপ্ত ছিল ৩১তম বিসিএসে, ২৯.৬৩ শতাংশ। এ ছাড়া ৩০তম বিসিএস পরীক্ষায় মোট ২ হাজার ৩৮৫ জন প্রার্থীর মধ্যে পুরুষ ১৬২২ জন এবং নারী ৭৬৩ জন। ৩৪তম বিসিএসে মোট ২১৭৫ প্রার্থীর মধ্যে পুরুষ ১৪০০ জন এবং নারী ৭৭৫ জন। ৩৫তম বিসিএসে মোট ১৬৫৭ জনের মধ্যে ৯২৩ জন নারী। এটা শতাংশে প্রায় ২৮ শতাংশ। পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক যুগান্তরকে বলেন, শুধু পড়াশোনা নয়, ধর্ম ও সমাজসহ জীবনের সবক্ষেত্রেই নারীর অবদান সবচেয়ে বেশি। পারিবারিক ব্যবস্থা শতভাগই নারীর ব্যবস্থাপনায় চলে। সমাজে যত বিখ্যাত ও অসাধারণ লোক দেখা যায়, তাদের পেছনে নির্মাতা হলেন নারী। কিন্তু এসব অবদানের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নেই। তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষা এবং চাকরিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে হলে আগে প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করতে হবে। এরপর সেগুলো দূর করার পদক্ষেপ নিতে হবে। নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি আরও উন্নততর করতে হবে। নারী নির্যাতন : বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে মোট ৪ হাজার ৮৯৬ জন নারী নির্যাতনের শিকার হয়। এর মধ্যে ধর্ষণ ৮৪০ এবং গণধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৬৬ জন। ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে ৪৪ জনকে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ৩৬৫ জন নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যার মধ্যে ৫৮ জনকে ধর্ষণ এবং ১৪ জনকে গণধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ৪ জনকে। ফেব্রুয়ারি মাসে ৩৭৬ জন নারী নির্যাতনের শিকার হয়, যার মধ্যে ধর্ষণ ৬২ এবং গণধর্ষণের শিকার হয় ১৩ জন। ধর্ষণ শেষে ৪ জনকে খুন করা হয়। নানা নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেন ৩৩৭ জন নারী। ২০১৫ সালে মোট ৪ হাজার ১২২ জন এবং ২০১৪ সালে ৩ হাজার ৩৭৭ জন নারী নির্যাতনের শিকার হন। মামলা নিষ্পত্তির হার হতাশাজনক : ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দেশের মোট ছয়টি জেলার ৭টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ১১ হাজার ৮৬৪টি মামলার মধ্যে ৩ হাজার ৫৮৮টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। নিষ্পত্তিকৃত মামলার মধ্যে সাজা হয়েছে মাত্র ১৮টি, খালাস হয়েছে ১ হাজার ৪৭টি, অব্যাহতি পেয়েছে ২ হাজার ৫২৩টি এবং ৮ হাজার ২৭৬টি মামলা এখনও বিচারাধীন রয়েছে। নারীপক্ষ’র ‘নারী ও শিশুর প্রতি ন্যায়বিচার : নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’ শীর্ষক এক গবেষণাপত্রে উঠে এসেছে এসব তথ্য। মঙ্গল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এটি প্রকাশ করা হয়। নারী নির্যাতন ধর্ষণ বিষয়ে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, একটি সমাজের, রাষ্ট্রের জন্য নারী নির্যাতন খুবই ভয়ংকর। মূলত বিচারহীনতার কারণেই এসব নির্যাতন বাড়ছে। নারী নির্যাতন বাড়া কিংবা কমা নয়, একটি নারী নির্র্যাতন-ধর্ষণ মানেই গোটা সমাজের ওপর এর প্রভাব পড়ে। ধর্ষণ কিংবা গণধর্ষণের মতো ঘটনার শতকরা দুটির বেশি বিচার হয় না। গত ৫ বছরে গণধর্ষণের ৯৮ শতাংশ অপরাধে কারও শাস্তি হয়নি। ধর্ষণ, গণধর্ষণ শেষে হত্যার মতো বর্বর ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের সাজা না হওয়ায় প্রমাণিত হয়, বিদ্যমান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, তদন্ত ও বিচার ব্যবস্থা নির্যাতিত নারীকে সুরক্ষা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হচ্ছে। নারী নেতৃত্বে বিশেষ ফ্লাইট : আন্তর্জাতিক নারী দিবসে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঢাকা-সিলেট রুটে আজ একটি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করবে। যার পরিচালনায় থাকবেন বিমানের নারী পাইলট ও নারী ক্রুরা। বিশেষ এ ফ্লাইটে থাকবেন ক্যাপ্টেন তানিয়া রেজা এবং ফার্স্ট অফিসার সারওয়াত সিরাজ অন্তরা। তারা দু’জন বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজে দুপুর ১টা ১৫ বিজি-৬০৩ ফ্লাইটে ৬ জন নারী ক্রু ও যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশে রওনা হবেন।

Comments

Comments!

 সব বাধা জয় করে এগিয়ে যাচ্ছে নারীAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

সব বাধা জয় করে এগিয়ে যাচ্ছে নারী

Wednesday, March 8, 2017 7:21 am
2

ঘরের ভেতর-বাইরে নানা বাধা সত্ত্বেও থেমে নেই নারীর অগ্রযাত্রা। শ্রমিক শ্রেণী থেকে শুরু করে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে সুদৃঢ় অবস্থান নারীর। শিক্ষা, সরকারি-বেসরকারি চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা, খেলাধুলা ও সাংবাদিকতাসহ এ মুহূর্তে সবখানেই নারীর বিচরণ। আর জাতীয় রাজনীতিতে চালকের ভূমিকায় আছেন তারা। এ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা, মাঠের রাজনীতির বড় দলের প্রধান এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রিত্ব করছেন নারী। অতীতে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীও ছিলেন তারা। আর এসব কারণেই মহিলা রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম দশটি দেশের একটি। বিভিন্ন সূচক বলছে, নারীর অগ্রযাত্রায় এখন অনেক উন্নত দেশকেও পেছনে ফেলছে বাংলাদেশ।

নারীবিষয়ক গবেষকরা বলছেন, অব্যাহত প্রচারণার ফলে নারী বিশেষ করে কন্যাশিশুর প্রতি মানুষের সচেতনতা বাড়ছে। একসময়ে ছেলেশিশুর জন্য বাবা-মায়ের প্রত্যাশা থাকত বেশি। এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয়নি। তবে কমছে। অনেকেই কন্যাশিশুতেই সন্তুষ্ট থাকছেন। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে বর্তমানে ছাত্রের তুলনায় ছাত্রী বেশি। যদিও উচ্চমাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় এ হার কম। কিন্তু এ সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। একই অবস্থা সরকারি চাকরিতে। মোট হিসাবে সরকারি চাকরিতে নারীর সংখ্যা এক-চতুর্থাংশের মতো। গত ছয়টি বিসিএস (বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস) এ গড়ে ৪১ শতাংশের বেশি নারী চাকরি পেয়েছেন। তবে এরপরও এখন পর্যন্ত সার্বিকভাবে সমাজে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হচ্ছে নারীকে। এর মধ্যে বাল্যবিবাহ ও সামাজিক নিরাপত্তার অভাব অন্যতম। ১৮ বছরের নিচের কন্যাশিশুকে বিয়ে দেয়ার বিশেষ বিধান প্রণয়ন করায় বাল্যবিবাহ আরও বাড়িয়ে দেবে বলে আশংকা বিশেষজ্ঞদের। তাদের মতে, পিছিয়ে পড়ার কারণগুলো দূর করতে না পারলে নারীর অগ্রগতি এখানেই থেমে থাকবে।

এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্য দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে আজ পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য- ‘নারী-পুরুষ সমতায় উন্নয়নের যাত্রা, বদলে যাবে বিশ্বকর্মে নতুন মাত্রা’। ১৯০৯ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ দিবসটি উদ্যাপন শুরু করে। পরবর্তী দু’বছরের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, জার্মানি ও সুইজারল্যান্ড, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীনসহ পূর্ব ইউরোপের সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোতে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে উদ্যাপিত হয়। জাতিসংঘ দিবসটি উদ্যাপন শুরু করে ১৯৭৪ সাল থেকে। পরের বছর ৮ মার্চ থেকে দিবসটি বাংলাদেশে পালিত হচ্ছে।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আলাদাভাবে বাণী দিয়েছেন। এ ছাড়া সারা দেশে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নেয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি। দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্বালন করা হয়। আজ সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে নারী দিবসের উদ্বোধন করা হবে। সেখানে জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ী শ্রেষ্ঠ ৫ জয়িতাকে পুরস্কার দেয়া হবে। আর বিকালে কৃষিবিদ ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে নারীর ক্ষমতায়ন ও বাংলাদেশ শীর্ষক সেমিনার আয়োজন করা হয়েছে।

জানতে চাইলে গণসাক্ষরতা অভিযানের (ক্যাম্পে) নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, নিঃসন্দেহে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা এগিয়ে যাচ্ছেন। কন্যাশিশুর প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচকভাবে উন্নততর হচ্ছিল। ১৮ বছরে নারীর বিয়ের বিষয়টিও মানুষ মেনে নিচ্ছিল। এসবই আমাদের ইতিবাচক পরিবর্তন। কিন্তু সম্প্রতি পাস করা বিয়েসংক্রান্ত আইন ক্ষতিটা করে ফেলবে। তিনি বলেন, উচ্চ মাধ্যমিক, উচ্চশিক্ষা এবং চাকরিতে নারীর প্রবেশের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি প্রতিবন্ধকতা আছে। এর মধ্যে নিরাপত্তাই প্রধান। এ ছাড়া দারিদ্র্য, আবাসন-যাতায়াত সুবিধার সংকট, হাতের নাগালে কলেজের সংকট, বাল্যবিবাহ এবং সাধারণ বিবাহ, স্যানিটেশন ও খাবার পানির অভাব, বেসরকারি খাতে মাতৃত্বকালীন ছুটি সমস্যা এমনকি উপবৃত্তিও একটা বড় বাধা। এখনও প্রতি গ্রামে স্কুল নেই। কলেজ আরও দূরে। ফলে কষ্ট করে মাধ্যমিক পাস করলেও নিরাপত্তার কারণে মেয়েদের কলেজে আর দেন না অভিভাবকরা। সে ক্ষেত্রে বিয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটে। এ কারণে চাকরিতেও নারীর সংখ্যা কম। তিনি যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং কলেজে আবাসন ব্যবস্থার সুপারিশ করেন। পাশাপাশি কর্মজীবী নারীর জন্য প্রয়োজনে পিপিপির অধীনে হোস্টেল নির্মাণ করে দেয়ার পরামর্শ দেন। সর্বোপরি নারীর উন্নয়নে তিনি বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ দেন।

হার্ভার্ড ও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে করা ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘দ্য গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট, ২০১৫ অনুযায়ী রাষ্ট্রক্ষমতায় নারীর অবস্থান বিবেচনায় সবাইকে পেছনে ফেলে বিশ্বের এক নম্বরে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। সার্বিক বিবেচনায় নারীর উন্নয়নে বিশ্বের ১৪৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ৬৪ নম্বরে। এ তালিকায় ভারতের অবস্থান ১০৮ ও পাকিস্তানের ১৪৪। আর ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নারীর অগ্রগতির নানা সূচকে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রাথমিকে দেশে ৫১ শতাংশ ছাত্রী লেখাপড়া করছে। এ স্তরে ছাত্রসংখ্যা ২ শতাংশ কম। মাধ্যমিক স্তরে ছাত্রীর সংখ্যা ৫৩ শতাংশ। কলেজ শিক্ষায় শিক্ষার্থীর ৪৬ শতাংশ ছাত্রী। তবে মাদ্রাসায় ছাত্রী বেশি (৫৪ শতাংশ)। এ ছাড়া প্রফেশনাল শিক্ষায় ৩৯ শতাংশ, শিক্ষক শিক্ষায় ৩৪ শতাংশ, কারিগরিতে ২৪ শতাংশ নারী লেখাপড়া করছে।

আর গত দু’বছর ধরে উচ্চশিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ একই স্থানে আছে। ব্যানবেইসের হিসাবে এটি ৩৩ শতাংশ। এর কারণ সম্পর্কে নারী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারিবারিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে মেয়েদের উচ্চশিক্ষায় উপনীত হতে অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হয়। উচ্চ মাধ্যমিকে উঠলে অনেকের বিয়ে হয়ে যায়। বিশেষ করে এই স্তর পার হলে দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের বিয়ের হার খুবই বেড়ে যায়।
তবে চিকিৎসা শিক্ষায় আবার নারীর অবস্থান অনেক বেশি। বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার ডা. জাহিদুল হক বসুনিয়া যুগান্তরকে বলেন, মোট ক্যাডার চিকিৎসকের মধ্যে ৩৩ শতাংশ নারী। তবে নিবন্ধনকৃত সরকারি-বেসরকারি চিকিৎসকের ক্ষেত্রে আরও বেশি। আর এমবিবিএসে ভর্তির ক্ষেত্রে গত ছয় বছরে গড়ে নারী শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে মোট আসনের ৫০ শতাংশের বেশি।

উচ্চশিক্ষা শেষ করেও পারিবারিক ও সামাজিক বাধায় অনেক নারী চাকরি করেন না বা ইচ্ছা থাকলেও করতে পারেন না। যে কারণে শিক্ষাজীবন শেষে চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ আরও কম। কিন্তু যে ক’জন চাকরির সুযোগ পাচ্ছেন তারা যোগ্যতা ও দক্ষতা দিয়ে টিকে আছেন। সর্বশেষ ৩৪তম বিসিএসে সেরা দশ মেধাবীর ৫ জনই নারী। এদের মধ্যে দ্বিতীয় আয়শা আক্তার পররাষ্ট্র ক্যাডার পেয়েছেন। এ ছাড়া তৃতীয়, পঞ্চম, নবম এবং দশম হয়েছেন চার নারী।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০১৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সরকারি চাকরিতে অনুমোদিত পদ ১৪ লাখ ৭১ হাজার ৩৬টি। এর মধ্যে ১১ লাখ ৯৪ হাজার ৪৪৯ জনের মধ্যে নারী চাকরিজীবী হলেন ২ লাখ ৮৮ হাজার ৮০৪ জন। শতাংশের হিসাবে মোট চাকুরের ২৪ দশমিক ১৮ শতাংশ নারী।

তবে কিছু ক্ষেত্রে আইন করে দেয়ায় চাকরিতে নারীর সংখ্যা বেশি। ব্যানবেইস বলছে, বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতায় ৬০ শতাংশই নারী। কিন্তু এরপর থেকে নারী শিক্ষকের সংখ্যা কম। মাধ্যমিকে ৩০ শতাংশ নারী শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও এটা ২৬ শতাংশ। বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র ২৫ শতাংশ শিক্ষক নারী। বেসরকারি চাকরিতে নারীর সুনির্দিষ্ট হিসাব না থাকলেও সেখানেও নারী কম বলে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা থেকে জানা গেছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রশাসন ক্যাডারে বর্তমানে ৫ হাজার ৫৪৮ জন কর্মরত আছেন। তাদের মধ্যে ১১৭৬ জন নারী, অর্থাৎ ২১ শতাংশ। দেশে বর্তমানে সচিবের পদ আছে ৪৭টি। এর মধ্যে ৬ জন নারী। এ ছাড়া অতিরিক্ত সচিব ৫১৫ জনের মধ্যে নারী ৭৬, যুগ্ম সচিব ৮৩২ জনের মধ্যে নারী ৯৭, উপসচিব ১২৯০ জনের মধ্যে নারী ২০২, সিনিয়র সহকারী সচিব ১৪৫২ জনের মধ্যে নারী ৩৬০ এবং সহকারী সচিব ১৪০৪ জনের মধ্যে নারী ৪৩৫ জন।

এ ছাড়া পুলিশের চাকরিতে বর্তমানে মোট সদস্য আছেন ১ লাখ ৯৪ হাজার ৫৮৩। এর মধ্যে নারী সদস্য আছেন ১১ হাজার ১০১ জন। শতাংশের হিসাবে এটা ৫.৭০। নারীদের মধ্যে পুলিশে অতিরিক্ত আইজিপি পদে আছেন একজন। ডিআইজি পদে ২ জন, অতিরিক্ত ডিআইজি ২ জন এবং পুলিশ সুপার আছেন ২৯ জন নারী। বাকিরা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থেকে কনস্টেবল। সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) এক হিসাবে দেখা গেছে, বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যাডার সার্ভিসে প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তার পদে নারীর অংশগ্রহণ অবশ্য আরও বেশি। গত ৬টি বিসিএসের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গড়ে ৪১ শতাংশ নারী প্রার্থী নিয়োগের সুপারিশ পেয়েছে।

এযাবতকালের মধ্যে ৩২তম বিসিএসে ১ হাজার ৬৭৫ জন নিয়োগ সুপারিশ পান। তাদের মধ্যে ৯২৩ জন বা ৫৫.১০ শতাংশই নারী। ৩৩তম বিসিএসে ক্যাডার কর্মকর্তা হিসেবে চাকরির জন্য সুপারিশকৃত ৮ হাজার ৫০৭ জনের মধ্যে ৩২৫৫ জন নারী। এটা শতাংশে ৩৮.২৬। ৬টি বিসিএসের মধ্যে সবচেয়ে কম নারী সুপারিশপ্রাপ্ত ছিল ৩১তম বিসিএসে, ২৯.৬৩ শতাংশ। এ ছাড়া ৩০তম বিসিএস পরীক্ষায় মোট ২ হাজার ৩৮৫ জন প্রার্থীর মধ্যে পুরুষ ১৬২২ জন এবং নারী ৭৬৩ জন। ৩৪তম বিসিএসে মোট ২১৭৫ প্রার্থীর মধ্যে পুরুষ ১৪০০ জন এবং নারী ৭৭৫ জন। ৩৫তম বিসিএসে মোট ১৬৫৭ জনের মধ্যে ৯২৩ জন নারী। এটা শতাংশে প্রায় ২৮ শতাংশ।

পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক যুগান্তরকে বলেন, শুধু পড়াশোনা নয়, ধর্ম ও সমাজসহ জীবনের সবক্ষেত্রেই নারীর অবদান সবচেয়ে বেশি। পারিবারিক ব্যবস্থা শতভাগই নারীর ব্যবস্থাপনায় চলে। সমাজে যত বিখ্যাত ও অসাধারণ লোক দেখা যায়, তাদের পেছনে নির্মাতা হলেন নারী। কিন্তু এসব অবদানের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নেই। তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষা এবং চাকরিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে হলে আগে প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করতে হবে। এরপর সেগুলো দূর করার পদক্ষেপ নিতে হবে। নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি আরও উন্নততর করতে হবে।

নারী নির্যাতন : বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে মোট ৪ হাজার ৮৯৬ জন নারী নির্যাতনের শিকার হয়। এর মধ্যে ধর্ষণ ৮৪০ এবং গণধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৬৬ জন। ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে ৪৪ জনকে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ৩৬৫ জন নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যার মধ্যে ৫৮ জনকে ধর্ষণ এবং ১৪ জনকে গণধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ৪ জনকে। ফেব্রুয়ারি মাসে ৩৭৬ জন নারী নির্যাতনের শিকার হয়, যার মধ্যে ধর্ষণ ৬২ এবং গণধর্ষণের শিকার হয় ১৩ জন। ধর্ষণ শেষে ৪ জনকে খুন করা হয়। নানা নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেন ৩৩৭ জন নারী। ২০১৫ সালে মোট ৪ হাজার ১২২ জন এবং ২০১৪ সালে ৩ হাজার ৩৭৭ জন নারী নির্যাতনের শিকার হন।

মামলা নিষ্পত্তির হার হতাশাজনক : ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দেশের মোট ছয়টি জেলার ৭টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ১১ হাজার ৮৬৪টি মামলার মধ্যে ৩ হাজার ৫৮৮টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। নিষ্পত্তিকৃত মামলার মধ্যে সাজা হয়েছে মাত্র ১৮টি, খালাস হয়েছে ১ হাজার ৪৭টি, অব্যাহতি পেয়েছে ২ হাজার ৫২৩টি এবং ৮ হাজার ২৭৬টি মামলা এখনও বিচারাধীন রয়েছে। নারীপক্ষ’র ‘নারী ও শিশুর প্রতি ন্যায়বিচার : নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’ শীর্ষক এক গবেষণাপত্রে উঠে এসেছে এসব তথ্য। মঙ্গল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এটি প্রকাশ করা হয়।

নারী নির্যাতন ধর্ষণ বিষয়ে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, একটি সমাজের, রাষ্ট্রের জন্য নারী নির্যাতন খুবই ভয়ংকর। মূলত বিচারহীনতার কারণেই এসব নির্যাতন বাড়ছে। নারী নির্যাতন বাড়া কিংবা কমা নয়, একটি নারী নির্র্যাতন-ধর্ষণ মানেই গোটা সমাজের ওপর এর প্রভাব পড়ে। ধর্ষণ কিংবা গণধর্ষণের মতো ঘটনার শতকরা দুটির বেশি বিচার হয় না। গত ৫ বছরে গণধর্ষণের ৯৮ শতাংশ অপরাধে কারও শাস্তি হয়নি। ধর্ষণ, গণধর্ষণ শেষে হত্যার মতো বর্বর ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের সাজা না হওয়ায় প্রমাণিত হয়, বিদ্যমান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, তদন্ত ও বিচার ব্যবস্থা নির্যাতিত নারীকে সুরক্ষা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হচ্ছে।

নারী নেতৃত্বে বিশেষ ফ্লাইট : আন্তর্জাতিক নারী দিবসে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঢাকা-সিলেট রুটে আজ একটি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করবে। যার পরিচালনায় থাকবেন বিমানের নারী পাইলট ও নারী ক্রুরা। বিশেষ এ ফ্লাইটে থাকবেন ক্যাপ্টেন তানিয়া রেজা এবং ফার্স্ট অফিসার সারওয়াত সিরাজ অন্তরা। তারা দু’জন বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজে দুপুর ১টা ১৫ বিজি-৬০৩ ফ্লাইটে ৬ জন নারী ক্রু ও যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশে রওনা হবেন।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X