শনিবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, দুপুর ২:১১
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Saturday, September 10, 2016 3:41 pm
A- A A+ Print

সরকারের নির্লিপ্ততায় এতিম মিসকিনের মাথায় বাড়ি

242237_1

২০১৩ সালের কোরবানিতে ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার নির্ধারিত দর ছিল ৯০ টাকা। গত চার বছরে দেশে মূল্যস্ফিতি হয়েছে অন্তত ৪০ শতাংশ। অথচ এ সময়ের ব্যবধানে চামড়ার দাম কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় অর্ধেক। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে ট্যানারিমালিকেরা ঘোষণা দিয়েছেন, ঢাকায় তারা লবণযুক্ত গরুর চামড়া কিনবেন প্রতি বর্গফুট ৫০ টাকা দরে। এর মাধ্যমে তারা সরকারের নির্লিপ্ততার সুযোগে কোরবানির চামড়ার প্রকৃত হকদার কয়েক কোটি এতিম-মিসকিনের মাথায় বাড়ি দেয়ার মতো কাজ করেছেন বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২০১৩ সালের ঈদুল আজহায় সরকার নির্ধারিত ৮৫ থেকে ৯০ টাকা দামে প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়া কিনেছিলেন ঢাকার ব্যবসায়ীরা। আর ঢাকার বাইরে এই দাম ছিল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা। ওই বছর প্রতি বর্গফুট খাসির চামড়ার দাম ছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। বকরির চামড়া ৪০ টাকা থেকে ৪৫ টাকা এবং মহিষের চামড়া ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। অভিযোগ রয়েছে, ব্যবসায়ীদের সুযোগ করে দিতে ২০১৪ সাল থেকে সরকার নিজে নির্ধারণ না করে দামের বিষয়টি ব্যবসায়ীদের ওপর ছেড়ে দেয়। ফলস্বরূপ এক দফা কমিয়ে রাজধানীতে প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়া কেনেন ৭০ থেকে ৭৫ টাকায়। ঢাকার বাইরে এর দাম ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। এ ছাড়া লবণযুক্ত মহিষের চামড়া প্রতি বর্গফুট ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, খাসির চামড়া ৩০ থেকে ৩৫ টাকা এবং বকরির চামড়া ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। এরপর ধীরে ধীরে কমতে থাকে চামড়ার দাম। সরকারের নির্লিপ্ততার সুযোগে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকেন লাখ লাখ এতিম-মিসকিন। গতকালের ঘোষণা অনুযায়ী, এবার রাজধানী ঢাকায় প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দর নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা। ঢাকার বাইরে এ দাম হবে ৪০ টাকা। এ ছাড়া খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ২০ এবং বকরি ১৫ টাকা নির্ধারণ হয়েছে। মহিষের লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ টাকা। চামড়ার দাম কম নির্ধারণের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিএফএলএলএফই চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহেমদ মাহিন গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বর্তমানে আমরা সঙ্কটময় সময় পার করছি। সারা বিশ্বে চামড়ার দাম কম। এ ছাড়া হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি সরানোসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে ব্যবসায়ীরা অনেক চাপে আছেন। রাজধানীর সেগুনবাগিচার এলাকার কোরবানিদাতা সোলায়মান গতকাল নয়া দিগন্তকে বলেন, কোরবানির পশুর চামড়ার বিক্রিয়লব্ধ টাকা কোনো সমর্থ্যবান ব্যক্তি ভোগ করতে পারেন না। কাজেই এটা গরিব-মিসকিনের হক। দেশের সব গরিব-মিসকিন যেহেতু সংগঠতি নয় সেহেতু তাদের স্বার্থ নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। গত বছর সরকার কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণের বিষয়টি ব্যবসায়ীদের ওপর ছেড়ে দেয়ার পর আগের বছরের তুলনায় কম দাম ঠিক করেন তারা। আর এবার যে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা গতবারের চেয়েও কম। এভাবে সরকারের নির্লিপ্ততার সুযোগে একশ্রেণীর ব্যবসায়ী গরিব-মিসকিনের হক আত্মসাৎ করছেন বলে দাবি করেন তিনি। যদিও গতকালের সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বলেন, গত বছরের অনেক চামড়া এখনো রয়ে গেছে। আমাদের কাছে নতুন চামড়ার তেমন চাহিদা নেই। তা ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারেও পশুর চামড়ার দাম অপোকৃত কমেছে। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করেই এবার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, পশুর চামড়া পচনশীল। তাই এর দাম নির্ধারণ নিয়ে সিন্ডিকেট করার সুযোগ নেই। ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর ২২ কোটি বর্গফুট চামড়া পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৬৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ গরুর চামড়া, ৩১ দশমিক ৮২ শতাংশ ছাগলের, ২ দশমিক ২৫ শতাংশ মহিষের এবং ১ দশমিক ২ শতাংশ ভেড়ার চামড়া। এর অর্ধেকের বেশি আসে কোরবানি ঈদের সময়।

Comments

Comments!

 সরকারের নির্লিপ্ততায় এতিম মিসকিনের মাথায় বাড়িAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

সরকারের নির্লিপ্ততায় এতিম মিসকিনের মাথায় বাড়ি

Saturday, September 10, 2016 3:41 pm
242237_1

২০১৩ সালের কোরবানিতে ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার নির্ধারিত দর ছিল ৯০ টাকা। গত চার বছরে দেশে মূল্যস্ফিতি হয়েছে অন্তত ৪০ শতাংশ। অথচ এ সময়ের ব্যবধানে চামড়ার দাম কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় অর্ধেক। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে ট্যানারিমালিকেরা ঘোষণা দিয়েছেন, ঢাকায় তারা লবণযুক্ত গরুর চামড়া কিনবেন প্রতি বর্গফুট ৫০ টাকা দরে। এর মাধ্যমে তারা সরকারের নির্লিপ্ততার সুযোগে কোরবানির চামড়ার প্রকৃত হকদার কয়েক কোটি এতিম-মিসকিনের মাথায় বাড়ি দেয়ার মতো কাজ করেছেন বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২০১৩ সালের ঈদুল আজহায় সরকার নির্ধারিত ৮৫ থেকে ৯০ টাকা দামে প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়া কিনেছিলেন ঢাকার ব্যবসায়ীরা। আর ঢাকার বাইরে এই দাম ছিল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা। ওই বছর প্রতি বর্গফুট খাসির চামড়ার দাম ছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। বকরির চামড়া ৪০ টাকা থেকে ৪৫ টাকা এবং মহিষের চামড়া ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা।

অভিযোগ রয়েছে, ব্যবসায়ীদের সুযোগ করে দিতে ২০১৪ সাল থেকে সরকার নিজে নির্ধারণ না করে দামের বিষয়টি ব্যবসায়ীদের ওপর ছেড়ে দেয়। ফলস্বরূপ এক দফা কমিয়ে রাজধানীতে প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়া কেনেন ৭০ থেকে ৭৫ টাকায়। ঢাকার বাইরে এর দাম ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। এ ছাড়া লবণযুক্ত মহিষের চামড়া প্রতি বর্গফুট ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, খাসির চামড়া ৩০ থেকে ৩৫ টাকা এবং বকরির চামড়া ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। এরপর ধীরে ধীরে কমতে থাকে চামড়ার দাম। সরকারের নির্লিপ্ততার সুযোগে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকেন লাখ লাখ এতিম-মিসকিন।

গতকালের ঘোষণা অনুযায়ী, এবার রাজধানী ঢাকায় প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দর নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা। ঢাকার বাইরে এ দাম হবে ৪০ টাকা। এ ছাড়া খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ২০ এবং বকরি ১৫ টাকা নির্ধারণ হয়েছে। মহিষের লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ টাকা।

চামড়ার দাম কম নির্ধারণের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিএফএলএলএফই চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহেমদ মাহিন গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বর্তমানে আমরা সঙ্কটময় সময় পার করছি। সারা বিশ্বে চামড়ার দাম কম। এ ছাড়া হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি সরানোসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে ব্যবসায়ীরা অনেক চাপে আছেন।

রাজধানীর সেগুনবাগিচার এলাকার কোরবানিদাতা সোলায়মান গতকাল নয়া দিগন্তকে বলেন, কোরবানির পশুর চামড়ার বিক্রিয়লব্ধ টাকা কোনো সমর্থ্যবান ব্যক্তি ভোগ করতে পারেন না। কাজেই এটা গরিব-মিসকিনের হক। দেশের সব গরিব-মিসকিন যেহেতু সংগঠতি নয় সেহেতু তাদের স্বার্থ নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। গত বছর সরকার কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণের বিষয়টি ব্যবসায়ীদের ওপর ছেড়ে দেয়ার পর আগের বছরের তুলনায় কম দাম ঠিক করেন তারা। আর এবার যে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা গতবারের চেয়েও কম। এভাবে সরকারের নির্লিপ্ততার সুযোগে একশ্রেণীর ব্যবসায়ী গরিব-মিসকিনের হক আত্মসাৎ করছেন বলে দাবি করেন তিনি।

যদিও গতকালের সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বলেন, গত বছরের অনেক চামড়া এখনো রয়ে গেছে। আমাদের কাছে নতুন চামড়ার তেমন চাহিদা নেই। তা ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারেও পশুর চামড়ার দাম অপোকৃত কমেছে। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করেই এবার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, পশুর চামড়া পচনশীল। তাই এর দাম নির্ধারণ নিয়ে সিন্ডিকেট করার সুযোগ নেই।

ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর ২২ কোটি বর্গফুট চামড়া পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৬৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ গরুর চামড়া, ৩১ দশমিক ৮২ শতাংশ ছাগলের, ২ দশমিক ২৫ শতাংশ মহিষের এবং ১ দশমিক ২ শতাংশ ভেড়ার চামড়া। এর অর্ধেকের বেশি আসে কোরবানি ঈদের সময়।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X