বুধবার, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৯ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ১১:৩৩
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Friday, June 9, 2017 9:39 am
A- A A+ Print

সে রাতে যা ঘটেছিল

download

সেদিন ছিল স্বর্ণ ব্যবসায়ী দিলদার আহমেদের ছেলে শাফাত আহমেদের জন্মদিন। বনানীর কে ব্লকের ২৭ নম্বর সড়কের হোটেল রেইনট্রিতে জাঁকজমকের সঙ্গে পালিত হবে জন্মদিন। অনেকের মতো আমন্ত্রণ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীও। বিশেষ অতিথি তাঁরা। না গেলে শাফাত কেক কাটবেন না। বনানীতে ধর্ষণ মামলার বাদী বলেন, তাঁরা তখনো বুঝতেই পারেননি, রেইনট্রিতে কী ফাঁদ পাতা রয়েছে।

গত ৬ মে বনানী থানায় মামলা দায়েরের পর থেকে বাদী, শাফাত আহমেদের স্ত্রী ফারিয়া মাহাবুব, হোটেল কর্তৃপক্ষ, শাফাত আহমেদের বাবা আপন জুয়েলার্সের অন্যতম মালিক দিলদার আহমেদ এবং সাদমান সাকিফের বাবা রেগনাম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ হোসেন জনির সঙ্গে প্রথম আলোর কথা হয়। তাঁদের সবাই জানেন, ২৮ মার্চ শাফাত আহমেদের জন্মদিন ছিল। বনানীর রেইনট্রি হোটেলে তিনি ‘বার্থ ডে’ পার্টির আয়োজন করেছিলেন। সে রাতে শাফাত আহমেদ বাড়ি ফেরেননি। তাঁরা হোটেলের দুটি কক্ষের বুকিং দিয়েছিলেন।

শাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীর পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন তাঁদের বন্ধু সাদমান সাকিফ। সাদমান আবার শাফাতদের বাড়ির কাছেই থাকেন বহু বছর। মাঝেমধ্যে তাঁরা পিকাসোতে আড্ডাও দিতেন। পিকাসো রেস্তোরাঁর অন্যতম অংশীদার সাদমানের বাবা মো. হোসেন। শাফাত আহমেদের সাবেক স্ত্রী ফারিয়া মাহাবুব প্রথম আলোকে বলেন, ৭ মার্চ হোটেল আমারিতে তিনি ও শাফাত বন্ধুবান্ধবকে নিয়ে রাতের খাবার খেতে গিয়েছিলেন। সাদমান সাকিফও গিয়েছিলেন তাঁর দুই বন্ধুকে নিয়ে। সেখানেই তাঁদের পরিচয়।

এরপর শাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফের সঙ্গে তাঁদের আবার দেখা হয় পিকাসো রেস্তোরাঁয়। শাফাত সেদিন গল্পচ্ছলে বলছিলেন, তাঁর সঙ্গে ফারিয়ার ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। তিনি খুব বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তাঁর বন্ধুরা তাঁকে একটু আনন্দ দিতে ২৮ মার্চ জন্মদিনের পার্টি করতে চান।

মামলার বাদী বলছিলেন, সে রাতের পার্টিতে যেতে শাফাত আহমেদ নানা ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়েছিলেন। তিনি ১৮ বার বাদীকে ফোন করেন। শাফাত বলেন, তিনি চান পার্টিতে মামলার বাদী ও তাঁর বান্ধবী আসুক। তাঁরা স্পেশাল ফ্রেন্ড। তাঁরা না গেলে পার্টি হবে না। তিনি কেকও কাটবেন না। প্রয়োজনে তাঁরা আরও বন্ধুবান্ধব নিয়ে আসতে পারেন, তবু তাঁদের আসতেই হবে। শেষ পর্যন্ত মামলার বাদী ও তাঁর বন্ধু জন্মদিনের দাওয়াতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বাইরে বেরিয়ে দেখেন, শাফাতের গাড়িচালক ও দেহরক্ষী তাঁদের নিয়ে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। তাঁরা তাঁদের এক চিকিৎসক বন্ধু ও তাঁর বান্ধবীকে আসতে বলেন।

সেদিন মামলার বাদী ও তাঁর বান্ধবী রাত ৯টায় রেইনট্রিতে পৌঁছান। পার্টি হোটেলের ছাদে। ওই পার্টিতে অনেকের আসার কথা। কিন্তু হোটেলের ছাদে গিয়ে তাঁরা দেখেন, অতিথি বলতে শাফাত আহমেদ, নাঈম আশরাফ, সাদমান সাকিফ আর দুই নারী।

মামলার এজাহারে বাদী বলেন, ‘আমরা দেখছিলাম যে ওরা (শাফাত ও নাঈম) বারবার মেয়ে দুটোকে ছাদ থেকে নিচে নামিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল।’ ওই পাঁচজনেরই ভাবভঙ্গি ছিল সন্দেহজনক। মামলার বাদী ও তাঁর বান্ধবী অস্বস্তি বোধ করছিলেন। ঠিক সেই সময়ে বাদীর অন্য দুই বন্ধু আসেন। তাঁদের কারোরই সেদিনকার পরিবেশ ভালো লাগছিল না। ফাঁক খুঁজছিলেন বেরিয়ে যাওয়ার। বেরোনোর মুখেই তাঁরা প্রথম বাধার সম্মুখীন হন।

বাদী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা যখন হোটেল থেকে বেরিয়ে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছি, নাঈম আশরাফ আচমকা তাদের চিকিৎসক বন্ধুকে মারধর করতে শুরু করে। সে শাহরিয়ারের হাত থেকে গাড়ির চাবি ছিনিয়ে নেয়।’ মামলার বাদী ও তাঁর বন্ধুরা বুঝতে পারেন, তাঁরা একটা চক্রান্তের শিকার। শাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ একটি ঘরে শাহরিয়ার ও তাঁর বান্ধবীকে এবং অন্য কক্ষে বাদী ও তাঁর বান্ধবীকে আটকে ফেলেন। তাঁদের হাতে অস্ত্র ছিল।

 হোটেলের যে কক্ষটিতে তাঁদের দুজনকে রাখা হয় সেটি ছিল বেশ বড়, সেখানে বড় বিছানা ও সোফা ছিল। (পরে জানা যায়, ওই কক্ষটি ছিল স্যুইট এবং সেটির এক রাতের ভাড়া ৬০০ ডলার)। শাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ মামলার বাদী ও তাঁর বন্ধুকে আটকে রেখে অস্ত্র দেখান, মারধর করেন ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। তাঁদের জোর করে নেশাজাতীয় পানীয় দেন। বাদীর ভাষ্যমতে, শাফাত আহমেদ সে সময় বলেন, ‘আমার বাবা এ দেশের সবচেয়ে বড় গোল্ড স্মাগলার। আমি খুন করেছি। কেউ আমাকে ধরতে পারেনি। পারবেও না। তোর মতো একজনের লাশ ফেলে দিলেও কিছু হবে না।’

নাঈম আশরাফ নিজেকে আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে বলে পরিচয় দেন।

‘সে রাতের পার্টিতে যেতে শাফাত আহমেদ নানা ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়েছিলেন। তিনি ১৮ বার বাদীকে ফোন করেন’

শাফাত আহমেদ মামলার বাদীকে এবং নাঈম আশরাফ তাঁর বান্ধবীকে যখন ধর্ষণ করছিলেন, তখন পাশের কক্ষে তাঁদের দুই বন্ধু জিম্মি হয়ে আছেন। একপর্যায়ে শাফাত তাঁর গাড়িচালক বিল্লালকে বলেন ওই দুই বান্ধবীর ভিডিও করতে। মামলার বাদী ও তাঁর বান্ধবী কাঁদতে থাকেন অনবরত। তাঁরা ওই দুই বন্ধুকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন।

তখন শাফাত গাড়িচালক বিল্লালকে বলেন মামলার বাদী ও তাঁর বান্ধবীকে ধর্ষণের ভিডিওচিত্র ধারণ করতে।

বাদী প্রথম আলোকে বলছিলেন, ‘আমরা চিৎকার করে কেঁদেছি। ওদের পায়ে ধরেছি। শুধু ভেবেছি, এই হোটেলে কি আমাদের কান্না শোনার মতো একজন মানুষও নেই?’

শাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ নির্যাতন করেছেন, সাদমান সাকিফ বন্ধুত্বের শর্ত ভঙ্গ করেছেন। বাদী বলছিলেন, সে রাতে তাঁদের সঙ্গে যা হয়েছে, সাদমান সাকিফ উদ্যোগী হলে তা হতো না। দুই বছরের পুরোনো বন্ধু অপরাধীদের সহযোগী হবেন, তাঁরা ভাবতেও পারেননি।

 

Comments

Comments!

 সে রাতে যা ঘটেছিলAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

সে রাতে যা ঘটেছিল

Friday, June 9, 2017 9:39 am
download

সেদিন ছিল স্বর্ণ ব্যবসায়ী দিলদার আহমেদের ছেলে শাফাত আহমেদের জন্মদিন। বনানীর কে ব্লকের ২৭ নম্বর সড়কের হোটেল রেইনট্রিতে জাঁকজমকের সঙ্গে পালিত হবে জন্মদিন। অনেকের মতো আমন্ত্রণ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীও। বিশেষ অতিথি তাঁরা। না গেলে শাফাত কেক কাটবেন না। বনানীতে ধর্ষণ মামলার বাদী বলেন, তাঁরা তখনো বুঝতেই পারেননি, রেইনট্রিতে কী ফাঁদ পাতা রয়েছে।

গত ৬ মে বনানী থানায় মামলা দায়েরের পর থেকে বাদী, শাফাত আহমেদের স্ত্রী ফারিয়া মাহাবুব, হোটেল কর্তৃপক্ষ, শাফাত আহমেদের বাবা আপন জুয়েলার্সের অন্যতম মালিক দিলদার আহমেদ এবং সাদমান সাকিফের বাবা রেগনাম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ হোসেন জনির সঙ্গে প্রথম আলোর কথা হয়। তাঁদের সবাই জানেন, ২৮ মার্চ শাফাত আহমেদের জন্মদিন ছিল। বনানীর রেইনট্রি হোটেলে তিনি ‘বার্থ ডে’ পার্টির আয়োজন করেছিলেন। সে রাতে শাফাত আহমেদ বাড়ি ফেরেননি। তাঁরা হোটেলের দুটি কক্ষের বুকিং দিয়েছিলেন।

শাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীর পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন তাঁদের বন্ধু সাদমান সাকিফ। সাদমান আবার শাফাতদের বাড়ির কাছেই থাকেন বহু বছর। মাঝেমধ্যে তাঁরা পিকাসোতে আড্ডাও দিতেন। পিকাসো রেস্তোরাঁর অন্যতম অংশীদার সাদমানের বাবা মো. হোসেন। শাফাত আহমেদের সাবেক স্ত্রী ফারিয়া মাহাবুব প্রথম আলোকে বলেন, ৭ মার্চ হোটেল আমারিতে তিনি ও শাফাত বন্ধুবান্ধবকে নিয়ে রাতের খাবার খেতে গিয়েছিলেন। সাদমান সাকিফও গিয়েছিলেন তাঁর দুই বন্ধুকে নিয়ে। সেখানেই তাঁদের পরিচয়।

এরপর শাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফের সঙ্গে তাঁদের আবার দেখা হয় পিকাসো রেস্তোরাঁয়। শাফাত সেদিন গল্পচ্ছলে বলছিলেন, তাঁর সঙ্গে ফারিয়ার ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। তিনি খুব বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তাঁর বন্ধুরা তাঁকে একটু আনন্দ দিতে ২৮ মার্চ জন্মদিনের পার্টি করতে চান।

মামলার বাদী বলছিলেন, সে রাতের পার্টিতে যেতে শাফাত আহমেদ নানা ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়েছিলেন। তিনি ১৮ বার বাদীকে ফোন করেন। শাফাত বলেন, তিনি চান পার্টিতে মামলার বাদী ও তাঁর বান্ধবী আসুক। তাঁরা স্পেশাল ফ্রেন্ড। তাঁরা না গেলে পার্টি হবে না। তিনি কেকও কাটবেন না। প্রয়োজনে তাঁরা আরও বন্ধুবান্ধব নিয়ে আসতে পারেন, তবু তাঁদের আসতেই হবে। শেষ পর্যন্ত মামলার বাদী ও তাঁর বন্ধু জন্মদিনের দাওয়াতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বাইরে বেরিয়ে দেখেন, শাফাতের গাড়িচালক ও দেহরক্ষী তাঁদের নিয়ে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। তাঁরা তাঁদের এক চিকিৎসক বন্ধু ও তাঁর বান্ধবীকে আসতে বলেন।

সেদিন মামলার বাদী ও তাঁর বান্ধবী রাত ৯টায় রেইনট্রিতে পৌঁছান। পার্টি হোটেলের ছাদে। ওই পার্টিতে অনেকের আসার কথা। কিন্তু হোটেলের ছাদে গিয়ে তাঁরা দেখেন, অতিথি বলতে শাফাত আহমেদ, নাঈম আশরাফ, সাদমান সাকিফ আর দুই নারী।

মামলার এজাহারে বাদী বলেন, ‘আমরা দেখছিলাম যে ওরা (শাফাত ও নাঈম) বারবার মেয়ে দুটোকে ছাদ থেকে নিচে নামিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল।’ ওই পাঁচজনেরই ভাবভঙ্গি ছিল সন্দেহজনক। মামলার বাদী ও তাঁর বান্ধবী অস্বস্তি বোধ করছিলেন। ঠিক সেই সময়ে বাদীর অন্য দুই বন্ধু আসেন। তাঁদের কারোরই সেদিনকার পরিবেশ ভালো লাগছিল না। ফাঁক খুঁজছিলেন বেরিয়ে যাওয়ার। বেরোনোর মুখেই তাঁরা প্রথম বাধার সম্মুখীন হন।

বাদী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা যখন হোটেল থেকে বেরিয়ে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছি, নাঈম আশরাফ আচমকা তাদের চিকিৎসক বন্ধুকে মারধর করতে শুরু করে। সে শাহরিয়ারের হাত থেকে গাড়ির চাবি ছিনিয়ে নেয়।’ মামলার বাদী ও তাঁর বন্ধুরা বুঝতে পারেন, তাঁরা একটা চক্রান্তের শিকার। শাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ একটি ঘরে শাহরিয়ার ও তাঁর বান্ধবীকে এবং অন্য কক্ষে বাদী ও তাঁর বান্ধবীকে আটকে ফেলেন। তাঁদের হাতে অস্ত্র ছিল।

 হোটেলের যে কক্ষটিতে তাঁদের দুজনকে রাখা হয় সেটি ছিল বেশ বড়, সেখানে বড় বিছানা ও সোফা ছিল। (পরে জানা যায়, ওই কক্ষটি ছিল স্যুইট এবং সেটির এক রাতের ভাড়া ৬০০ ডলার)। শাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ মামলার বাদী ও তাঁর বন্ধুকে আটকে রেখে অস্ত্র দেখান, মারধর করেন ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। তাঁদের জোর করে নেশাজাতীয় পানীয় দেন। বাদীর ভাষ্যমতে, শাফাত আহমেদ সে সময় বলেন, ‘আমার বাবা এ দেশের সবচেয়ে বড় গোল্ড স্মাগলার। আমি খুন করেছি। কেউ আমাকে ধরতে পারেনি। পারবেও না। তোর মতো একজনের লাশ ফেলে দিলেও কিছু হবে না।’

নাঈম আশরাফ নিজেকে আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে বলে পরিচয় দেন।

‘সে রাতের পার্টিতে যেতে শাফাত আহমেদ নানা ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়েছিলেন। তিনি ১৮ বার বাদীকে ফোন করেন’

শাফাত আহমেদ মামলার বাদীকে এবং নাঈম আশরাফ তাঁর বান্ধবীকে যখন ধর্ষণ করছিলেন, তখন পাশের কক্ষে তাঁদের দুই বন্ধু জিম্মি হয়ে আছেন। একপর্যায়ে শাফাত তাঁর গাড়িচালক বিল্লালকে বলেন ওই দুই বান্ধবীর ভিডিও করতে। মামলার বাদী ও তাঁর বান্ধবী কাঁদতে থাকেন অনবরত। তাঁরা ওই দুই বন্ধুকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন।

তখন শাফাত গাড়িচালক বিল্লালকে বলেন মামলার বাদী ও তাঁর বান্ধবীকে ধর্ষণের ভিডিওচিত্র ধারণ করতে।

বাদী প্রথম আলোকে বলছিলেন, ‘আমরা চিৎকার করে কেঁদেছি। ওদের পায়ে ধরেছি। শুধু ভেবেছি, এই হোটেলে কি আমাদের কান্না শোনার মতো একজন মানুষও নেই?’

শাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ নির্যাতন করেছেন, সাদমান সাকিফ বন্ধুত্বের শর্ত ভঙ্গ করেছেন। বাদী বলছিলেন, সে রাতে তাঁদের সঙ্গে যা হয়েছে, সাদমান সাকিফ উদ্যোগী হলে তা হতো না। দুই বছরের পুরোনো বন্ধু অপরাধীদের সহযোগী হবেন, তাঁরা ভাবতেও পারেননি।

 

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X