বৃহস্পতিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১০ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ভোর ৫:০৬
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Sunday, November 13, 2016 10:15 am
A- A A+ Print

৫৪ ও ১৬৭ ধারা নিয়ে রায় প্রকাশ : পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের কর্তব্য নির্দিষ্ট করে দিল আপিল বিভাগ

y

বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার ও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ সংক্রান্ত ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৪ ও ১৬৭ ধারার বিষয়ে ১৩ বছর আগে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ে রাষ্ট্রকে যেসব নীতিমালা (গাইডলাইন) অনুসরণ করতে বলা হয়েছিল তাতে কিছু পরিবর্তন এনেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) প্রকাশিত হওয়া আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ম্যাজিস্ট্রেটদের কর্তব্য সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করে দেওয়া হয়েছে। ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৪ ও ১৬৭ ধারার বিধান চ্যালেঞ্জ করে ১৯৯৮ সালে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করে মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনসহ কয়েকজন বরেণ্য ব্যক্তি। রিট আবেদন সংক্রান্ত নথি থেকে জানা যায়, ১৯৯৮ সালে ডিবি পুলিশ ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী এলাকা থেকে বেসরকারি ইনডিপেন্ডেন্ট ইউনির্ভাসিটির ছাত্র শামীম রেজা রুবেলকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করে। পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় ওই বছরের ২৩ জুলাই রুবেল মারা যান। পুলিশ হেফাজতে রুবেলের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই রিট আবেদন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৩ সালের ৭ এপ্রিল হাইকোর্ট এক রায়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ও ১৬৭ ধারার প্রচলিত বিধানসমূহ ৬ মাসের মধ্যে সংশোধন করতে সরকারকে নির্দেশ দেন। পাশাপাশি উক্ত ধারা দু’টি সংশোধনের পূর্বে কয়েকদফা নির্দেশনা মেনে চলার জন্যও সরকারকে বলা হয়। এরপর ২০০৪ সালে তৎকালীন বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে। প্রায় এক যুগ ধরে চলা আপিলের শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ২৪ মে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ করে দেন। তার ধারাবাহিকতায় ১০ নভেম্বর আপিল বিভাগের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। হাইকোর্টের রায়ে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদের জন্য সামগ্রিকভাবে ১৫ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে আপিল বিভাগের দেওয়া ৩৯৬ পৃষ্ঠার রায়ে আলাদাভাবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য দায়িত্ব ও নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া বিনা পরোয়ানায় আটককৃত ব্যক্তিকে গ্রেফতার দেখানো ও রিমান্ড মঞ্জুর করার ক্ষেত্রে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদের কর্তব্য বিষয়েও নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। আপিলের রায়ে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য ৭ দফা দায়িত্ব ও ১০ দফা নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া ম্যাজিস্ট্রেটদের জন্য ৯ দফা নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। আপিল বিভাগের দেওয়া পর্যবেক্ষণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সকল পর্যায়ের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। দায়িত্বসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো- ১. আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আইন অনুযায়ী পূর্ণ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকবে। যে কোনো ব্যক্তিকে বে-আইনী কাজ থেকে বিরত রাখা তাদের কর্তব্য। ২. দায়িত্ব পালনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সকল মানুষের সম্ভ্রম ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবে এবং তা সুরক্ষায় সচেষ্ট থাকবে। ৩. আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনের অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করবে না। ৪. যুদ্ধের হুমকি, জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি হুমকি, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা, অথবা অন্য কোনো জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কারণ ব্যতীত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্যাতন বা নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন করবে না। ৫. প্রত্যেক নাগরিকের সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকারের প্রতি শুধু শ্রদ্ধা প্রদর্শনই নয়, তা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সচেষ্ট থাকবে। ৬. মানুষের জীবন ও সম্ভ্রম রক্ষাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে। ৭. সন্ত্রাস প্রতিরোধ করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক লক্ষ্য হবে। অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর ব্যবস্থা গ্রহণের চেয়ে আগে প্রতিরোধ করাটাই উত্তম বলে বিবেচ্য। আপিল বিভাগের দেওয়া রায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য যে ১০ দফা নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো- ১. কোনো ব্যক্তিকে আটকের পরপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে একটি স্মারক প্রস্তুত করতে হবে। যেখানে আটক ব্যক্তির নাম, আটকের তারিখ ও সময় লেখা থাকবে। ২. আটকের পরপর ওই ব্যক্তির একজন নিকটাত্মীয়কে জানাতে হবে। কোনো নিকটাত্মীয়কে না পাওয়া গেলে আটক হওয়া ব্যক্তির পরামর্শে তার কোনো বন্ধুকে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা থানায় নেওয়ার পর থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে অবহিত করবেন। ৩. আটকের সময় একটা ডায়েরি সংরক্ষণ করতে হবে। যে ব্যক্তি গ্রেফতারের তথ্য দেবেন অথবা যিনি অভিযোগ করবেন তার নাম ও বিস্তারিত ঠিকানা তাতে লেখা থাকবে। ৪. আটক হওয়া ব্যক্তিকে হেফাজতে (রিমান্ডে) নিতে হলে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৭ (২) এর শর্ত সমূহ পূরণ করতে হবে। ৫. বিশেষ ক্ষমতা আইনের ৩ ধারা অনুযায়ী আটক রাখার মতো প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে, কোনো ব্যক্তিকে ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৪ ধারায় আটক করা যাবে না। ৬. আটকের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাকে পরিচয় দিতে হবে। এবং দাবি করা হলে আটক হওয়া ব্যক্তি এবং আটকের সময় যারা উপস্থিত থাকবেন তাদের সামনে পরিচয়পত্র প্রদর্শন করতে হবে। ৭. কোনো ব্যক্তিকে জখম অবস্থায় আটক করা হলে, তার কারণ উল্লেখ করতে হবে। একইসঙ্গে তাকে নিকটবর্তী হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করতে হবে এবং চিকিৎসকের কাছ থেকে একটি সার্টিফিকেট গ্রহণ করতে হবে। ৮. কোনো ব্যক্তিকে তার বাড়ি অথবা ব্যবসাস্থল হতে গ্রেফতার করা না হলে থানায় নেওয়ার ১২ ঘণ্টা মধ্যে বিষয়টি নিকটাত্মীয়দের জানাতে হবে। ৯. আটককৃত ব্যক্তি কোনো আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করতে চাইলে অথবা নিকটাত্মীয়র সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তাকে সেই সুযোগ দিতে হবে। ১০. কাউকে ফৌজদারী কার্যবিধির ৬১ ধারা অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হাজির করা হলে কার্যবিধির ১৬৭ (১) ধারা অনুযায়ী একটি ফরওয়ার্ডিং প্রদান করতে হবে। কেন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার ব্যাপারে তদন্ত শেষ হয়নি, কেন ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে যুক্তিযুক্ত অভিযোগ রয়েছে বলে মনে হলো অথবা তার বিরুদ্ধে প্রাপ্ত তথ্য ফরোয়ার্ডিংয়ে উল্লেখ থাকবে। একইসঙ্গে তার কেস ডায়েরির প্রাসঙ্গিক সমস্ত তথ্য ম্যাজিস্ট্রেটকে দিতে হবে। এ ছাড়া ম্যাজিস্ট্রেটের জন্য আপিল বিভাগের দেওয়া ৯ দফা নির্দেশনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো- ১. কোনো ব্যক্তিকে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হাজিরের সময় ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৭ (২) ধারা অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ ডায়েরি উপস্থাপন করা না হলে ওই ব্যক্তিকে ম্যাজিস্ট্রেট, কোর্ট বা ট্রাইব্যুনাল বিধির ১৬৯ ধারা অনুযায়ী মুচলেকা গ্রহণ করে মুক্তির নির্দেশ দেবেন। ২. হেফাজতে আছেন এমন কোনো ব্যক্তিকে কোনো মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট (মামলার এজাহারে নাম না থাকার পরও গ্রেফতার দেখানো) দেখানোর আবেদন করা হলে কি কারণে তাকে গ্রেফতার দেখানো প্রয়োজন ম্যাজিস্ট্রেট সে সংক্রান্ত মামলার ডায়েরি পরীক্ষা করবেন। তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর মতো যথেষ্ট কারণ না থাকলে সেই আবেদন তিনি খারিজ করে দেবেন। ৩. কাউকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর পর ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ না হলে ওই মামলা যদি সেসন জজ বা ট্রাইব্যুনালে বিচারযোগ্য হয় তবে ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৪৪ ধারা অনুযায়ী তাকে হেফাজতে দেওয়া যাবে। তবে এ ধরনের হেফাজত কোনোভাবেই একাধারে ১৫ দিনের বেশি হবে না। ৪. যদি তার বিরুদ্ধে যথেষ্ট পরিমাণ তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায় ও অধিকতর তথ্য প্রমাণের জন্য পুনরায় হেফাজতে দেওয়ার প্রয়োজন দেখা যায়, সেক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট তার স্বাস্থ্যের অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে পুনরায় হেফাজতে দিতে পারবেন। ৫. যথেষ্ট কারণ না থাকলে ম্যাজিস্ট্রেট কাউকে বিচারিক হেফাজতে পাঠাবেন না। ৬. কাউকে ম্যাজিস্ট্রেটের হাজির করে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করা হলে, তিনি অবশ্যই এর কারণ সম্পর্কে সন্তুষ্ট হওয়া ব্যতীত কোনো আদেশ দিবেন না। ৭. কোনো ব্যক্তিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত কোনো কর্মকর্তা জেলহাজতে পাঠানোর আবেদন করলে তিনি দণ্ডবিধির ২২০ ধারা অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। ৮. কাউকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে প্রদান করা হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওই ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করা সেই কর্মকর্তার দায়িত্ব। যদি হেফাজতে থাকা অবস্থায় কেউ মারা যায় তখন ম্যাজিস্ট্রেট ওই ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দেবেন। এমনকি দাফন হয়ে গেলেও সেটা করতে হবে। ৯. মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট যদি দেখতে পান নির্যাতনের কারণে ওই ব্যক্তি মারা গেছেন, তখন হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন এর ২ ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে অভিযোগের অপেক্ষা ছাড়াই ম্যাজিস্ট্রেট আইনের ১৯০ (১) (গ) অনুযায়ী স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে অপরাধ আমলে নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এসব নির্দেশনা প্রদান সাপেক্ষে আপিল খারিজ করা হয়। একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য প্রদত্ত নির্দেশনা পুলিশ মহাপরিদর্শককে প্রত্যেক থানায় ও র‌্যাবের মহাপরিচালককে তাদের প্রত্যেকটি ইউনিটকে জানিয়ে দিতে বলা হয়েছে। আর সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে অধস্তনও আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রতি এই নির্দেশনা জানিয়ে দিতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে রেজিস্ট্রার জেনারেলকে এই রায়ের একটি কপি আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, র‌্যাবের মহাপরিচালককে রায়ের অনুলিপি প্রদান করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠাতে বলা হয়েছে। আপিল বিভাগের এই রায়কে ভালো রায় বলে অভিহিত করেছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক। বৃহস্পতিবার রায় প্রকাশিত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘৫৪ ধারার মামলাটি আমরাই করেছিলাম। ১৯৯৮ সালে এ মামলাটি শুরু হয়েছিল। আজ দীর্ঘ ১৮ বছর পর এটা শেষ হলো। এখানে প্রধান বিচারপতি লম্বা জাজমেন্ট দিয়েছেন। সেখানে অনেকগুলি ভাল কথা বলেছেন। এখানে শোন অ্যারেস্ট করে হেনস্থা করার যে একটি ব্যাপার আছে সেটির বিষয়ে রায়ে উল্লেখ আছে।’ এ রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ করা হবে কীনা জানতে চাইলে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা সাংবাদিকদের বলেন, ‘রায় পুরোপুরি পর্যালোচনা ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে রিভিউয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

Comments

Comments!

 ৫৪ ও ১৬৭ ধারা নিয়ে রায় প্রকাশ : পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের কর্তব্য নির্দিষ্ট করে দিল আপিল বিভাগAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

৫৪ ও ১৬৭ ধারা নিয়ে রায় প্রকাশ : পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের কর্তব্য নির্দিষ্ট করে দিল আপিল বিভাগ

Sunday, November 13, 2016 10:15 am
y

বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার ও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ সংক্রান্ত ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৪ ও ১৬৭ ধারার বিষয়ে ১৩ বছর আগে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ে রাষ্ট্রকে যেসব নীতিমালা (গাইডলাইন) অনুসরণ করতে বলা হয়েছিল তাতে কিছু পরিবর্তন এনেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) প্রকাশিত হওয়া আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ম্যাজিস্ট্রেটদের কর্তব্য সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করে দেওয়া হয়েছে।

ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৪ ও ১৬৭ ধারার বিধান চ্যালেঞ্জ করে ১৯৯৮ সালে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করে মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনসহ কয়েকজন বরেণ্য ব্যক্তি।

রিট আবেদন সংক্রান্ত নথি থেকে জানা যায়, ১৯৯৮ সালে ডিবি পুলিশ ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী এলাকা থেকে বেসরকারি ইনডিপেন্ডেন্ট ইউনির্ভাসিটির ছাত্র শামীম রেজা রুবেলকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করে। পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় ওই বছরের ২৩ জুলাই রুবেল মারা যান। পুলিশ হেফাজতে রুবেলের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই রিট আবেদন করা হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৩ সালের ৭ এপ্রিল হাইকোর্ট এক রায়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ও ১৬৭ ধারার প্রচলিত বিধানসমূহ ৬ মাসের মধ্যে সংশোধন করতে সরকারকে নির্দেশ দেন। পাশাপাশি উক্ত ধারা দু’টি সংশোধনের পূর্বে কয়েকদফা নির্দেশনা মেনে চলার জন্যও সরকারকে বলা হয়।

এরপর ২০০৪ সালে তৎকালীন বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে। প্রায় এক যুগ ধরে চলা আপিলের শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ২৪ মে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ করে দেন। তার ধারাবাহিকতায় ১০ নভেম্বর আপিল বিভাগের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।

হাইকোর্টের রায়ে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদের জন্য সামগ্রিকভাবে ১৫ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে আপিল বিভাগের দেওয়া ৩৯৬ পৃষ্ঠার রায়ে আলাদাভাবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য দায়িত্ব ও নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া বিনা পরোয়ানায় আটককৃত ব্যক্তিকে গ্রেফতার দেখানো ও রিমান্ড মঞ্জুর করার ক্ষেত্রে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদের কর্তব্য বিষয়েও নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

আপিলের রায়ে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য ৭ দফা দায়িত্ব ও ১০ দফা নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া ম্যাজিস্ট্রেটদের জন্য ৯ দফা নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

আপিল বিভাগের দেওয়া পর্যবেক্ষণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সকল পর্যায়ের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। দায়িত্বসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো-

১. আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আইন অনুযায়ী পূর্ণ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকবে। যে কোনো ব্যক্তিকে বে-আইনী কাজ থেকে বিরত রাখা তাদের কর্তব্য।

২. দায়িত্ব পালনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সকল মানুষের সম্ভ্রম ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবে এবং তা সুরক্ষায় সচেষ্ট থাকবে।

৩. আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনের অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করবে না।

৪. যুদ্ধের হুমকি, জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি হুমকি, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা, অথবা অন্য কোনো জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কারণ ব্যতীত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্যাতন বা নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন করবে না।

৫. প্রত্যেক নাগরিকের সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকারের প্রতি শুধু শ্রদ্ধা প্রদর্শনই নয়, তা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সচেষ্ট থাকবে।

৬. মানুষের জীবন ও সম্ভ্রম রক্ষাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে।

৭. সন্ত্রাস প্রতিরোধ করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক লক্ষ্য হবে। অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর ব্যবস্থা গ্রহণের চেয়ে আগে প্রতিরোধ করাটাই উত্তম বলে বিবেচ্য।

আপিল বিভাগের দেওয়া রায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য যে ১০ দফা নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো-

১. কোনো ব্যক্তিকে আটকের পরপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে একটি স্মারক প্রস্তুত করতে হবে। যেখানে আটক ব্যক্তির নাম, আটকের তারিখ ও সময় লেখা থাকবে।

২. আটকের পরপর ওই ব্যক্তির একজন নিকটাত্মীয়কে জানাতে হবে। কোনো নিকটাত্মীয়কে না পাওয়া গেলে আটক হওয়া ব্যক্তির পরামর্শে তার কোনো বন্ধুকে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা থানায় নেওয়ার পর থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে অবহিত করবেন।

৩. আটকের সময় একটা ডায়েরি সংরক্ষণ করতে হবে। যে ব্যক্তি গ্রেফতারের তথ্য দেবেন অথবা যিনি অভিযোগ করবেন তার নাম ও বিস্তারিত ঠিকানা তাতে লেখা থাকবে।

৪. আটক হওয়া ব্যক্তিকে হেফাজতে (রিমান্ডে) নিতে হলে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৭ (২) এর শর্ত সমূহ পূরণ করতে হবে।

৫. বিশেষ ক্ষমতা আইনের ৩ ধারা অনুযায়ী আটক রাখার মতো প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে, কোনো ব্যক্তিকে ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৪ ধারায় আটক করা যাবে না।

৬. আটকের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাকে পরিচয় দিতে হবে। এবং দাবি করা হলে আটক হওয়া ব্যক্তি এবং আটকের সময় যারা উপস্থিত থাকবেন তাদের সামনে পরিচয়পত্র প্রদর্শন করতে হবে।

৭. কোনো ব্যক্তিকে জখম অবস্থায় আটক করা হলে, তার কারণ উল্লেখ করতে হবে। একইসঙ্গে তাকে নিকটবর্তী হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করতে হবে এবং চিকিৎসকের কাছ থেকে একটি সার্টিফিকেট গ্রহণ করতে হবে।

৮. কোনো ব্যক্তিকে তার বাড়ি অথবা ব্যবসাস্থল হতে গ্রেফতার করা না হলে থানায় নেওয়ার ১২ ঘণ্টা মধ্যে বিষয়টি নিকটাত্মীয়দের জানাতে হবে।

৯. আটককৃত ব্যক্তি কোনো আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করতে চাইলে অথবা নিকটাত্মীয়র সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তাকে সেই সুযোগ দিতে হবে।

১০. কাউকে ফৌজদারী কার্যবিধির ৬১ ধারা অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হাজির করা হলে কার্যবিধির ১৬৭ (১) ধারা অনুযায়ী একটি ফরওয়ার্ডিং প্রদান করতে হবে। কেন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার ব্যাপারে তদন্ত শেষ হয়নি, কেন ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে যুক্তিযুক্ত অভিযোগ রয়েছে বলে মনে হলো অথবা তার বিরুদ্ধে প্রাপ্ত তথ্য ফরোয়ার্ডিংয়ে উল্লেখ থাকবে। একইসঙ্গে তার কেস ডায়েরির প্রাসঙ্গিক সমস্ত তথ্য ম্যাজিস্ট্রেটকে দিতে হবে।

এ ছাড়া ম্যাজিস্ট্রেটের জন্য আপিল বিভাগের দেওয়া ৯ দফা নির্দেশনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো-

১. কোনো ব্যক্তিকে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হাজিরের সময় ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৭ (২) ধারা অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ ডায়েরি উপস্থাপন করা না হলে ওই ব্যক্তিকে ম্যাজিস্ট্রেট, কোর্ট বা ট্রাইব্যুনাল বিধির ১৬৯ ধারা অনুযায়ী মুচলেকা গ্রহণ করে মুক্তির নির্দেশ দেবেন।

২. হেফাজতে আছেন এমন কোনো ব্যক্তিকে কোনো মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট (মামলার এজাহারে নাম না থাকার পরও গ্রেফতার দেখানো) দেখানোর আবেদন করা হলে কি কারণে তাকে গ্রেফতার দেখানো প্রয়োজন ম্যাজিস্ট্রেট সে সংক্রান্ত মামলার ডায়েরি পরীক্ষা করবেন। তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর মতো যথেষ্ট কারণ না থাকলে সেই আবেদন তিনি খারিজ করে দেবেন।

৩. কাউকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর পর ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ না হলে ওই মামলা যদি সেসন জজ বা ট্রাইব্যুনালে বিচারযোগ্য হয় তবে ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৪৪ ধারা অনুযায়ী তাকে হেফাজতে দেওয়া যাবে। তবে এ ধরনের হেফাজত কোনোভাবেই একাধারে ১৫ দিনের বেশি হবে না।

৪. যদি তার বিরুদ্ধে যথেষ্ট পরিমাণ তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায় ও অধিকতর তথ্য প্রমাণের জন্য পুনরায় হেফাজতে দেওয়ার প্রয়োজন দেখা যায়, সেক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট তার স্বাস্থ্যের অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে পুনরায় হেফাজতে দিতে পারবেন।

৫. যথেষ্ট কারণ না থাকলে ম্যাজিস্ট্রেট কাউকে বিচারিক হেফাজতে পাঠাবেন না।

৬. কাউকে ম্যাজিস্ট্রেটের হাজির করে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করা হলে, তিনি অবশ্যই এর কারণ সম্পর্কে সন্তুষ্ট হওয়া ব্যতীত কোনো আদেশ দিবেন না।

৭. কোনো ব্যক্তিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত কোনো কর্মকর্তা জেলহাজতে পাঠানোর আবেদন করলে তিনি দণ্ডবিধির ২২০ ধারা অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

৮. কাউকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে প্রদান করা হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওই ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করা সেই কর্মকর্তার দায়িত্ব। যদি হেফাজতে থাকা অবস্থায় কেউ মারা যায় তখন ম্যাজিস্ট্রেট ওই ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দেবেন। এমনকি দাফন হয়ে গেলেও সেটা করতে হবে।

৯. মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট যদি দেখতে পান নির্যাতনের কারণে ওই ব্যক্তি মারা গেছেন, তখন হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন এর ২ ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে অভিযোগের অপেক্ষা ছাড়াই ম্যাজিস্ট্রেট আইনের ১৯০ (১) (গ) অনুযায়ী স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে অপরাধ আমলে নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

এসব নির্দেশনা প্রদান সাপেক্ষে আপিল খারিজ করা হয়। একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য প্রদত্ত নির্দেশনা পুলিশ মহাপরিদর্শককে প্রত্যেক থানায় ও র‌্যাবের মহাপরিচালককে তাদের প্রত্যেকটি ইউনিটকে জানিয়ে দিতে বলা হয়েছে। আর সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে অধস্তনও আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রতি এই নির্দেশনা জানিয়ে দিতে বলা হয়েছে।

একইসঙ্গে রেজিস্ট্রার জেনারেলকে এই রায়ের একটি কপি আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, র‌্যাবের মহাপরিচালককে রায়ের অনুলিপি প্রদান করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠাতে বলা হয়েছে।

আপিল বিভাগের এই রায়কে ভালো রায় বলে অভিহিত করেছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক। বৃহস্পতিবার রায় প্রকাশিত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘৫৪ ধারার মামলাটি আমরাই করেছিলাম। ১৯৯৮ সালে এ মামলাটি শুরু হয়েছিল। আজ দীর্ঘ ১৮ বছর পর এটা শেষ হলো। এখানে প্রধান বিচারপতি লম্বা জাজমেন্ট দিয়েছেন। সেখানে অনেকগুলি ভাল কথা বলেছেন। এখানে শোন অ্যারেস্ট করে হেনস্থা করার যে একটি ব্যাপার আছে সেটির বিষয়ে রায়ে উল্লেখ আছে।’

এ রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ করা হবে কীনা জানতে চাইলে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা সাংবাদিকদের বলেন, ‘রায় পুরোপুরি পর্যালোচনা ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে রিভিউয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X