শনিবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৫:৫৭
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Tuesday, May 16, 2017 8:53 am
A- A A+ Print

সূ চি এবং জেনারেলরা সহাবস্থান শিখছেন

3

গত কয়েক সপ্তাহে মিয়ানমারে ক্রমবর্ধমান জল্পনা-কল্পনা ছিল যে, মিয়ানমারের সামরিক নেতারা সম্ভাব্য অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করছেন। ক্যারিশমেটিক গণতান্ত্রিক আইকন অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন নতুন গণতান্ত্রিক সরকার যদি অব্যাহতভাবে দুর্বলতার পরিচয় দিতে থাকে, তবে তারা ওই পদক্ষেপ নিয়ে ভাববে। দি লেডির (সু চি মিয়ানমারে এই নামেই পরিচিত) দায়িত্ব গ্রহণের এক বছরের সময়টা বিশ্লেষণ করার সময় মিয়ানমারের অনেক বিশ্লেষক ও ভাষ্যকার তার ভুলগুলো বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করবেন। সংস্কারের অভাব, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং অপ্রত্যাশিত সরকারি নিয়োগগুলোকে সরকারের ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সামপ্রতিক উপনির্বাচনের ফলাফলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, তিনি এখনো তৃণমূল পর্যায়ে বিপুলভাবে জনপ্রিয়। এমনকি উপজাতীয় কোনো কোনো এলাকায় তার সমর্থন না থাকা সত্ত্বেও। প্রখ্যাত আইনজীবী কো নির হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, অভ্যন্তরীণ উপাদানগুলো (সামরিক বাহিনীর দিকে, আরো সুনির্দিষ্টভাবে সামরিক বাহিনীর সাবেক সদস্যদের প্রতি আঙুল উঠছে) ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। কয়েক সপ্তাহ আগে এনএলডি মুখপাত্র উইন থিন স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ বর্তমান প্রেসিডেন্ট (তিনি সু চির খুবই ঘনিষ্ঠ) পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন এবং সু চি তার স্থলাভিষিক্ত হবেন- এমন গুজব ছড়ানোর জন্য অজ্ঞাত সামরিক সূত্রকে অভিযুক্ত করলে এই সন্দেহ আরো ঘনীভূত হয়। মিয়ানমারে প্রচুর গুজব ঘোরাফেরা করে। ফেসবুক এসব গুজবের আখড়া। তবে বর্তমান সরকারের বদনাম করে ক্ষমতা গ্রহণের জন্য বর্তমান সামরিক নেতৃত্ব এসব করছে, এমনটা বিশ্বাস করা কঠিন। বর্তমানে সরকারের কার্যক্রমে সামরিক বাহিনী তুলনামূলকভাবে সন্তুষ্ট। অবশ্য অং সান সু চি এবং সেনাপ্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন আঙ  হলাইঙের মধ্যকার সম্পর্ক ভঙ্গুরই রয়ে গেছে। এমনটাই প্রত্যাশিত। সরকারের নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করা হলেও ক্ষমতা রূপান্তর এখনো অনানুষ্ঠানিক আলোচনার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। বস্তুত উভয় পক্ষ সতর্কভাবে চলছে, তারা নতুন যুগে সহাবস্থানের বিষয়টিতে অভ্যস্থ হতে শিখছে। সাবেক এক সেনা কর্মকর্তা, তিনি বর্তমানে একটি সামরিক ‘থিঙ্ক ট্যাঙ্ক’ নেটওয়ার্কের অংশ, পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে আস্থা সৃষ্টি করতে হবে। এনএলডির নির্বাচনী বিজয়ের আগে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ ছিল খুবই সীমিত।’ তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ভালোই চলছে। আর একে অপরের সাথে পূর্ণ আস্থা সৃষ্টি করার জন্য আরেকটা বছর লাগতে পারে। বেশির ভাগ সাবেক সামরিক কর্মকর্তা এবং তাদের ঘনিষ্ঠরা মনে করছেন, সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর অং সান সু চির সতর্কতামূলক দৃষ্টিভঙ্গিকে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন পর্যায় ভালোভাবে গ্রহণ করেছে। এমনকি অনেক সময় পার্লামেন্টের সামরিক সদস্যরা সরকারি আইনি কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনামুখর হওয়া সত্ত্বেও। মিনা আঙ হলাইঙের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো মনে করছে, দেশের কল্যাণে তিনি সু চির সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, এটা করতেই হবে। ইয়াঙ্গুনের ভয়েজ ম্যাগাজিনের রাজনৈতিক ভাষ্যকার জেয়া থু বলেন, ‘দেশকে এগিয়ে নিতে চাইলে সহাবস্থান একমাত্র বাস্তব বিকল্প।’ এনএলডির সিনিয়র সূত্রগুলোও নিশ্চিত সিনিয়র জেনারেল সু চির সঙ্গে কাজ করার মতো সম্পর্ক রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে এটাও ঠিক, সু চি হলাঙকে পুরোপুরি বিশ্বাসও করেন না। অবিশ্বাসে ভর করেই তারা এখন পর্যন্ত সম্পর্ক রক্ষা করে চলেছেন। মিন আঙ হলাইঙ এখন পর্যন্ত নিজেকে তার অফিস কম্পাউন্ডে আবদ্ধ করে রেখেছেন। লেডিকে অপছন্দের কারণেই তিনি এমনটা করছেন। তবে তার সামনে তার সঙ্গে কাজ করা ছাড়া আর কোনো বিকল্পও নেই। এশিয়ান কূটনীতিকদের মতে, ‘সিনিয়র জেনারেল জানেন, লেডি হলেন ঢাল। তিনিই তাদেরকে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সমালোচনা থেকে সামরিক বাহিনীকে রক্ষা করে চলেছেন।’ পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেলেও বেসামরিক কর্তৃপক্ষ এবং সামরিক বাহিনী এখন পর্যন্ত কার্যকরভাবেই দেশ পরিচালনা করছে। তাদের অবস্থান ২০০৮ সালের সংবিধানে লিপিবদ্ধ রয়েছে। দীর্ঘ মেয়াদে হয়তো পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পাওয়া যাবে। তবে স্বল্প মেয়াদটি হবে ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রক্রিয়া। মিয়ানমারের প্রধানমন্ত্রী এবং সামরিক গোয়েন্দা বাহিনীর প্রধান জেনারেল খিন নয়ুন্ত আমাকে বলেছেন, সামরিক বাহিনীর পুরোপুরি ক্ষমতা হস্তান্তর করতে ১৫ থেকে ২০ বছর লাগবে। অর্থাৎ আরো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য সময় লাগবে। এখন পর্যন্ত মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তি। সংবিধান অনুযায়ী, তারা জাতীয় এবং আঞ্চলিক পার্লামেন্টের এক চতুর্থাংশ আসন পায়। তারা সরাসরি সীমান্ত, প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করে। তিন ভাইস প্রেসিডেন্টের একজনকেও তারা নিয়োগ দিয়ে থাকে। মিয়ানমারের অর্থনীতি ও আমলাতন্ত্রও তাদের নিয়ন্ত্রণে। ওইসব স্থানে সাবেক সামরিক বাহিনীর সদস্যরা নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে কার্যত স্থানীয় প্রশাসন পরিচালনা করে থাকে। ফলে বর্তমান কমান্ডার-ইন-চিফ অং সান সু চি সরকারকে উৎখাতের জন্য পর্দার অন্তরাল থেকে ষড়যন্ত্র করছেন, এমনটা হওয়া অসম্ভব। বস্তুত অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সামরিক কর্তৃপক্ষ যদি বেসামরিক কর্তৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ আবরণটি ছুঁড়ে ফেলে, তবে সামরিক বাহিনীই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অল্প সময়ের মধ্যেই অবরোধ আরোপ হবে, যা মিয়ানমারের সামরিক নেতারা চান না। মিন আঙ হলাইঙ বেপরোয়াভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছেন সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করার জন্য। তিনি এই লক্ষ্যে সমপ্রতি জার্মানিসহ ইউরোপ সফর করেছেন। জার্মানি ইতিমধ্যেই কয়েক বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো মিয়ানমারে হেলিকপ্টার বিক্রি করেছে। এখন পর্যন্ত কমান্ডার-ইন-চিফ তার নিজস্ব পন্থাতেই বেশির ভাগ বিষয় পেয়েছেন। রাখাইন, শান্তিপ্রক্রিয়া, বৈদেশিক সম্পর্ক, বিশেষ করে বেইজিংয়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক তার মত অনুযায়ীই হয়েছে। নতুন যুগে অর্থনৈতিক দিক থেকে সামরিক বাহিনী সমৃদ্ধ হচ্ছে। তবে সামরিক বাহিনী যদি মনে করে, দেশের জাতীয় নিরাপত্তা বিপদগ্রস্ত, তবে তারা তাদের নিজস্ব পন্থায় কাজ করতে পারে। এমন অবস্থার সঙ্গে পরিচিত সূত্রগুলো দূরে থাকার চেয়ে হলাইঙ ও সু চির মধ্যে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক গভীর হবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছে। বর্তমান কমান্ডার-ইন-চিফ প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এক ধরনের ক্ষমতা ভাগাভাগির কাজ সম্পন্ন হবে। তবে সবশেষে মনে হচ্ছে, মিন আঙ হলাইঙের রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ রয়েছে। তিনি ২০২০ সালের পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হবেন বলে অনেকে মনে করছে। তবে তা সামরিক বাহিনীতে তার অবস্থানে কোনো প্রভাব ফেলবে না। কারণ সেনাবাহিনীর সর্বোত্তম স্বার্থের ব্যাপারে তারা সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে বর্তমান সময়টা নিশ্চিতভাবেই তাদের সর্বোত্তম স্বার্থের সময় নয়। লেখক ইয়াঙ্গুনভিত্তিক সাংবাদিক এবং মিয়ানমার বিশেষজ্ঞ। মিয়ানমার বিষয়ক বেশ কয়েকটি বই এবং গবেষণা প্রবন্ধ লিখেছেন তিনি। ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি এশিয়া অঞ্চলের ওপর লেখালেখি করছেন। প্রায় এক যুগ তিনি ছিলেন বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের এশিয়া বিষয়ক সম্পাদক।

Comments

Comments!

 সূ চি এবং জেনারেলরা সহাবস্থান শিখছেনAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

সূ চি এবং জেনারেলরা সহাবস্থান শিখছেন

Tuesday, May 16, 2017 8:53 am
3

গত কয়েক সপ্তাহে মিয়ানমারে ক্রমবর্ধমান জল্পনা-কল্পনা ছিল যে, মিয়ানমারের সামরিক নেতারা সম্ভাব্য অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করছেন। ক্যারিশমেটিক গণতান্ত্রিক আইকন অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন নতুন গণতান্ত্রিক সরকার যদি অব্যাহতভাবে দুর্বলতার পরিচয় দিতে থাকে, তবে তারা ওই পদক্ষেপ নিয়ে ভাববে। দি লেডির (সু চি মিয়ানমারে এই নামেই পরিচিত) দায়িত্ব গ্রহণের এক বছরের সময়টা বিশ্লেষণ করার সময় মিয়ানমারের অনেক বিশ্লেষক ও ভাষ্যকার তার ভুলগুলো বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করবেন।
সংস্কারের অভাব, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং অপ্রত্যাশিত সরকারি নিয়োগগুলোকে সরকারের ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সামপ্রতিক উপনির্বাচনের ফলাফলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, তিনি এখনো তৃণমূল পর্যায়ে বিপুলভাবে জনপ্রিয়। এমনকি উপজাতীয় কোনো কোনো এলাকায় তার সমর্থন না থাকা সত্ত্বেও। প্রখ্যাত আইনজীবী কো নির হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, অভ্যন্তরীণ উপাদানগুলো (সামরিক বাহিনীর দিকে, আরো সুনির্দিষ্টভাবে সামরিক বাহিনীর সাবেক সদস্যদের প্রতি আঙুল উঠছে) ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
কয়েক সপ্তাহ আগে এনএলডি মুখপাত্র উইন থিন স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ বর্তমান প্রেসিডেন্ট (তিনি সু চির খুবই ঘনিষ্ঠ) পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন এবং সু চি তার স্থলাভিষিক্ত হবেন- এমন গুজব ছড়ানোর জন্য অজ্ঞাত সামরিক সূত্রকে অভিযুক্ত করলে এই সন্দেহ আরো ঘনীভূত হয়। মিয়ানমারে প্রচুর গুজব ঘোরাফেরা করে। ফেসবুক এসব গুজবের আখড়া। তবে বর্তমান সরকারের বদনাম করে ক্ষমতা গ্রহণের জন্য বর্তমান সামরিক নেতৃত্ব এসব করছে, এমনটা বিশ্বাস করা কঠিন। বর্তমানে সরকারের কার্যক্রমে সামরিক বাহিনী তুলনামূলকভাবে সন্তুষ্ট। অবশ্য অং সান সু চি এবং সেনাপ্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন আঙ  হলাইঙের মধ্যকার সম্পর্ক ভঙ্গুরই রয়ে গেছে। এমনটাই প্রত্যাশিত। সরকারের নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করা হলেও ক্ষমতা রূপান্তর এখনো অনানুষ্ঠানিক আলোচনার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। বস্তুত উভয় পক্ষ সতর্কভাবে চলছে, তারা নতুন যুগে সহাবস্থানের বিষয়টিতে অভ্যস্থ হতে শিখছে।
সাবেক এক সেনা কর্মকর্তা, তিনি বর্তমানে একটি সামরিক ‘থিঙ্ক ট্যাঙ্ক’ নেটওয়ার্কের অংশ, পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে আস্থা সৃষ্টি করতে হবে। এনএলডির নির্বাচনী বিজয়ের আগে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ ছিল খুবই সীমিত।’ তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ভালোই চলছে। আর একে অপরের সাথে পূর্ণ আস্থা সৃষ্টি করার জন্য আরেকটা বছর লাগতে পারে। বেশির ভাগ সাবেক সামরিক কর্মকর্তা এবং তাদের ঘনিষ্ঠরা মনে করছেন, সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর অং সান সু চির সতর্কতামূলক দৃষ্টিভঙ্গিকে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন পর্যায় ভালোভাবে গ্রহণ করেছে। এমনকি অনেক সময় পার্লামেন্টের সামরিক সদস্যরা সরকারি আইনি কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনামুখর হওয়া সত্ত্বেও।
মিনা আঙ হলাইঙের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো মনে করছে, দেশের কল্যাণে তিনি সু চির সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, এটা করতেই হবে। ইয়াঙ্গুনের ভয়েজ ম্যাগাজিনের রাজনৈতিক ভাষ্যকার জেয়া থু বলেন, ‘দেশকে এগিয়ে নিতে চাইলে সহাবস্থান একমাত্র বাস্তব বিকল্প।’ এনএলডির সিনিয়র সূত্রগুলোও নিশ্চিত সিনিয়র জেনারেল সু চির সঙ্গে কাজ করার মতো সম্পর্ক রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে এটাও ঠিক, সু চি হলাঙকে পুরোপুরি বিশ্বাসও করেন না। অবিশ্বাসে ভর করেই তারা এখন পর্যন্ত সম্পর্ক রক্ষা করে চলেছেন। মিন আঙ হলাইঙ এখন পর্যন্ত নিজেকে তার অফিস কম্পাউন্ডে আবদ্ধ করে রেখেছেন। লেডিকে অপছন্দের কারণেই তিনি এমনটা করছেন। তবে তার সামনে তার সঙ্গে কাজ করা ছাড়া আর কোনো বিকল্পও নেই।
এশিয়ান কূটনীতিকদের মতে, ‘সিনিয়র জেনারেল জানেন, লেডি হলেন ঢাল। তিনিই তাদেরকে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সমালোচনা থেকে সামরিক বাহিনীকে রক্ষা করে চলেছেন।’ পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেলেও বেসামরিক কর্তৃপক্ষ এবং সামরিক বাহিনী এখন পর্যন্ত কার্যকরভাবেই দেশ পরিচালনা করছে। তাদের অবস্থান ২০০৮ সালের সংবিধানে লিপিবদ্ধ রয়েছে। দীর্ঘ মেয়াদে হয়তো পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পাওয়া যাবে। তবে স্বল্প মেয়াদটি হবে ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রক্রিয়া। মিয়ানমারের প্রধানমন্ত্রী এবং সামরিক গোয়েন্দা বাহিনীর প্রধান জেনারেল খিন নয়ুন্ত আমাকে বলেছেন, সামরিক বাহিনীর পুরোপুরি ক্ষমতা হস্তান্তর করতে ১৫ থেকে ২০ বছর লাগবে।
অর্থাৎ আরো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য সময় লাগবে। এখন পর্যন্ত মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তি। সংবিধান অনুযায়ী, তারা জাতীয় এবং আঞ্চলিক পার্লামেন্টের এক চতুর্থাংশ আসন পায়। তারা সরাসরি সীমান্ত, প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করে। তিন ভাইস প্রেসিডেন্টের একজনকেও তারা নিয়োগ দিয়ে থাকে। মিয়ানমারের অর্থনীতি ও আমলাতন্ত্রও তাদের নিয়ন্ত্রণে। ওইসব স্থানে সাবেক সামরিক বাহিনীর সদস্যরা নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে কার্যত স্থানীয় প্রশাসন পরিচালনা করে থাকে।
ফলে বর্তমান কমান্ডার-ইন-চিফ অং সান সু চি সরকারকে উৎখাতের জন্য পর্দার অন্তরাল থেকে ষড়যন্ত্র করছেন, এমনটা হওয়া অসম্ভব। বস্তুত অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সামরিক কর্তৃপক্ষ যদি বেসামরিক কর্তৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ আবরণটি ছুঁড়ে ফেলে, তবে সামরিক বাহিনীই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অল্প সময়ের মধ্যেই অবরোধ আরোপ হবে, যা মিয়ানমারের সামরিক নেতারা চান না। মিন আঙ হলাইঙ বেপরোয়াভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছেন সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করার জন্য। তিনি এই লক্ষ্যে সমপ্রতি জার্মানিসহ ইউরোপ সফর করেছেন। জার্মানি ইতিমধ্যেই কয়েক বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো মিয়ানমারে হেলিকপ্টার বিক্রি করেছে।
এখন পর্যন্ত কমান্ডার-ইন-চিফ তার নিজস্ব পন্থাতেই বেশির ভাগ বিষয় পেয়েছেন। রাখাইন, শান্তিপ্রক্রিয়া, বৈদেশিক সম্পর্ক, বিশেষ করে বেইজিংয়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক তার মত অনুযায়ীই হয়েছে। নতুন যুগে অর্থনৈতিক দিক থেকে সামরিক বাহিনী সমৃদ্ধ হচ্ছে। তবে সামরিক বাহিনী যদি মনে করে, দেশের জাতীয় নিরাপত্তা বিপদগ্রস্ত, তবে তারা তাদের নিজস্ব পন্থায় কাজ করতে পারে। এমন অবস্থার সঙ্গে পরিচিত সূত্রগুলো দূরে থাকার চেয়ে হলাইঙ ও সু চির মধ্যে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক গভীর হবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছে। বর্তমান কমান্ডার-ইন-চিফ প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এক ধরনের ক্ষমতা ভাগাভাগির কাজ সম্পন্ন হবে।
তবে সবশেষে মনে হচ্ছে, মিন আঙ হলাইঙের রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ রয়েছে। তিনি ২০২০ সালের পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হবেন বলে অনেকে মনে করছে। তবে তা সামরিক বাহিনীতে তার অবস্থানে কোনো প্রভাব ফেলবে না। কারণ সেনাবাহিনীর সর্বোত্তম স্বার্থের ব্যাপারে তারা সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে বর্তমান সময়টা নিশ্চিতভাবেই তাদের সর্বোত্তম স্বার্থের সময় নয়।
লেখক ইয়াঙ্গুনভিত্তিক সাংবাদিক এবং মিয়ানমার বিশেষজ্ঞ। মিয়ানমার বিষয়ক বেশ কয়েকটি বই এবং গবেষণা প্রবন্ধ লিখেছেন তিনি। ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি এশিয়া অঞ্চলের ওপর লেখালেখি করছেন। প্রায় এক যুগ তিনি ছিলেন বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের এশিয়া বিষয়ক সম্পাদক।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X