রবিবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৩:৩৯
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Tuesday, May 16, 2017 11:18 pm
A- A A+ Print

হত্যা মামলার আসামি মুশফিকের বাবা

masuk_mushfiq_dad_hamid_47324_1494952034

বগুড়ার এসওএস হারম্যান মেইনার স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণীর ছাত্র মাসুক ফেরদৌসকে (১৫) হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের বাবা মাহবুব হামিদ তারাকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়েছে। মামলায় মুশফিকের চাচা আওয়ামী লীগ সমর্থিত পৌর কাউন্সিলর মেজবাউল হামিদসহ মোট ১৬ জনকে আসামি করা হয়। হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পর মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে নিহতের বাবা জাসদের (ইনু) কেন্দ্রীয় সদস্য অ্যাডভোকেট এমদাদুল হক এমদাদ এ মামলা করেন। অন্য আসামিরা হলেন- মাটিডালির মৃত মোখলেছার রহমানের ছেলে লাল মিয়া (৪০), আহমেদ আলীর ছেলে খায়রুল (৪২), মৃত আজহার আলীর ছেলে আল-আমিন হেলাল (৪০), মৃত ইজাহার আলীর ছেলে ছামছুল (৪৮), আবদুল কুদ্দুস ড্রাইভারের ছেলে তাজুল (৪২), হাজিপাড়ার বেলাল হোসেন সরকারের ছেলে নাঈম (১৮), ফকিরপাড়ার শহিদুল ইসলামের ছেলে অনিক (১৯), মাটিডালির মৃত আবদুল খালেকের ছেলে নাহিদ (৩২), আবদুর রহমানের ছেলে কাঞ্চন (২৮), মৃত আবদুল মান্নানের ছেলে ফয়সাল (২২), ওয়াহাব আলীর ছেলে সাকিল (২৮), আনসার আলীর ছেলে সাকিব (২৪), মোস্তফা হোসেন মোস্তর ছেলে বিটুল (২৮) এবং বেলাল হোসেন ফকিরের ছেলে মামুন (৩০)। বাদী এজাহারে উল্লেখ করেছেন, মাহবুব হামিদ তারা ও তার ভাই বগুড়া পৌরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মেজবাউল হামিদের সঙ্গে পারিবারিক শত্রুতা ও স্থানীয় মাটিডালি উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন নিয়ে মনোমালিন্য ও শত্রুতা চলে আসছে। এ কারণে আসামিরা তার ও পরিবারের জানমালের ক্ষতির পরিকল্পনা করতে থাকে। এ অবস্থায় গত ১১ মে রাত ১০টার দিকে কাউন্সিলর কার্যালয়ে মাহবুব হামিদ তারা, কাউন্সিলর মেজবাউল হামিদ, লাল মিয়া, খায়রুল, আল-আমিন হেলাল, ছামছুল ও তাজুল তার ছেলে মাসুক ফেরদৌসকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। নাহিদ নামে এক সাক্ষী টের পেলে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে প্রকাশ না করতে নিষেধ করা হয়। গত ১৩ মে সন্ধ্যার দিকে তিনি (বাদী) বাড়িতে না থাকার সুযোগে আসামি নাঈম ও অনিক তার হাজিপাড়ার বাসায় আসে। স্ত্রী ফিরোজা বেগম কেয়াকে জানায়, মাসুকের সঙ্গে জরুরি কথা আছে। এরপর মাসুককে একই এলাকায় নাঈমের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মাহবুব হামিদ তারা, লাল মিয়া, খায়রুল, আল-আমিন হেলাল, ছামছুল, তাজুল, নাঈম, অনিক, নাহিদ, কাঞ্চন, ফয়সাল, সাকিল, সাকিব, বিটুল ও মামুন তার ছেলে মাসুক ফেরদৌসকে আটক ও হত্যার হুমকি দেয় এবং চিৎকার করতে নিষেধ করে। এরপর তারা মাসুকের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। (ফোনটি পরে নাঈমের বাড়ি থেকে পুলিশ উদ্ধার করে)। রাত ৮টার দিকে মাসুক আসামিদের কবল থেকে বাঁচতে দৌড় দেয়ার চেষ্টা করলে লাঠি, হকিস্টিক, ক্রিকেট ব্যাট, ছোরাসহ বিভিন্ন অস্ত্রে সজ্জিত আসামিরা তাকে ধাওয়া করে। আসামি বিটুলের বাড়ির সামনে মাসুককে ঘেরাও করে। এরপর মাহবুব হামিদ তারা ও লাল মিয়া তাকে জাপটে ধরে। তখন ফয়সাল ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে আর অনিক হকিস্টিক দিয়ে মাথায় আঘাত করে। কাঞ্চন লাঠি দিয়ে গলার ডান পাশে আঘাত করে। আঘাতে মাসুকের মাথায় রক্তাক্ত জখম হয়। মাসুক মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আসামিরা আনন্দ-উল্লাস করে। এজাহারে বাদী আরও উল্লেখ করেন, ওই সময় তিনি টের পেয়ে ঘটনাস্থলে এগিয়ে গেলে বিদ্যুতের আলোতে ২ নম্বর আসামি মেজবাউল হামিদ ছাড়া অন্য সকলকে চিনতে পারেন। সাক্ষীরাও তাদের চিনতে পেরেছে। আসামিরা যাওয়ার সময় বলে- 'মেজবাহ ভাইয়ের কথামত কাজ করে টাকা হালাল করলাম'। পরে তিনি গুরুতর আহত ছেলে মাসুককে গাড়িতে তুলে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দিকে রওনা হন। পথিমধ্যে মাসুক আসামিদের নাম ও বিস্তারিত জানায়। হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মাসুককে মৃত ঘোষণা করেন। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও আসামিদের হুমকির কারণে মামলা করতে দেরি হয় বলেও বাদী এজাহারে উল্লেখ করেছেন। সদর থানার ওসি এমদাদ হোসেন জানান, নিহতের বাবা অ্যাডভোকেট এমদাদের এজাহার পাওয়া গেছে। অভিযোগটি রুজ্জুর প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি এ ব্যাপারে তদন্ত চালানো হচ্ছে। এদিকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে মাহবুব হামিদ তারা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ দৃঢ়তার সঙ্গে অস্বীকার করেন। তিনিও এর সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

Comments

Comments!

 হত্যা মামলার আসামি মুশফিকের বাবাAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

হত্যা মামলার আসামি মুশফিকের বাবা

Tuesday, May 16, 2017 11:18 pm
masuk_mushfiq_dad_hamid_47324_1494952034

বগুড়ার এসওএস হারম্যান মেইনার স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণীর ছাত্র মাসুক ফেরদৌসকে (১৫) হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের বাবা মাহবুব হামিদ তারাকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়েছে।

মামলায় মুশফিকের চাচা আওয়ামী লীগ সমর্থিত পৌর কাউন্সিলর মেজবাউল হামিদসহ মোট ১৬ জনকে আসামি করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পর মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে নিহতের বাবা জাসদের (ইনু) কেন্দ্রীয় সদস্য অ্যাডভোকেট এমদাদুল হক এমদাদ এ মামলা করেন।

অন্য আসামিরা হলেন- মাটিডালির মৃত মোখলেছার রহমানের ছেলে লাল মিয়া (৪০), আহমেদ আলীর ছেলে খায়রুল (৪২), মৃত আজহার আলীর ছেলে আল-আমিন হেলাল (৪০), মৃত ইজাহার আলীর ছেলে ছামছুল (৪৮), আবদুল কুদ্দুস ড্রাইভারের ছেলে তাজুল (৪২), হাজিপাড়ার বেলাল হোসেন সরকারের ছেলে নাঈম (১৮), ফকিরপাড়ার শহিদুল ইসলামের ছেলে অনিক (১৯), মাটিডালির মৃত আবদুল খালেকের ছেলে নাহিদ (৩২), আবদুর রহমানের ছেলে কাঞ্চন (২৮), মৃত আবদুল মান্নানের ছেলে ফয়সাল (২২), ওয়াহাব আলীর ছেলে সাকিল (২৮), আনসার আলীর ছেলে সাকিব (২৪), মোস্তফা হোসেন মোস্তর ছেলে বিটুল (২৮) এবং বেলাল হোসেন ফকিরের ছেলে মামুন (৩০)।

বাদী এজাহারে উল্লেখ করেছেন, মাহবুব হামিদ তারা ও তার ভাই বগুড়া পৌরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মেজবাউল হামিদের সঙ্গে পারিবারিক শত্রুতা ও স্থানীয় মাটিডালি উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন নিয়ে মনোমালিন্য ও শত্রুতা চলে আসছে। এ কারণে আসামিরা তার ও পরিবারের জানমালের ক্ষতির পরিকল্পনা করতে থাকে।

এ অবস্থায় গত ১১ মে রাত ১০টার দিকে কাউন্সিলর কার্যালয়ে মাহবুব হামিদ তারা, কাউন্সিলর মেজবাউল হামিদ, লাল মিয়া, খায়রুল, আল-আমিন হেলাল, ছামছুল ও তাজুল তার ছেলে মাসুক ফেরদৌসকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। নাহিদ নামে এক সাক্ষী টের পেলে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে প্রকাশ না করতে নিষেধ করা হয়।

গত ১৩ মে সন্ধ্যার দিকে তিনি (বাদী) বাড়িতে না থাকার সুযোগে আসামি নাঈম ও অনিক তার হাজিপাড়ার বাসায় আসে। স্ত্রী ফিরোজা বেগম কেয়াকে জানায়, মাসুকের সঙ্গে জরুরি কথা আছে।

এরপর মাসুককে একই এলাকায় নাঈমের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মাহবুব হামিদ তারা, লাল মিয়া, খায়রুল, আল-আমিন হেলাল, ছামছুল, তাজুল, নাঈম, অনিক, নাহিদ, কাঞ্চন, ফয়সাল, সাকিল, সাকিব, বিটুল ও মামুন তার ছেলে মাসুক ফেরদৌসকে আটক ও হত্যার হুমকি দেয় এবং চিৎকার করতে নিষেধ করে।

এরপর তারা মাসুকের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। (ফোনটি পরে নাঈমের বাড়ি থেকে পুলিশ উদ্ধার করে)। রাত ৮টার দিকে মাসুক আসামিদের কবল থেকে বাঁচতে দৌড় দেয়ার চেষ্টা করলে লাঠি, হকিস্টিক, ক্রিকেট ব্যাট, ছোরাসহ বিভিন্ন অস্ত্রে সজ্জিত আসামিরা তাকে ধাওয়া করে।

আসামি বিটুলের বাড়ির সামনে মাসুককে ঘেরাও করে। এরপর মাহবুব হামিদ তারা ও লাল মিয়া তাকে জাপটে ধরে। তখন ফয়সাল ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে আর অনিক হকিস্টিক দিয়ে মাথায় আঘাত করে। কাঞ্চন লাঠি দিয়ে গলার ডান পাশে আঘাত করে। আঘাতে মাসুকের মাথায় রক্তাক্ত জখম হয়। মাসুক মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আসামিরা আনন্দ-উল্লাস করে।

এজাহারে বাদী আরও উল্লেখ করেন, ওই সময় তিনি টের পেয়ে ঘটনাস্থলে এগিয়ে গেলে বিদ্যুতের আলোতে ২ নম্বর আসামি মেজবাউল হামিদ ছাড়া অন্য সকলকে চিনতে পারেন। সাক্ষীরাও তাদের চিনতে পেরেছে। আসামিরা যাওয়ার সময় বলে- ‘মেজবাহ ভাইয়ের কথামত কাজ করে টাকা হালাল করলাম’।

পরে তিনি গুরুতর আহত ছেলে মাসুককে গাড়িতে তুলে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দিকে রওনা হন। পথিমধ্যে মাসুক আসামিদের নাম ও বিস্তারিত জানায়।

হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মাসুককে মৃত ঘোষণা করেন। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও আসামিদের হুমকির কারণে মামলা করতে দেরি হয় বলেও বাদী এজাহারে উল্লেখ করেছেন।

সদর থানার ওসি এমদাদ হোসেন জানান, নিহতের বাবা অ্যাডভোকেট এমদাদের এজাহার পাওয়া গেছে। অভিযোগটি রুজ্জুর প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি এ ব্যাপারে তদন্ত চালানো হচ্ছে।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে মাহবুব হামিদ তারা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ দৃঢ়তার সঙ্গে অস্বীকার করেন। তিনিও এর সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X