রবিবার, ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৬ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৫:০০
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Wednesday, July 27, 2016 9:58 pm
A- A A+ Print

হলি আর্টিজান এখন যেমন আছে

৯

জঙ্গি হামলার পর এবারই প্রথম হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁর সামনে এসেছেন কুতুব উদ্দিন। গলির মুখে রাখা ব্যারিকেডের সামনে ব্যানারে টানানো নিহত ব্যক্তিদের ছবির মধ্যে খুঁজে বের করলেন হাস্যোজ্জ্বল ইশরাত আখন্দকে। সঙ্গীকে ডেকে বললেন, ‘এই যে, ইশরাত আপা।’ কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে তখন যেন কিছুটা বিষাদের ছোঁয়া। ইশরাত মানবসম্পদ বিভাগে পরিচালক হিসেবে কাজ করতেন জেডএক্সওয়াই ইন্টারন্যাশনাল এফজেডকোতে। ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গিদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হন তিনি। হলি আর্টিজান বেকারির সামনে এখনো দেখা যায় উৎসুক মানুষের আনাগোনা। অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া কাউকেই যেতে দেওয়া হয় না তারকাঁটার ব্যারিকেডের ভেতরে। তারপরও উৎসুক মানুষ ভেতরে ঢোকার মুখে দাঁড়িয়ে সামনে তাকিয়ে থাকে। পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানতে চায় ভেতরের অবস্থা। নিজেদের মধ্যে কখনো কখনো আলোচনা করেন নিচু স্বরে। আবার কেউবা কুতুব উদ্দিনের মতো নিহত পরিচিতজনের স্মৃতি রোমন্থন করেন।গুলশান হলি আর্টিজান বেকারি রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার পর ৭৯ নম্বর সড়কের মাথায় টানানো আছে নিহত ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি। ছবি: সাহাদাত পারভেজ কাছের এক হাসপাতালে রোগী দেখতে এসেছিলেন কুতুব উদ্দিন। ফেরার পথেই সঙ্গীকে নিয়ে হলি আর্টিজানের সামনে আসা। তিনি বললেন, ‘জঙ্গি হামলা নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলছে। কিন্তু সত্যি কোনটা, সেটিই বিশ্বাস করতে পারছি না।’ ব্যারিকেডের সামনে এখনো আছে কিছু ফুল। এর মধ্যেই সফেদ কাগজে মোড়ানো এক তোড়া সাদা ফুল নজরে এল। কিছুটা মলিন হয়ে এসেছে পাতা। তামাটে রং ধরেছে পাপড়িতে। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা জানালেন, আজ বুধবার কেউ ফুল দিতে আসেননি। তবে কিছু নতুন ব্যানার চোখে পড়ল। ইতালির বাংলাদেশ কমিউনিটির নামে একটি ব্যানারে জানানো হয়েছে শোক। এ ছাড়া সোনালি অতীত ক্লাবের ব্যানারে লেখা আছে, ‘স্টপ টেররিজম’। গাড়িচালক নাসিরুদ্দিন সোহেলের বাড়ি শরীয়তপুর। থাকেন ঢাকায় কল্যাণপুরে। ব্যারিকেডের সামনে রাখা ব্যানারগুলোর লেখা পড়ছিলেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার পর পরিবার নিয়ে এখন বেশ ভয়েই আছেন। কিছুদিন আগেই তাঁর স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে চিড়িয়াখানায় যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কখন কী হয়ে যায়, সেই ভয়ে আর যাননি। তাঁর মতে, দেশি-বিদেশি নাগরিকদের এভাবে হত্যার ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নেতিবাচক দিকটিই তুলে ধরে। গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারি রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার পর ২৭ দিন পার হয়েছে। ৭৯ নম্বর রাস্তার মাথায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে রাখা শুকিয়ে যাওয়া ফুলগুলোর ছবি আজ বুধবার তোলা হয়েছে। ছবি: সাহাদাত পারভেজবেসরকারি চাকরিজীবী রাহেলা সুলতানা গুলশান এসেছিলেন অফিসের কাজে। রাস্তায় যাওয়ার পথে একবার দাঁড়ালেন হলি আর্টিজানের সামনে। জানালেন, নিছক কৌতূহল থেকেই আসা। তিনি বললেন, এমন হত্যাকাণ্ড কোনো ধর্মই সমর্থন করে না। ১ জুলাইয়ের ওই জঙ্গি হামলায় ১৭ জন বিদেশি, তিনজন বাংলাদেশি ও দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। পরে কমান্ডো অভিযানে পাঁচ জঙ্গি ও রেস্তোরাঁর এক কর্মী নিহত হন। ১৭ জন বিদেশি নাগরিকের মধ্যে নয়জন ইতালীয়, সাতজন জাপানি ও একজন ভারতীয় নাগরিক। গুলশানের ৭৯ নম্বর সড়কে যাওয়ার সব কটি রাস্তায় এখনো পুলিশের সতর্ক পাহারা আছে। রয়েছে বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে মোড়ে পুলিশের চৌকি। তল্লাশি চলছে পুরোদমে। বিভিন্ন গাড়ির ডেক খুলে দেখা হচ্ছে। তল্লাশি করে দেখা হচ্ছে ব্যাগ। প্রয়োজন হলেই মোটরসাইকেল আরোহীকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জবাব সন্তোষজনক হলেই যাওয়ার অনুমতি মিলছে। হলি আর্টিজান বেকারিতে যাওয়ার গলির মুখেও একই অবস্থা। ওই গলির বিভিন্ন বাসায় যাঁরা থাকছেন, তাঁদেরও পরিচয় নিশ্চিত করেই ঢুকতে দিচ্ছে পুলিশ। হলি আর্টিজানের পাশের বাসাতেই ফার্নিচারের কাজ করছেন মো. অলি। তিনি বলেন, তল্লাশির পরই তাঁদের ঢোকার অনুমতি মেলে। সেখানে দায়িত্বরত এসআই মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, হলি আর্টিজানে এখন পালা করে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। কবে ব্যারিকেড তুলে দেওয়া হবে—এ প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষই শুধু বলতে পারবে।

Comments

Comments!

 হলি আর্টিজান এখন যেমন আছেAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

হলি আর্টিজান এখন যেমন আছে

Wednesday, July 27, 2016 9:58 pm
৯

জঙ্গি হামলার পর এবারই প্রথম হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁর সামনে এসেছেন কুতুব উদ্দিন। গলির মুখে রাখা ব্যারিকেডের সামনে ব্যানারে টানানো নিহত ব্যক্তিদের ছবির মধ্যে খুঁজে বের করলেন হাস্যোজ্জ্বল ইশরাত আখন্দকে। সঙ্গীকে ডেকে বললেন, ‘এই যে, ইশরাত আপা।’ কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে তখন যেন কিছুটা বিষাদের ছোঁয়া।
ইশরাত মানবসম্পদ বিভাগে পরিচালক হিসেবে কাজ করতেন জেডএক্সওয়াই ইন্টারন্যাশনাল এফজেডকোতে। ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গিদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হন তিনি।
হলি আর্টিজান বেকারির সামনে এখনো দেখা যায় উৎসুক মানুষের আনাগোনা। অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া কাউকেই যেতে দেওয়া হয় না তারকাঁটার ব্যারিকেডের ভেতরে। তারপরও উৎসুক মানুষ ভেতরে ঢোকার মুখে দাঁড়িয়ে সামনে তাকিয়ে থাকে। পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানতে চায় ভেতরের অবস্থা। নিজেদের মধ্যে কখনো কখনো আলোচনা করেন নিচু স্বরে। আবার কেউবা কুতুব উদ্দিনের মতো নিহত পরিচিতজনের স্মৃতি রোমন্থন করেন।গুলশান হলি আর্টিজান বেকারি রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার পর ৭৯ নম্বর সড়কের মাথায় টানানো আছে নিহত ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি। ছবি: সাহাদাত পারভেজ
কাছের এক হাসপাতালে রোগী দেখতে এসেছিলেন কুতুব উদ্দিন। ফেরার পথেই সঙ্গীকে নিয়ে হলি আর্টিজানের সামনে আসা। তিনি বললেন, ‘জঙ্গি হামলা নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলছে। কিন্তু সত্যি কোনটা, সেটিই বিশ্বাস করতে পারছি না।’
ব্যারিকেডের সামনে এখনো আছে কিছু ফুল। এর মধ্যেই সফেদ কাগজে মোড়ানো এক তোড়া সাদা ফুল নজরে এল। কিছুটা মলিন হয়ে এসেছে পাতা। তামাটে রং ধরেছে পাপড়িতে। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা জানালেন, আজ বুধবার কেউ ফুল দিতে আসেননি। তবে কিছু নতুন ব্যানার চোখে পড়ল। ইতালির বাংলাদেশ কমিউনিটির নামে একটি ব্যানারে জানানো হয়েছে শোক। এ ছাড়া সোনালি অতীত ক্লাবের ব্যানারে লেখা আছে, ‘স্টপ টেররিজম’।
গাড়িচালক নাসিরুদ্দিন সোহেলের বাড়ি শরীয়তপুর। থাকেন ঢাকায় কল্যাণপুরে। ব্যারিকেডের সামনে রাখা ব্যানারগুলোর লেখা পড়ছিলেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার পর পরিবার নিয়ে এখন বেশ ভয়েই আছেন। কিছুদিন আগেই তাঁর স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে চিড়িয়াখানায় যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কখন কী হয়ে যায়, সেই ভয়ে আর যাননি। তাঁর মতে, দেশি-বিদেশি নাগরিকদের এভাবে হত্যার ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নেতিবাচক দিকটিই তুলে ধরে।

গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারি রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার পর ২৭ দিন পার হয়েছে। ৭৯ নম্বর রাস্তার মাথায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে রাখা শুকিয়ে যাওয়া ফুলগুলোর ছবি আজ বুধবার তোলা হয়েছে। ছবি: সাহাদাত পারভেজবেসরকারি চাকরিজীবী রাহেলা সুলতানা গুলশান এসেছিলেন অফিসের কাজে। রাস্তায় যাওয়ার পথে একবার দাঁড়ালেন হলি আর্টিজানের সামনে। জানালেন, নিছক কৌতূহল থেকেই আসা। তিনি বললেন, এমন হত্যাকাণ্ড কোনো ধর্মই সমর্থন করে না।
১ জুলাইয়ের ওই জঙ্গি হামলায় ১৭ জন বিদেশি, তিনজন বাংলাদেশি ও দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। পরে কমান্ডো অভিযানে পাঁচ জঙ্গি ও রেস্তোরাঁর এক কর্মী নিহত হন। ১৭ জন বিদেশি নাগরিকের মধ্যে নয়জন ইতালীয়, সাতজন জাপানি ও একজন ভারতীয় নাগরিক।
গুলশানের ৭৯ নম্বর সড়কে যাওয়ার সব কটি রাস্তায় এখনো পুলিশের সতর্ক পাহারা আছে। রয়েছে বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে মোড়ে পুলিশের চৌকি। তল্লাশি চলছে পুরোদমে। বিভিন্ন গাড়ির ডেক খুলে দেখা হচ্ছে। তল্লাশি করে দেখা হচ্ছে ব্যাগ। প্রয়োজন হলেই মোটরসাইকেল আরোহীকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জবাব সন্তোষজনক হলেই যাওয়ার অনুমতি মিলছে।

হলি আর্টিজান বেকারিতে যাওয়ার গলির মুখেও একই অবস্থা। ওই গলির বিভিন্ন বাসায় যাঁরা থাকছেন, তাঁদেরও পরিচয় নিশ্চিত করেই ঢুকতে দিচ্ছে পুলিশ। হলি আর্টিজানের পাশের বাসাতেই ফার্নিচারের কাজ করছেন মো. অলি। তিনি বলেন, তল্লাশির পরই তাঁদের ঢোকার অনুমতি মেলে।

সেখানে দায়িত্বরত এসআই মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, হলি আর্টিজানে এখন পালা করে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। কবে ব্যারিকেড তুলে দেওয়া হবে—এ প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষই শুধু বলতে পারবে।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X