শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১১ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ১০:৩৩
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Tuesday, January 3, 2017 9:50 am
A- A A+ Print

স্বপ্নার হ্যাটট্রিকে স্বপ্নের ফাইনাল,বাংলাদেশ ৬: ০ মালদ্বীপ

9

এমন রাত খুব কমই এসেছে বাংলাদেশের ফুটবলে। স্বপ্নের রাত! আর এটিকে স্বপ্নাতুর করে রাখলেন সিরাত জাহান স্বপ্না। রংপুরের এই কিশোরীর হ্যাটট্রিকে প্রথমবারের মতো মেয়েদের সাফের ফাইনালে উঠল বাংলাদেশ। কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইটের আলোয় তখন আনন্দের ফল্গুধারা। ম্যাচ শেষে বাঁধভাঙা উল্লাসে মাতল বাংলাদেশের মেয়েরা। এ উল্লাস স্বপ্নছোঁয়ার। এ আনন্দ ইতিহাস গড়ার। শিলিগুড়িতে মেয়েদের সাফের সেমিফাইনালে মালদ্বীপকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে ইতিহাসেরই অংশ হলেন সাবিনা খাতুনরা। আগামীকালের ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ তিনবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত। মেয়েদের সাফে গত তিন আসরে দুবার সেমিফাইনাল পর্যন্ত উঠেছিল বাংলাদেশ। ছেলেদের সাফেও ২০০৩ সালের পর থেকেই শিরোপা-খরা। পুরুষ ও মহিলা মিলিয়ে সেই ২০০৫ সালের পর আবারও সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের এমন দাপুটে জয় এসেছে সিরাত জাহান স্বপ্নার হ্যাটট্রিকে। অন্য দুটি গোল সাবিনা খাতুনের। একটি গোল করেছেন নার্গিস খাতুন। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে শক্তিশালী ভারতের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে বাংলাদেশ। সেই আত্মবিশ্বাসই জ্বালানি জুগিয়েছে মেয়েদের মনে। তা ছাড়া সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ মালদ্বীপ বলেই আশায় বুক বেঁধে খেলতে নামে বাংলাদেশের মেয়েরা। এর আগে সাফে মালদ্বীপের সঙ্গে একবারই মুখোমুখি হয়ে জিতেছে বাংলাদেশ। দুই বছর আগে পাকিস্তান সাফে সেই জয়টাও ছিল বড়, ৩-১ গোলের। এই পরিসংখ্যানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতার সাফল্যগুলোও ছিল আত্মবিশ্বাস-জাগানিয়া। এই দলে মাত্র পাঁচজন সিনিয়র, বাকি সবাই অনূর্ধ্ব-১৬ দলের। সব মিলিয়েই আজকের এই দুর্দান্ত জয়। ম্যাচের শুরুতে অবশ্য গোল খেয়েই বসতে পারত বাংলাদেশ। চার মিনিটে মালদ্বীপ মিডফিল্ডার মারিয়া হঠাৎই বক্সে ঢুকে পড়েন। কিন্তু অসাধারণ দক্ষতায় বলটি ধরে ফেলেন গোলরক্ষক সাবিনা আক্তার। ওই একবারই মালদ্বীপ যা একটু সুযোগ পেয়েছে। এরপর সময় যতই গড়িয়েছে বাংলাদেশের আক্রমণের তোড়ে দিশেহারা হয়েছে মালদ্বীপ দল। ম্যাচের ১১ মিনিটে স্বপ্নার গোলে প্রথমে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। বক্সের সামান্য বাইরে থেকে কোনাকুনি শটে স্বপ্না বল জড়ান জালে। ২২ মিনিটে সাবিনা খাতুনের পাস থেকে স্বপ্নারই প্লেসিং স্কোরলাইন হয় ২-০। দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ ছিল আরও আক্রমণাত্মক। ৪৭ মিনিটে স্বপ্নার ক্রস থেকে সাবিনা খাতুন করেন ৩-০। ৫২ মিনিটে ম্যাচের চতুর্থ গোলটি করেছেন নার্গিস। ৫৬ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন স্বপ্না। এটি ছিল বাংলাদেশের পঞ্চম গোল। ৫৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে বাংলাদেশের ষষ্ঠ গোলটি করেন সাবিনা। বাকি সময় যেন আরও খোলসে ঢুকে যায় মালদ্বীপ। বাংলাদেশের সামনে শেষ পর্যন্ত তারা ছিল অসহায়। ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন ভীষণ উচ্ছ্বসিত, ‘আমার মনের ভেতরে একটা সুপ্ত বাসনা ছিল সাফে খেলব আমরা। সাফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন। ওনার হাত থেকে ট্রফি নিতে চাই আমি, সেই স্বপ্নের এক সিঁড়িতে পা দিলাম। এই জয়ের পুরো কৃতিত্ব দিতে চাই মেয়েদের। আমার পরিকল্পনা ছিল আজ আমরা অলআউট খেলব। প্রথমে গোল পেয়ে একটু নির্ভার হয়ে পড়েছিল সবাই। তবে সবাই তাদের শতভাগ দিয়েই খেলেছে।’ হ্যাটট্রিক-নায়িকা স্বপ্নার মুখেও চিকচিক করছিল আনন্দ, ‘এত দিন শুধু অন্যকে দিয়ে গোল করাতাম। আজ ক্যারিয়ারে প্রথম হ্যাটট্রিক করলাম। দেশের হয়ে হ্যাটট্রিক করলাম, এই আনন্দ বলে বোঝানো যাবে না।’ বাংলাদেশ দল: সাবিনা আক্তার, শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার, নার্গিস খাতুন, মাসুরা পারভীন, মাইনু মারমা (সানজিদা), জাহানারা মৌসুমী, সিরাত জাহান স্বপ্না (আনুচিং), সাবিনা খাতুন, মারিয়া মান্দা, কৃষ্ণা (মার্জিয়া)।

Comments

Comments!

 স্বপ্নার হ্যাটট্রিকে স্বপ্নের ফাইনাল,বাংলাদেশ ৬: ০ মালদ্বীপAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

স্বপ্নার হ্যাটট্রিকে স্বপ্নের ফাইনাল,বাংলাদেশ ৬: ০ মালদ্বীপ

Tuesday, January 3, 2017 9:50 am
9

এমন রাত খুব কমই এসেছে বাংলাদেশের ফুটবলে। স্বপ্নের রাত! আর এটিকে স্বপ্নাতুর করে রাখলেন সিরাত জাহান স্বপ্না। রংপুরের এই কিশোরীর হ্যাটট্রিকে প্রথমবারের মতো মেয়েদের সাফের ফাইনালে উঠল বাংলাদেশ।
কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইটের আলোয় তখন আনন্দের ফল্গুধারা। ম্যাচ শেষে বাঁধভাঙা উল্লাসে মাতল বাংলাদেশের মেয়েরা। এ উল্লাস স্বপ্নছোঁয়ার। এ আনন্দ ইতিহাস গড়ার। শিলিগুড়িতে মেয়েদের সাফের সেমিফাইনালে মালদ্বীপকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে ইতিহাসেরই অংশ হলেন সাবিনা খাতুনরা। আগামীকালের ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ তিনবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত।
মেয়েদের সাফে গত তিন আসরে দুবার সেমিফাইনাল পর্যন্ত উঠেছিল বাংলাদেশ। ছেলেদের সাফেও ২০০৩ সালের পর থেকেই শিরোপা-খরা। পুরুষ ও মহিলা মিলিয়ে সেই ২০০৫ সালের পর আবারও সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের এমন দাপুটে জয় এসেছে সিরাত জাহান স্বপ্নার হ্যাটট্রিকে। অন্য দুটি গোল সাবিনা খাতুনের। একটি গোল করেছেন নার্গিস খাতুন।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে শক্তিশালী ভারতের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে বাংলাদেশ। সেই আত্মবিশ্বাসই জ্বালানি জুগিয়েছে মেয়েদের মনে। তা ছাড়া সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ মালদ্বীপ বলেই আশায় বুক বেঁধে খেলতে নামে বাংলাদেশের মেয়েরা। এর আগে সাফে মালদ্বীপের সঙ্গে একবারই মুখোমুখি হয়ে জিতেছে বাংলাদেশ। দুই বছর আগে পাকিস্তান সাফে সেই জয়টাও ছিল বড়, ৩-১ গোলের। এই পরিসংখ্যানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতার সাফল্যগুলোও ছিল আত্মবিশ্বাস-জাগানিয়া। এই দলে মাত্র পাঁচজন সিনিয়র, বাকি সবাই অনূর্ধ্ব-১৬ দলের। সব মিলিয়েই আজকের এই দুর্দান্ত জয়।
ম্যাচের শুরুতে অবশ্য গোল খেয়েই বসতে পারত বাংলাদেশ। চার মিনিটে মালদ্বীপ মিডফিল্ডার মারিয়া হঠাৎই বক্সে ঢুকে পড়েন। কিন্তু অসাধারণ দক্ষতায় বলটি ধরে ফেলেন গোলরক্ষক সাবিনা আক্তার। ওই একবারই মালদ্বীপ যা একটু সুযোগ পেয়েছে। এরপর সময় যতই গড়িয়েছে বাংলাদেশের আক্রমণের তোড়ে দিশেহারা হয়েছে মালদ্বীপ দল। ম্যাচের ১১ মিনিটে স্বপ্নার গোলে প্রথমে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। বক্সের সামান্য বাইরে থেকে কোনাকুনি শটে স্বপ্না বল জড়ান জালে। ২২ মিনিটে সাবিনা খাতুনের পাস থেকে স্বপ্নারই প্লেসিং স্কোরলাইন হয় ২-০।
দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ ছিল আরও আক্রমণাত্মক। ৪৭ মিনিটে স্বপ্নার ক্রস থেকে সাবিনা খাতুন করেন ৩-০। ৫২ মিনিটে ম্যাচের চতুর্থ গোলটি করেছেন নার্গিস। ৫৬ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন স্বপ্না। এটি ছিল বাংলাদেশের পঞ্চম গোল। ৫৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে বাংলাদেশের ষষ্ঠ গোলটি করেন সাবিনা। বাকি সময় যেন আরও খোলসে ঢুকে যায় মালদ্বীপ। বাংলাদেশের সামনে শেষ পর্যন্ত তারা ছিল অসহায়।
ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন ভীষণ উচ্ছ্বসিত, ‘আমার মনের ভেতরে একটা সুপ্ত বাসনা ছিল সাফে খেলব আমরা। সাফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন। ওনার হাত থেকে ট্রফি নিতে চাই আমি, সেই স্বপ্নের এক সিঁড়িতে পা দিলাম। এই জয়ের পুরো কৃতিত্ব দিতে চাই মেয়েদের। আমার পরিকল্পনা ছিল আজ আমরা অলআউট খেলব। প্রথমে গোল পেয়ে একটু নির্ভার হয়ে পড়েছিল সবাই। তবে সবাই তাদের শতভাগ দিয়েই খেলেছে।’
হ্যাটট্রিক-নায়িকা স্বপ্নার মুখেও চিকচিক করছিল আনন্দ, ‘এত দিন শুধু অন্যকে দিয়ে গোল করাতাম। আজ ক্যারিয়ারে প্রথম হ্যাটট্রিক করলাম। দেশের হয়ে হ্যাটট্রিক করলাম, এই আনন্দ বলে বোঝানো যাবে না।’
বাংলাদেশ দল: সাবিনা আক্তার, শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার, নার্গিস খাতুন, মাসুরা পারভীন, মাইনু মারমা (সানজিদা), জাহানারা মৌসুমী, সিরাত জাহান স্বপ্না (আনুচিং), সাবিনা খাতুন, মারিয়া মান্দা, কৃষ্ণা (মার্জিয়া)।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X