মঙ্গলবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ১১:১৮
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Friday, November 25, 2016 11:45 pm
A- A A+ Print

‘সর্বদলীয় সরকার নিরপেক্ষতার কাছাকাছি হতে পারে’

badruddoza_chodhury_ec_bnp_31934_1480087970

ভাসানী অনুসারী পরিষদের উদ্যোগে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় তিনি এ পরামর্শ দেন। খালেদা জিয়ার ইসি গঠনের প্রস্তাব প্রসঙ্গে বি চৌধুরী বলেন, ইসির চেয়ে নির্বাচনকালের নিরপেক্ষ সরকার বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পুরোপুরি নিরপেক্ষ না হলেও 'নিরপেক্ষতার কাছাকাছি' সরকার। এসময় তিনি বলেন, 'আন্দোলন করা উচিত নিরপেক্ষতার কাছাকাছি সরকারের জন্য। সর্বদলীয় সরকার নিরপেক্ষতার কাছাকাছি হতে পারে।' ইসি গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিএনপির সাক্ষাৎ চাওয়া প্রসঙ্গে দলটির সাবেক এই মহাসচিব বলেন, 'প্রেসিডেন্টে কাছে গিয়ে কী করবেন? আমি নিজে ছিলাম, জানি। সংবিধান বলে প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী চলিবেন। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) যা বলবেন, তাকে তা শুনতে হবে।' তিনি বলেন, 'আজকের সরকারের মধ্যে পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি, প্রাইম মিনিস্টার হেজ ম্যাক্সিমাম পাওয়ার। একমাত্র শক্তিশালী ব্যক্তি সরকারের মধ্যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। সুতরাং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপ করতে হবে।' বি চৌধুরী বলেন, 'যে ডায়ালগ খালেদা জিয়া মিস করেছেন, সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করে দিয়েছেন, আজকে উনার বক্তব্য সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করে দেয়। বক্তব্য শেষ হওয়ার আগেই বাতিল হয়ে যায়।' তবে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়টি নেতিবাচক হিসেবে না দেখে তিনি বলেন, 'প্রেসিডেন্টের কাছে যান ভালো। তিনি দেশের এক নম্বর গণ্যমান্য ব্যক্তি- এটা ঠিক আছে। কিন্তু করার ক্ষমতা তার তো কিছু নাই।' এসময় প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, 'আজকে দেশে যে বিশৃংখলা হয়েছে, বিনাবিচারে কত মানুষকে গ্রেফতার করেছেন, কত মানুষ জেলে রয়েছে বছরের পর বছর- হিসাব-নিকাশ করবে লোকেরা। কত মানুষ গায়েব হয়ে গেছে, হিসাব করবে লোকে। যার সন্তান গায়েব হয়ে গেছে, সে ভুলবে না।' তিনি বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী, দেশটাকে রক্ষা করুন, দেশটাকে বাঁচান। দেশের মানুষকে বিশ্বাস করুন এবং সবার সঙ্গে কথা বলুন। মানুষের কথা আপনাকে শুনতে হবে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।' এছাড়া মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্মমতায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বিবৃতি না দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিকল্পধারার সভাপতি। তিনি বলেন, 'আজকে রোহিঙ্গারা মজলুম। আজ মওলানা ভাসানী যদি বেঁচে থাকতেন! যে জুলুম ও অত্যাচার রোহিঙ্গাদের প্রতি করা হয়েছে, যেভাবে তাদের বাড়ি-ঘর পুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে, চাকু দিয়ে শরীরে অত্যাচার করা হয়েছে- এর চেয়ে বড় মজলুম কোথায় আছে?' 'এর প্রতিবাদ তো সব গণতান্ত্রিক শক্তির করা উচিত। সেই কণ্ঠস্বর কোথায়? সেই সিংহ হৃদয় কোথায়। আজকে মওলানা থাকলে সেই প্রতিবাদ করতেন' যোগ করেন বি চৌধুরী। এসময় আলোচনা সভার প্রধান বক্তা বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, 'আমি প্রতিবাদ করেছি, বিবৃতি দিয়েছে।' প্রতিক্রিয়ায় বি চৌধুরী বলেন, 'নো, ইউ আর নাম্বর টু। ফখরুলের ভাষা খালেদা জিয়ার কণ্ঠে শুনতে চায় মানুষ। নিশ্চয়ই মজলুমকে আশ্রয় দিতে হবে, তাদের পক্ষে কথা বলতে হবে।' সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, 'আজ গণতন্ত্রকে হরণ করা হয়েছে, মানুষের ভোটের অধিকার নেই। নির্বাচন কমিশনের আমরা একটা ধারণা দিয়েছি, প্রস্তাব দিয়েছি- এই নির্বাচন কমিশন এই ধরনের হলে একটা সম্ভাবনা আছে। ভবিষ্যতে যদি নির্বাচনে সহায়ক সরকার করা যায়, তাহলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।' প্রস্তাব উপস্থাপনের সঙ্গে সঙ্গেই আওয়ামী লীগ তা নাকচ করে দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'এর উদ্দেশ্য কী? উদ্দেশ্য হচ্ছে- যেভাবে নির্বাচিত হয়েছিলাম, সেই বিনাভোটে আবার আমরা নির্বাচিত হতে চাই। আমরা নির্বাচন দিতে চাই না। নির্বাচন দিলে আমাদের বিজয়ের কোনো সম্ভাবনা নাই। দেশের মানুষ ভোট দেবে না।' কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে ভাসানী অনুসারী পরিষদের সভাপতি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হায়দার আকবর খান রনো, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক জসীম উদ্দিন আহমেদ, সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ, অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

Comments

Comments!

 ‘সর্বদলীয় সরকার নিরপেক্ষতার কাছাকাছি হতে পারে’AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

‘সর্বদলীয় সরকার নিরপেক্ষতার কাছাকাছি হতে পারে’

Friday, November 25, 2016 11:45 pm
badruddoza_chodhury_ec_bnp_31934_1480087970

ভাসানী অনুসারী পরিষদের উদ্যোগে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় তিনি এ পরামর্শ দেন।

খালেদা জিয়ার ইসি গঠনের প্রস্তাব প্রসঙ্গে বি চৌধুরী বলেন, ইসির চেয়ে নির্বাচনকালের নিরপেক্ষ সরকার বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পুরোপুরি নিরপেক্ষ না হলেও ‘নিরপেক্ষতার কাছাকাছি’ সরকার।

এসময় তিনি বলেন, ‘আন্দোলন করা উচিত নিরপেক্ষতার কাছাকাছি সরকারের জন্য। সর্বদলীয় সরকার নিরপেক্ষতার কাছাকাছি হতে পারে।’

ইসি গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিএনপির সাক্ষাৎ চাওয়া প্রসঙ্গে দলটির সাবেক এই মহাসচিব বলেন, ‘প্রেসিডেন্টে কাছে গিয়ে কী করবেন? আমি নিজে ছিলাম, জানি। সংবিধান বলে প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী চলিবেন। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) যা বলবেন, তাকে তা শুনতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আজকের সরকারের মধ্যে পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি, প্রাইম মিনিস্টার হেজ ম্যাক্সিমাম পাওয়ার। একমাত্র শক্তিশালী ব্যক্তি সরকারের মধ্যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। সুতরাং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপ করতে হবে।’

বি চৌধুরী বলেন, ‘যে ডায়ালগ খালেদা জিয়া মিস করেছেন, সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করে দিয়েছেন, আজকে উনার বক্তব্য সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করে দেয়। বক্তব্য শেষ হওয়ার আগেই বাতিল হয়ে যায়।’

তবে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়টি নেতিবাচক হিসেবে না দেখে তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের কাছে যান ভালো। তিনি দেশের এক নম্বর গণ্যমান্য ব্যক্তি- এটা ঠিক আছে। কিন্তু করার ক্ষমতা তার তো কিছু নাই।’

এসময় প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আজকে দেশে যে বিশৃংখলা হয়েছে, বিনাবিচারে কত মানুষকে গ্রেফতার করেছেন, কত মানুষ জেলে রয়েছে বছরের পর বছর- হিসাব-নিকাশ করবে লোকেরা। কত মানুষ গায়েব হয়ে গেছে, হিসাব করবে লোকে। যার সন্তান গায়েব হয়ে গেছে, সে ভুলবে না।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, দেশটাকে রক্ষা করুন, দেশটাকে বাঁচান। দেশের মানুষকে বিশ্বাস করুন এবং সবার সঙ্গে কথা বলুন। মানুষের কথা আপনাকে শুনতে হবে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

এছাড়া মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্মমতায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বিবৃতি না দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিকল্পধারার সভাপতি।

তিনি বলেন, ‘আজকে রোহিঙ্গারা মজলুম। আজ মওলানা ভাসানী যদি বেঁচে থাকতেন! যে জুলুম ও অত্যাচার রোহিঙ্গাদের প্রতি করা হয়েছে, যেভাবে তাদের বাড়ি-ঘর পুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে, চাকু দিয়ে শরীরে অত্যাচার করা হয়েছে- এর চেয়ে বড় মজলুম কোথায় আছে?’

‘এর প্রতিবাদ তো সব গণতান্ত্রিক শক্তির করা উচিত। সেই কণ্ঠস্বর কোথায়? সেই সিংহ হৃদয় কোথায়। আজকে মওলানা থাকলে সেই প্রতিবাদ করতেন’ যোগ করেন বি চৌধুরী।

এসময় আলোচনা সভার প্রধান বক্তা বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমি প্রতিবাদ করেছি, বিবৃতি দিয়েছে।’

প্রতিক্রিয়ায় বি চৌধুরী বলেন, ‘নো, ইউ আর নাম্বর টু। ফখরুলের ভাষা খালেদা জিয়ার কণ্ঠে শুনতে চায় মানুষ। নিশ্চয়ই মজলুমকে আশ্রয় দিতে হবে, তাদের পক্ষে কথা বলতে হবে।’

সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজ গণতন্ত্রকে হরণ করা হয়েছে, মানুষের ভোটের অধিকার নেই। নির্বাচন কমিশনের আমরা একটা ধারণা দিয়েছি, প্রস্তাব দিয়েছি- এই নির্বাচন কমিশন এই ধরনের হলে একটা সম্ভাবনা আছে। ভবিষ্যতে যদি নির্বাচনে সহায়ক সরকার করা যায়, তাহলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।’

প্রস্তাব উপস্থাপনের সঙ্গে সঙ্গেই আওয়ামী লীগ তা নাকচ করে দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এর উদ্দেশ্য কী? উদ্দেশ্য হচ্ছে- যেভাবে নির্বাচিত হয়েছিলাম, সেই বিনাভোটে আবার আমরা নির্বাচিত হতে চাই। আমরা নির্বাচন দিতে চাই না। নির্বাচন দিলে আমাদের বিজয়ের কোনো সম্ভাবনা নাই। দেশের মানুষ ভোট দেবে না।’

কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে ভাসানী অনুসারী পরিষদের সভাপতি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হায়দার আকবর খান রনো, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক জসীম উদ্দিন আহমেদ, সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ, অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X