মঙ্গলবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ১১:৫১
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Monday, July 24, 2017 12:24 pm | আপডেটঃ July 24, 2017 5:14 PM
A- A A+ Print

হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা, মাহফুজের জবানবন্দিতে অস্ত্র সংগ্রহের কাহিনি

r

হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার পরিকল্পনা পর্যায়ে ঢাকার মিরপুরের একটি বাসায় নব্য জেএমবির একটি সভায় উপস্থিত ছিলেন সোহেল মাহফুজ। সেখানে তাঁকে অস্ত্র ও বোমা সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

গতকাল রোববার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সোহেল মাহফুজ এসব তথ্য দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়। গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা মামলায় তাঁর জবানবন্দি গ্রহণ করেন মহানগর হাকিম আহসান হাবিব। পরে মাহফুজকে কারাগারে পাঠানো হয়।

সোহেল মাহফুজ জবানবন্দিতে বলেন, অস্ত্র ও বোমা সংগ্রহের দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জে গিয়ে ভারতে অবস্থানকারী ছোট মিজানকে দায়িত্ব দেন। এরপর ছোট মিজান ভারত থেকে অস্ত্র (একে-২২ ও পিস্তল) ও গুলির চালান চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট বাজারে নিয়ে আসেন। পরে সেখান থেকে এগুলো বাসে ঢাকার কল্যাণপুরে নিয়ে আসেন রাশেদ ওরফে র‍্যাশ। সেখান থেকে অস্ত্রগুলো বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তামিম চৌধুরীর বাসায় পৌঁছে দেন মারজান।

বসুন্ধরার ওই বাসা থেকে গত বছর ১ জুলাই পাঁচ জঙ্গি গুলশানে হোলি আর্টিজান বেকারিতে গিয়ে হামলা চালায়।

সোহেল মাহফুজ জবানবন্দিতে বলেন, তিনি ২০০২ সালে জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশে (জেএমবি) যোগ দেন এবং রংপুরের বিভিন্ন অঞ্চলে সদস্য সংগ্রহের (দাওয়াতি) কাজ করেন। ২০০৪ সালে সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাইয়ের নেতৃত্বে রাজশাহীর বাগমারায় কথিত সর্বহারা নিধন অভিযানেও অংশ নেন মাহফুজ। তখন নওগাঁর আত্রাইয়ে জেএমবির একটি ক্যাম্পে জঙ্গি শাকিলের কাছে বোমা বানানো শেখেন। তখন বোমার বিস্ফোরণে তাঁর ডান হাতের কবজি উড়ে যায়।

পরে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে একটি ভাড়া বাসায় সোহেল মাহফুজ বোমা বানানোর প্রশিক্ষণ দিতেন। সেই সময় জঙ্গিনেতা সালাউদ্দিন ওরফে সালেহীন, খালেদ সাইফুল্লাহর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। মাহফুজ ২০০৯ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ চলে যান। জেএমবির শ‌ুরা সদস্য হওয়ার পর সেখানে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। ২০১০ সালে জেএমবির দ্বিতীয় আমির সাইদুর রহমান গ্রেপ্তার হন। এরপর ২০১৪ সালে জেলের ভেতরে ও বাইরে থাকা জেএমবির সদস্যদের পরিকল্পনায় ময়মনসিংহের ত্রিশালে আনোয়ার হোসেন ওরফে জামাই ফারুক প্রিজন ভ্যানে হামলা ও পুলিশ হত্যা করে জঙ্গিনেতা সালেহীন, বোমা মিজান ও হাফেজ মাহমুদকে ছিনিয়ে নিয়ে যান। হাফেজ মাহমুদ পরে বন্দুকযুদ্ধে মারা যান।

জবানবন্দিতে সোহেল মাহফুজ বলেন, সালেহীন ও বোমা মিজান ভারতে চলে যান। সালেহীন ভারতে গিয়ে জেএমবির আমির নিযুক্ত হন। এরপর মাহফুজ ও টাঙ্গাইলের শাকিলকে বোমা বানানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়। শাকিল ভারতের বর্ধমানের খাগড়াগড়ে বোমা তৈরির সময় মারা যান। তখন আবদুল হাকিম নামের এক জঙ্গি ভারতের পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। এরপর সোহেল মাহফুজ ভারত ছেড়ে দেশে ফেরেন। ২০১৬ সালে আত্মীয় আবু মুসা ওরফে রবিনের মাধ্যমে নব্য জেএমবিতে যোগ দেন।

Comments

Comments!

 হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা, মাহফুজের জবানবন্দিতে অস্ত্র সংগ্রহের কাহিনিAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা, মাহফুজের জবানবন্দিতে অস্ত্র সংগ্রহের কাহিনি

Monday, July 24, 2017 12:24 pm | আপডেটঃ July 24, 2017 5:14 PM
r

হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার পরিকল্পনা পর্যায়ে ঢাকার মিরপুরের একটি বাসায় নব্য জেএমবির একটি সভায় উপস্থিত ছিলেন সোহেল মাহফুজ। সেখানে তাঁকে অস্ত্র ও বোমা সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

গতকাল রোববার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সোহেল মাহফুজ এসব তথ্য দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়। গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা মামলায় তাঁর জবানবন্দি গ্রহণ করেন মহানগর হাকিম আহসান হাবিব। পরে মাহফুজকে কারাগারে পাঠানো হয়।

সোহেল মাহফুজ জবানবন্দিতে বলেন, অস্ত্র ও বোমা সংগ্রহের দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জে গিয়ে ভারতে অবস্থানকারী ছোট মিজানকে দায়িত্ব দেন। এরপর ছোট মিজান ভারত থেকে অস্ত্র (একে-২২ ও পিস্তল) ও গুলির চালান চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট বাজারে নিয়ে আসেন। পরে সেখান থেকে এগুলো বাসে ঢাকার কল্যাণপুরে নিয়ে আসেন রাশেদ ওরফে র‍্যাশ। সেখান থেকে অস্ত্রগুলো বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তামিম চৌধুরীর বাসায় পৌঁছে দেন মারজান।

বসুন্ধরার ওই বাসা থেকে গত বছর ১ জুলাই পাঁচ জঙ্গি গুলশানে হোলি আর্টিজান বেকারিতে গিয়ে হামলা চালায়।

সোহেল মাহফুজ জবানবন্দিতে বলেন, তিনি ২০০২ সালে জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশে (জেএমবি) যোগ দেন এবং রংপুরের বিভিন্ন অঞ্চলে সদস্য সংগ্রহের (দাওয়াতি) কাজ করেন। ২০০৪ সালে সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাইয়ের নেতৃত্বে রাজশাহীর বাগমারায় কথিত সর্বহারা নিধন অভিযানেও অংশ নেন মাহফুজ। তখন নওগাঁর আত্রাইয়ে জেএমবির একটি ক্যাম্পে জঙ্গি শাকিলের কাছে বোমা বানানো শেখেন। তখন বোমার বিস্ফোরণে তাঁর ডান হাতের কবজি উড়ে যায়।

পরে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে একটি ভাড়া বাসায় সোহেল মাহফুজ বোমা বানানোর প্রশিক্ষণ দিতেন। সেই সময় জঙ্গিনেতা সালাউদ্দিন ওরফে সালেহীন, খালেদ সাইফুল্লাহর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। মাহফুজ ২০০৯ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ চলে যান। জেএমবির শ‌ুরা সদস্য হওয়ার পর সেখানে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। ২০১০ সালে জেএমবির দ্বিতীয় আমির সাইদুর রহমান গ্রেপ্তার হন। এরপর ২০১৪ সালে জেলের ভেতরে ও বাইরে থাকা জেএমবির সদস্যদের পরিকল্পনায় ময়মনসিংহের ত্রিশালে আনোয়ার হোসেন ওরফে জামাই ফারুক প্রিজন ভ্যানে হামলা ও পুলিশ হত্যা করে জঙ্গিনেতা সালেহীন, বোমা মিজান ও হাফেজ মাহমুদকে ছিনিয়ে নিয়ে যান। হাফেজ মাহমুদ পরে বন্দুকযুদ্ধে মারা যান।

জবানবন্দিতে সোহেল মাহফুজ বলেন, সালেহীন ও বোমা মিজান ভারতে চলে যান। সালেহীন ভারতে গিয়ে জেএমবির আমির নিযুক্ত হন। এরপর মাহফুজ ও টাঙ্গাইলের শাকিলকে বোমা বানানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়। শাকিল ভারতের বর্ধমানের খাগড়াগড়ে বোমা তৈরির সময় মারা যান। তখন আবদুল হাকিম নামের এক জঙ্গি ভারতের পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। এরপর সোহেল মাহফুজ ভারত ছেড়ে দেশে ফেরেন। ২০১৬ সালে আত্মীয় আবু মুসা ওরফে রবিনের মাধ্যমে নব্য জেএমবিতে যোগ দেন।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X