সোমবার, ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৭ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ৮:০০
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Wednesday, December 7, 2016 11:03 am
A- A A+ Print

সৈন্যদের হাতে ধর্ষণ ও হত্যার বীভৎস বর্ণনা দিলেন মোহসিনা

24

‘মায়ানমারের সৈন্যরা সকালে এসে কংক্রিট ও তালপাতার তৈরি ঘরবাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয় এবং গ্রামবাসীদের একসঙ্গে গ্রাম ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। প্রতিবেশিদের কয়েকজন ধান ক্ষেতে পালানোর চেষ্টা করলে সৈন্যরা গুলি করে। এরপর তাদের অধিকাংশই দৌড়ানো বন্ধ করে। পরে সৈন্যরা সেখান থেকে তাদের আটক করে নিয়ে যায়।’ বলছিলেন ২০ বছর বয়সী মোহসিনা বেগম। তাদের ছোট্ট গ্রাম ‘চাইর ফারায়’ যা ঘটেছে তিনি তার বর্ণনা করছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের শত শত সদস্যদের নির্মমভাবে নির্যাতন চালিয়ে আসছে মায়ানমার। মোহসিনা বলেন, ‘আমার চোখের সামনে বাবা-চাচা-স্বামীকে হত্যা করা হয়, আমাকে ধর্ষণ করা হয়।’
মোহসিনা বেগমের কোলে ছোট একটি শিশু, বয়স চার বছর। শিশুটি খালি গায়ে মায়ের কোলে খেলা করছে। মায়ানমারের আরাকান স্টেটের নামে তিনি শিশুটির নাম রেখেছেন আরকান। ‘সকাল বেলা হঠাৎ করেই একদল লোক অস্ত্র হাতে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। বাড়ি ভাঙচুর আর আগুন। বাড়ির পুরুষ, মহিলা শিশু সবাইকে আলাদা করে দাঁড় করানো হয়’ বলে জানায় মোহসিনা। মোহসিনা বলছিলেন ‘পুরুষদের আলাদা করে দাঁড় করায়, সেখানে আমার স্বামী, চাচা, আর বাবা ছিল। সাথে ছিল আরো ২৫ থেকে ২৭ জন ওই এলাকার পুরুষ। আর মেয়েদের বলা হয় আলাদা লাইনে দাঁড়াতে।’ এর পর তার চোখের সামনেই হত্যা করা হয় তার পরিবারের তিনজন পুরুষ সদস্যকে। ‘এরপর লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েদের মধ্যে যাদের বয়স অল্প তাদের কে ধরে নিয়ে বনের মধ্যে নিয়ে যায়। তাদের উপর চালানো হয় নির্যাতন, ধর্ষণ।’ মোহসিনা বলছিলেন, ‘আমাকে সাতজন পালাক্রমে ধর্ষণ করে।’ তিনি বলছিলেন, ‘এখন চোখের পানিও শুকিয়ে গেছে, কান্দনো আর আসে না।’ জ্ঞান হারান মোহসিনা। চেতনা ফিরে আসার পর পালিয়ে আসেন সেখান থেকে, কোলের শিশু আরকানের খোঁজে। বাড়ি ফিরে শুধু আরকানকে পান। এরপর নাফ নদী পাড়ি দিয়ে যারা বাংলাদেশে আসার চেষ্টা করছেন তাদের দেখা পাওয়ার আসায় নদীর উপকুলে আসেন। তবে তখন তিনি ততক্ষণে অসুস্থ হয়ে পড়েন। হার মোহাম্মদ নামে জাম্বুনিয়ার আরেক ব্যক্তি উদ্ধার করেন মোহসিনাকে। হার মোহাম্মদ বলছিলেন ‘সেদিন রাতে নৌকায় করে নাফ নদী পাড়ি দিয়ে অনেকেই টেকনাফের আসার চেষ্টা করছিলেন। সেই দলেই মোহসিনাকে নিয়ে তিনি উঠে পড়েন।’ নৌকা পাড়ি দিয়ে টেকনাফের আসার জন্য অবশ্য তাদের গুনতে হয়েছে অর্থ। হার মোহাম্মদ বলছিলেন মায়ানমারে তার ভাষায় দালালদের টাকা দিয়ে তারা নৌকায় উঠে পড়ে। মোহসিনার মত আরো অনেকেই টেকনাফে এসেছেন নদী পাড়ি দিয়ে। তাদের সবার কাছে কম-বেশি একই ধরণের নির্যাতনের কথা শোনা গেল। ১১ নভেম্বর ‘গাজো বিল’ গ্রামে আক্রমণ করা হলে সেখান থেকে পালিয়ে আসেন ওসমান গনি নামে আরবি ভাষার শিক্ষক। তিনি বলেন, ‘বর্মি সৈন্যরা সেখানে গিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা শুরু করে। পরে তারা আমাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়। আমরা নাফ নদীর কাছাকাছি একটি এলাকায় প্রায় এক সপ্তাহ অসহায় অবস্থায় ছিলাম কিন্তু কেউ আমাদের রক্ষা করতে এগিয়ে আসেনি।’ তিনি কাছাকাছি একটি গ্রামে এক সপ্তাহ ধরে তার পরিবার নিয়ে লুকিয়ে থাকেন। কিন্তু যখন রোহিঙ্গা অনুসন্ধান তীব্রতর করা হয় এবং সৈন্যরা রোহিঙ্গা পুরুষদের লক্ষ্য করে অনুসন্ধান শুরু করলে তিনি তার পরিবার ছাড়াই মায়ানমার ছাড়তে বাধ্য হন। গনি বলেন, ‘পরিবারকে ছেড়ে আসা ছাড়া আমার অন্য কোনো উপায় ছিল না। আমি নদী তীরে এসে সাঁতার শুরু করি।’ কয়েক দিন পরে তার পরিবার বাংলাদেশে তার সঙ্গে যোগদান করতে সক্ষম হয় বলে তিনি জানান। সিংহভাগ বৌদ্ধ জাতির দেশটিতে রোহিঙ্গা মুসলমানরা দীর্ঘদিন ধরে বৌদ্ধচরমপন্থীসহ সেনাদের নিপীড়নে শিকার হচ্ছেন। সেখানে তাদেরকে নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।   চলতি মাসে পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্য সংখ্যালঘু হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর রক্তাক্ত নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে দেশটির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। তাদের অমানবিক নির্যাতনে বাধ্য হয়ে এসব অসহায় রোহিঙ্গারা সীমান্ত অতিক্রম করে পার্শবর্তী বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে। সাম্প্রতিক নির্যাতনে প্রায় ৩০,০০০ রোহিঙ্গা তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে এবং উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে কয়েক হাজার ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। সূত্র: এপি

Comments

Comments!

 সৈন্যদের হাতে ধর্ষণ ও হত্যার বীভৎস বর্ণনা দিলেন মোহসিনাAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

সৈন্যদের হাতে ধর্ষণ ও হত্যার বীভৎস বর্ণনা দিলেন মোহসিনা

Wednesday, December 7, 2016 11:03 am
24

‘মায়ানমারের সৈন্যরা সকালে এসে কংক্রিট ও তালপাতার তৈরি ঘরবাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয় এবং গ্রামবাসীদের একসঙ্গে গ্রাম ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। প্রতিবেশিদের কয়েকজন ধান ক্ষেতে পালানোর চেষ্টা করলে সৈন্যরা গুলি করে। এরপর তাদের অধিকাংশই দৌড়ানো বন্ধ করে। পরে সৈন্যরা সেখান থেকে তাদের আটক করে নিয়ে যায়।’ বলছিলেন ২০ বছর বয়সী মোহসিনা বেগম।

তাদের ছোট্ট গ্রাম ‘চাইর ফারায়’ যা ঘটেছে তিনি তার বর্ণনা করছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের শত শত সদস্যদের নির্মমভাবে নির্যাতন চালিয়ে আসছে মায়ানমার।

মোহসিনা বলেন, ‘আমার চোখের সামনে বাবা-চাচা-স্বামীকে হত্যা করা হয়, আমাকে ধর্ষণ করা হয়।’

মোহসিনা বেগমের কোলে ছোট একটি শিশু, বয়স চার বছর। শিশুটি খালি গায়ে মায়ের কোলে খেলা করছে। মায়ানমারের আরাকান স্টেটের নামে তিনি শিশুটির নাম রেখেছেন আরকান।

‘সকাল বেলা হঠাৎ করেই একদল লোক অস্ত্র হাতে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। বাড়ি ভাঙচুর আর আগুন। বাড়ির পুরুষ, মহিলা শিশু সবাইকে আলাদা করে দাঁড় করানো হয়’ বলে জানায় মোহসিনা।

মোহসিনা বলছিলেন ‘পুরুষদের আলাদা করে দাঁড় করায়, সেখানে আমার স্বামী, চাচা, আর বাবা ছিল। সাথে ছিল আরো ২৫ থেকে ২৭ জন ওই এলাকার পুরুষ। আর মেয়েদের বলা হয় আলাদা লাইনে দাঁড়াতে।’

এর পর তার চোখের সামনেই হত্যা করা হয় তার পরিবারের তিনজন পুরুষ সদস্যকে।

‘এরপর লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েদের মধ্যে যাদের বয়স অল্প তাদের কে ধরে নিয়ে বনের মধ্যে নিয়ে যায়। তাদের উপর চালানো হয় নির্যাতন, ধর্ষণ।’

মোহসিনা বলছিলেন, ‘আমাকে সাতজন পালাক্রমে ধর্ষণ করে।’ তিনি বলছিলেন, ‘এখন চোখের পানিও শুকিয়ে গেছে, কান্দনো আর আসে না।’

জ্ঞান হারান মোহসিনা। চেতনা ফিরে আসার পর পালিয়ে আসেন সেখান থেকে, কোলের শিশু আরকানের খোঁজে।

বাড়ি ফিরে শুধু আরকানকে পান। এরপর নাফ নদী পাড়ি দিয়ে যারা বাংলাদেশে আসার চেষ্টা করছেন তাদের দেখা পাওয়ার আসায় নদীর উপকুলে আসেন। তবে তখন তিনি ততক্ষণে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

হার মোহাম্মদ নামে জাম্বুনিয়ার আরেক ব্যক্তি উদ্ধার করেন মোহসিনাকে।

হার মোহাম্মদ বলছিলেন ‘সেদিন রাতে নৌকায় করে নাফ নদী পাড়ি দিয়ে অনেকেই টেকনাফের আসার চেষ্টা করছিলেন। সেই দলেই মোহসিনাকে নিয়ে তিনি উঠে পড়েন।’

নৌকা পাড়ি দিয়ে টেকনাফের আসার জন্য অবশ্য তাদের গুনতে হয়েছে অর্থ। হার মোহাম্মদ বলছিলেন মায়ানমারে তার ভাষায় দালালদের টাকা দিয়ে তারা নৌকায় উঠে পড়ে।

মোহসিনার মত আরো অনেকেই টেকনাফে এসেছেন নদী পাড়ি দিয়ে।

তাদের সবার কাছে কম-বেশি একই ধরণের নির্যাতনের কথা শোনা গেল।

১১ নভেম্বর ‘গাজো বিল’ গ্রামে আক্রমণ করা হলে সেখান থেকে পালিয়ে আসেন ওসমান গনি নামে আরবি ভাষার শিক্ষক।

তিনি বলেন, ‘বর্মি সৈন্যরা সেখানে গিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা শুরু করে। পরে তারা আমাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়। আমরা নাফ নদীর কাছাকাছি একটি এলাকায় প্রায় এক সপ্তাহ অসহায় অবস্থায় ছিলাম কিন্তু কেউ আমাদের রক্ষা করতে এগিয়ে আসেনি।’

তিনি কাছাকাছি একটি গ্রামে এক সপ্তাহ ধরে তার পরিবার নিয়ে লুকিয়ে থাকেন। কিন্তু যখন রোহিঙ্গা অনুসন্ধান তীব্রতর করা হয় এবং সৈন্যরা রোহিঙ্গা পুরুষদের লক্ষ্য করে অনুসন্ধান শুরু করলে তিনি তার পরিবার ছাড়াই মায়ানমার ছাড়তে বাধ্য হন।

গনি বলেন, ‘পরিবারকে ছেড়ে আসা ছাড়া আমার অন্য কোনো উপায় ছিল না। আমি নদী তীরে এসে সাঁতার শুরু করি।’

কয়েক দিন পরে তার পরিবার বাংলাদেশে তার সঙ্গে যোগদান করতে সক্ষম হয় বলে তিনি জানান।

সিংহভাগ বৌদ্ধ জাতির দেশটিতে রোহিঙ্গা মুসলমানরা দীর্ঘদিন ধরে বৌদ্ধচরমপন্থীসহ সেনাদের নিপীড়নে শিকার হচ্ছেন। সেখানে তাদেরকে নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

 

চলতি মাসে পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্য সংখ্যালঘু হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর রক্তাক্ত নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে দেশটির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। তাদের অমানবিক নির্যাতনে বাধ্য হয়ে এসব অসহায় রোহিঙ্গারা সীমান্ত অতিক্রম করে পার্শবর্তী বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে।

সাম্প্রতিক নির্যাতনে প্রায় ৩০,০০০ রোহিঙ্গা তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে এবং উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে কয়েক হাজার ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে।

সূত্র: এপি

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X