শনিবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ৮:২৮
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Sunday, November 13, 2016 7:16 am
A- A A+ Print

১২০ কোটি টাকা ফেরত, হদিস নেই ৬০০ কোটির

169950_180

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরির ৯ মাস পর প্রায় ৮০০ কোটি টাকার মধ্যে ১২০ কোটি টাকা ফেরত পাওয়া গেছে। ফিলিপাইন থেকে এ অর্থ ফেরত দেয়া হয়েছে। গত শুক্রবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিদলের উপস্থিতিতে দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জন গোমেজের কাছে এর দলিল হস্তান্তর করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ও বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্ট ইউনিটের প্রধান আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান গতকাল নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল অর্থ গ্রহণ করেছে। ব্যাংকিং চ্যানেলে সোমবার অথবা মঙ্গলবার এ অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভে যোগ হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি যাওয়া প্রায় ৮০০ কোটি টাকার মধ্যে ফিলিপাইনে হদিস পাওয়া যায় ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এর মধ্যে ফিলিপাইনের জুয়ার কারবারি কিম অং ১ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার ডলার সমপরিমাণ ফিলিপাইনি মুদ্রা সেই দেশের কেন্দ্রীয় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ কমিটির কাছে জমা দেন। বাংলাদেশী মুদ্রায় তা প্রায় ১২০ কোটি টাকা। এ অর্থ সে দেশের বিচার বিভাগের মাধ্যমে গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে জমা দেয়া হয়। হদিস পাওয়া ১ কোটি ৮০ লাখ ডলারের মধ্যে বাকিটা ফিলিপাইনের ক্যাসিনো নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপরে হাতে রয়েছে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চুরি হওয়া ৮০০ কোটি টাকার মধ্যে এ পর্যন্ত ২০০ কোটি টাকার হদিস পাওয়া গেলেও বাকি ৬০০ কোটি টাকার হদিস এখনো পাওয়া যায়নি। অর্থের সন্ধান পাওয়া গেছে ফিলিপাইন সরকার গঠিত একটি তদন্ত কমিটির সহায়তায়। বাকি অর্থ কোথায় আছে, কে নিয়েছে তার কোনো হদিস এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর রিজার্ভ চুরির উদ্ধার হওয়া এই দেড় কোটি ডলারের মালিকানা বাংলাদেশের বলে স্বীকৃতি দিয়ে তা ফেরত দিতে নির্দেশ দেন ফিলিপাইনের আদালত। এই অর্থ ক্যাসিনো ব্যবসায়ী কিম অংয়ের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। অর্থ ফেরত পেতে আইনি জটিলতা সম্পন্ন হওয়ায় গত ৮ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রতিনিধিদল ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় যায়। সেখানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতসহ প্রতিনিধিদল ওই দেশের সংশ্লিøষ্ট পগুলোর সাথে অর্থ ফেরত আসা নিয়ে আলোচনা করে। অবশেষে গত শুক্রবার রাষ্ট্রদূত জন গোমেজ অর্থ ফেরত পাওয়ার দলিল গ্রহণ করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, চুরি যাওয়া রিজার্ভের কিছু অংশ ডলারে এবং কিছু অংশ ফিলিপাইনের মুদ্রা পেসোতে উদ্ধার করা হয়েছে। যার মূল্য ১ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এই অর্থ পরবর্তী কর্মদিবসে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের বাংলাদেশ ব্যাংক হিসাবে জমা হবে। বাকি অর্থও আদায়ের প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, আমাদের রাষ্ট্রদূত অর্থ গ্রহণ করেছেন। গতকাল আমাদের এখানে ছুটি, আগামী কাল সেখানে ছুটি। সোম অথবা মঙ্গলবারের মধ্যেই দেড় কোটি ডলার ব্যাংকিং চ্যানেলে আমাদের রিজার্ভে যোগ হবে। তিনি বলেন, জমা হওয়া অর্থের মধ্যে ডলারের অংশটি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের মাধ্যমে নিউ ইয়র্ক ফেডের বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসেবে জমা হবে। আর পেসো অংশটি বাংলাদেশ দূতাবাসের হিসাবের মাধ্যমে নিউ ইয়র্ক ফেডে জমা হবে। গত ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮০০ কোটি টাকা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা চুরি হয়। ঘটনাটি জানাজানি হয় প্রায় এক মাস পরে। এর পর থেকে বলা হচ্ছে সহসাই অর্থ ফেরত আনা হবে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান পদত্যাগ করেন। অপসারণ করা হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের দুই ডেপুটি গভর্নরকে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধারে শুরুর দিকে বেশ তৎপরতা থাকলেও এখন তা অনেকটা ঝিমিয়ে পড়েছে। শনাক্ত হওয়া ২০০ কোটি টাকার বাইরে বাকি ৬০০ কোটি টাকা কবে নাগাদ পাওয়া যাবে বা আদৌ পাওয়া যাবে কি না তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়। এদিকে রিজার্ভ চুরির পর সরকার গঠিত বিশেষ তদন্ত কমিটি রিপোর্ট প্রায় ৫ মাস আগে সরকারের কাছে পেশ করা হলেও এখােও তা প্রকাশ করা হয়নি। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ২২ সেপ্টেম্বর রিজার্ভ চুরির তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। কিন্তু তা প্রকাশ করা হয়নি।

Comments

Comments!

 ১২০ কোটি টাকা ফেরত, হদিস নেই ৬০০ কোটিরAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

১২০ কোটি টাকা ফেরত, হদিস নেই ৬০০ কোটির

Sunday, November 13, 2016 7:16 am
169950_180

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরির ৯ মাস পর প্রায় ৮০০ কোটি টাকার মধ্যে ১২০ কোটি টাকা ফেরত পাওয়া গেছে। ফিলিপাইন থেকে এ অর্থ ফেরত দেয়া হয়েছে। গত শুক্রবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিদলের উপস্থিতিতে দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জন গোমেজের কাছে এর দলিল হস্তান্তর করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ও বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্ট ইউনিটের প্রধান আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান গতকাল নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল অর্থ গ্রহণ করেছে। ব্যাংকিং চ্যানেলে সোমবার অথবা মঙ্গলবার এ অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভে যোগ হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি যাওয়া প্রায় ৮০০ কোটি টাকার মধ্যে ফিলিপাইনে হদিস পাওয়া যায় ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এর মধ্যে ফিলিপাইনের জুয়ার কারবারি কিম অং ১ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার ডলার সমপরিমাণ ফিলিপাইনি মুদ্রা সেই দেশের কেন্দ্রীয় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ কমিটির কাছে জমা দেন। বাংলাদেশী মুদ্রায় তা প্রায় ১২০ কোটি টাকা। এ অর্থ সে দেশের বিচার বিভাগের মাধ্যমে গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে জমা দেয়া হয়। হদিস পাওয়া ১ কোটি ৮০ লাখ ডলারের মধ্যে বাকিটা ফিলিপাইনের ক্যাসিনো নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপরে হাতে রয়েছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চুরি হওয়া ৮০০ কোটি টাকার মধ্যে এ পর্যন্ত ২০০ কোটি টাকার হদিস পাওয়া গেলেও বাকি ৬০০ কোটি টাকার হদিস এখনো পাওয়া যায়নি। অর্থের সন্ধান পাওয়া গেছে ফিলিপাইন সরকার গঠিত একটি তদন্ত কমিটির সহায়তায়। বাকি অর্থ কোথায় আছে, কে নিয়েছে তার কোনো হদিস এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর রিজার্ভ চুরির উদ্ধার হওয়া এই দেড় কোটি ডলারের মালিকানা বাংলাদেশের বলে স্বীকৃতি দিয়ে তা ফেরত দিতে নির্দেশ দেন ফিলিপাইনের আদালত। এই অর্থ ক্যাসিনো ব্যবসায়ী কিম অংয়ের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল।
অর্থ ফেরত পেতে আইনি জটিলতা সম্পন্ন হওয়ায় গত ৮ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রতিনিধিদল ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় যায়। সেখানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতসহ প্রতিনিধিদল ওই দেশের সংশ্লিøষ্ট পগুলোর সাথে অর্থ ফেরত আসা নিয়ে আলোচনা করে। অবশেষে গত শুক্রবার রাষ্ট্রদূত জন গোমেজ অর্থ ফেরত পাওয়ার দলিল গ্রহণ করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, চুরি যাওয়া রিজার্ভের কিছু অংশ ডলারে এবং কিছু অংশ ফিলিপাইনের মুদ্রা পেসোতে উদ্ধার করা হয়েছে। যার মূল্য ১ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এই অর্থ পরবর্তী কর্মদিবসে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের বাংলাদেশ ব্যাংক হিসাবে জমা হবে। বাকি অর্থও আদায়ের প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, আমাদের রাষ্ট্রদূত অর্থ গ্রহণ করেছেন। গতকাল আমাদের এখানে ছুটি, আগামী কাল সেখানে ছুটি। সোম অথবা মঙ্গলবারের মধ্যেই দেড় কোটি ডলার ব্যাংকিং চ্যানেলে আমাদের রিজার্ভে যোগ হবে। তিনি বলেন, জমা হওয়া অর্থের মধ্যে ডলারের অংশটি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের মাধ্যমে নিউ ইয়র্ক ফেডের বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসেবে জমা হবে। আর পেসো অংশটি বাংলাদেশ দূতাবাসের হিসাবের মাধ্যমে নিউ ইয়র্ক ফেডে জমা হবে।
গত ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮০০ কোটি টাকা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা চুরি হয়। ঘটনাটি জানাজানি হয় প্রায় এক মাস পরে। এর পর থেকে বলা হচ্ছে সহসাই অর্থ ফেরত আনা হবে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান পদত্যাগ করেন। অপসারণ করা হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের দুই ডেপুটি গভর্নরকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধারে শুরুর দিকে বেশ তৎপরতা থাকলেও এখন তা অনেকটা ঝিমিয়ে পড়েছে। শনাক্ত হওয়া ২০০ কোটি টাকার বাইরে বাকি ৬০০ কোটি টাকা কবে নাগাদ পাওয়া যাবে বা আদৌ পাওয়া যাবে কি না তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়। এদিকে রিজার্ভ চুরির পর সরকার গঠিত বিশেষ তদন্ত কমিটি রিপোর্ট প্রায় ৫ মাস আগে সরকারের কাছে পেশ করা হলেও এখােও তা প্রকাশ করা হয়নি। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ২২ সেপ্টেম্বর রিজার্ভ চুরির তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। কিন্তু তা প্রকাশ করা হয়নি।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X