রবিবার, ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৬ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, দুপুর ১২:৫৭
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Thursday, June 22, 2017 4:23 am
A- A A+ Print

সরফরাজ একজন হাফেজে কুরআন

3

পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। তার নেতৃত্বেই এবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জিতেছে পাকিস্তান। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে পাকিস্তানের ফাইনাল খেলার কথা হয়তো কেউ ভাবতে পারেননি। কিন্তু শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের মতো দলকে হারায় তারা। আর ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে গুঁড়িয়ে দিয়ে শিরোপা জেতে পাকিস্তান। পাকিস্তানের এমন অর্জনের পেছনে অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদের অনেক বড় কৃতিত্ব। এ কারণে আইসিসি’র টুর্নামেন্ট সেরা একাদশের অধিনায়ক করা হয়েছে তাকে। অবাক করা কথা হলো, পাকিস্তানের অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ পবিত্র কুরআনের একজন হাফেজ। মুসলিম হিসেবে নিয়মিত ধর্মচর্চা করেন। নিয়মিত নামাজ পড়েন। সরফরাজ যে একজন কুরআনের হাফেজ এটা পাকিস্তানের অনেকেই জানেন। ২০১৫ সালে শোয়েব মালিক ফেসবুকে নিজের ভেরিফাইড পেজে প্রশ্ন করেন- ‘আপনারা কি জানেন, সরফরাজ একজন কুরআনের হাফেজ?’ তখনই পাকিস্তানজুড়ে তাকে নিয়ে আলোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই তার এই বিষয়টি জেনে যান। পরে এ বিষয়ে নিজেই মিডিয়ার সামনে কথা বলেছেন। কুরআনের হাফেজ হওয়া ও জাতীয় দলে প্রবেশ নিয়ে সব কথা খুলে বলেছেন। এক সাক্ষাৎকারে সরফরাজ জানান, তারা বাবা শাকিল আহমেদের প্রবল ইচ্ছায় তিনি ছোটবেলায় কুরআন হিফজ করার মাদ্‌রাসায় ভর্তি হন। তবে তার ভেতরে ছিল ক্রিকেটের প্রতি প্রবল ঝোঁক। সাধারণত এমন মাদ্‌রাসায় পড়াশুনার বাইরে সময় খুব কম পাওয়া যায়। অনেক বিধিনিষেধ থাকে। বিকালে ঘণ্টাখানেক সময় পাওয়া যেত। ওই সময়টুকুতে তিনি স্থানীয় ক্রিকেট মাঠে ছুটে যেতেন। ক্রিকেটের জন্য আলাদা কোনো পোশাক ছিল না। মাদ্‌রাসার ওই পোশাক পরেই তিনি মাঠে নেমে পড়তেন। এরপর বাড়ি ফেরার আগে পোশাক ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতেন। যাতে তার বাবা ক্রিকেট খেলার বিষয়টি বুঝতে না পারেন। প্রথমদিকে তিনি ফাস্ট বোলার হতে চাইতেন। এরপর একসময় লেগ স্পিনার হওয়ার চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত নিজেই নিজের মধ্যে উইকেটরক্ষক হওয়ার গুণাবলী উপরব্ধি করেন। সঙ্গে ভাল ব্যাটিং করাও শিখে যান। মাদরাসায় কোরআন মুখস্ত ও বিকেল বেলায় এলাকার ছেলেদের সঙ্গে ক্রিকেট- দু’টোই চলতে থাকে একসঙ্গে। খুবই ভাল খেলতেন তখন থেকে। এলাকায় তার ক্রিকেট প্রতিভার কথা সবাই জেনে যান। তার বাবা শাকিল আহমেদও জেনে যান। ছেলের এ আগ্রহকে তিনি অগ্রাহ্য করেননি। কিন্তু সবার আগে পড়া, কুরআন মুখস্থ করতে মাদ্‌রাসায় যওয়া। তিনি সারাদিন মাদ্‌রাসায় পবিত্র কুরআন মুখস্থ করতেন আর বিকালে খেলতেন ক্রিকেট। এভাবেই তিনি এক সময় পুরো ৩০ পারা কুরআন মুখস্থ করে ফেলেন। ক্রিকেটে প্রতি তার ভালোবাসা তখনো প্রবল। এক সময় করাচির স্থানীয় অনূর্ধ্ব-১৫ দলে ডাক পান তিনি। দারুণ প্রতিভার ঝলক দেখান সরফরাজ। এরপর পাকিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৭ এবং অনূর্ধ্ব-১৯। পাকিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক নির্বাচিত হন তিনি। ২০০৬ সালে তার নেতৃত্বেই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে পাকিস্তান। সেবার ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে হারায় তারা। ১১ বছর বাদে সেই ভারতকে হারিয়ে এবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জিতেছে পাকিস্তান।

Comments

Comments!

 সরফরাজ একজন হাফেজে কুরআনAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

সরফরাজ একজন হাফেজে কুরআন

Thursday, June 22, 2017 4:23 am
3

পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। তার নেতৃত্বেই এবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জিতেছে পাকিস্তান। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে পাকিস্তানের ফাইনাল খেলার কথা হয়তো কেউ ভাবতে পারেননি। কিন্তু শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের মতো দলকে হারায় তারা। আর ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে গুঁড়িয়ে দিয়ে শিরোপা জেতে পাকিস্তান। পাকিস্তানের এমন অর্জনের পেছনে অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদের অনেক বড় কৃতিত্ব। এ কারণে আইসিসি’র টুর্নামেন্ট সেরা একাদশের অধিনায়ক করা হয়েছে তাকে। অবাক করা কথা হলো, পাকিস্তানের অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ পবিত্র কুরআনের একজন হাফেজ। মুসলিম হিসেবে নিয়মিত ধর্মচর্চা করেন। নিয়মিত নামাজ পড়েন। সরফরাজ যে একজন কুরআনের হাফেজ এটা পাকিস্তানের অনেকেই জানেন। ২০১৫ সালে শোয়েব মালিক ফেসবুকে নিজের ভেরিফাইড পেজে প্রশ্ন করেন- ‘আপনারা কি জানেন, সরফরাজ একজন কুরআনের হাফেজ?’ তখনই পাকিস্তানজুড়ে তাকে নিয়ে আলোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই তার এই বিষয়টি জেনে যান। পরে এ বিষয়ে নিজেই মিডিয়ার সামনে কথা বলেছেন। কুরআনের হাফেজ হওয়া ও জাতীয় দলে প্রবেশ নিয়ে সব কথা খুলে বলেছেন। এক সাক্ষাৎকারে সরফরাজ জানান, তারা বাবা শাকিল আহমেদের প্রবল ইচ্ছায় তিনি ছোটবেলায় কুরআন হিফজ করার মাদ্‌রাসায় ভর্তি হন। তবে তার ভেতরে ছিল ক্রিকেটের প্রতি প্রবল ঝোঁক।
সাধারণত এমন মাদ্‌রাসায় পড়াশুনার বাইরে সময় খুব কম পাওয়া যায়। অনেক বিধিনিষেধ থাকে। বিকালে ঘণ্টাখানেক সময় পাওয়া যেত। ওই সময়টুকুতে তিনি স্থানীয় ক্রিকেট মাঠে ছুটে যেতেন। ক্রিকেটের জন্য আলাদা কোনো পোশাক ছিল না। মাদ্‌রাসার ওই পোশাক পরেই তিনি মাঠে নেমে পড়তেন। এরপর বাড়ি ফেরার আগে পোশাক ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতেন। যাতে তার বাবা ক্রিকেট খেলার বিষয়টি বুঝতে না পারেন। প্রথমদিকে তিনি ফাস্ট বোলার হতে চাইতেন। এরপর একসময় লেগ স্পিনার হওয়ার চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত নিজেই নিজের মধ্যে উইকেটরক্ষক হওয়ার গুণাবলী উপরব্ধি করেন। সঙ্গে ভাল ব্যাটিং করাও শিখে যান। মাদরাসায় কোরআন মুখস্ত ও বিকেল বেলায় এলাকার ছেলেদের সঙ্গে ক্রিকেট- দু’টোই চলতে থাকে একসঙ্গে। খুবই ভাল খেলতেন তখন থেকে। এলাকায় তার ক্রিকেট প্রতিভার কথা সবাই জেনে যান। তার বাবা শাকিল আহমেদও জেনে যান। ছেলের এ আগ্রহকে তিনি অগ্রাহ্য করেননি। কিন্তু সবার আগে পড়া, কুরআন মুখস্থ করতে মাদ্‌রাসায় যওয়া। তিনি সারাদিন মাদ্‌রাসায় পবিত্র কুরআন মুখস্থ করতেন আর বিকালে খেলতেন ক্রিকেট। এভাবেই তিনি এক সময় পুরো ৩০ পারা কুরআন মুখস্থ করে ফেলেন। ক্রিকেটে প্রতি তার ভালোবাসা তখনো প্রবল। এক সময় করাচির স্থানীয় অনূর্ধ্ব-১৫ দলে ডাক পান তিনি। দারুণ প্রতিভার ঝলক দেখান সরফরাজ। এরপর পাকিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৭ এবং অনূর্ধ্ব-১৯। পাকিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক নির্বাচিত হন তিনি। ২০০৬ সালে তার নেতৃত্বেই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে পাকিস্তান। সেবার ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে হারায় তারা। ১১ বছর বাদে সেই ভারতকে হারিয়ে এবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জিতেছে পাকিস্তান।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X