শনিবার, ১৬ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং, ২রা পৌষ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সন্ধ্যা ৭:০৮
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Thursday, May 18, 2017 7:11 am
A- A A+ Print

সেই রাতে আরো তিন তরুণীর সঙ্গে ফুর্তি করেছিল সাফাত

4

সে রাতে আরো তিন তরুণীর সঙ্গে ফুর্তি করেছিল সাফাত আহমেদ। এর আগে শরীরে শক্তি বাড়াতে ইয়াবা সেবন করে নেয়। শুধু তাই নয়, এমন আরো দুই ডজন তরুণীর সঙ্গে সময়ে-অসময়ে মিলিত হতো। ব্যতিক্রম ঘটেছে আলোচিত দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর ক্ষেত্রে। তাদের জন্মদিনের পার্টির কথা বলে নিয়ে গিয়েছিল সাফাত। আর ভয়ভীতি দেখিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে লুটে নেয় ইজ্জত। এতেই ঘটে বিপত্তি। ডিবি কার্যালয়ে রিমান্ডে নানা তথ্য দিচ্ছে সাফাত। পুলিশকে জানিয়েছে, তার অগণিত বান্ধবীর কথা। জিজ্ঞাসাবাদে তার মধ্যে ঘনিষ্ঠ অন্তত দুই ডজন বান্ধবীর তথ্য দিয়েছে সাফাত আহমেদ। যাদের সঙ্গে বনানীর কয়েক হোটেলে প্রায়ই দিনে-রাতে সময় কাটিয়েছে সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ। বান্ধবীদের প্রায় সবাই মডেল, উপস্থাপক, অভিনেত্রী, শিল্পী হিসেবে পরিচিত। প্রথম শ্রেণির কয়েক মডেল ও অভিনেত্রীর নামও রয়েছে এই তালিকায়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে সাফাত আহমেদের বেপরোয়া জীবনযাপন সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে গাড়িচালক বিল্লাল। সেই সঙ্গে গানম্যান রহমতের কাছ থেকে ওই রাতের ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। সাফাত আহমেদ জানিয়েছেন, বন্ধুদের উৎসাহে মাঝে মধ্যে পার্টি দেয়া হতো। এসব পার্টিতে অনেকেই অংশ নিতো। কোনো কোনো অভিনেত্রী, মডেল তার সঙ্গে দেশের বাইরে যেতে স্বেচ্ছায় প্রস্তাব করতেন। দুইজন আইটেম গার্ল ও একজন প্রতিষ্ঠিত মডেল ও দুইজন অভিনেত্রীর সঙ্গে ভারত ও মালয়েশিয়ায় অন্তরঙ্গ সময় কাটিয়েছিলেন সাফাত আহমেদ। সর্বশেষ মার্চে কলকাতায় একজনের সঙ্গে ছিলেন কয়েকদিন। বনানী ও গুলশানের কয়েকটি হোটেলে ছিল তাদের রাতের আড্ডা। গুলশান-২ এর একটি হোটেলে ওই ঘটনার কয়েকদিন আগে ২৬শে মার্চ দুই মডেলের সঙ্গে মদের আড্ডা দিয়েছিলেন সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ। সেখানে প্রভাবশালী এক নেতার ছেলেও অংশ নিয়েছিলেন। সাফাত দাবি করেছেন, তাদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেয়া হতো। এমনকি নগদ টাকা দেয়া হতো অনেক মেয়েকে। বান্ধবীদের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছিলো তার। একবার তার সঙ্গে সাক্ষাতের পর প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে মেয়েরাই তাকে কল করে কথা বলতো। তারমধ্যে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। এসব তরুণীদের সঙ্গে পরিচয়-সম্পর্কের সূত্রপাত করিয়ে দিতো নাঈম আশরাফ। সাফাত আহমেদের কললিস্ট থেকে গোয়েন্দারা অনেক তরুণীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের প্রমাণ পেয়েছে। সূত্রমতে, তাদের মধ্যে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এক মডেলের বাসায় গিয়ে আড্ডা দিতেন সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ। সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলতো তাদের আড্ডা। জিজ্ঞাসাবাদে সাফাতের দেয়া তথ্যমতে, যখন কোনো পার্টির আয়োজন করা হতো তখন পার্টিতে স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণ করতে চাইতো অনেকে। তাদের সবাইকে একসঙ্গে ডাকা সম্ভব হতো না। তাই বাধ্য হয়েই পার্টির বিষয় সকল বান্ধবীদের জানাতেন না সাফাত। এ জন্য মিথ্যাও বলতে হতো তাকে। যে কারণে ২৮শে মার্চ বনানীর রেইনট্রি হোটেলে জন্মদিনের নামে পার্টি করলেও তা ঘনিষ্ঠ অনেক বান্ধবীদের জানাননি। একজন মডেল জানিয়েছেন, ২৭শে মার্চ তার সঙ্গে কথা হয়েছিলো নাঈম আশরাফের। নাঈম বলেছিলো সাফাত ও সে ২৮শে মার্চ সিলেটে যাবে। জিজ্ঞাসাবাদে গোয়েন্দা পুলিশ তথ্য পেয়েছে ওই দিন ইয়াবা সেবন করেছিলো সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ। যদিও শুরুতে ইয়াবা সেবনের বিষয়টি অস্বীকার করেছিলো সাফাত আহমেদ। বলেছিলো সে মদ পান করে, ইয়াবা না। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, তার বান্ধবীর সংখ্যা অনেক। অন্তত ২৪ জন ঘনিষ্ঠ বান্ধবীর কথা জানা গেছে। তাদের অনেকেই পরিচিত মুখ। তবে দুই তরুণী ছাড়া অন্য কারও কাছ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইসমত আরা এমি বলেন, রেইনট্রি হোটেলের ওই ধর্ষণ মামলার তদন্তের স্বার্থে যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ধর্ষণের অভিযোগে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিমের ছেলে সাফাত আহমেদ, তার গাড়ি চালক বিল্লাল, গানম্যান রহমত ও নির্যাতিতা দুই তরুণীর বন্ধু সাদমান সাকিফকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গত ২৮শে মার্চ বনানীর রেইনট্রি হোটেলে জন্মদিনের পার্টির দাওয়াত দিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণ করার অভিযোগে ৬ই মে বনানী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দায়েরের পর পৃথক তিনটি অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

Comments

Comments!

 সেই রাতে আরো তিন তরুণীর সঙ্গে ফুর্তি করেছিল সাফাতAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

সেই রাতে আরো তিন তরুণীর সঙ্গে ফুর্তি করেছিল সাফাত

Thursday, May 18, 2017 7:11 am
4

সে রাতে আরো তিন তরুণীর সঙ্গে ফুর্তি করেছিল সাফাত আহমেদ। এর আগে শরীরে শক্তি বাড়াতে ইয়াবা সেবন করে নেয়। শুধু তাই নয়, এমন আরো দুই ডজন তরুণীর সঙ্গে সময়ে-অসময়ে মিলিত হতো। ব্যতিক্রম ঘটেছে আলোচিত দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর ক্ষেত্রে। তাদের জন্মদিনের পার্টির কথা বলে নিয়ে গিয়েছিল সাফাত। আর ভয়ভীতি দেখিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে লুটে নেয় ইজ্জত। এতেই ঘটে বিপত্তি। ডিবি কার্যালয়ে রিমান্ডে নানা তথ্য দিচ্ছে সাফাত। পুলিশকে জানিয়েছে, তার অগণিত বান্ধবীর কথা। জিজ্ঞাসাবাদে তার মধ্যে ঘনিষ্ঠ অন্তত দুই ডজন বান্ধবীর তথ্য দিয়েছে সাফাত আহমেদ। যাদের সঙ্গে বনানীর কয়েক হোটেলে প্রায়ই দিনে-রাতে সময় কাটিয়েছে সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ। বান্ধবীদের প্রায় সবাই মডেল, উপস্থাপক, অভিনেত্রী, শিল্পী হিসেবে পরিচিত। প্রথম শ্রেণির কয়েক মডেল ও অভিনেত্রীর নামও রয়েছে এই তালিকায়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে সাফাত আহমেদের বেপরোয়া জীবনযাপন সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে গাড়িচালক বিল্লাল। সেই সঙ্গে গানম্যান রহমতের কাছ থেকে ওই রাতের ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।
সাফাত আহমেদ জানিয়েছেন, বন্ধুদের উৎসাহে মাঝে মধ্যে পার্টি দেয়া হতো। এসব পার্টিতে অনেকেই অংশ নিতো। কোনো কোনো অভিনেত্রী, মডেল তার সঙ্গে দেশের বাইরে যেতে স্বেচ্ছায় প্রস্তাব করতেন। দুইজন আইটেম গার্ল ও একজন প্রতিষ্ঠিত মডেল ও দুইজন অভিনেত্রীর সঙ্গে ভারত ও মালয়েশিয়ায় অন্তরঙ্গ সময় কাটিয়েছিলেন সাফাত আহমেদ। সর্বশেষ মার্চে কলকাতায় একজনের সঙ্গে ছিলেন কয়েকদিন।
বনানী ও গুলশানের কয়েকটি হোটেলে ছিল তাদের রাতের আড্ডা। গুলশান-২ এর একটি হোটেলে ওই ঘটনার কয়েকদিন আগে ২৬শে মার্চ দুই মডেলের সঙ্গে মদের আড্ডা দিয়েছিলেন সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ। সেখানে প্রভাবশালী এক নেতার ছেলেও অংশ নিয়েছিলেন। সাফাত দাবি করেছেন, তাদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেয়া হতো। এমনকি নগদ টাকা দেয়া হতো অনেক মেয়েকে। বান্ধবীদের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছিলো তার। একবার তার সঙ্গে সাক্ষাতের পর প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে মেয়েরাই তাকে কল করে কথা বলতো। তারমধ্যে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। এসব তরুণীদের সঙ্গে পরিচয়-সম্পর্কের সূত্রপাত করিয়ে দিতো নাঈম আশরাফ।
সাফাত আহমেদের কললিস্ট থেকে গোয়েন্দারা অনেক তরুণীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের প্রমাণ পেয়েছে। সূত্রমতে, তাদের মধ্যে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এক মডেলের বাসায় গিয়ে আড্ডা দিতেন সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ। সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলতো তাদের আড্ডা। জিজ্ঞাসাবাদে সাফাতের দেয়া তথ্যমতে, যখন কোনো পার্টির আয়োজন করা হতো তখন পার্টিতে স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণ করতে চাইতো অনেকে। তাদের সবাইকে একসঙ্গে ডাকা সম্ভব হতো না। তাই বাধ্য হয়েই পার্টির বিষয় সকল বান্ধবীদের জানাতেন না সাফাত। এ জন্য মিথ্যাও বলতে হতো তাকে। যে কারণে ২৮শে মার্চ বনানীর রেইনট্রি হোটেলে জন্মদিনের নামে পার্টি করলেও তা ঘনিষ্ঠ অনেক বান্ধবীদের জানাননি।
একজন মডেল জানিয়েছেন, ২৭শে মার্চ তার সঙ্গে কথা হয়েছিলো নাঈম আশরাফের। নাঈম বলেছিলো সাফাত ও সে ২৮শে মার্চ সিলেটে যাবে। জিজ্ঞাসাবাদে গোয়েন্দা পুলিশ তথ্য পেয়েছে ওই দিন ইয়াবা সেবন করেছিলো সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ। যদিও শুরুতে ইয়াবা সেবনের বিষয়টি অস্বীকার করেছিলো সাফাত আহমেদ। বলেছিলো সে মদ পান করে, ইয়াবা না। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, তার বান্ধবীর সংখ্যা অনেক। অন্তত ২৪ জন ঘনিষ্ঠ বান্ধবীর কথা জানা গেছে। তাদের অনেকেই পরিচিত মুখ। তবে দুই তরুণী ছাড়া অন্য কারও কাছ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইসমত আরা এমি বলেন, রেইনট্রি হোটেলের ওই ধর্ষণ মামলার তদন্তের স্বার্থে যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ধর্ষণের অভিযোগে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিমের ছেলে সাফাত আহমেদ, তার গাড়ি চালক বিল্লাল, গানম্যান রহমত ও নির্যাতিতা দুই তরুণীর বন্ধু সাদমান সাকিফকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গত ২৮শে মার্চ বনানীর রেইনট্রি হোটেলে জন্মদিনের পার্টির দাওয়াত দিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণ করার অভিযোগে ৬ই মে বনানী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দায়েরের পর পৃথক তিনটি অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X