মঙ্গলবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ১:৫৮
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Thursday, September 8, 2016 12:55 am
A- A A+ Print

৩ কোটি টাকার মেশিন কেনা হলো ১০ কোটিতে

899

ট্টগ্রামের আন্দরকিল্লার ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ৩ কোটি টাকার মেশিন কিভাবে ১০ কোটি টাকা দিয়ে কেনা হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে হাসপাতালটির যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় দুর্নীতি তদন্তে প্রমাণ পেয়েছে কমিটি। গত বুধবার সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ও সিভিল সার্জন ডা. সরফরাজ খান চৌধুরীকে অভিযুক্ত করে এই প্রতিবেদন দিয়েছে তদন্ত কমিটির সদস্যরা। পরে প্রতিবেদনের কপি হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও এমপি জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর হাতে তুলে দেয়া হয়। এই সময় সেখানে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন ছাড়াও ছিলেন সদস্য সচিব ও সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী। পরে জিয়াউদ্দিন বাবলু প্রশ্নের জবাবে বলেন, দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। এই নিয়ে সরকারের উপরের মহলে আলোচনা হবে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে,  যন্ত্রপাতি কেনায় ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাজেট বরাদ্দ ছাড়াই দরপত্র আহ্বান করা হয়। বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোম্পানি এমআরআই ৯ কোটি ৯৫ লাখ ৫০ হাজার টাকায় কেনা হয়। কিন্তু ওই মেশিনের ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি দাম চেয়েছে ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার বা ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এএসএল থেকে কেনা কালার ডপলার চারটি, হিটাচি কালার ডপলার ২ডি অলোকা (মডেল এফ-৩১) জাপান প্রতিটি ৬৫ লাখ টাকায় কেনা হয়। কিন্তু ম্যানুফেকচারিং প্রতিষ্ঠানের দেশি এজেন্টের কাছ থেকে প্রাপ্ত কোটেশনে ওই আইটেমের প্রতিটির মূল্য ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এতে আরো বলা হয়, ডা. সরফরাজ খান চৌধুরী প্রকিউরিং এনটাইটি (পিই) এর প্রধান ছিলেন। একই ব্যক্তি দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি (টিইসি) ও টেকনিক্যাল সাব কমিটির (টিএসসি) সভাপতি ছিলেন, যা পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর)-২০০৮ দ্বারা প্রতারণার পর্যায়ভুক্ত। ২০১৪ সালের ২৫শে মে টিএসসির সভায় চার সদস্যের কমিটির মধ্যে কেবল সভাপতি ডা. সরফরাজের স্বাক্ষর ছিল। এ ছাড়া ডা. সরফরাজ খান চৌধুরী ২০১৫ সালের ৩০শে এপ্রিল সিএসসি/হিসাব/২০১৪-২০১৫/১০৭৭৪/১ নম্বর স্মারকে ঢাকার মিরপুরের মেসার্স আহমেদ এন্টারপ্রাইজকে আটটি আইসিইউ ভেন্টিলেটর, আটটি আইসিইউ বেড ও একটি কার্ডিয়াক পেসেন্ট মনিটর চাহিদা বহির্ভূতভাবে ৫ কোটি ৩৭ লাখ ২৫ হাজার টাকায় কার্যাদেশ দিয়েছেন। কার্যাদেশ নম্বর ১০৭৭৪ (৬) মূলে মেসার্স আহমেদ এন্টারপ্রাইজ থেকে সিসিইউ এবং অপারেশন থিয়েটারের যে ১০টি আইটেমের যন্ত্রপাতি কেনা হয় তার একটিও দাখিলকৃত টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশান, ক্যাটালগ, কান্ট্রি অব অরজিন বা গুণগতমান অনুযায়ী সরবরাহ করা হয়নি। তদন্ত কমিটির সদস্য ডা. ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী বলেন, ব্লাড ওয়ার্মার ১৫ হাজার টাকার যন্ত্রটি কেনা হয়েছে ৯ লাখ ৩২ হাজার টাকায়। নিম্নমানের যন্ত্রটির ওপর আমেরিকার স্টিকার লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। অটোস্কোপ মেশিন ডাক্তার কান পরীক্ষার জন্য ব্যবহার করেন। ১০-১২ হাজার টাকার এ যন্ত্রটি কেনা হয় ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকায়। স্ট্যাম্প কেনা হয়েছে ২০১৪ সালের নভেম্বরে কিন্তু চুক্তি সই হয়েছে চার মাস পূর্বে জুলাইতে। মানে ঘাপলা আছে। তবে এই বিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. সরফরাজ খান বলেন, সরকারি ক্রয়বিধি ও নীতিমালা মেনেই যন্ত্রপাতিগুলো ক্রয় করেছি। এতে কোনো ধরনের দুর্নীতি হয়নি। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে।

Comments

Comments!

 ৩ কোটি টাকার মেশিন কেনা হলো ১০ কোটিতেAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

৩ কোটি টাকার মেশিন কেনা হলো ১০ কোটিতে

Thursday, September 8, 2016 12:55 am
899

ট্টগ্রামের আন্দরকিল্লার ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ৩ কোটি টাকার মেশিন কিভাবে ১০ কোটি টাকা দিয়ে কেনা হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে হাসপাতালটির যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় দুর্নীতি তদন্তে প্রমাণ পেয়েছে কমিটি। গত বুধবার সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ও সিভিল সার্জন ডা. সরফরাজ খান চৌধুরীকে অভিযুক্ত করে এই প্রতিবেদন দিয়েছে তদন্ত কমিটির সদস্যরা। পরে প্রতিবেদনের কপি হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও এমপি জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর হাতে তুলে দেয়া হয়। এই সময় সেখানে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন ছাড়াও ছিলেন সদস্য সচিব ও সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী। পরে জিয়াউদ্দিন বাবলু প্রশ্নের জবাবে বলেন, দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। এই নিয়ে সরকারের উপরের মহলে আলোচনা হবে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে,  যন্ত্রপাতি কেনায় ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাজেট বরাদ্দ ছাড়াই দরপত্র আহ্বান করা হয়। বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোম্পানি এমআরআই ৯ কোটি ৯৫ লাখ ৫০ হাজার টাকায় কেনা হয়। কিন্তু ওই মেশিনের ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি দাম চেয়েছে ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার বা ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এএসএল থেকে কেনা কালার ডপলার চারটি, হিটাচি কালার ডপলার ২ডি অলোকা (মডেল এফ-৩১) জাপান প্রতিটি ৬৫ লাখ টাকায় কেনা হয়। কিন্তু ম্যানুফেকচারিং প্রতিষ্ঠানের দেশি এজেন্টের কাছ থেকে প্রাপ্ত কোটেশনে ওই আইটেমের প্রতিটির মূল্য ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এতে আরো বলা হয়, ডা. সরফরাজ খান চৌধুরী প্রকিউরিং এনটাইটি (পিই) এর প্রধান ছিলেন। একই ব্যক্তি দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি (টিইসি) ও টেকনিক্যাল সাব কমিটির (টিএসসি) সভাপতি ছিলেন, যা পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর)-২০০৮ দ্বারা প্রতারণার পর্যায়ভুক্ত। ২০১৪ সালের ২৫শে মে টিএসসির সভায় চার সদস্যের কমিটির মধ্যে কেবল সভাপতি ডা. সরফরাজের স্বাক্ষর ছিল। এ ছাড়া ডা. সরফরাজ খান চৌধুরী ২০১৫ সালের ৩০শে এপ্রিল সিএসসি/হিসাব/২০১৪-২০১৫/১০৭৭৪/১ নম্বর স্মারকে ঢাকার মিরপুরের মেসার্স আহমেদ এন্টারপ্রাইজকে আটটি আইসিইউ ভেন্টিলেটর, আটটি আইসিইউ বেড ও একটি কার্ডিয়াক পেসেন্ট মনিটর চাহিদা বহির্ভূতভাবে ৫ কোটি ৩৭ লাখ ২৫ হাজার টাকায় কার্যাদেশ দিয়েছেন। কার্যাদেশ নম্বর ১০৭৭৪ (৬) মূলে মেসার্স আহমেদ এন্টারপ্রাইজ থেকে সিসিইউ এবং অপারেশন থিয়েটারের যে ১০টি আইটেমের যন্ত্রপাতি কেনা হয় তার একটিও দাখিলকৃত টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশান, ক্যাটালগ, কান্ট্রি অব অরজিন বা গুণগতমান অনুযায়ী সরবরাহ করা হয়নি। তদন্ত কমিটির সদস্য ডা. ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী বলেন, ব্লাড ওয়ার্মার ১৫ হাজার টাকার যন্ত্রটি কেনা হয়েছে ৯ লাখ ৩২ হাজার টাকায়। নিম্নমানের যন্ত্রটির ওপর আমেরিকার স্টিকার লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। অটোস্কোপ মেশিন ডাক্তার কান পরীক্ষার জন্য ব্যবহার করেন। ১০-১২ হাজার টাকার এ যন্ত্রটি কেনা হয় ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকায়। স্ট্যাম্প কেনা হয়েছে ২০১৪ সালের নভেম্বরে কিন্তু চুক্তি সই হয়েছে চার মাস পূর্বে জুলাইতে। মানে ঘাপলা আছে। তবে এই বিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. সরফরাজ খান বলেন, সরকারি ক্রয়বিধি ও নীতিমালা মেনেই যন্ত্রপাতিগুলো ক্রয় করেছি। এতে কোনো ধরনের দুর্নীতি হয়নি। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X