মঙ্গলবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ২:০১
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Tuesday, January 3, 2017 11:04 pm
A- A A+ Print

‘সেদিন ভাগ্য লিটনের পক্ষে ছিল না’

gaibandha_1121483462090

প্রতিদিন বিকেলে মনজুরুল ইসলাম লিটনের বাড়িতে নেতা-কর্মীদের ভিড় লেগে থাকত। সন্ধ্যার আগে নেতা-কর্মীদের নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে বামনডাঙ্গা রেলস্টেশন সংলগ্ন নিজ অফিসে গিয়ে বসতেন এবং রাত ৯/১০টা অবধি সেখানে থাকতেন। অথচ ৩১ ডিসেম্বর বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়িতে কোনো নেতা-কর্মী ছিল না। ওই দিন সৌভাগ্য লিটনের পক্ষে ছিল না। বিকেলে গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেও  একজনও আসেননি বাড়িতে। সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে দূর্বৃত্তদের গুলিতে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান লিটন। আজ মঙ্গলবার বিকেলে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বাড়ির সামনে গাবগাছ তলায় উপস্থিত সাংবাদিকদের অনুরোধে এভাবেই কষ্টের অনুভূতি জানাচ্ছিলেন নিহত লিটনের স্ত্রী খুরশিদ জাহান স্মৃতি। খুরশিদ জাহান স্মৃতি বলেন, “সেদিন বাড়িতে শুধু আমি, আমার ভাই সৈয়দ বেদারুল আহসান বেতার, ভাগ্নি শিমু, চাচি স্মৃতি খাতুন এবং বাড়ির কেয়ারটেকার ইসমাইল, ইউসুফ ও সৌমিত্র ছিলাম। এ সময় আমি ও আমার ভাই বাড়ির উঠানের রান্না ঘরের কাছে ছিলাম। আমি গুলির শব্দ শুনতে পাই  এবং লিটন ঘর থেকে বাড়ির ভেতর দরজা দিয়ে বেরিয়ে এসে বলেন- ‘ওরা আমাকে গুলি করেছে, আগে ওদের ধর।’ এ সময় তিনি বুকে হাত দিয়ে ছিলেন এবং বুকের বাম পাশ দিয়ে রক্ত ঝরছিল।” তিনি বলেন, “চিৎকার শুনে এবং আঁততায়ীদের ছুটতে দেখে ড্রাইভার গাড়ি নিয়ে তাদের ধাওয়া করেন। আহত লিটনকে সঙ্গে নিয়ে আমি, ইসমাইল ও বেতার গাবগাছ তলায় আসি। সেই সময় আহত লিটন দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলেন না।” তিনি বলেন, “ড্রাইভার ও গাড়ি না থাকায় একটি মোটর সাইকেলের মাঝখানে বসিয়ে আহত লিটনের কথামতো তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় ড্রাইভার গাড়ি নিয়ে এসে পড়লে সেই গাড়িতে চড়ে প্রতিবেশী নয়ন, রেজাউল, বেতারসহ লিটনকে নিয়ে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হই।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “গুরুতর আহত লিটনকে নিয়ে যখন রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যাচ্ছিলাম, তখন তার শেষ কথা ছিল- ‘নিঃশ্বাস নিতে পারছি না, অক্সিজেনের দরকার’। এরপর তিনি চিৎকার করে বলেন-  ‘স্মৃতি হাসপাতাল আর কতদূর?’। এটাই ছিল তার শেষ কথা। এরপর তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।” সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে স্মৃতি বলেন, সুন্দরগঞ্জে লিটনের সঙ্গে কারো দলীয় কোন্দল ছিল না। লিটন সংসদ সদস্য হিসেবে জনপ্রিয় ছিলেন। তার একমাত্র শক্র ছিল স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবির চক্র। আওয়ামী লীগের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে জামায়াত-শিবিরকে রাজনীতিতে কোণঠাসা করে ফেলেছিলেন। যার প্রতিশোধ হিসেবে তারা এই ত্যাগী নেতার রক্ত ঝরিয়েছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী লিটনের শ্যালক সৈয়দ বেদারুল ইসলাম বেতার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, যে দুইজন খুনি লিটনের সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ জানিয়ে তার ঘরে ঢোকেন, তারা গিয়ে সামনের সোফায় বসে পড়েন। দুইজনের মুখ খোলা থাকলেও মাথা ও কান মাফলারে ঢাকা ছিল। তাদের পরনে ছিল কালো জ্যাকেট ও কালো প্যান্ট। তারা বহিরাগত ছিলেন না, কারণ তারা গাইবান্ধা এলাকার আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলছিলেন।

Comments

Comments!

 ‘সেদিন ভাগ্য লিটনের পক্ষে ছিল না’AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

‘সেদিন ভাগ্য লিটনের পক্ষে ছিল না’

Tuesday, January 3, 2017 11:04 pm
gaibandha_1121483462090

প্রতিদিন বিকেলে মনজুরুল ইসলাম লিটনের বাড়িতে নেতা-কর্মীদের ভিড় লেগে থাকত। সন্ধ্যার আগে নেতা-কর্মীদের নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে বামনডাঙ্গা রেলস্টেশন সংলগ্ন নিজ অফিসে গিয়ে বসতেন এবং রাত ৯/১০টা অবধি সেখানে থাকতেন।

অথচ ৩১ ডিসেম্বর বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়িতে কোনো নেতা-কর্মী ছিল না। ওই দিন সৌভাগ্য লিটনের পক্ষে ছিল না। বিকেলে গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেও  একজনও আসেননি বাড়িতে। সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে দূর্বৃত্তদের গুলিতে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান লিটন।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বাড়ির সামনে গাবগাছ তলায় উপস্থিত সাংবাদিকদের অনুরোধে এভাবেই কষ্টের অনুভূতি জানাচ্ছিলেন নিহত লিটনের স্ত্রী খুরশিদ জাহান স্মৃতি।

খুরশিদ জাহান স্মৃতি বলেন, “সেদিন বাড়িতে শুধু আমি, আমার ভাই সৈয়দ বেদারুল আহসান বেতার, ভাগ্নি শিমু, চাচি স্মৃতি খাতুন এবং বাড়ির কেয়ারটেকার ইসমাইল, ইউসুফ ও সৌমিত্র ছিলাম। এ সময় আমি ও আমার ভাই বাড়ির উঠানের রান্না ঘরের কাছে ছিলাম। আমি গুলির শব্দ শুনতে পাই  এবং লিটন ঘর থেকে বাড়ির ভেতর দরজা দিয়ে বেরিয়ে এসে বলেন- ‘ওরা আমাকে গুলি করেছে, আগে ওদের ধর।’ এ সময় তিনি বুকে হাত দিয়ে ছিলেন এবং বুকের বাম পাশ দিয়ে রক্ত ঝরছিল।”

তিনি বলেন, “চিৎকার শুনে এবং আঁততায়ীদের ছুটতে দেখে ড্রাইভার গাড়ি নিয়ে তাদের ধাওয়া করেন। আহত লিটনকে সঙ্গে নিয়ে আমি, ইসমাইল ও বেতার গাবগাছ তলায় আসি। সেই সময় আহত লিটন দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলেন না।”

তিনি বলেন, “ড্রাইভার ও গাড়ি না থাকায় একটি মোটর সাইকেলের মাঝখানে বসিয়ে আহত লিটনের কথামতো তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় ড্রাইভার গাড়ি নিয়ে এসে পড়লে সেই গাড়িতে চড়ে প্রতিবেশী নয়ন, রেজাউল, বেতারসহ লিটনকে নিয়ে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হই।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “গুরুতর আহত লিটনকে নিয়ে যখন রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যাচ্ছিলাম, তখন তার শেষ কথা ছিল- ‘নিঃশ্বাস নিতে পারছি না, অক্সিজেনের দরকার’। এরপর তিনি চিৎকার করে বলেন-  ‘স্মৃতি হাসপাতাল আর কতদূর?’। এটাই ছিল তার শেষ কথা। এরপর তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।”

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে স্মৃতি বলেন, সুন্দরগঞ্জে লিটনের সঙ্গে কারো দলীয় কোন্দল ছিল না। লিটন সংসদ সদস্য হিসেবে জনপ্রিয় ছিলেন। তার একমাত্র শক্র ছিল স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবির চক্র। আওয়ামী লীগের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে জামায়াত-শিবিরকে রাজনীতিতে কোণঠাসা করে ফেলেছিলেন। যার প্রতিশোধ হিসেবে তারা এই ত্যাগী নেতার রক্ত ঝরিয়েছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী লিটনের শ্যালক সৈয়দ বেদারুল ইসলাম বেতার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, যে দুইজন খুনি লিটনের সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ জানিয়ে তার ঘরে ঢোকেন, তারা গিয়ে সামনের সোফায় বসে পড়েন। দুইজনের মুখ খোলা থাকলেও মাথা ও কান মাফলারে ঢাকা ছিল। তাদের পরনে ছিল কালো জ্যাকেট ও কালো প্যান্ট। তারা বহিরাগত ছিলেন না, কারণ তারা গাইবান্ধা এলাকার আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলছিলেন।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X