শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১১ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ৮:৫০
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Friday, September 29, 2017 10:18 am
A- A A+ Print

হঠাৎ দিল্লির রাস্তায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীদের নৈশ মিছিল

images

দিল্লি: ভারতের বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় বা বিএইচইউ-য়ের ছাত্রছাত্রীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও হেনস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে দিল্লির ছাত্রীরা বৃহস্পতিবার রাতে দেশের রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেছে। এই বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে রাতে, কারণ সূর্যাস্তের পর ছাত্রীরা কেন হোস্টেলের বাইরে থাকবে তা নিয়েই বেনারসে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘাত শুরু হয়েছিল। খবর বিবিসির। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরাও অনেকেই মনে করছেন দেশের সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ক্যাম্পাসেও মেয়েরা অনেক সুযোগ-সুবিধা ও সুরক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত। ‘পিঁজড়া তোড়’ নামে দিল্লিতে ছাত্রছাত্রীদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন - যার অর্থ হল খাঁচা ভাঙো - তার বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দিল্লি ইউনিভার্সিটির আর্টস ফ্যাকাল্টির সামনে থেকে তাদের নৈশ মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। গত সপ্তাহে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানি হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ প্রশ্ন তুলেছিল - কেন সন্ধ্যা ছটার পরেও তিনি হোস্টেলের বাইরে ছিলেন? এরপর পুলিশ ক্যাম্পাসে ছাত্রছাত্রীদের ব্যাপক মারধরও করে - তারই প্রতিবাদে ছিল তাদের এদিনের আয়োজন। এই ছাত্রীরা প্রশ্ন তুলছেন, ‘দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে যেখানে ছেলেরা রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত হোস্টেলে ঢুকতে পারে, সেখানে মেয়েদের কেন অনেক আগে ঢুকে পড়তে হবে?’ কিংবা আর একজনের কথায়, ‘অনেক কষ্ট করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসার পরও কি মেয়েদের সঙ্গে বঞ্চনা শেষ হবে না?’ যে বেনারস থেকে এই বিতর্কের শুরু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজে সেখানকার এমপি। ছাত্রছাত্রীদের বিক্ষোভের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কনভয়ের রাস্তা পাল্টাতে হয়েছিল বলেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ লেলিয়ে দেয় - এমনও অভিযোগ উঠেছে সেখানে। অথচ অ্যাক্টিভিস্ট যোগেন্দ্র যাদব বলছিলেন, তাদের দাবিগুলো ছিল অতি সাধারণ। তার প্রশ্ন, ‘ছাত্রীরা ক্যাম্পাসে অধিকতর সুরক্ষা, সূর্যাস্তের পর রাস্তায় আলোর ব্যবস্থা, হোস্টেলে সিসিটিভি বা বিশ্ববিদ্যালয়ে জেন্ডার সেন্সিটাইজেশন কমিটি - এগুলোই শুধু চেয়েছিল। এগুলো কী এমন দাবি, ছাত্রীদের তা চাইতেই বা হবে কেন?’ জেএনইউ-র ছাত্রী সংগঠনের নেত্রী শায়লা রশিদও বলছেন, আসলে ক্যাম্পাসে মেয়েরা অনেক ন্যূনতম সুবিধা থেকেই বঞ্চিত। তিনি জানাচ্ছেন, ‘মেয়েদের অযথাই বদনাম করা হয়। অথচ এই বেনারসেই দেখুন, মেয়েদের হোস্টেলে ওয়াই-ফাই পর্যন্ত দেওয়া হয় না এই যুক্তিতে তাতে না কি ছাত্রীদের চরিত্র খারাপ হয়ে যাবে।’ দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নেতা সৈকত ঘোষও মনে করেন, মেয়েদের সুরক্ষা দেওয়ার নামে আসলে ক্যাম্পাসে তাদের পায়েই বেড়ি পড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে। যেখানেই বিপদের আশঙ্কা দেখা যায় - তা সত্যিই হোক বা কল্পিত - তখনই প্রথমে বলা হয় মেয়েদের ভেতরে ঢুকিয়ে দাও, তাদের আটকে রাখো। এটা দিল্লিই হোক বা বিএইচইউ, দেশের সব ক্যাম্পাসেই কর্তৃপক্ষের মানসিকতার মধ্যে ঢুকে গেছে। আর কড়াকড়ির শেকলটা সব সময়ই মেয়েদের পরানো হয়, ছেলেদেরকে নয়। ‘এই যে রক্ষণশীলতার আবহ, সেটা বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর অনেক বেড়ে গেছে। আর এই রক্ষণশীলতার বিরুদ্ধে যে-ই কথা বলবে, বলা হবে সেই রাজনীতি নিয়ে আসছে, কিংবা সে নকশাল, মাওবাদী - এই সব! এই জিনিসই চলছে’, বলছিলেন অধ্যাপক ঘোষ। এরই প্রতিবাদে রাতে দিল্লিতে পথে নামছেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ও শহরের আরও বহু কলেজের ছাত্রীরা - বেনারসের ঘটনা তার প্রধান উপলক্ষ হলেও ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের সুরক্ষা আর সমান অধিকার নিশ্চিত করাই যার প্রধান লক্ষ্য।
 

Comments

Comments!

 হঠাৎ দিল্লির রাস্তায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীদের নৈশ মিছিলAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

হঠাৎ দিল্লির রাস্তায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীদের নৈশ মিছিল

Friday, September 29, 2017 10:18 am
images

দিল্লি: ভারতের বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় বা বিএইচইউ-য়ের ছাত্রছাত্রীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও হেনস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে দিল্লির ছাত্রীরা বৃহস্পতিবার রাতে দেশের রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেছে।

এই বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে রাতে, কারণ সূর্যাস্তের পর ছাত্রীরা কেন হোস্টেলের বাইরে থাকবে তা নিয়েই বেনারসে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘাত শুরু হয়েছিল। খবর বিবিসির।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরাও অনেকেই মনে করছেন দেশের সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ক্যাম্পাসেও মেয়েরা অনেক সুযোগ-সুবিধা ও সুরক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত।

‘পিঁজড়া তোড়’ নামে দিল্লিতে ছাত্রছাত্রীদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন – যার অর্থ হল খাঁচা ভাঙো – তার বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দিল্লি ইউনিভার্সিটির আর্টস ফ্যাকাল্টির সামনে থেকে তাদের নৈশ মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

গত সপ্তাহে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানি হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ প্রশ্ন তুলেছিল – কেন সন্ধ্যা ছটার পরেও তিনি হোস্টেলের বাইরে ছিলেন? এরপর পুলিশ ক্যাম্পাসে ছাত্রছাত্রীদের ব্যাপক মারধরও করে – তারই প্রতিবাদে ছিল তাদের এদিনের আয়োজন।

এই ছাত্রীরা প্রশ্ন তুলছেন, ‘দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে যেখানে ছেলেরা রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত হোস্টেলে ঢুকতে পারে, সেখানে মেয়েদের কেন অনেক আগে ঢুকে পড়তে হবে?’

কিংবা আর একজনের কথায়, ‘অনেক কষ্ট করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসার পরও কি মেয়েদের সঙ্গে বঞ্চনা শেষ হবে না?’

যে বেনারস থেকে এই বিতর্কের শুরু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজে সেখানকার এমপি।

ছাত্রছাত্রীদের বিক্ষোভের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কনভয়ের রাস্তা পাল্টাতে হয়েছিল বলেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ লেলিয়ে দেয় – এমনও অভিযোগ উঠেছে সেখানে।

অথচ অ্যাক্টিভিস্ট যোগেন্দ্র যাদব বলছিলেন, তাদের দাবিগুলো ছিল অতি সাধারণ।

তার প্রশ্ন, ‘ছাত্রীরা ক্যাম্পাসে অধিকতর সুরক্ষা, সূর্যাস্তের পর রাস্তায় আলোর ব্যবস্থা, হোস্টেলে সিসিটিভি বা বিশ্ববিদ্যালয়ে জেন্ডার সেন্সিটাইজেশন কমিটি – এগুলোই শুধু চেয়েছিল। এগুলো কী এমন দাবি, ছাত্রীদের তা চাইতেই বা হবে কেন?’

জেএনইউ-র ছাত্রী সংগঠনের নেত্রী শায়লা রশিদও বলছেন, আসলে ক্যাম্পাসে মেয়েরা অনেক ন্যূনতম সুবিধা থেকেই বঞ্চিত।

তিনি জানাচ্ছেন, ‘মেয়েদের অযথাই বদনাম করা হয়। অথচ এই বেনারসেই দেখুন, মেয়েদের হোস্টেলে ওয়াই-ফাই পর্যন্ত দেওয়া হয় না এই যুক্তিতে তাতে না কি ছাত্রীদের চরিত্র খারাপ হয়ে যাবে।’

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নেতা সৈকত ঘোষও মনে করেন, মেয়েদের সুরক্ষা দেওয়ার নামে আসলে ক্যাম্পাসে তাদের পায়েই বেড়ি পড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে।

যেখানেই বিপদের আশঙ্কা দেখা যায় – তা সত্যিই হোক বা কল্পিত – তখনই প্রথমে বলা হয় মেয়েদের ভেতরে ঢুকিয়ে দাও, তাদের আটকে রাখো। এটা দিল্লিই হোক বা বিএইচইউ, দেশের সব ক্যাম্পাসেই কর্তৃপক্ষের মানসিকতার মধ্যে ঢুকে গেছে। আর কড়াকড়ির শেকলটা সব সময়ই মেয়েদের পরানো হয়, ছেলেদেরকে নয়।

‘এই যে রক্ষণশীলতার আবহ, সেটা বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর অনেক বেড়ে গেছে। আর এই রক্ষণশীলতার বিরুদ্ধে যে-ই কথা বলবে, বলা হবে সেই রাজনীতি নিয়ে আসছে, কিংবা সে নকশাল, মাওবাদী – এই সব! এই জিনিসই চলছে’, বলছিলেন অধ্যাপক ঘোষ।

এরই প্রতিবাদে রাতে দিল্লিতে পথে নামছেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ও শহরের আরও বহু কলেজের ছাত্রীরা – বেনারসের ঘটনা তার প্রধান উপলক্ষ হলেও ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের সুরক্ষা আর সমান অধিকার নিশ্চিত করাই যার প্রধান লক্ষ্য।

 

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X