মঙ্গলবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ৯:৩৯
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Monday, May 22, 2017 10:28 am | আপডেটঃ May 22, 2017 10:29 AM
A- A A+ Print

৭০তম কান চলচ্চিত্র উৎসব : যেভাবে দেখা পেলাম ঐশ্বরিয়ার

4bf45f0fbf77d3601c1c3010112bd2cb-5921eff627ea5

ইকবাল হোসাইন চৌধুরী, কান (ফ্রান্স) থেকে : কতক্ষণ অপেক্ষায় ছিলাম জানি না। হঠাৎ একটা পরিচিত মিষ্টি কণ্ঠ কানে বাজল। দেবদাস থেকে হাম দিল দে চুকে সনম—আরও কত কত ছবি! কত শুনেছি এই কণ্ঠ টিভিতে-সিনেমায়! তবে কি সত্যি সত্যি আসছেন ঐশ্বরিয়া! এই কান উৎসবে চার বছর অপেক্ষা করেছি। অল্পের জন্য ফসকে গেছেন প্রতিবার। বলার মতো করে তাঁর দেখা মেলেনি। কোন ফাঁকে আসেন, কোন ফাঁকে বেরিয়ে যান, বোঝা দায়। এবার তাই আগে থেকে তৈরি। অন্য কোনো তারকা হলে ভিন্ন কথা। ঐশ্বরিয়ার জন্য অপেক্ষা করাই যায়। তখনো জানি না, মিনিট পাঁচেকের মধ্যে বিস্ময় তো বটেই, বড় একটা ‘অঘটন’ও অপেক্ষা করছে আমার জন্য। হঠাৎ মনে হলো চারপাশে শুধু লালের বন্যা। সামনে-পেছনে কড়া পাহারায় ঐশ্বরিয়া আমার ঠিক সামনে। লম্বা গাউন ঐশ্বরিয়ার। সেটা মেঝেতে লুটিয়ে হেঁটে আসছেন বলিউড সম্রাজ্ঞী, বচ্চনবধূ, অথবা সারা ভারতবর্ষের হৃৎকম্পন। হাসিমুখে বললাম ‘হাই’। ঐশ্বরিয়াও হাসিমুখে বললেন ‘হাই’। বুঝলাম তাঁর মেজাজ ফুরফুরে। ঐশ্বরিয়া তখনো আছেন আমার পাশেই। দুজন ফরাসি পুলিশ তাঁর সঙ্গে ছবি ওঠাচ্ছে। ক্যামেরা তাক করব, নাকি প্রশ্ন করব? অবশেষে বললাম, ‘আপনার অভিনয় অনেক ভালো লাগে।’ ঐশ্বরিয়া জবাবে হাসলেন শুধু। ধুত্তুরি, এটাও কোনো প্রশ্ন হলো না। ঐশ্বরিয়া সম্ভবত আমার অসহায়ত্ব দেখে মজা পেয়ে গেলেন। তিনি চোখ-মুখের এমন একটা ভঙ্গি করলেন যেন ‘ঠিক আছে, গেলাম তাহলে’। তখনই মনে পড়ল, এই রে! ভিডিও ক্যামেরা তো চালু করা হয়নি। হাতের সনি হ্যান্ডিকাম চালু হলো। তখনই মনে হলো, আরে ঐশ্বরিয়ার দেবদাস তো দেখানোর কথা আজ (শনিবার) কানের সাগরপাড়ে। হড়বড় করে বললাম, ‘আপনার দেবদাস দেখতে চাই।’ কথাটি সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘পারু’র পছন্দ হয়ে গেল। কান সৈকতে দেখানোর জন্য তাঁর প্রিয় ছবি হিসেবে দেবদাসকে বেছে নিয়েছেন তিনি নিজেই। ‘অবশ্যই দেখবেন। ঠিক আছে।’—বলে আবার মুখে হাসি ফোটালেন অ্যাশ। বাইরে তখন বহু দর্শনার্থী অপেক্ষমাণ। ঐশ্বরিয়া চলে যাবেন বলে মুখ ঘুরিয়েছেন। তখনই ঘটল অঘটনটা। আমার পা ঐশ্বরিয়ার লম্বা ঝোলানো গাউনের ওপরে। সর্বনাশ! কিন্তু সাবেক বিশ্বসুন্দরীর মন আজ আসলেই খুব ভালো। অবাক হয়ে চেয়ে দেখি, রাগ নেই তাঁর চোখে এক ফোঁটাও। বিরক্তি থাকলেও সেটা দেখালেন না। ততক্ষণে তাঁর গাউন উদ্ধারে হামলে পড়েছেন দুই নিরাপত্তা প্রহরী। কয়েকজন অটোগ্রাফ শিকারিকে খুশি করে ঐশ্বরিয়া উঠে গেলেন গাড়িতে। গাড়িতে আগেই বসে থাকা মেয়ে আরাধ্যকে কোলে নিলেন। বুঝলাম, ইউরোপে অদ্যাবধি বলিউডের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন ঐশ্বরিয়া শুধু ভালো অভিনেত্রী নন, ভালো মা-ও বটে।

Comments

Comments!

 ৭০তম কান চলচ্চিত্র উৎসব : যেভাবে দেখা পেলাম ঐশ্বরিয়ারAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

৭০তম কান চলচ্চিত্র উৎসব : যেভাবে দেখা পেলাম ঐশ্বরিয়ার

Monday, May 22, 2017 10:28 am | আপডেটঃ May 22, 2017 10:29 AM
4bf45f0fbf77d3601c1c3010112bd2cb-5921eff627ea5

ইকবাল হোসাইন চৌধুরী, কান (ফ্রান্স) থেকে : কতক্ষণ অপেক্ষায় ছিলাম জানি না। হঠাৎ একটা পরিচিত মিষ্টি কণ্ঠ কানে বাজল। দেবদাস থেকে হাম দিল দে চুকে সনম—আরও কত কত ছবি! কত শুনেছি এই কণ্ঠ টিভিতে-সিনেমায়! তবে কি সত্যি সত্যি আসছেন ঐশ্বরিয়া! এই কান উৎসবে চার বছর অপেক্ষা করেছি। অল্পের জন্য ফসকে গেছেন প্রতিবার। বলার মতো করে তাঁর দেখা মেলেনি। কোন ফাঁকে আসেন, কোন ফাঁকে বেরিয়ে যান, বোঝা দায়। এবার তাই আগে থেকে তৈরি।
অন্য কোনো তারকা হলে ভিন্ন কথা। ঐশ্বরিয়ার জন্য অপেক্ষা করাই যায়। তখনো জানি না, মিনিট পাঁচেকের মধ্যে বিস্ময় তো বটেই, বড় একটা ‘অঘটন’ও অপেক্ষা করছে আমার জন্য।
হঠাৎ মনে হলো চারপাশে শুধু লালের বন্যা। সামনে-পেছনে কড়া পাহারায় ঐশ্বরিয়া আমার ঠিক সামনে।
লম্বা গাউন ঐশ্বরিয়ার। সেটা মেঝেতে লুটিয়ে হেঁটে আসছেন বলিউড সম্রাজ্ঞী, বচ্চনবধূ, অথবা সারা ভারতবর্ষের হৃৎকম্পন।
হাসিমুখে বললাম ‘হাই’। ঐশ্বরিয়াও হাসিমুখে বললেন ‘হাই’। বুঝলাম তাঁর মেজাজ ফুরফুরে। ঐশ্বরিয়া তখনো আছেন আমার পাশেই। দুজন ফরাসি পুলিশ তাঁর সঙ্গে ছবি ওঠাচ্ছে। ক্যামেরা তাক করব, নাকি প্রশ্ন করব? অবশেষে বললাম, ‘আপনার অভিনয় অনেক ভালো লাগে।’
ঐশ্বরিয়া জবাবে হাসলেন শুধু। ধুত্তুরি, এটাও কোনো প্রশ্ন হলো না। ঐশ্বরিয়া সম্ভবত আমার অসহায়ত্ব দেখে মজা পেয়ে গেলেন। তিনি চোখ-মুখের এমন একটা ভঙ্গি করলেন যেন ‘ঠিক আছে, গেলাম তাহলে’।
তখনই মনে পড়ল, এই রে! ভিডিও ক্যামেরা তো চালু করা হয়নি। হাতের সনি হ্যান্ডিকাম চালু হলো। তখনই মনে হলো, আরে ঐশ্বরিয়ার দেবদাস তো দেখানোর কথা আজ (শনিবার) কানের সাগরপাড়ে। হড়বড় করে বললাম, ‘আপনার দেবদাস দেখতে চাই।’
কথাটি সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘পারু’র পছন্দ হয়ে গেল। কান সৈকতে দেখানোর জন্য তাঁর প্রিয় ছবি হিসেবে দেবদাসকে বেছে নিয়েছেন তিনি নিজেই। ‘অবশ্যই দেখবেন। ঠিক আছে।’—বলে আবার মুখে হাসি ফোটালেন অ্যাশ। বাইরে তখন বহু দর্শনার্থী অপেক্ষমাণ।
ঐশ্বরিয়া চলে যাবেন বলে মুখ ঘুরিয়েছেন। তখনই ঘটল অঘটনটা। আমার পা ঐশ্বরিয়ার লম্বা ঝোলানো গাউনের ওপরে। সর্বনাশ! কিন্তু সাবেক বিশ্বসুন্দরীর মন আজ আসলেই খুব ভালো। অবাক হয়ে চেয়ে দেখি, রাগ নেই তাঁর চোখে এক ফোঁটাও। বিরক্তি থাকলেও সেটা দেখালেন না। ততক্ষণে তাঁর গাউন উদ্ধারে হামলে পড়েছেন দুই নিরাপত্তা প্রহরী। কয়েকজন অটোগ্রাফ শিকারিকে খুশি করে ঐশ্বরিয়া উঠে গেলেন গাড়িতে। গাড়িতে আগেই বসে থাকা মেয়ে আরাধ্যকে কোলে নিলেন। বুঝলাম, ইউরোপে অদ্যাবধি বলিউডের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন ঐশ্বরিয়া শুধু ভালো অভিনেত্রী নন, ভালো মা-ও বটে।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X