বৃহস্পতিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১০ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ৩:২০
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Monday, May 8, 2017 11:28 pm | আপডেটঃ May 08, 2017 11:29 PM
A- A A+ Print

সভ্য দেশ হলে বিচারক নিজেই সরে যেতেন : আদালতকে খালেদা জিয়ার আইনজীবী

174249_1

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার শুনানিকালে তাঁর আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন আদালতের বিচারককে উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার তদন্ত এবং অভিযোগপত্র দেওয়ার সময় আপনি দুদকের (দুর্নীতি দমন কমিশন) পরিচালক ছিলেন। আবার বিচারক হিসেবে এ মামলার কার্যক্রম করতে পারেন না। পৃথিবীর কোনো সভ্য দেশ হলে বিচারক নিজে থেকেই বিব্রতবোধ করে সরে যেতেন।’ আজ সোমবার পুরান ঢাকার বকশীবাজারের কামরুল হোসেন মোল্লার বিশেষ আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের ওপর সময়ের আবেদনকালে খালেদা জিয়ার এ আইনজীবী এ কথা বলেন। শুনানির শুরুতে খালেদা জিয়ার আইনজীবী জমির উদ্দিন সরকার আদালতকে বলেন, ‘বিজ্ঞ আদালত, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া পায়ের প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করছেন।  তিনি  উঠতে-বসতে  হাঁটুতে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করছেন। তাই তিনি দাঁড়াতে পারছেন না। এত অসুস্থতা নিয়েও তিনি শুধু আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে, আদালতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আজ আদালতে হাজির হয়েছেন। উনি বসার জন্যই অনুমতি চাচ্ছেন।’ আদালত তখন বলেন, ‘ঠিক আছে।’ জমির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় যখন দুদকের পক্ষে অভিযোগপত্র প্রদান করা হয়, তখন আপনি দুদকের পরিচালক ছিলেন। এ কারণে মামলাটি আপনার অধীনে বিচার হলে ন্যায়বিচার পাব না বলে ম্যাডাম খালেদা জিয়া মনে করেন। এ কারণে বিচারক পরিবর্তনের জন্য আমরা আবেদন করেছি। এখন এ আবেদনটি হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। এ কারণে একই বিষয়ে উচ্চ আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় বিচারিক আদালতে শুনানির কোনো নিয়ম নেই।’ জমির উদ্দিন আরো বলেন, ‘আমরা আশা করি, হাইকোর্টের বিচারপতি শওকত হোসেন ও বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদারের আদালতে শুনানির জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে। আবেদনটি কয়েকদিনের মধ্যে নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। এ জন্য আমরা আপনার কাছে পর্যাপ্ত সময় চাই। আমাদের কমপক্ষে তিন সপ্তাহ সময় দেন।’ সাবেক এ স্পিকার আদালতকে বলেন, ‘তা ছাড়া ম্যাডাম খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে খুবই অসুস্থ। তিনি পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করছেন। তিনি ব্যথা নিয়ে আদালতে বসতে পারছেন না।’ এ সময় দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল আদালতকে বলেন, ‘বিজ্ঞ আদালত এ মামলা দীর্ঘদিন ধরে ওনারা সময় নিয়ে আসছেন। বিচারক পরিবর্তন হওয়ার পর আপনি তিন বার সময় দিয়েছেন। উচ্চ আদালতের যেহেতু কোনো প্রকার স্থগিতাদেশ নেই, তাই এ মামলার কার্যক্রম চালাতে কোনো প্রকার বাধা নেই। ওনারাও ন্যায়বিচার চান, আমরাও ন্যায়বিচার চাই। ইতোপূর্বে ওনারা বলেছিলেন, এটাই শেষ সময় এ কথা বলে ওনারা সময় নিয়েছেন। এভাবে শুধু সময় নেবেন আর বিচার বিলম্ব করবেন, এটা হতে পারে না। আজকে ম্যাডাম খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্য দেওয়ার দিন ধার্য রয়েছে; আপনি বিচার কার্যক্রম শুরু করেন।’ জবাবে বিচারক কামরুল হোসেন মোল্লা খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমাকে আপনাদের সময় আবেদন দেখতে হচ্ছে। কিন্তু আমার ওপর হাইকোর্টের একটি আদেশ রয়েছে, ৬০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে।’ বিচারক আরো বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমার কাছে হাইকোর্টের আদেশটি অগ্রাধিকার পাবে। কারণ আমি যদি হাইকোর্টের এ আদেশ পালন না করি, তাহলে আমাকে শো-কজ খেতে হবে। আপনারা যদি হাইকোর্ট থেকে এ মামলার বিষয়ে কোনো স্থগিতাদেশ নিয়ে আসতে পারেন, তাহলে আমি শুনানি মুলতবি করতে পারব। এ মুহূর্তে তো মামলার কার্যক্রম চালাতে কোনো সমস্যা নেই।’ জবাবে খালেদা জিয়ার আইনজীবী জমির উদ্দিন সরকার আবারও বলেন, ‘উচ্চ আদালতে বিচারাধীন বিষয়ে এখানে শুনানি চলতে পারে না। এটি দীর্ঘদিনের আইনি প্রথা। সারা দেশের সকল মামলার ক্ষেত্রে এ প্রথা মেনে চলা হয়।’ খালেদা জিয়ার অপর আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন আদালতকে বলেন, ‘হাইকোর্ট এ মামলার বিচারক পরিবর্তনের সময় জানত না আপনি দুদকের পরিচালক ছিলেন। দুদকের আইনজীবীর উচিত ছিল হাইকোর্টকে জানানো। কিন্তু তারা এ বিষয়টি জানাতে ব্যর্থ হয়েছেন। আপনি প্রসিকিউটর ছিলেন। কোনো সভ্য দেশে হলে এ অবস্থায় বিচারকরা নিজেরাই বিব্রতবোধ করেন। আপনি একজন জেলা জজ ছিলেন। আপনার অনেক সুনাম রয়েছে। আমরাও আপনাকে শ্রদ্ধা করি। কিন্তু এ মামলার কার্যক্রম পরিচালনা করা আপনার জন্য বিব্রতকর। আপনার উচিত এ মামলায় বিব্রতবোধ করে হাইকোর্টের কাছে রেফার করা। খালেদা জিয়া তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। আগামী এক বছর পর তিনি আবার প্রধানমন্ত্রী হবেন। ওনাকে আদালতে এভাবে কষ্ট দেওয়া ঠিক হবে না।’ এর জবাবে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ‘ম্যাডাম খালেদা জিয়া তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, এটি আমরাও জানি। সবাই জানে। ভবিষ্যতে কী হবেন তা আদালতে বলার দরকার নেই। মামলা স্থগিত করার বিষয়ে আইনি কোনো যুক্তি না দেখিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। বিজ্ঞ আদালত আপনি সময় দিতে বাধ্য নন। মামলা এ অবস্থায় এসে আর মুলতবির সুযোগ নেই। ম্যাডাম আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্য দিতে তিন-চার মিনিট লাগবে। আমরা চাই উনি বক্তব্য দিয়ে বাসায় গিয়ে খাওয়া-দাওয়া করে নামাজ পড়ে বিশ্রাম করুক।’ এ সময় আদালত মামলার কার্যক্রম ১০ মিনিটের জন্য বিরতি দেন। বিচারক বলেন, ‘১০ মিনিট পর মামলার কার্যক্রম শুরু হবে। আপনারা আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য প্রস্তুতি নেন।’ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ১০ মিনিট বিরতি দিয়ে মামলার কার্যক্রম আবার শুরু হয়। এ সময় বিচারক কামরুল হোসেন মোল্লা বলেন, ‘ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন আপনি যে উচ্চবাচ্য ভাষায় কথা বলেছেন, তা গ্রহণযোগ্য নয়। তা ছাড়া আমি প্রসিকিউটর ছিলাম কীভাবে?’ জবাবে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘বিজ্ঞ আদালত আমি বলেছি, মামলার অভিযোগ গঠনের সময় আপনি দুদকের পরিচালক ছিলেন। তাই আপনাকে প্রসিকিউটর বলেছি। তবে এ জন্য আমি দুঃখিত। আপনি একজন সম্মানিত জেলা জজ ছিলেন। দুদক আমাদের এবং আপনাকে বিব্রত অবস্থায় ফেলেছে।’ তিনি বলেন, ‘বিজ্ঞ আদালত আপনার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে। আমাদের জন্য কষ্টকর হচ্ছে; আপনার বিরুদ্ধে আবার কোর্টে বলতে হচ্ছে। এর জন্য দুদক দায়ী। সুতরাং উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় এ মামলার কার্যক্রম স্থগিত করা হোক।’ এ সময় খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, ‘বিজ্ঞ আদালত, ম্যাডাম একদম অসুস্থ। উনি সব সময় আদালতকে সম্মান জানিয়ে আদালতের অনুমতি নিয়ে চেয়ারে বসেন। কিন্তু আজকে উনি দাঁড়ানোর কোনো অবস্থা নেই। পায়ের ব্যথায় খুবই কষ্ট পাচ্ছেন। শুধুমাত্র বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এবং টেলিভিশনে সংবাদ প্রচার হয়েছে খালেদা জিয়া কোর্টে যাচ্ছেন, এ কারণে কষ্ট হলেও আপনার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে উপস্থিত হয়েছেন। আপনি দয়া করে ওনাকে আরেকবার সুযোগ দিন। আমরা সব সময় আপনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল।’ এরপর বিচারক খালেদা জিয়ার অসুস্থতার আবেদন গ্রহণ করে মামলার কার্যক্রম ১৫ মে পর্যন্ত মুলতবি করেন। জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস ও বিশেষ সহকারী সুলতানা কামাল, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ খালেদা জিয়াকে ধরে গাড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দেন। এর আগে আজ সোমবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে খালেদা জিয়া তাঁর গুলশানের বাসভবন থেকে বের হয়ে ১১টা ৩৫ মিনিটে বকশীবাজারের বিশেষ আদালতে পৌঁছান। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার নথি থেকে জানা যায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

Comments

Comments!

 সভ্য দেশ হলে বিচারক নিজেই সরে যেতেন : আদালতকে খালেদা জিয়ার আইনজীবীAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

সভ্য দেশ হলে বিচারক নিজেই সরে যেতেন : আদালতকে খালেদা জিয়ার আইনজীবী

Monday, May 8, 2017 11:28 pm | আপডেটঃ May 08, 2017 11:29 PM
174249_1

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার শুনানিকালে তাঁর আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন আদালতের বিচারককে উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার তদন্ত এবং অভিযোগপত্র দেওয়ার সময় আপনি দুদকের (দুর্নীতি দমন কমিশন) পরিচালক ছিলেন। আবার বিচারক হিসেবে এ মামলার কার্যক্রম করতে পারেন না। পৃথিবীর কোনো সভ্য দেশ হলে বিচারক নিজে থেকেই বিব্রতবোধ করে সরে যেতেন।’

আজ সোমবার পুরান ঢাকার বকশীবাজারের কামরুল হোসেন মোল্লার বিশেষ আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের ওপর সময়ের আবেদনকালে খালেদা জিয়ার এ আইনজীবী এ কথা বলেন।

শুনানির শুরুতে খালেদা জিয়ার আইনজীবী জমির উদ্দিন সরকার আদালতকে বলেন, ‘বিজ্ঞ আদালত, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া পায়ের প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করছেন।  তিনি  উঠতে-বসতে  হাঁটুতে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করছেন। তাই তিনি দাঁড়াতে পারছেন না। এত অসুস্থতা নিয়েও তিনি শুধু আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে, আদালতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আজ আদালতে হাজির হয়েছেন। উনি বসার জন্যই অনুমতি চাচ্ছেন।’

আদালত তখন বলেন, ‘ঠিক আছে।’

জমির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় যখন দুদকের পক্ষে অভিযোগপত্র প্রদান করা হয়, তখন আপনি দুদকের পরিচালক ছিলেন। এ কারণে মামলাটি আপনার অধীনে বিচার হলে ন্যায়বিচার পাব না বলে ম্যাডাম খালেদা জিয়া মনে করেন। এ কারণে বিচারক পরিবর্তনের জন্য আমরা আবেদন করেছি। এখন এ আবেদনটি হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। এ কারণে একই বিষয়ে উচ্চ আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় বিচারিক আদালতে শুনানির কোনো নিয়ম নেই।’

জমির উদ্দিন আরো বলেন, ‘আমরা আশা করি, হাইকোর্টের বিচারপতি শওকত হোসেন ও বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদারের আদালতে শুনানির জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে। আবেদনটি কয়েকদিনের মধ্যে নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। এ জন্য আমরা আপনার কাছে পর্যাপ্ত সময় চাই। আমাদের কমপক্ষে তিন সপ্তাহ সময় দেন।’

সাবেক এ স্পিকার আদালতকে বলেন, ‘তা ছাড়া ম্যাডাম খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে খুবই অসুস্থ। তিনি পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করছেন। তিনি ব্যথা নিয়ে আদালতে বসতে পারছেন না।’

এ সময় দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল আদালতকে বলেন, ‘বিজ্ঞ আদালত এ মামলা দীর্ঘদিন ধরে ওনারা সময় নিয়ে আসছেন। বিচারক পরিবর্তন হওয়ার পর আপনি তিন বার সময় দিয়েছেন। উচ্চ আদালতের যেহেতু কোনো প্রকার স্থগিতাদেশ নেই, তাই এ মামলার কার্যক্রম চালাতে কোনো প্রকার বাধা নেই। ওনারাও ন্যায়বিচার চান, আমরাও ন্যায়বিচার চাই। ইতোপূর্বে ওনারা বলেছিলেন, এটাই শেষ সময় এ কথা বলে ওনারা সময় নিয়েছেন। এভাবে শুধু সময় নেবেন আর বিচার বিলম্ব করবেন, এটা হতে পারে না। আজকে ম্যাডাম খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্য দেওয়ার দিন ধার্য রয়েছে; আপনি বিচার কার্যক্রম শুরু করেন।’

জবাবে বিচারক কামরুল হোসেন মোল্লা খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমাকে আপনাদের সময় আবেদন দেখতে হচ্ছে। কিন্তু আমার ওপর হাইকোর্টের একটি আদেশ রয়েছে, ৬০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে।’

বিচারক আরো বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমার কাছে হাইকোর্টের আদেশটি অগ্রাধিকার পাবে। কারণ আমি যদি হাইকোর্টের এ আদেশ পালন না করি, তাহলে আমাকে শো-কজ খেতে হবে। আপনারা যদি হাইকোর্ট থেকে এ মামলার বিষয়ে কোনো স্থগিতাদেশ নিয়ে আসতে পারেন, তাহলে আমি শুনানি মুলতবি করতে পারব। এ মুহূর্তে তো মামলার কার্যক্রম চালাতে কোনো সমস্যা নেই।’

জবাবে খালেদা জিয়ার আইনজীবী জমির উদ্দিন সরকার আবারও বলেন, ‘উচ্চ আদালতে বিচারাধীন বিষয়ে এখানে শুনানি চলতে পারে না। এটি দীর্ঘদিনের আইনি প্রথা। সারা দেশের সকল মামলার ক্ষেত্রে এ প্রথা মেনে চলা হয়।’

খালেদা জিয়ার অপর আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন আদালতকে বলেন, ‘হাইকোর্ট এ মামলার বিচারক পরিবর্তনের সময় জানত না আপনি দুদকের পরিচালক ছিলেন। দুদকের আইনজীবীর উচিত ছিল হাইকোর্টকে জানানো। কিন্তু তারা এ বিষয়টি জানাতে ব্যর্থ হয়েছেন। আপনি প্রসিকিউটর ছিলেন। কোনো সভ্য দেশে হলে এ অবস্থায় বিচারকরা নিজেরাই বিব্রতবোধ করেন। আপনি একজন জেলা জজ ছিলেন। আপনার অনেক সুনাম রয়েছে। আমরাও আপনাকে শ্রদ্ধা করি। কিন্তু এ মামলার কার্যক্রম পরিচালনা করা আপনার জন্য বিব্রতকর। আপনার উচিত এ মামলায় বিব্রতবোধ করে হাইকোর্টের কাছে রেফার করা। খালেদা জিয়া তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। আগামী এক বছর পর তিনি আবার প্রধানমন্ত্রী হবেন। ওনাকে আদালতে এভাবে কষ্ট দেওয়া ঠিক হবে না।’

এর জবাবে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ‘ম্যাডাম খালেদা জিয়া তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, এটি আমরাও জানি। সবাই জানে। ভবিষ্যতে কী হবেন তা আদালতে বলার দরকার নেই। মামলা স্থগিত করার বিষয়ে আইনি কোনো যুক্তি না দেখিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। বিজ্ঞ আদালত আপনি সময় দিতে বাধ্য নন। মামলা এ অবস্থায় এসে আর মুলতবির সুযোগ নেই। ম্যাডাম আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্য দিতে তিন-চার মিনিট লাগবে। আমরা চাই উনি বক্তব্য দিয়ে বাসায় গিয়ে খাওয়া-দাওয়া করে নামাজ পড়ে বিশ্রাম করুক।’

এ সময় আদালত মামলার কার্যক্রম ১০ মিনিটের জন্য বিরতি দেন। বিচারক বলেন, ‘১০ মিনিট পর মামলার কার্যক্রম শুরু হবে। আপনারা আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য প্রস্তুতি নেন।’

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ১০ মিনিট বিরতি দিয়ে মামলার কার্যক্রম আবার শুরু হয়। এ সময় বিচারক কামরুল হোসেন মোল্লা বলেন, ‘ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন আপনি যে উচ্চবাচ্য ভাষায় কথা বলেছেন, তা গ্রহণযোগ্য নয়। তা ছাড়া আমি প্রসিকিউটর ছিলাম কীভাবে?’

জবাবে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘বিজ্ঞ আদালত আমি বলেছি, মামলার অভিযোগ গঠনের সময় আপনি দুদকের পরিচালক ছিলেন। তাই আপনাকে প্রসিকিউটর বলেছি। তবে এ জন্য আমি দুঃখিত। আপনি একজন সম্মানিত জেলা জজ ছিলেন। দুদক আমাদের এবং আপনাকে বিব্রত অবস্থায় ফেলেছে।’ তিনি বলেন, ‘বিজ্ঞ আদালত আপনার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে। আমাদের জন্য কষ্টকর হচ্ছে; আপনার বিরুদ্ধে আবার কোর্টে বলতে হচ্ছে। এর জন্য দুদক দায়ী। সুতরাং উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় এ মামলার কার্যক্রম স্থগিত করা হোক।’

এ সময় খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, ‘বিজ্ঞ আদালত, ম্যাডাম একদম অসুস্থ। উনি সব সময় আদালতকে সম্মান জানিয়ে আদালতের অনুমতি নিয়ে চেয়ারে বসেন। কিন্তু আজকে উনি দাঁড়ানোর কোনো অবস্থা নেই। পায়ের ব্যথায় খুবই কষ্ট পাচ্ছেন। শুধুমাত্র বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এবং টেলিভিশনে সংবাদ প্রচার হয়েছে খালেদা জিয়া কোর্টে যাচ্ছেন, এ কারণে কষ্ট হলেও আপনার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে উপস্থিত হয়েছেন। আপনি দয়া করে ওনাকে আরেকবার সুযোগ দিন। আমরা সব সময় আপনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল।’

এরপর বিচারক খালেদা জিয়ার অসুস্থতার আবেদন গ্রহণ করে মামলার কার্যক্রম ১৫ মে পর্যন্ত মুলতবি করেন। জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস ও বিশেষ সহকারী সুলতানা কামাল, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ খালেদা জিয়াকে ধরে গাড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দেন।

এর আগে আজ সোমবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে খালেদা জিয়া তাঁর গুলশানের বাসভবন থেকে বের হয়ে ১১টা ৩৫ মিনিটে বকশীবাজারের বিশেষ আদালতে পৌঁছান।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার নথি থেকে জানা যায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মামলায় খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X