শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১১ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ১১:৫৮
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Saturday, July 30, 2016 10:19 pm
A- A A+ Print

১৭৮বলে ৪রান, ধ্বংসস্তুপে ফুল!

O'Keef-Nevil

ক্রিড়া ডেস্ক: পিটার নেভিল যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। প্রায় ৩০ওভার ধৈর্য্যের প্রতিমূর্তি হয়ে থাকার পর মনোযোগে হঠাৎ এমন চ্যুতি! লঙ্কানরা ততক্ষণে মেতে উঠেছে বিশ্বজয়ের উল্লাসে। রাজ্যেল হতাশা নিয়ে ড্রেসিং রুমে ফিরছিলেন অস্ট্রেলিয়ার উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। মুহূর্তের ভুলে শেষ অনন্য সাধারণ প্রতিরোধ! তবে ধ্বংসস্তপে দাঁড়িয়ে লড়াইয়ের অনন্য উদাহরণ হিসেবে টিকে থাকবে এই আখ্যান! থাকবে জীবন্ত রেকর্ডের পাতায়। পরাজয় থেকে দুই কদম দূরে দাঁড়িয়েও অসাধারণ প্রতিরোধ গড়েছিলেন নেভিল ও স্টিভেন ও’কিফ। দলকে অসম্ভব এক ড্রয়ের স্বপ্নও দেখাচ্ছিলেন ক্ষনিকের জন্য। সেটা হয়নি। নেভিলের ওই শটে ভেঙেছে জুটি। যে জুটিতে রান এসেছে মাত্র ৪। তারপরও কেন এত বীরত্বগাঁথা? কারণ, ওই ৪ রান এসেছে ১৭৮ বলে! টেস্ট ইতিহাসের মন্থরতম জুটি। কিন্তু সবচেয়ে সাহসী অধ্যায়গুলোর একটি। ধৈর্য্যের খেলা, সময়ের খেলা। প্রতিরোধের খেলা, ঘুরে দাঁড়ানোর খেলা। মাটি কামড়ে পড়ে থাকা, চোয়ালবদ্ধ লড়াই। টেস্ট ক্রিকেটের আদি-অকৃত্রিম ব্যাপারগুলিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেলেন নেভিল ও ও’কিফ। ইনিংসের ৫৭তম ওভারে ২২ গজে একসঙ্গে হয়েছিলেন দুজন। এরপর দুজন রচনা করলেন রক্ষণাত্মক ব্যাটিংয়ের অপূর্ব মহাকাব্য। বলের পর বল ব্লক হলো, একের পর এক বল ছেড়ে দেওয়া। জুটি ভাঙল ৮৬তম ওভারে। সেটিও কিনা বাজে এক বলে! লঙ্কানদের হাতে তখন নতুন বল। ধনঞ্জয়া ডি সিলভার বলটি ছিল শট, অফ স্টাম্পের বেশ বাইরে। এ রকম কত বল না খেলে চরম অনাগ্রহে ছেড়ে দিয়েছেন দুজন! কিন্তু নেভিল কি মনে করে কাট করতে গেলেন। ব্যাটের বাইরের কানায় চুমু দিয়ে বল কিপারের গ্লাভসে। লঙ্কানদের উল্লাস দেখে কে! ১৭৮ বলের জুটিতে স্কোরিং শট ছিল মাত্র একটি। ৬৩তম ওভারে লাকসান সান্দাকানকে সুইপ করে চার মেরেছিলেন ও’কিফ। জুটির রান রেট ০.১৩, কমপক্ষে ১০০ বল খেলা জুটির মধ্যে এটি টেস্ট ইতিহাসে সর্বনিম্ন। আগের সবচেয়ে কম স্কোরিং রেটের জুটি ছিল এবি ডি ভিলিয়ার্স ও হাশিম আমলার। গত ডিসেম্বরে দিল্লিতে ২৫৩ বলে ২৭ রানের জুটি গড়েছিলেন দুজন ভারতের বিপক্ষে। জুটির রানরেট ছিল ০.৬৪। এক পর্যায়ে এই জুটিতে রান আসেনি টানা ২৫.৪ ওভার। টেস্ট ইতিহাসে টানা ২৫ ওভার মেডেন খেলার নজির এটিই প্রথম। এর আগে টানা ১০০ বলও রান না করার উদাহরণ নেই একটিও। ১৯৫০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের টানা ৯২ বলে রান না করা ছিল আগের রেকর্ড। ভাগ্যের ছোঁয়াও অবশ্য পেয়েছে ও’কিফ ও নেভিলের জুটি। ৭৯তম ওভারে ও’কিফের ব্যাটে লেগে বল জমা পড়েছিল শর্ট লেগের হাতে। কিন্তু আউট দেননি আম্পায়ার। শ্রীলঙ্কার ছিল না কোনো রিভিউ! ৮৩তম ওভারে তো সেই ও’কিফকেই আবার ভুল আউট দিয়েছিলেন আম্পায়ার। কিন্তু বেঁচে যান তিনি রিভিউ নিয়ে। শেষ পর্যন্ত নেভিলের ওই আউটে লড়াইয়ে ক্ষান্তি। ১১৫ বলে নেভিল করেছেন ৯ রান। একশ বল খেলে দশের নিচে রান টেস্ট ইতিহাসে আছে আর মাত্র দুটি। ১৯৬৩ সালে ১০০ বলে অপরাজিত ৩ করেছিলেন জন মারি। ১৯৭৮ সালে ১০১ বলে ৭ করেছিলেন জিওফ মিলার। সঙ্গীকে হারিয়ে আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি ও’কিফ। বোল্ড হয়েছেন এক ওভার পরই। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে বল করতে পারেননি, কিন্তু ব্যাট হাতে ঠিকই করেছেন লড়াই। ১০৫ মিনিট উইকেটে থেকে ৯৮ বলে ৪ রান। শেষ পর্যন্ত নেভিল-ও’কিফদের হারিয়ে জিতেছে শ্রীলঙ্কা। তাদের জয়টিও তো রচনা করেছে ঘুরে দাঁড়ানোর দারুণ এক অধ্যায়। টেস্টের প্রথম দিনই ১১৭ রানে গুটিয়ে যাওয়া দল শেষ পর্যন্ত কিনা জিতল ১০৬ রানে! পাল্লেকেলে টেস্ট তাই শেষ পর্যন্ত গাইল টেস্ট ক্রিকেটেরই জয়গান!

Comments

Comments!

 ১৭৮বলে ৪রান, ধ্বংসস্তুপে ফুল!AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

১৭৮বলে ৪রান, ধ্বংসস্তুপে ফুল!

Saturday, July 30, 2016 10:19 pm
O'Keef-Nevil

ক্রিড়া ডেস্ক: পিটার নেভিল যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। প্রায় ৩০ওভার ধৈর্য্যের প্রতিমূর্তি হয়ে থাকার পর মনোযোগে হঠাৎ এমন চ্যুতি! লঙ্কানরা ততক্ষণে মেতে উঠেছে বিশ্বজয়ের উল্লাসে। রাজ্যেল হতাশা নিয়ে ড্রেসিং রুমে ফিরছিলেন অস্ট্রেলিয়ার উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। মুহূর্তের ভুলে শেষ অনন্য সাধারণ প্রতিরোধ! তবে ধ্বংসস্তপে দাঁড়িয়ে লড়াইয়ের অনন্য উদাহরণ হিসেবে টিকে থাকবে এই আখ্যান! থাকবে জীবন্ত রেকর্ডের পাতায়।

পরাজয় থেকে দুই কদম দূরে দাঁড়িয়েও অসাধারণ প্রতিরোধ গড়েছিলেন নেভিল ও স্টিভেন ও’কিফ। দলকে অসম্ভব এক ড্রয়ের স্বপ্নও দেখাচ্ছিলেন ক্ষনিকের জন্য। সেটা হয়নি। নেভিলের ওই শটে ভেঙেছে জুটি। যে জুটিতে রান এসেছে মাত্র ৪। তারপরও কেন এত বীরত্বগাঁথা?

কারণ, ওই ৪ রান এসেছে ১৭৮ বলে! টেস্ট ইতিহাসের মন্থরতম জুটি। কিন্তু সবচেয়ে সাহসী অধ্যায়গুলোর একটি। ধৈর্য্যের খেলা, সময়ের খেলা। প্রতিরোধের খেলা, ঘুরে দাঁড়ানোর খেলা। মাটি কামড়ে পড়ে থাকা, চোয়ালবদ্ধ লড়াই। টেস্ট ক্রিকেটের আদি-অকৃত্রিম ব্যাপারগুলিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেলেন নেভিল ও ও’কিফ।

ইনিংসের ৫৭তম ওভারে ২২ গজে একসঙ্গে হয়েছিলেন দুজন। এরপর দুজন রচনা করলেন রক্ষণাত্মক ব্যাটিংয়ের অপূর্ব মহাকাব্য। বলের পর বল ব্লক হলো, একের পর এক বল ছেড়ে দেওয়া। জুটি ভাঙল ৮৬তম ওভারে। সেটিও কিনা বাজে এক বলে!

লঙ্কানদের হাতে তখন নতুন বল। ধনঞ্জয়া ডি সিলভার বলটি ছিল শট, অফ স্টাম্পের বেশ বাইরে। এ রকম কত বল না খেলে চরম অনাগ্রহে ছেড়ে দিয়েছেন দুজন! কিন্তু নেভিল কি মনে করে কাট করতে গেলেন। ব্যাটের বাইরের কানায় চুমু দিয়ে বল কিপারের গ্লাভসে। লঙ্কানদের উল্লাস দেখে কে!

১৭৮ বলের জুটিতে স্কোরিং শট ছিল মাত্র একটি। ৬৩তম ওভারে লাকসান সান্দাকানকে সুইপ করে চার মেরেছিলেন ও’কিফ। জুটির রান রেট ০.১৩, কমপক্ষে ১০০ বল খেলা জুটির মধ্যে এটি টেস্ট ইতিহাসে সর্বনিম্ন। আগের সবচেয়ে কম স্কোরিং রেটের জুটি ছিল এবি ডি ভিলিয়ার্স ও হাশিম আমলার। গত ডিসেম্বরে দিল্লিতে ২৫৩ বলে ২৭ রানের জুটি গড়েছিলেন দুজন ভারতের বিপক্ষে। জুটির রানরেট ছিল ০.৬৪।

এক পর্যায়ে এই জুটিতে রান আসেনি টানা ২৫.৪ ওভার। টেস্ট ইতিহাসে টানা ২৫ ওভার মেডেন খেলার নজির এটিই প্রথম। এর আগে টানা ১০০ বলও রান না করার উদাহরণ নেই একটিও। ১৯৫০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের টানা ৯২ বলে রান না করা ছিল আগের রেকর্ড।

ভাগ্যের ছোঁয়াও অবশ্য পেয়েছে ও’কিফ ও নেভিলের জুটি। ৭৯তম ওভারে ও’কিফের ব্যাটে লেগে বল জমা পড়েছিল শর্ট লেগের হাতে। কিন্তু আউট দেননি আম্পায়ার। শ্রীলঙ্কার ছিল না কোনো রিভিউ!

৮৩তম ওভারে তো সেই ও’কিফকেই আবার ভুল আউট দিয়েছিলেন আম্পায়ার। কিন্তু বেঁচে যান তিনি রিভিউ নিয়ে।

শেষ পর্যন্ত নেভিলের ওই আউটে লড়াইয়ে ক্ষান্তি। ১১৫ বলে নেভিল করেছেন ৯ রান। একশ বল খেলে দশের নিচে রান টেস্ট ইতিহাসে আছে আর মাত্র দুটি। ১৯৬৩ সালে ১০০ বলে অপরাজিত ৩ করেছিলেন জন মারি। ১৯৭৮ সালে ১০১ বলে ৭ করেছিলেন জিওফ মিলার।

সঙ্গীকে হারিয়ে আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি ও’কিফ। বোল্ড হয়েছেন এক ওভার পরই। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে বল করতে পারেননি, কিন্তু ব্যাট হাতে ঠিকই করেছেন লড়াই। ১০৫ মিনিট উইকেটে থেকে ৯৮ বলে ৪ রান।

শেষ পর্যন্ত নেভিল-ও’কিফদের হারিয়ে জিতেছে শ্রীলঙ্কা। তাদের জয়টিও তো রচনা করেছে ঘুরে দাঁড়ানোর দারুণ এক অধ্যায়। টেস্টের প্রথম দিনই ১১৭ রানে গুটিয়ে যাওয়া দল শেষ পর্যন্ত কিনা জিতল ১০৬ রানে!

পাল্লেকেলে টেস্ট তাই শেষ পর্যন্ত গাইল টেস্ট ক্রিকেটেরই জয়গান!

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X